ভালবাসার স্পর্শ কোথা পাই
প্রতি রাতে আমি একটা স্বপ্ন দেখি। দেখি কনডেম সেলের মতন একটা ঘরে হাত পা শেকল দিয়ে বাধাঁ অবস্থায় আমি পড়ে আছি আর কেউ আমার গলা টিপে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। স্বপ্নটা দেখে রোজ শেষ রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রচন্ড ভয়ে আমি ঠান্ডা হয়ে যাই, পানির তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় কিন্তু আমি নড়তে পারিনা। আমার হাত পা সব অবশ হয়ে আসে। আমার কেবলই মনে হতে থাকে এটা মনে হয় আমার ভবিষ্যত। আমি বোধ হয় এমন অন্ধকারের দিকেই ক্রমাগত এগিয়ে চলছি। যেখানে কেউ একজন আমার স্বত্তাকে ঠিক এভাবেই মেরে ফেলতে চাইবে, আমার "আমি"কে গলায় ফাঁস পরাবে, আমার হাত পা বেধেঁ ফেলবে যাতে বাইরের দুনিয়াটা আমার কাছে অস্পৃশ্য হয়ে যায়। আমি সত্যি সত্যি আমার গলায় ফাসিঁর দড়ি অনুভব করি। আজকে সকালে অফিসে গিয়ে কথাটা আমি লিন্ডার সাথে শেয়ার করলাম। সব শুনে ও বলে, তোর শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। রাতে ঘুমাসনা ঠিকমতো এইজন্য এরকম উলটাপালটা স্বপ্ন দেখিস। ডাক্তার দেখাসনা ক্যান তুই? আমার শরীর খারাপ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু আমি জানি স্বপ্নটা আমি অন্য কারনে দেখি। চোখের সামনে আমার এতদিনের লালিত সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে অথচ আমি কিছুই করতে পারছিনা সেই ব্যর্থতা থেকে দেখি। বড় সন্তান হওয়ার কারনে ছোটবেলা থেকেই আব্বু আম্মুর অনেক আশা আমাকে নিয়ে। আর রেজাল্ট ভাল থাকার কারনে সেটা মনে হয় দিন দিন আরও বেড়েই যাচ্ছে। তাদের কথা শুনতে শুনতে কখন যে নিজের ভেতরেই নানারকম রঙ্গিন স্বপ্ন প্রজাপতির মত ডানা মেলে ওড়া শুরু করেছে তা এখন আর নিজেরই মনে পড়েনা। সবসময় মনে হয় পৃথিবীতে যেহেতু একবার এসে গেছি সেহেতু কিছু একটা করেই যেতে হবে। কিন্তু কষ্ট হয় যখন দেখি স্বপ্ন আর বাস্তবের বিস্তর ফারাক। বাস্তব বড় নিষ্ঠুর। এখানে আবেগ, ভালবাসার কোন মূল্য নেই। এখানে আছে শুধুই নিষ্ঠুরতা, শুধুই সংকীর্নতা। এখানে মেয়ে বলে আমার কোন সুযোগ নাই, আমার জন্য পৃথিবীতে কোন আনন্দ নাই, আমার কোন স্বপ্ন নাই। আমি মেয়ে আমাকে ঘরে থাকতে হবে, আমার জায়গা হবে রান্না ঘরে, কারও স্ত্রী হয়েই আমাকে খুশি থাকতে হবে, আমার আবার এত চাহিদা কিসের? তখন আমার কেবলই মনে হতে থাকে মেয়েদেরকে শুধু মেয়ে বলেই আজ এত অবহেলা করে যে সমাজ, সে সমাজ কার তৈরী? সে সমাজে যেসব মানুষ বাস করে তাদের প্রত্যেকের জন্মইতো কোন না কোন এক মেয়ের থেকে। অথচ জন্ম নেয়ার পরে তারা ওই মেয়েজাত কেই অবজ্ঞা করতে আরম্ভ করে। আমার কেবলই মনে হয় সেসব মানুষই তাদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করে যে নিজে অসৎ। অনেক সম্পর্কই চাইলে খুব সহজে তৈরী করা যায় কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি চাইলেই তৈরী করা যায়? আমি সবসময় ভাবতাম যাকে আমি বিয়ে করব সে আর যাই হোক তাকে আমার খুব ভাল বন্ধু হতে হবে। যার সাথে আমি সবকিছু শেয়ার করতে পারব, যে আমাকে বুঝবে। আপাতদৃষ্টিতে খুব সামান্য ইচ্ছা মনে হলেও আজ পর্যন্ত আমি এমন কাউকে পেলামনা যে সত্যিই আমার একজন বন্ধু। বন্ধু নাম দিয়ে আজ পর্যন্ত যতগুলা মানুষ আমার সাথে মেলামেশা করল তাদের প্রত্যেকেই কোন না কোন একসময় নিজের মুখোশ খুলে ফেলে। এমনও হয়েছে সাত বছর বন্ধুত্ব থাকার পরও আমি চিনতে পারিনি। প্রানের বন্ধু ভেবে কতদিন যাবৎ পাগলের মত শুধু দিয়েই গেছি কোনদিনও কিছু পাওয়ার আশা করিনাই। আর আজকে যখন সে নিজেই অনেক কিছু করতে পারে তখন আমাকে আর দরকার নাই। তখন তার গিরগিটির মতন খোলশ পাল্টানোও আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই মানুষের কাছ থেকে আমি কোন ভাল কিছু এখন আর আশা করিনা। প্রতিদিন অফিসে যেয়ে যখন দেখি আমার কলিগগুলা কি সুন্দর মনের আনন্দে অফিস করছে, ওদের বন্ধুর সাথে প্রতিদিন বেড়াতে যাচ্ছে, ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছে, আবার অফিসিয়াল সব কাজেও ঠিকমত অংশ নিচ্ছে তখন আমার খুব কষ্ট হয়। তখন আমি ভাবি সবাই ভাল থাকে আমি ভাল থাকিনা কেন? সবার ভাল থাকার অধিকার আছে আমার নাই কেন? আমি কাউকে বন্ধু মনে করলে সে আমাকে ঠকায় কেন? আমি কারও উপর নির্ভরতা দেখালে সে আমার সাথে অবিশ্বস্ততা করে কেন? আমি কারো কাছ থেকে কোন কিছু আশা করলে সে সেটার সুযোগ নেয় কেন? কেন আমার জীবনে কখনও খুশি হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনা? কেন আমার সাথেই সবসময় এমন হয়? কেন?





প্রত্যেকটা মানুষ-ই দুঃখী। প্রত্যেকের সাথেই এমন হয়।
মন খারাপ নাকি?
হুমম, মন খারাপ।
বন্ধুর ক্ষেত্রে আপনার জীবনে সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারি।
বন্ধু বাছাইয়ে হয়ত ভুল হয়েছে, তা হতেই পারে।
তাই বলে সব বন্ধুই খারাপ না। আপনার জীবনে হয়ত
বেশি খারাপ পেয়েছেন। ডোন্ট ওরি। বন্ধু বাছাইয়ে একটু সতর্ক হোন।
সব ঠিক হয়ে যাবে। এত হতাশ হবেন না।
শুভকামনা
থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া

ব্যাপার্না
ঠিকই বলসেন টুটুল ভাই একদমই ব্যাপার্না।
মানুষ মূলত একা ! এটাই বাস্তব, এটা মেনে নিলে আর কোন ঝামেলা নাই। বন্ধু বান্ধব সু-সময়ের মাছির মত।
নিজের সাথে নিজে বন্ধুত্ব করুন, দেখবেন অনেক ভাল থাকবেন।
ভাল থাকেন, অনেক ভাল 
ধন্যবাদ লীনাপু
।
সেই ভুলে ভরা গল্প, কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায় .................................।।
ইউনিভার্সিটিতে যখন নতুন ভর্তি হলাম তখন কিছুদিন "যায় যায় দিন" এ কাজ করেছি। তখন সঞ্জীবদাও সেখানে কাজ করতেন। প্রতিদিন তাকে আমি দূর থেকে দেখতাম কিন্তু কোনদিন কথা বলিনাই। ভয় লাগতো। তখন যদি জানতাম মানুষটাকে এত তাড়াতাড়ি হারায় ফেলবো তাহলে অবশ্যই কথা বলতাম এবং জানাতাম যে সঞ্জীবদার এই গানটা আমার জীবনে শোনা সবচে সেরা গান।
হুমমম। এমন হয়। কি আর করা! শুভকামনা থাকলো।
ধন্যবাদ জয়িতা আপু
বাহ!!! apu ami to jantami na j tumi ato shundor likhte paro. like!!!
মন্তব্য করুন