ইউজার লগইন

আমার বর্ণমালা, আমার পাঠশালা ।

তখন আমাদের কতো বয়স, আমরা জানিনা । কতোইবা হবে...চার কী পাঁচ । কী দিন ছিলো আমাদের । নাওয়া নেই, খাওয়া নেই সারাদিন খেলাধুলা আর হৈ হুল্লোড় । অজপাড়াগাঁয়ের সেই সোনালি দিনগুলি আজ আর নেই । বছর পাঁচেক আগেও এই ভাঁটির গ্রামে কোনো বৈদ্যুতিক আলো ছিলোনা । কিন্তু আজ ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ । এমন কী এই বৈদ্যুতিক ক্রাইসিসের মধ্যেও এই ভাঁটির গ্রামে বিদ্যুৎ আসার সব বন্দোবস্থ প্রায় হয়ে গেছে । বিদুতের খুঁটিও ঘরের দ্বারে দ্বারে ফেলে রাখা হয়েছে । হঠাৎ করে গ্রামটা যেনো এক অজানা শিহরণে শিহরিত হয়ে উঠলো । চোখের সামনে পুরো গ্রামটা কেমন জানি বদলে গেলো ।

বলছিলাম...ছেলেবেলার কথা । আমাদের ছেলাবেলা মানে খুব আদ্যিকালের কথাও নয় । চোখ বুজলেই সেই দিনগুলি আজো স্মৃতির মানসপটে ভেসে উঠে । আশির দশকের শেষদিকে আমার জন্ম । সেই হিসেবে নব্বই দশকের গোঁড়ার দিকেই শুরু আমাদের শৈশব কৈশোরের সোনালি দিনগুলি । তখনো আশপাশের গ্রামে কোনো ভালো রাস্তা-ঘাট ছিলোনা । এমনকি আশপাশের পাঁচগাঁয়েও কোনো সরকারি প্রাইমারি স্কুল ছিলোনা । কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলো আমাদের গ্রাম । এই গ্রামেই আশপাশের গ্রাম থেকে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে আসতো । আমি ই ছিলাম ব্যতিক্রম । আমি আমার গ্রামে লেখাপড়া করিনি । পড়াশোনা করেছি মামাবাড়িতে ।

তবে ছুটিছাটায় মাঝে মধ্যে গ্রামে এলে আমার গ্রামের স্কুলটাকে ভারী ভালো লাগতো । কারণে অকারণে স্কুলটার পাশে ঘুরঘুর করতাম । স্কুলটার কোনো বেঞ্চি ছিলোনা । টিনের চারছালা ঘর । চতুর্দিকে আধহাত করে ঘরের মাটি থেকে হাতখানেক উঁচু করে ঘরের দেয়ালের সাথে ঠেশ দিয়ে সিমেন্ট বালু আর পাথরের তৈরি বেঞ্চ ছিলো । দেয়ালের সাথে ঘা ঘেঁষে বই হাতে নিয়ে বসে বসে ক্লাস করতে হতো । এই তুলনায় আমার মামাবাড়ির স্কুলটা ছিলো যথেষ্ট আধুনিক । সারিসারি বেঞ্চ ছিলো । চার চারজন শিক্ষক ছিলেন । একজন দিদিমনি ছিলেন । আর আমার জন্মভূমি গ্রামের স্কুলটার শিক্ষক ছিলেন মাত্র একজন । তাও একজন আপামনি-ই ছিলেন স্কুলের হর্তাকর্তা । সারাদিন দেখতাম গাধার মতো খেটেখুটে প্রায় সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরতেন । আপামনি আমাদের পাশের গ্রামের-ই ছিলেন ।

আমি যখন ছুটিছাটায় বাড়িতে আসতাম,দেখতাম আপামনি স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায়ও সমানে অফিসে কীসব খতাপত্তর নিয়ে সমানে একমনে লিখে চলেছেন । আমি তখন অফিস রুমের চারদিকে ঘুরঘুর করতাম । এখনে বলা দরকার যে, স্কুলের অফিস বলতে গ্রামেরই এক এক প্রভাবশালী মোড়লের বাংলোঘর ব্যবহার করা হতো । আর স্কুলটাও ছিলো ঐ মোড়লের ঘরের পাশে । এখনো বহাল তবিয়তে-ই স্কুলটা আগের জায়গাতেই আছে তবে আগের ছেয়ে বেশ বড় পরিসরে ।

তো, দেখতাম আপামনি গুনগুন করে গান গেয়ে গেয়ে খাতাপত্তর নিয়ে কীসব লিখে চলেছেন । হঠাৎ হয়তো চোখ পড়লো আমার দিকে , আবার খাতাপত্তরে চোখ বোলাতে বোলাতে বললেন - তুমি কবে আসলে ? আমি তখন খুশিতে আপামনি না বলে দিদিমনি বলে সালামের পরিবর্তে নমস্কার দিয়ে বসলাম । দেখতাম আপামনি এসবের খুব একটা খেয়াল-ই হয়তো করলেন না । হাসিমুখে বললেন -ভেতরে আসো । গুটিশুটি মেরে আমি হয়তো আপামনির পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম । (আরো কিছু লিখতে পারি!)

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


গ্রাম গুলো আর গ্রামনেই... ঘড়ের সামনে গাড়ি চলে যায়... যেটা কিছুদিন আগেও সম্ভব ছিলনা... আমার বাড়ি থেকে ঢাকায় আসতে প্রায় ৬/৭ ঘন্টা সময় লাগতো... আর এখন? ১ ঘন্টা Smile

চলুক ... সঙ্গে আছি Smile

মনির হোসাইন's picture


টুটুল ভাই,পড়েছেন খুব ভালো লাগলো । আমার বাড়ি যেতে এখনো ছয় ঘণ্টা লাগে Sad( আগেও তাই লাগতো Big smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বাহ !

মনির হোসাইন's picture


:ধন্যবাদ!

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


আসলেই তাই, বদলে যাওয়ার হাওয়া যেন গ্রামেই বেশী লেগেছে এখন। তাই সব স্মৃতিগুলোও যেন আস্তে আস্তে কৃত্রিমতাই ঢেকে যাচ্ছে। তবুও তো স্মৃতিই

মনির হোসাইন's picture


গোটা পৃথিবীই নাকি এখন একটা গ্রাম Sad(

সামছা আকিদা জাহান's picture


কে বলেছে নেই? আছে, এখনও আছে গ্রামগুলি গ্রাম আছে। শহরের ছোঁয়া লাগছে বেশ দ্রুতই। তবে এখন ও গ্রামই আছে বেশীর ভাগ যায়গা। যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই , পাকা রাস্তা নেই, ইটের বাড়ি নেই, মাঠের পর মাঠ শুধু ধান ক্ষেত। বাড়ির পাশে জংলা। আকাশের নিচে বাশের ঝাড়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া , নেংটা ছেলে পেলেরা গাড়ি দেখলে পিছন পিছন দৌড়ায়। বৃষ্টি হলে যেখানে আর গাড়িও চলেনা। পায়ে হাটতে হয়। কাঁদায় পা, প্যান্ট, জামা একাকার। কাঁদার জন্য স্যান্ডেল বা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে হাটতে হয়। আর শহুরে বাবুরা ধুপ ধুপ করে পিছলে পরে। এই পিছলে পরার মাঝেও মজা আছে । শুরু হয় হাসা হাসি।

মনির হোসাইন's picture


পড়ার জন্যে ধন্যবাদ Smile !আমার গ্রামটা অতোটা আর আগের বিশুদ্ধ গ্রাম নেই Sad( তবে এখনো গ্রামীণ আমেজটা আছে Big smile কাঁদা জল মাড়িয়ে বোরো ধানের আল ধরে ধরে এখনো বাড়ি পৌছুতে হয় Smile আর বর্ষায় স্টিমার Big smile

নাজ's picture


আসলেই আজ-কাল সব কিছু খুব জলদি বদলে যাচছে Sad
আমার শহরে যেতে আগে সময় লাগতো ৭-৮ ঘনটা, এখন লাগে ৪ ঘনটা!

১০

নাজ's picture


মোবাইলে লিখছি, তাই কিছু ভুল আছে। sorry for that!

১১

তানবীরা's picture


চলুক ... সঙ্গে আছি Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মনির হোসাইন's picture

নিজের সম্পর্কে

কিছুই বলার নেই !