ইউজার লগইন

দিন দিন প্রতিদিন

ঘুম ভাংলো ফোনের আওয়াজে,"বাবা, তুই ঈদে ফোন করিসনি কেন?"

আওয়াজটা শুনেই বুঝতে পারলাম মার আওয়াজ। এরকম দরদমাখা আওয়াজে দুনিয়ার তাবৎ মা রাই তাদের সন্তানদের ডাকে। বাইরে ঠিকড়ে রোদের খেলা, শরতের মিস্টি ঠান্ডা হাওয়াটা যখন মুখে লাগে তখন মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। ঠিক বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে ঠান্ডাটা নেমে আসতো আমাদের গাঁয়ে। বিকেল বেলা খেলা শেষে নদীর পাড়ে আড্ডা, রাতভর ওয়াজ অথবা একতারার সুরে কীর্তনের অনুষ্ঠান রাতভর।

শৈশবের সময়গুলো খুব দ্রূত চলে যায়।
: বাবা, তুই কি ঠিকমতো খাস?
: খাই মা।
: ঈদের দিন নামাজ পড়ছিস?
: ঘুম থেকে উঠতে দেরী করেছিলাম।
: তুই এখনও বদ। কতবার বললাম নামাজ পড়।
: মা, আমি চলে আসি?
: ভালো না লাগলে এসে পড়। আমার কিছু ভালো লাগে না। সারাদিন একা একা ঘরে বসে থাকি। তোর ছবি দেখি। তোর হাসিমাখা মুখ কতদিন দেখি না।

লাইন টা কেটে দিলাম। ঘুম থেকে উঠে এর চেয়ে বেশী মেলোড্রামার কোনো দরকার দেখি না। বিশাল এপার্টম্যান্টের অদূরেই একটা লেক। দূর থেকে দেখা যায় রোদের মিস্টি আলোয় শুয়ে আছে অর্ধ নগ্ন তরুণ তরুনীরা। জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায় যদি ভাবনার কুঠুরী বন্ধ করে দেই। যাচ্ছে দিন যাক না, এই তো বেশ আছি।

রুম থেকে বেরিয়েই একটা খবর কানে আসলো। পাশের রূমে থাকা ইজিপশিয়ান মেয়েটা, নাম তার সোনিয়া। ঐ বলছিলো,"দেখেছো কি খারাপ সুইডীশরা! হিজাব পড়েছে বলে মারবে? এটা কি মঘের মুল্লুক?"

আমি অবাক হলাম, সুইডিশরা কখনো এতটা বর্নবাদী ছিলো না, এখনো নেই। আমি বললাম,"কিছুদিন আগে ইউটিউবে দেখলাম তোমাদের দেশে দুজন খ্রিষ্টান মেয়ে টাইট টি শার্ট পড়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলো। মোল্লারা "আল্লাহু আকবার" বলে তাদেরকে গণ ধর্ষন করে। ঐ মেয়ে দুটো তোমার মতোই পোষাক পড়েছিলো তবে ওদের ওড়না ছিলো।"

মেয়েটা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে ঘুরে দাড়ায় এমনভাবে যেন আমি ওর বুকের দিকে চেয়েছিলাম। লিফট থেকে নেমে একটা স্প্রাইট কিনলাম, চারিদিকে চোখ বুলালাম। রাস্তা দিয়ে দুটো শিশু আবল তাবল বক বক করছে, দূর থেকে ব্লন্ড চুলের মহিলা তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

বীচে অনেকক্ষন সময় কাটালাম। গান শুনলাম। বিকেলের দিকে টি সেন্ট্রালে যাবো বলে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। প্রচন্ড ভীড় স্টেশনে। সবাই যার যার মতো ব্যাস্ত। ট্রেন সময় গুনেই স্টেশনে আসলো। ভেতরে দাড়াবার জায়গা নেই, তবু উঠে পড়লাম। আমার সাথে এক আফ্রিকান প্রেগন্যান্ট মহিলা।মহিলাকে জায়গা করে দিলাম ভেতরে যাওয়ার জন্য।

মহিলা ভেতরে গিয়ে দাড়াতেই এক সুইডিশ ছেলে তার সীট ছেড়ে দিয়ে সুইডিশে বললো,"ভারসাগুদ, দু কান সিত্বা হার!" (তুমি এখানে বসতে পারো, স্বাগতম!")

মেয়েটা একটু হেসে "থাক স মিক্কে" (অনেক ধন্যবাদ) বলে বসে পড়লো।

হঠাৎ করে সোনিয়ার কথা মনে হলো, মনে পড়লো ওর কোমড় দুলিয়ে হেটে যাওয়ার কথা। আজকে রাতে ওর রুমে একটা নক করা যায়, ভালোই হয় নাকি?

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


স্বাগতম এই ব্লগে!
ধন্যবাদ সকাল সকাল সুইট একটা দিনলিপি পড়ানোর জন্য।

দূরতম গর্জন's picture


লিখবো লিখবো করে লেখা শুরু করে দিলাম। মন্তব্য পেয়ে অনুপ্রানিত!

সামছা আকিদা জাহান's picture


স্বাগতম, ভাল লাগল লেখা চলুক।

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য

রায়েহাত শুভ's picture


Welcome
লেখার হাত সাবলীল লাগলো...

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ ভাই ধইন্যা পাতা

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ভাল লাগলো, লিখতে থাকুন

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ। বেশ অসামাজিক আমি। তাই উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানো আর এসব দিনলিপি লেখাছাড়া কিইবা করার আছে।

তানবীরা's picture


পড়লাম

১০

দূরতম গর্জন's picture


তো?

১১

টোকাই's picture


ভাল লেগেছে

১২

দূরতম গর্জন's picture


তাই ?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!