ইউজার লগইন

ঘুম ঘুম

ঘুম ভেঙ্গেছিলো বেলা ১১:৩০টায়। মাথায় বিনি কেটে দিলো ঘুম যে গভীর হয় সেটা জানা ছিলো না। বিনি কাটা বন্ধ হয়েছিলো বলেই ঘুমটা ভেঙ্গেছিলো এটা আমি নিশ্চিত। চোখ মেলে দেখি সোনিয়া পিংক রঙ্গের অন্তর্বাসে আমাকে দেখছে। আমি মুচকী হেসে চোখ বন্ধ করে বললাম,"আমাকে কি হোসনি মোবারকের মতো লাগছে?"
: একটু পর আমার বয়ফ্রেন্ড আসবে। সে এসে তোমাকে যে কি করবে সেটা ভেবে হাসছি।

ঘুম আমার দৌড়ে পালাল। তড়াক করে বিছানা ছেড়ে প্যান্ট খুজতে লাগলাম এমন সময় সোনিয়া বললো,"আন্ডারওয়্যারটা বাথটাবে, প্যান্ট টা সোফার ওপর। আর টি শার্ট জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো। আচ্ছা একটা কথা বলতো, তোমার হ্যাংওভার হলে এত চিৎকার করো কেন?"
: (আমি প্যান্ট খুজতে খুজতে) তোমার বয় ফ্রেন্ড কখন আসবে?
: ও নীচে দাড়িয়ে আছে। তুমি বের হলেই আমি চাবি জানালা দিয়ে ছুড়ে দেবো!
: তুমি আসলেই অদ্ভুত!

"ও আচ্ছা?" বলেই আবার শুরু হলো নখরামো। নিটল শরীরের ঘোর লাগা নখরামো। দুধে আলতা শরীরে যেন মাদকের ছোয়া। চোখ দুটো সামলে প্যান্টটা পড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে গেলাম। পকেট হাতড়ে মোবাইলটা বের করে দেখি দুটো মিসড কল অজানা নম্বর থেকে।

কল ব্যাক করলাম,"হ্যালো, কে বলছেন?"
: হ্যালো শফিক? আমি সোহেল বলছি। শাহানা ভাবী তোমার নম্বরটা দিয়েছিলো।
: ও আচ্ছা, কেমন আছেন? আসলে ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেছে।
: ছুটির দিন এটা হতেই পারে। ভাবী তোমার কেসের ব্যাপারে সব বললো। তোমার নাকি কাজ দরকার। আজকে বিকেলে একটু আসতে পারবে আমার রেস্টুরেন্টে?
: উমমম....আজকে বিকেলে ভাইয়া আরেকটা জায়গায় কথা দিয়ে রেখেছি। কাল আসি?
: ওকে, কোনো সমস্যা নেই। কাল তুমি ২টার পর এসো।
: ওকে ভাইয়া। আসবো। বাই

বলে কলটা রেখে দিলাম। যদিও আমি ঠিকানাটা জানি না সেহেতু কালকে যাবার প্রশ্নই আসে না। সুইডেনের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের ব্যাপারে আমার একটা তীক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

সুইডেনের ইমিগ্রেশন সিস্টেমটা এতটাই অদ্ভুত যে এখানে যারা আজ হতে ২০-২৫ বছর আগে এসেছিলো তারা সবাই কনভিক্টেড ক্রিমিনাল ছিলো। দেশে হয় এরা মার্ডার করেছে বা বিশাল কোনো পলিটিক্যাল স্যবোটাজের সাথে জড়িত। বেশীরভাগ অশিক্ষিত সন্ত্রাসী হওয়ায় এরা সুইডিশ পারমিশন পেয়ে সোজা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট খুলে বসে। সুইডিশদের টাকা পয়সার অভাব নেই বলে তারা রেস্টুরেন্টেই নিয়মিত খায়। কিছু কিছু রেস্টুরেন্ট খুবই ভালো চলা শুরু করে। যদি হিসাব করা হয় তাহলে খোদ স্টক হোমেই ১৩০ টার মতো ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট যার ৯৫% বাঙ্গালী মালিক।

কিন্তু এসব মালিকেরা মোটেও ভালো লোক নন। সুইডিশ ল' অনুসায়ী যেকোনো কাউকে কাজ দিলে সেটা যত নীচু কাজই হোক ন্যুনতম মজুরী হতে হবে ১০৫ ক্রোনার যার মধ্যে ৩৩% সরকারকে দিতে হবে। বছর শেষে যত ক্রোনার ট্যাক্স দেয়া হয়েছে ঐ কর্মচারীর নামে তার ৭৫% শতাংশ ফেরত পায় ঐ কর্মচারী সরকারের ট্যাক্স অফিস থেকে। এই ১০৫ ক্রোনারের নীচে মজুরী দিলে সেটা হবে দন্ডনীয় অপরাধ। সুইডেনের এহেন উচ্চমূল্যের মজুরীর কারনে খাদ্যের দামও সেভাবেই নির্ধারন করা হয়েছে।

কিন্তু এসব বাঙ্গালি মালিকেরা সেটা মানে না। যদি কেউ কাজ করতে চায় তাকে ঘন্টায় ৫০ বা ৬০ ক্রোনার দিয়ে কাজ করায় এবং এবং একটা লোক সারা দিন যদি ১০-১২ ঘন্টা কাজ করে তাহলে তার নামে মাত্র ২-৩ ঘন্টা সরকারকে ট্যাক্স দেয়। এর ফলে কর্মচারী সবদিক দিয়েই ঠকছে। সরকারের কাছে এসব কর্মচারীরা কোনো অভিযোগ করতে পারে না কারন একেতো এই মালিকের হয়ে কাজ করার জন্য যে কাগজ দরকার সেটা ছাড়াই কাজ করছে যার ফলে এটা প্রমান করা কষ্টকর যে মালিক ঐ কর্মচারীকে ঐ পরিমান মজুরী দিতে কোনো দায়বদ্ধতা আছে। তার ওপর সুইডিশ ভাষা আর পাসপোর্ট না থাকলে সুইডিশ কাজ পাওয়া খুবই কষ্টকর বলে এসব মালিকেরা যাচ্ছে তাই ব্যাবহার করে।

একসময় অনেক ছাত্র আসতে বলে এদের ওপর এসব মালিকেরা প্রচন্ড পরিমান নির্যাতন করেছে এবং ছাত্ররা মুখ বুজে স হ্য করে এদের হয়ে কাজ করেছে কয়েকটা ক্রোনারের জন্য। এখন আর ছাত্ররা আসছে না, আর যারা এখানে থেকে গেছে তারা সুইডিশ চাকুরী নিয়ে ব্যাতিব্যাস্ত বলে এদেরকে পোছার সময় নেই তাদের। আর ইতালী স্পেন থেকে সস্তা শ্রমিকেরা রেস্টুরেন্টের এত কষ্টকর কাজ এট বাজে পরিবেশে করতে অভ্যাস্ত নয় বলেই এসব ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের মালিকেরা এখন হয় হন্যে হয়ে লোক খোজে না হলে দেশ থেকে নিজের গরীব আত্মীয় স্বজন এনে নিজের কেনা দাসের মতো প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘন্টা কামলা খাটায়।

আমি এদেরকে এজন্যই এড়িয়ে চলি। যদিও আমি জানি এটা ঠিক হচ্ছে না, কিন্তু তবুও। আজ যদি আমি এদের কাছে মাথা নোয়াই তাহলে কাল আরও ১০ জনকে মাথা নোয়াতে হবে।

নিজের স্বজাতীয় এই ধনিক শ্রেনীই যেন ভীন দেশে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু!

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


Love

দূরতম গর্জন's picture


>)

সামছা আকিদা জাহান's picture


জানলাম বাঙালী বাঙালীই।

দূরতম গর্জন's picture


ঢেকি তো স্বর্গে গেলে ধানই ভাংবে, তাই নয় কি?

মৃন্ময় মিজান's picture


Tongue

কইত্তেন কই !!!

দূরতম গর্জন's picture


ভাগন্তিস

লাইফটাই তো এমন। আমিও কি জানতাম যে আমাকে এমন মরার দেশে পচতে হবে!

THNX

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


শুরু আর শেষের মিল পাইলাম না Tongue

দূরতম গর্জন's picture


নিজের লাইফেরি কোনো মিল পাইলাম না, গল্পে কি পাইবেন গো

এই যাযাবরের লাইফের চেয়ে দেশে রিক্সা টানলেও মা বাবার দোয়া পাইতাম
দোয়া করবেন একটু যাতে কুকুরের মতো না মরি বিদেশের মাটিতে

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আউলা ঝাউলা পোস্ট!

১০

দূরতম গর্জন's picture


ঠিক বলেছেন

১১

তানবীরা's picture


এখন হয় হন্যে হয়ে লোক খোজে না হলে দেশ থেকে নিজের গরীব আত্মীয় স্বজন এনে নিজের কেনা দাসের মতো প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘন্টা কামলা খাটায়।

সুইডেন লোক আনার পারমিশান দেয়?

শুরু আর শেষের মিল পাইলাম না Sad(

১২

দূরতম গর্জন's picture


দেয়। তবে বেশ সময় লাগে। ৭ থেকে ১২ মাস। তবে কোম্পানী যদি খুব ভালো হয় তাহলে দেখা যায় ৩-৪ মাসের মধ্যে ভিসা হয়ে গেছে। অনেক ছাত্র শুনেছি ভিসা না থাকা অবস্হায় এপ্লাই করেছিলো। পরে থার্ড কান্ট্রি বা দেশে গিয়ে এপ্লাই করার ১৫ দিনের মধ্যে ভিসা দিয়ে দিয়েছে।

কোম্পানীর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!