অরক্ষিত বলয়
সেনাবাহিনীর কাজ যুদ্ধ করা। তারা যখন মারা যাবে তখন গুলিটা যাতে বুকে লাগে তার জন্যই তাদের যতো ব্যাকুলতা। মৃত্যুকে আমরা ভয় পাই, বেচে থাকতে চাই অনন্ত কাল।
অনন্তকাল বেচে কি করবো? সাগর পাড়ে মার্টিনি হাতে নিয়ে রঙ্গিন ছাতার নীচে শুয়ে শুয়ে সাগরের গর্জন শুনবো অথবা বিপুল অর্থ বৈভবে ডুবে মৌজ মাস্তি। সম্ভব নয়, মৃত্যু এমন এক সত্য যেটা আমরা সর্বদা ভুলে যাই। কালকে হয়তো নীল আকাশে সূর্য্য উঠতে নাও পারে, তবু মৃত্যু অবধারিত। মহাজাগতিক নিয়মের উর্ধ্বেই।
স্টকহোম সোদ্রার পার্কে বসে ছিলাম। এক সিরিয়ান যুবক দাড়িয়ে খুব পরিস্কার ইংলিশে বলে যাচ্ছে। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। আমার চোখের কোনে অশ্রু ঝরছে। আকাশে রোদ নেই, তবে অশ্রু ঢাকবার জন্য অনেকেই সান গ্লাস পড়েছে।
দিগন্ত জোড়া ধূসর রাইনের ক্ষেতে যখন সুবিশাল আকাশের নীচে শৈশব কাটতো, বাবা তখন হিসাব গুনতেন ঈদে আমার বোনটার জন্য কোন রং এর জন্য সালভিয়েহ কিনে দেবে অথবা আমাকে নিয়ে দামেস্কের নববর্ষের মেলায় কোন কোন রাইডে ঘুরাবে। যুদ্ধ তখনও ছিলো এখনও আছে। বাবাও যুদ্ধে যায়। বলা হয়েছিলো দু'বেলা রুটির সাথে গোস্তের তরকারী থাকবে, খাবার শেষে পাবো আঙ্গুরের শরবত। বিজয়ীরা সুখী হয়।
বাবা ফিরেনি, উল্টো তুর্কীরা শত্রু ভেবে ফসলী ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিয়ের দিন বর্গীরা আমার বোনটাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কবর দেবার জন্য ওর কাপড়টাও ফিরে পায়নি। অথচ যারা এই যুদ্ধ লাগালো তারা আজও বেচে আছে, নতুন যুদ্ধে ক্ষত বিক্ষত করছে আমাদের দেশটা।
কেউ কেউ বলে ওখানে পানিতেও বিষ। সে পানি পান না করলে তেষ্টায় মানুষ মারা যায়, আর পানি পান করলে মুখ, চোখ দিয়ে বেয়ে পড়ে রক্ত।
তোমরা যুদ্ধ করো, একে অপরকে মেরে ফেলো, তবু অনুরোধ আমার বোনটাকে মেরো না, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও। আমি সেই মেলায় যেতে চাই।
এভাবেই শেষ করে সেই সিরিয়ান যুবক কথাগুলো। সামনের জটলায় আস্তে আস্তে স্লোগানের ঢেউ ওঠে, "যুদ্ধ নয়, মৃত্যু নয়"।
জটলা পরিণত হয় মিছিলে, আমরা কেউ কাউকে চিনি না। সাদা কালো ধনী গরীব মুসলিম ক্রিশ্চিয়ান ইহুদী ছোট বড় সবাই গলা মেলাই। এগিয়ে চলি রাজপথে!





তোমরা মারা মারি নিজেদের মধ্যে কর আমাদের ছেড়ে দাও। তোমাদের রাজনিতী ক্ষমতা অর্থ কোন কিছুতেই আমরা নেই তবে রক্তের জন্য আমরা কেন? জীবনের জন্য আমরা কেন?
রাজনীতি কখনো মানুষের নীতি নয়
হাজার বছর ধরে এরকমই চলে আসছে । ওরা মানুষ মারে শান্তির নামে, মানবিকতার নামে, কল্যানের নামে, ধর্মের নামে ! আদিকাল থেকে অসূরাই শাসন করে আসছে পৃথিবী ! নিয়তি, ঈশ্বর, গড বা আল্লাহ যে নামেই ডাকা হোকনা কেন তিনি চিরকাল অসূরদের পক্ষ নিয়েই আছেন । মানুষ নাহক তার পুজো দেয়, এবাদত্ করে, তার কাছে প্রার্থনা করে মরে ! আমি কি নাস্তিক হয়ে গেলাম !
আস্তিক নাস্তিক সত্যি কি বড় কোনো ব্যাপার? সবাই কি মানুষ হবার কথা বলে না?
লেখাটা অসাধারণ হয়েছে।
জটলা পরিণত হয় মিছিলে, আমরা কেউ কাউকে চিনি না। সাদা কালো ধনী গরীব মুসলিম ক্রিশ্চিয়ান ইহুদী ছোট বড় সবাই গলা মেলাই। এগিয়ে চলি রাজপথে!
এ রাজপথ শান্ত নিভৃত। শুধু ধারন করে স হস্র মানুষের গতিবিধি আর গন্তব্যের ঠিকানা। তাই মানুষ দিশাহীন অনিশ্চিৎ সময়ে এই রাজপথেই উত্তর খুজে ফেরে অথবা জীবন দিয়ে রক্ত রাঙ্গায়!
"যুদ্ধ নয়, মৃত্যু নয়"
তবু যুদ্ধ চলছে, ওবামা তাই আজ স্টক হোমে এসেছে যুদ্ধে বন্ধু হয়ে থাকবার জন্য
মন্তব্য করুন