ইউজার লগইন

মোহছেনা ঝর্ণা'এর ব্লগ

কে শিকার আর কে শিকারী

সন্ধ্যার কিছুটা আগে অফিস থেকে ফিরছিলাম।আকাশটা কেমন মেঘলা হয়ে আছে।অথচ চারদিকে ভ্যাপসা গরম।হাসঁফাঁস অবস্থা।হঠাৎ দেখি চোখের সামনে মানুষের জটলা।সাথে থাকা অফিসের সহকারী কামাল বলল,আপা একটু দেখে আসি।নিউমার্কেটের দুপাশের রাস্তাগুলোতে কোনো ভদ্র মানুষের দাঁড়ানোর জো নেই।আর সে জায়গায় একটা মেয়ের অবস্থা কেমন হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়।সিটি সার্ভিসের ৪নম্বর গাড়ির জন্যই মূলত দাঁড়িয়ে থাকা।কামাল ফিরে আসার আগে কানে এলো তীব্র চিৎকার।দূর থেকেই দেখছি তরুণ বয়সি একটা ছেলেকে মারছে অনেকগুলো মানুষ।কামাল এসে বলল,চোর ধরছে আপা।সবাই মিলে ইচ্ছা মতো পিটাচ্ছে।
কি চুরি করছে?
জুতা।ঐ যে ভ্যানের উপর রেখে জুতা বিক্রি করতেছে ঐ লোকের এক জোড়া জুতা নেয়ার সময় ধরা পড়ছে।প্রতিদিনই নাকি এরকম চুরি হয়।
এ ছেলেই প্রতিদিন চুরি করে?
জানি না।
তাই তো।কামাল জানবে কিভাবে?ও তো আর ঐ জুতা চোরের পার্টনার না।
৪ নম্বরের গাড়ি চলে আসে ততক্ষণে।গাড়িতে গাদাগাদি ভিড়। ভালো লাগে না।
ভাবনায় কেমন করে যেন জুতাচোর ছেলেটা চলে আসে।ভ্যানের উপর বিক্রি করা জুতাগুলোর দাম কত হবে? দু’শ,চার’শ কিংবা বড়জোড় পাঁচ’শ থেকে হাজার।হাজার আবশ্য হবে বলে মনে হয়না।

জীবনের জে.এস.সি পরীক্ষা

জীবন ক্লাস এইটে পড়ে।সামনে তার জে.এস.সি পরীক্ষা।তার জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হচ্ছে পড়া লেখা।পড়া লেখাটা যে কে আবিষ্কার করেছিল!জীবনের প্রায় ইচ্ছে হয় তাকে খূঁজে বের করে গুলি করে করে মেরে ফেলতে।শুধুমাত্র পড়ালেখার জন্য তার জীবনের সব হাসি আনন্দ মাটি।বলা যায় জীবনটা যন্ত্রণায় একেবারে ভাজা ভাজা হয়ে গেছে।
টিভি দেখতে তার কতো ভালো লাগে।বিশেষ করে ঋত্মিক রোশন আর সালমান খানের হিন্দি ছবিগুলো।সে সালমানের মতো নাচতেও পারে।মাঝে মাঝে এইচবিও চ্যানেলের ইংলিশ ছবিও দেখে।কম্পিউটারে গেম খেলতেও ভালো লাগে।তার বন্ধু প্রান্ত থেকে মাঝে মাঝে সে গেমসের সিডি আনে গোপনে।আবার গোপনেই তা কম্পিউটারে ইনস্টল করে বন্ধুকে ফেরত দিয়ে দেয়।কিছুই গোপনে করতে হতো না,যদি তার আপু বাসায় না থাকতো। তার স্বাধীন জীবন যাপনের একমাত্র বাধা হচ্ছে তার আপু।

মনের ভেতরের মন

সোহান ভুল করছে। হয়তো আমিও করছি। আমি যে ভুল করছি তা আমি বুঝতে পারছি। আর এই বুঝতে পারার জন্যই প্রতিটা মুহূর্তে আমি বেশ অস্বস্তি নিয়ে পার করছি। কারণ এভাবে চলতে থাকলে বিষয়টা একদিন সবার নজরেই পড়বে। তখন সমাজ সংস্কারের চিরায়ত নিয়ম অনুসারে নিন্দার ঝড়টা আমার গায়ে এসেই কাটার মতো বিঁধবে।
আমার নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে আমি খুব দ্বিধার মধ্যে আছি। একবার আমার মনে হচ্ছে আমার জীবনটা আমার। শুধু আমার না, প্রতিটা মানুষের জীবনই তার নিজস্ব। তার ভাবনা-চিন্তা, বেঁচে থাকার পদ্ধতি, তার পছন্দ-ভালো লাগা না লাগা সব কিছুই একান্ত তার। আমরা নিজেদের প্রয়োজনেই, নিজেদের স্বার্থ এবং সুবিধার্থেই কিছু বলয় তৈরি করি। আর পরবর্তী সময়ে অন্যের উপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সেই বলয়টাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি। আবার মনে হয়, না আমার জীবনটা শুধু আমার না, আমার সাথে জড়িয়ে আছে আরও অনেকগুলো সম্পর্ক...।