সমান্তরাল রেখার সামনে একদিন
১.
চোখ খুলে আরমিন দেখতে পায় তার সারাটা মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। চোখের ওপর চলে আসা রক্তের স্রোত বারবার বুজে দিতে চাচ্ছে চোখ দুটোকে। মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে ভীষণ একটা শব্দে ভরে গিয়েছে। কোনমতে পাশ ফিরতে গিয়ে টের পেল হাতটা কাঁধের জোড়া থেকে আলগা হয়ে গিয়েছে তার। ট্রাকটা ব্রেক কষার সব চেষ্টা করেছিল বলেই হয়তো পুরোপুরি চাকাপেষা হয়ে যেতে হয় নি। কিন্তু মাথায় বোধহয় খুব খারাপভাবে একটি আঘাত লেগেছে। সারা শরীরের অবশতা জানান দিচ্ছে কোথাও নিশ্চই রক্তপাত হচ্ছে শরীরের। দ্রুত সেটি বন্ধ না করা গেলে অবধারিত মৃত্যু। কিন্তু রাজপথে শুয়ে রক্তভেজা চোখে আশপাশ যতোটা দেখা সম্ভব তাতে কোনো মানুষের অস্তিত্ব চোখে পড়লো না আরমিনের। ট্রাকটা ওকে ধাক্কা দিয়ে এক মুহূর্তের জন্য থেমেছিল। ওটির ধাক্কায় আরমিনকে রাস্তার এক পাশে প্রায় উড়ে যেতে দেখে সাথে সাথেই পালিয়েছে। আহা, ঘাতক ট্রাকচালকটিও যদি একটু থেমে ওকে একটা হাসপাতালে নিয়ে যেতো তাহলে হয়তো রক্তপাত বন্ধ করে ডাক্তাররা ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারতো। ভাবতেই ভাবতেই বুজে আসতে শুরু করে ওর চোখ। বাবার কথা মনে পড়তে শুরু করে। ইশ বাবাও এ ধরনের অতৃপ্তি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। ওর চোখের সামনেই। হাতের ওপর মাথা রেখে। ভাবতে ভাবতে চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় আরমিনের।
২.





মন্তব্য করুন