ইউজার লগইন

অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১৩

আজকের লেখাটা যে ডার্ক টাইপের হবে খুব বুঝতে পারছি প্রথম থেকেই। তাই ভাবছি লেখাটা কি চালিয়ে যাবো নাকি বন্ধ করে দেবো। ভাবছি এবং লিখছি সমানতালে। আজকাল আমার প্রিয় প্রশ্ন হচ্ছে, কেন মানুষের জীবন এত যন্ত্রণাদায়ক? এই প্রশ্নটা কেউ আমাকে করতে পারলো মানে সে অনেকদূর পর্যন্ত আমার কাছে চলে আসতে পারলো। সাধারণত যেসব প্রশ্ন আমরা একে অপরের সাথে দেখা হলে করি, যেমন কি খবর বা কেমন আছেন বা দেখেছেন খালেদা জিয়া নাকি বলেছে বড় বড় আইনজীবীরা কি করে? এটা একটা নেত্রীর মতো কথা!- ইত্যাদি যাবতীয় প্রশ্ন আমাকে শুধু প্রশ্নকর্তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। মহীনের ঘোড়াগুলির মতো তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে দূরে।

অমন কঠিন একটা প্রথম প্যারা পড়ার পরও ক্লিক করে ভেতরে এসেছেন? বাহ্ বেশ তো। ছোট্ট একটা খবর দিই আপনাকে? আমি আসলে কিছুদিন ধরে ভাল নেই। একদম। কেন ভাল নেই সেসব নিয়ে কথা বলা যায়। আমি দেখেছি এরকম সময়ে ভাল না থাকার কারণ নিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলাটা খুব কাজ দেয়। ভাল না থাকার কালে কাজ বড়ই আপন। কিন্তু আপনি যে কে আমার লেখা পড়ছেন, তা তো আমি জানি না। তাই হুট করে আপনার সাথে যেসব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমাকে কথা বলতে হবে ভাল না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে সেসব নিয়ে কথা শুরু করলে আপনি যে ভড়কে যাবেন না তার কোনো নিশ্চয়তাও খুঁজে পাচ্ছি না। সেকারণে এখানে বাদ দিচ্ছি। কিন্তু ভাববেন না যে আপনার সাথে ওইসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমার কোনো সমস্যা আছে। আমরা যেকোন গিভেন ডে-তে একে অপরের সাথে এক কাপ চা হাতে ওইসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি। আমি পৃথিবীর সকলের সাথে সব বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলার ক্ষমতা অর্জনে কাজ করছি। নিজেকে প্রায়ই কমফোর্ট জোনের বাইরে পুশ করে বিভিন্ন কন্ট্রোভার্শিয়াল বিষয়ে একদম যুৎসই টার্গেট এলিমেন্টের সাথে আলোচনা চালাই। ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ সাবজেক্ট সেই আলোচনাটা নিতে পারে।

সেদিন এক জায়গায় দেখলাম যখন দুইটি অপশনের মধ্যে তুমি দ্বিধায় ভুগছো তখন অপেক্ষাকৃত কঠিনটি গ্রহণ করো। সফলতার আশা বেশি সেখানেই। আমার কাছে ব্যপারটিকে আরও একটু বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত মনে হলো। অপেক্ষাকৃত কঠিন কাজটি আসলে বিশ্বব্রহ্মান্ডের আমাদেরকে বলার প্রচেষ্টা যে ওটাই সঠিক পন্থা। সহজটি নয়। পাঠক আপনারা যারা লেখাটি পড়ছেন তারা কোনটি সাধারণত গ্রহণ করে থাকেন? সহজ পন্থা না কঠিন পন্থা?

এটা বোঝা অবশ্য কঠিন না। কয়েকটা ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়ে নিজেকে চিনে ফেলা সম্ভব। আসুন চেষ্টা করে দেখা যাক। প্রথমে বলুন আপনি কি ঘুম ভাঙার পর খুব বেশিক্ষণ বিছানায় কাটান? মানে ততোটা বেশি যাতে বিষয়টাকে যেকোন মাত্রার আলসেমীর ক্যটেগরিতে ফেলে দেয়া যায়। না? তাহলে আপনি একটি কঠিন কাজকে গ্রহণ করেছেন দুইটি অপশনের মধ্য থেকে। কোনো আলাদা তাড়না না থাকলে আমাদের পক্ষে বিছানা ছাড়া কিংবা শরীরের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে বের হয়ে আসাটা আসলেই খুব কঠিন একটা কাজ।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে, আপনি কি বাসা থেকে বের হয়েই একটি পরিবহনের খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন? নাকি হাঁটা পথে কিছুদূর এগিয়ে যাওয়াটা আপনার অভ্যাস। যদি অভ্যাস হয়ে থাকে তাহলে আপনি আবারও টেক্কা হাঁকালেন। আমার কিন্তু আপনার ওপর আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে সাবধান, এই পরীক্ষা সামনে এমন কোথাও চলে যেতে পারে যে আপনি হয়তো সত্যিই নিজের কোনো অনাবিস্কৃত দিক দেখে ফেলতে পারেন।

এবার বলেন আপনার ভেতরে শরীরচর্চার আগ্রহটা কিভাবে কাজ করে? জানেন তো শরীরচর্চা শুধু শরীর নয়, মনকেও প্রফুল্ল রাখে। আর শরীরকে তো রাখে স্মুথ। একটা স্মুথ শরীর দিয়ে আমরা কি যে করতে পারি আর কি যে পারি না সেটা তো আমরা সবাই জানি তাই না? সে কারণে সেসব ব্যাখ্যায় গেলাম না, জাস্ট বলেন শরীরচর্চার আগ্রহটাকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত রূপ দেয়ার অনুপাত কতটুকু আপনার। নিয়ম করে প্রতিদিন নিজেকে শরীরচর্চার জন্য মোটিভেট করতে পারেন নাকি ভাবা পর্যন্তই সার? যদি ভাবা পর্যন্তই সার না হয়ে থাকে আই বিলিভ আপনি একটা অমানুষ। অসাধারণ অমানুষ। আমাকে অন্তত হপ্তাখানেক ভাবতে হয়, তারপর দুইদিন হয়তো শরীরচর্চা করি, তারপর ইউনিভার্স কিছু একটা হাজির করে এবং আমি ডিস্ট্র্যাক্টেড হয়ে যাই।

অলরাইট, তাহলে আপনি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পজিটিভ দিয়েছেন এ পর্যন্ত, যার অর্থ দাঁড়ায় আপনি কঠিন অপশনগুলো সাধারণত গ্রহণ করে থাকেন এবং আপনি একজন পজিটিভ মানুষ। লুক অ্যাট ইউ ম্যান! এখন তাহলে শেষ প্রশ্নটি ফেস্ করুন এবং দেখুন আসলেই আপনি কি সত্যিকারের কঠিন অপশন-গ্রহণকারী কিনা।

এই প্রশ্নটার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বুঝতে চাইলে আপনাকে ছোট্ট একটা দৃশ্য কল্পনা করতে হবে। যা একটি সপ্তাহব্যাপী সময়। আপনার জীবনেরই যেকোন একটা পর্যায়ের। যখন আপনি নিজের স্বপ্নের মানুষটিকে প্রথমবারের মতো খুঁজে পেয়েছেন। অবশ্য মনে রাখবেন হুমায়ূন আজাদ স্যার প্রতিটি প্রেমকেই প্রথম প্রেমের মতো বলে গেছেন। সুতরাং এই স্বপ্নের মানুষটি যে আপনার প্রথম স্বপ্নের মানুষ হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু স্বপ্নের মানুষ হতে হবে অবশ্যই। যার কথা বলা, চাল, ভঙ্গি সবকিছুই আপনি অন্যভাবে দেখেন, যার সাথে কথা বলার সময় আপনি পেটের ভেতর প্রজাপতি অনুভব করেন, এবং আপনার গলার স্বর চেঞ্জ হয়ে যায়। ভেবে দেখুন তো এমন একজনের সাথে প্রথমবারের মতো দেখা, একসাথে সময় কাটানো, এবং নিজেদেরকে কিছুদূর অবিস্কার করা-র পর যদি জানতে পারেন সেই মানুষটিও আপনার সম্পর্কে ঠিক একইরকম ভাবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে আপনার চেয়ে বেশিও ভাবে তখন আপনি তাকে কি বলবেন?

তিনটি অপশন দিচ্ছি।

অপশন ১. আমিও তোমাকে পছন্দ করি।

অপশন ২. বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে।

অপশন ৩. দুইজন মানুষ কাছাকাছি আসার ভাল ও মন্দ দু'টো দিকই আছে। আমরা দুইজন দুইজনকে যে পরিমাণ পছন্দ করি তাতে মন্দ দিকগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচণ্ড। সুতরাং এসো বরং আমরা শুধু ভাল বন্ধু হয়ে থেকে যাই, হুম?

উপরের তিনটি অপশনের মধ্যে কোনটি আপনার? ভেবে দেখুন, তারপর চলুন আমার ব্যাখ্যাটা দেখি। খুব সংক্ষেপে এক প্যারায় ব্যাখ্যা করা হবে সবকিছু। এ কারণে চাইলে প্রতিটি বিষয়কে টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যার যার কল্পনার সীমানা পর্যন্ত।

আপনার অপশন যদি প্রথমটি হয়ে থাকে, যেটা আসলে একদমই সহজ নয় যদি আপনি জাস্ট পাঁচটা মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে পারেন ওই সিচুয়েশনে, তাহলে বলবো এখানে কঠিন অপশনটি গ্রহণ করার জন্য কিন্তু আপনি পুরস্কৃত হবেন না আগের প্রত্যেকবারের মতো। কারণ এটাই সবচেয়ে ভুল অপশন। কঠিনতমটি হচ্ছে দ্বিতীয়টি। যখন আপনার ক্রাশ আপনাকে প্রোপোজ করেছে এবং তাকে আপনি অপেক্ষায় রেখেছেন, এটার চেয়ে কঠিন এমনকি তিন নাম্বার অপশনটিও নয়। কিন্তু এই অপশনগুলোর কোনোটিই আদতে দুইজনের কারও জন্য ভাল ফল বয়ে আনছে না। শুধুই সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন আর ভাল থাকা-খারাপ থাকা, সেই পুরোনো গল্প।

সহজ অপশনের দিকে আমাদের কারোই অগ্রসর হওয়া উচিত না, এমনকি যেসব ক্ষেত্রে সফলতার চেয়ে মুহূর্তের অসামান্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়া জরুরি হয়ে দাঁড়ায় সেসব ক্ষেত্রেও। আমার পক্ষে তেমন কোনো পরিস্থিতির উদাহরণ চিন্তা করে বের করা সম্ভব হচ্ছে না ক্রিয়েটিভিটির অভাবে। একটা মাত্র চিন্তা যা মাথায় আসছে তা বলা বাতুলতা এবং শরীর-সম্পর্কীয়।

সহজ-কঠিনের এই দ্বন্দের আরেক ধরনের উপস্থাপন দেখলাম সেদিন। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা আসলে কি চাই আর আমাদের আসলে কি দরকার- এই দুইটি বিষয়কে ঠিকঠাকমতো বুঝতে পারলে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়ে যায়। কেন মানুষের জীবন এত যন্ত্রণাদায়ক সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে আমি গত কিছুদিন শুধু এসবই পেয়েছি। যার সবই একেকটা আলোর মশাল। সবখানেই ভালবাসার জয়গান গাওয়া হয়েছে। সেজন্য দু'লাইনের একটা স্লোগান আমি ভেবে রেখেছি। যেটা লেখার শেষে দেয়া হবে। ইদানীং যা বুঝলাম জীবন যাপনের মাধ্যমে তা হচ্ছে, আমরা কি চাই আর কি আমাদের দরকার, সেটা নিয়ে সবাই দ্বিধায় ভুগছি। এটা এড়াতে পারার কোনো সুযোগ নেই। শুধু একে দুরে সরিয়ে রাখার উপায় আছে। তা হলো কঠিনের সাধনা করা।

চলুন আগেরচে' একটু বেশি ভালবাসি
তেমন কোনো কারণ ছাড়াই

---

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।