ইউজার লগইন

অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১১

জার্মান গায়িকা লিয়া'র (Lea) একটা গান আছে নাম লাইজার (Leiser)। গানের প্রথমদিকের কয়েকটা কথা মারাত্মক, যেমন-
তুমি নিজের সম্পর্কে বলেই যাচ্ছো যখন আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছি তখনও। তোমার নিউ ইয়র্কের পার্টি কিংবা প্যারিসের শুটিংয়ের গল্প শেষ হচ্ছে না। আমিও কেমন যেন তোমার কথায় হারিয়ে গিয়েছি।

প্রথমবার গানটা যখন শুনছিলাম, মনে হচ্ছিল খুব বোধহয় একটা প্রেমের গান। ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগে নি। পরের প্যারাগুলো থেকেই মনে হচ্ছিল কোথায় যেন একটা ব্যপার আছে, কিন্তু পুরোপুরি ধরতে পারছিলাম না। যাহোক লিরিকটা একটু গুগল দিয়ে অনুবাদ করিয়ে নিতেই বের হলো, কেন অমন মনে হচ্ছিল। কারণ পরের প্যারাতেই গায়িকা গাইছে-
কিন্তু আমার সব বন্ধুরা আমায় বলে আমি আগের চেয়ে অনেক চুপচাপ হয়ে গিয়েছি। আসলেই কি আমি ভাল আছি? তুমি তো আমার সেই কথাগুলোই শুধু শোনো, যেগুলো তোমার ভাল লাগে।

গানটা শুনে মনটা হালকা উদাস হলো। আগে হলে হয়তো খারাপ-টারাপ লাগতো। আজকাল খানিকটা উদাস লাগে সর্বোচ্চ, যখন কোনোকিছু সত্যিকার অর্থে স্পর্শ করার চেষ্টা করে।

মাক্স গিয়েজিঙ্গার-এর (Max Giesinger) 'আখছিশ মিলিওনেন' (80 millionen) গানটাও ভাল লাগে শুনতে। যদিও এটার কথা অতোটা গভীর চিন্তার বিষয়ের মতো কিছু না। একটা ছেলে পাঁচ বছর ধরে সিঙ্গেল। ষষ্ঠ বছরে সে লটারির টিকেট কেনে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। সাতদিন একটানা ঘুম হয় নি তার। তারপরে তাকে খুঁজে নেয় তার জীবনসঙ্গী। কিভাবে সে আশি মিলিওন মানুষের মধ্য থেকে তাকে খুঁজে বের করলো সেটা নিয়েই গায়কের মূল চিন্তা। গানের মূল-কথাতেও সেটার টান স্পষ্ট।

Wie hast du mich gefunden?
Einer von achtzig Millionen

(How did you find me?
One in eighty million)

জার্মান গানের কথাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় ইন্টারেস্টিং। ভাবার অনেককিছু থাকে। আধুনিক আমেরিকান গানের বেশিরভাগই 'ডাম্ব' বিষয়-আশয়ের উপর লেখা। যেমন, বিচ, মানি, ফাক, সেক্স, পুসি, জুসি ইত্যাদি। যদিও কিছু কিছু গানের কথা সত্যিই দারুণ। যেমন জাস্টিন টিম্বারলেকের 'সে সামথিং' গানটা-

Sometimes the greatest way to say something
is to say nothing at all.

জাস্টিন টিম্বারলেককে ইদানীংকালের আমেরিকান জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি অ্যাকটিভ মনে হয়। প্রায়ই নতুন নতুন গান রিলিজ দিচ্ছে। আবার গ্র্যামি, সুপারবোল ইত্যাদির মতো হাই-ভোল্টেজ প্রোগ্রামগুলোতে সমানে পারফর্ম করে যাচ্ছে। নিত্যনতুন গানের কথা, নাচের ভঙ্গি, চলাফেরার স্টাইল, পোশাকের ফ্যাশন- কি নেই তার তুণে?

কিন্তু আমার যখন ভাল লাগে না, তখন ভাল লাগেই না। কোনোকিছু দিয়েই ভাল লাগে না। জাস্ট ইচ্ছে করে পিসিতে ইম ইউলি'র (Im Juli) মতো কোনো একটা সিনেমা চালিয়ে, খুব সামান্য টিএইচসি-মিশ্রিত নিকোটিনের সিগারেট, আর এককাপ কালো কফি নিয়ে সারাটা দিন চুপচাপ বসে থাকতে।

আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে একবার কাউকে পছন্দ হয়ে গেলে, সেখান থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াটা প্রচণ্ড কষ্টকর। এছাড়া লাইনচ্যূত হয়ে অন্যদিকে চলে যাওয়ার সমস্যা তো আছেই। সবই আত্মনিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা। এছাড়া আর কিছু বলে তো মনে হচ্ছে না।

ভাল দিকের মধ্যে আছে, উচ্চস্বরে হাসার ক্ষমতা। আর সেন্স অফ হিউমার। তবে অনেকে মীন আর রুড'টাইপের হিউমার পছন্দ করে। আমার সেটা না। নর্মাল জেনুইন হিউমার। আবার কাউকে হিউমার উৎপাদনের কাজে অতিরিক্ত চেষ্টা করতে দেখলেও উইয়ার্ড লাগে। জাস্ট হালকা, সাট্ল, সেক্স, রেস কিংবা ওই টাইপের বিষয়গুলোর ওপরে কোনো স্টেটমেন্ট দিচ্ছে না- ধরনের হিউমারগুলো হচ্ছে আমার সবচেয়ে প্রিয়। ওগুলো ধরতে এবং উৎপাদন করতে, দু'টোতেই আমি আরাম পাই প্রচুর।

এনিওয়ে, যাদের কাছে ইম ইউলি টাইপের আরও সিনেমার সাজেশন আছে, তারা দয়াপরবশ হয়ে নামগুলো শেয়ার করতে পারেন। না দেখা হয়ে থাকলে, দেখে নেবো। দেখা হয়ে থাকলেও সমস্যা নেই। আলোচনা অন্তত হতে পারে। আর জার্মান গানগুলো শোনার কোনো আগ্রহ থাকলে ইউটিউবে নামগুলো লিখে সার্চ দিলেই হবে।

সময়টা যাচ্ছে এক ধরনের অশরীরি সংকটে। যখন জানালা থেকে বাইরে তাকাই তখন ধূসর শূন্য আকাশে একটা অদৃশ্য পাখির ছটফটে অবস্থা টের পাই। পাখিটা কোথাও বসতে পারছে না, কিন্তু দীর্ঘ ওড়াওড়ির ক্লান্তিতে মাঝে মাঝে ওরও পাখা ভার হয়ে আসছে। তারপরও প্রতি মুহূর্তে সেই পাখিটা নিজেকে আরেকটু পুশ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে কোথাও বসে না, কিন্তু কেন বসে না- সেটাও মনে হয় জানে না। আমি কয়েকবার জিজ্ঞেস করে দেখেছি। কোনো কংক্রিট উত্তর দিতে পারে নি। জাস্ট নানারকমের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেটুকু বোঝাতে পেরেছে, তা হলো- যেকোনভাবেই হোক সেই পাখিটার ভেতরটা শক্ত একটা পাথর হয়ে গেছে। যেটা নাকি আর কোনোদিন নরম হবে না।

এই ছাইয়ের কথাটার মানে কি? পৃথিবীর সব প্রাপ্তিই তো যথাসময়ে ধরা দেয়। কেন শুধু শুধু এত দুশ্চিন্তা? পাখিটাকে বোঝাই। সে প্রায়ই বোঝে। শুধু মাঝে মাঝে তার ছোট্ট বুকের হাহাকারটা গোপন করতে পারে না।
---

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।