ইউজার লগইন

শামান সাত্ত্বিক'এর ব্লগ

রতি রাতের বিষণ্ণ বিদীর্ণ বর্ষণ

গভীরতায় পড়েনি মিছেমিছি হাত
শুধু জেগে থাকা রাত
বদ্ধ করুণ চার দেয়াল ভিতে
শাওয়ার জলের স্রোতস্বী প্রপাত।

ক্লান্তিতে মিশে হৃদি সত্ত্বা কাঁপন
আহ্‌ কী যে অবদমিত আস্ফালন
বোঝে না, বোঝে না সে কিছুই
রতি রাতের বিষণ্ণ বিদীর্ণ বর্ষণ।।

[পঞ্চাশ শব্দ তো হচ্ছে না, তাহলে কিভাবে কবিতাটা ছাপি। সমস্যা বই কি? পঞ্চাশ শব্দের নীচেও তো শিল্প সৃষ্টি হচ্ছে।]

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - শেষ পর্ব

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ২
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ৩

ঠিক তখনই দরজা ঠেলে রেস্টুরেন্টে ঢুকে কাঙ্খিত মেয়েটি। অনুসূয়াকে সুরেশের বিপরীতে বসে থাকতে দেখে এক মূহুর্ত থেমে যায়। তারপর হেঁটে নিজের নিত্যদিনের আসনে বসে। রেস্টুরেন্টটাতে এই সময় কখনো তেমন ভীড় হয় না। বাঁধা-ধরা কিছু লোকই এখানে নিয়মিত আসে। খুব কম দিনই সুরেশ বা মেয়েটা তাদের নির্দিষ্ট আসনটা হারিয়েছে। বেলা একটার পর কিছুটা ব্যস্ত হয়ে উঠে এই রেস্টুরেন্ট। তারপর আড়াইটার পর আবার ঝিমিয়ে পড়ে।

মেয়েটার দিকে অর্ডার নিতে এগিয়ে আসার আগেই সে উঠে ধীরে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়। সুরেশের বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।

- দেখেছো, কষ্ট পেয়ে বেরিয়ে গেছে।

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ৩

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ২

অনুসূয়া চোখ দু'টোকে ছোট করে উদাসীন সুরেশের দিকে তাকিয়ে দেখে কিছুক্ষণ, “কিছু ভাবছো সুরেশবাবু?” চতুর্দিকের সোফার মাঝখানের কাঁচের ছোট টেবিলটায় তাকিয়ে থাকা সুরেশের কোন উত্তর না পেয়ে সে আবার বলে, “কিছু কি বলবে?” এবার সুরেশ কিছুটা নড়ে উঠে এবং ধীরে ধীরে বলে, “না, আমি ভাবছিলাম,” কথা শেষ না করতে দিয়ে অনুসূয়াই সুরেশের কথাটা শেষ করে, “তুমি স্ট্রেইট, এরকম অদ্ভূত কাজ-কর্ম করো না।” সুরেশ মাথা নীচু করে চুপ হয়ে যায়।

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ২

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১

প্রকৃতিও এখন পাল্টাতে শুরু করেছে উত্তর আমেরিকায়। সুরেশ এই শহরে থেকে এই অক্টোবরেও বর্ষা-বৃষ্টির স্বাদ পাচ্ছে। দেশে তো পেয়েছেই। দেশ থেকে ফেরার পর মাসখানেকের উপর হয়ে গেছে। ঠান্ডা বাড়ার বদলে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও হালকা-পাতলা বৃষ্টিরই দেখা পাচ্ছে। সময়-অসময় বলে এখন কিছু নেই। আকাশের গোমড়ামুখো হওয়া আর প্রেমিকার যখন-তখন মুখ কালো করা সমানুপাতিকভাবেই চলছে। তাই বলে সুরেশ যে বাস্তবিকই কোন প্রেমিকার সাহচর্যে আছে, তা ভেবে বসবেন না। সুরেশের মনের আকাশেও প্রেমিকার আনাগোনা চলছে। সুরেশের কল্পনায় তা শ্রাবণের মেঘের মতই। চাতক পাখির মত বৃষ্টির জন্য সে হাহাকার করছে।

সময় নিহত অবিরত - শেষ পর্ব

সময় নিহত অবিরত - প্রথম পর্ব

ভাল লাগছিলো না সৌরভের। দু'সপ্তাহ ছুটি শেষ হয়ে গেলে, অফিসে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে যে, আরো দু'সপ্তাহ আগে সে অফিসে আসতে পারবে না। একটা সুযোগ দিতে চায় বস সৌরভকে, তার পূর্বতন রেকর্ড এবং পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করে।

নারীটি সৌরভের বাসায় যথেষ্ট স্বতঃস্ফূর্ত এবং সাবলীল হয়ে উঠেছে। নিজের মত করে সে ঘর-দোর গুছিয়ে রাখছে। আগের চেয়ে ঘন্টা দু'য়েক আগে বাসায় এসে রান্না-বান্নায়ও হাত লাগাচ্ছে। এর জন্য কি সৌরভ অপেক্ষা করছিলো? নারীটিকে এই ঘরেরই একটা অংশ মনে হয় তার। শুধু ছোঁয়াছুঁয়ির দূরত্ব রেখে চলেছে তারা যথাসম্ভব।

সময় নিহত অবিরত - প্রথম পর্ব

[দু'পর্বে সমাপ্ত]

জীবনরে, তুঁহু মম মরণ সমান

তুলির পোঁচড় পড়তে থাকে মিতার ইজেলে। তীব্র যন্ত্রণা ধারণ না হলে শিল্পী হওয়া চলে না, না কি? মেধা, মগজ, মনন, আবেগ এক না হলে সৃজনী বা সৃষ্টিশীলতায় পরিণতি আসে না। সে সত্য এখন তার মধ্যে কাঁপন তুলে দিয়েছে। স্থির জীবন চিত্রে তো অনেক কিছুই আঁকা হয়েছিল। অল্প আলো-আঁধারিতে টেবিলের উপর রাখা মানুষের হৃদপিন্ড ধুক ধুক করছে, সেটা যদি ক্যানভাসে তুলে আনা যেত, তাহলে তো স্থির জীবনে ভীষণ এক অস্থিরতা চলে আসতো। রক্তমাখা একটা হৃৎপিন্ড ধুক ধুক ধুক ধুক। বছর খানেকের উপর ধরে এমন নিবিড় যন্ত্রণায় মিতার মানসিক ক্লান্তির শারীরিক রুপ পাচ্ছিল। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজন কিছু না কিছু নিয়ে মেতে থাকা। মিতার বেঁচে থাকা ছিল নিজের অনুভূতির বাঙ্গময় প্রকাশ। মিতাকে তুলি চালাতে হয়েছিল।

দাঁড়াই জলের অতলে

আকাশের নৃত্য; নৃত্যময় আকাশে নিত্য নতুন খবর আসে
জলদকণা সিঞ্চিত ও সঞ্চিত।
বারতা পাঠিয়েছে মেঘ জীবন থাকুক আমার সোল্লাসে

ঘ্রাণে মত্ত মাতাল মৌতাতে
পূর্ণিমা রাত সশব্দে থমকে
হাইহিল স্কার্টে নগ্ন উঠে উথলে সজীব কৈশোর কোলাহল

ওদিকে দাঁড়ায় এক মসলিন চাতক পাতক ইশারায়
বুকের কিনারায় সরু সরু মাস্তুল শাবল খর চালায়
রৌদ্র আকাশে ঝিরিঝিরি হাওয়া মৃদু বহে দু'কূল
ছন্দহারা বণিক কি নেবে বাকিতে তার ভুল?

আদিগন্ত আমি ছুটি মাঠে জোনাকি জ্বলানো পথে
অন্ধ আর্তনাদ ভাসাই প্লাবনে আঁধার মধ্যাহ্নের দেহে
প্রাণান্ত বাঁচতে দিই লম্ফ আরো গভীরে খাই খাবি
ডুবে মরা জলে দেখা মেলে আলোর অতলে দাঁড়াই আসি।

রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে

খয়েরী ডানায় সে এক চটপটে শালিক ছানা
চোখ-কান খোলা রেখে কথা তার না-বলা শোনা
চাইছিলো সে আসুক উড়ে উড়ে সময়ের আনাগোনা
আমার মনন মগজে দিলো খোঁচা
কীভাবে যে কী করি খুঁজতে কী পারি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোথায় কাঁচা পাকা সোনা-দানা

সে তো ছোট্ট শালিক ছানা
আমার মন তো মানে না
সে বদ্ধ উঠোন জলে নাড়ালো পা দু'খানা
আমার নাচতে ইচ্ছে, না করে না

হেই শালিক ছানা
আমার উড়তেও যে মানা
বলে শালিক, উড়তে ডানা লাগে না
মন পবনে নাও ভাসালে ছুটছে দেখবে তোমার হাতে ঘুড়িখানা
তুমি নাটাইয়ের সূতো কেটে নিও না
তোমার উড়তে কোন বাধা না

দূরে বসে উঁচুই শালিক রঙের খেলা দেখে
কী রঙ মাখি আমি আমার ক্যানভাসে
ডিগবাজী তুলে শালিক শিমুল বাতাসে
তুলির রঙ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে সর্বত্রে
রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে মিশে মেঘ আকাশে।

দূরাগত আশঙ্কা অজানা

উদ্দীপ্ত সূর্যতলে উদ্ভাসিতা
এক চাঁদের বিকিরণ
খাঁজ কাটা লাঙ্গলে
জোয়ার আসে শোণিতে
ঘর্মাক্ত শিহরণ

উজান বেয়ে চলতে থাকে
নদী ঝিকিমিকি
স্নায়ুবিক উত্তরণ দু-কূলে
লাফিয়ে নামে শিশু-বসত

ফসল-ফাল্গুনে কাঁপে গ্রীবা
ছড়ায়িত স্বর্ণালী আঙ্গিনা
আলতা পায়ে বাজে নূপুর
দূরাগত আশঙ্কা অজানা।

মার কন্ঠ

আমার কোন জ্বর করেনি। রোদে গা-ও পুড়েনি। তবে ঘুমানোর অসুবিধা ছিল। ঘুম আমার ভাল লাগে। ঘুমাতে ভালবাসতাম। ঘুম যেন আমার রসের নাগরী, যার সাথে চলতো জলাজলি, ঢলাঢলি। ও আমাকে জড়িয়ে নিতো। আবেশায়িত হতে হতো। আবেশ ছড়াতে আমিও ভালবাসতাম। মুচকি মুচকি হাসাহাসি করতাম ঘুম ঢুলু ঢুলু দু'চোখ।

আমার ঘুম কখনো আমাকে নিয়ে এসেছে সাগর পাড়ে। বিশাল জলরাশির মাঝে আঁধারে আমার দৃষ্টি চলে যেতো দূরে। মনে হতো এই বিপুল জলরাশি মাড়িয়ে আমি তখন ওপার আঁধারে পৌঁছে যাবো। আঁধার আমায় করেছে গো বরণ। আমি তো আছি ডুবে তারই মাঝে।

মৃত্যুহীন প্রাণ

ছুঁড়ে ফেলে দিই যাবতীয় ধর্ম গ্রন্থ সব
এই প্রথম জ্বালাই আমি আগুন
পশুতে মৃত্যু যদি কাছে আসে আমার
কী লাভ মিটিয়ে খোরাক তবে আত্মার।

ঘূর্ণায়মান আত্মা অস্থির হলো
কাতর স্বরে ইদিক ওদিক তাকালো
দূর মুক্ত শূন্যে উড়তে চাইলো
লাগাম টানা পঙ্গুত্ব বাধ সাধলো।

ঝাঁঝালো উত্তরে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হলো সুবেহ সাদিক বেলা
গতর হতে খুলে গেল সব লেবাস
সাদা কালো সূতোলো দাঁড়ি ছুঁচো একেকটা
লুকিয়ে পড়ে এঁটেল মাটির গর্তে
তলোয়ার উঠে শূন্যে “আল্লাহু আকবর”
ভূ-তলে গড়ায় তান্ডব পাশবিক প্রবল
মূহুর্ত উন্মাদিত মানুষ এখনো নিয়ন্ত্রিত পশুর অধীন
কনে দেখা আলোয় দৃশ্য তুমি আঁধার মহাকাল হও লীন।

নিয়ন্ত্রিত ভূমধ্যসাগরে বিস্বাদিত পীত রঙ জল
পায়ে বাঁধা শেকল খুলে
রাঙাহাত হাতকড়া লুটায় পাড়

জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১

বিছানায় শুয়ে আছে অনুসূয়া। ফুলেল বিছানা। তা বিছানার চাদরে বড় বড় গোলাপের ছাপ। বালিশেও তা। পরিপুষ্ট শরীর। একটা সুখের সৌরভে জেগে উঠেছে। রাত্রিবাসে সে ঘরের আলোতে ছায়াচ্ছন্ন ভাব ধরে আছে। ঘর জুড়ে উত্তরের পর্দা। তা সরালেই সকালের বাহিরের আলো। আজ ছুটির দিন। বাইরের আলোটা কেন জানি মরা।

বিকশিত আঁধার

: কেনো তুমি তার সাথে?
: তুমি ছিলে না আজ সপ্তাহ দুই।
: তাই বলে ওর সাথে বিছানায় যেতে হবে।
: দেখো, আমার শরীরের চাহিদা আছে, মনেরও আকাঙ্খা আছে।
: দু'টো সপ্তাহই মাত্র। জানো, আমি ফিরে আসছি।
: আমার ওকে ভাল লাগতো। খুবই কিউট।
: আমার চাইতেও বেশি?
: কারো সাথে আমি কারো তুলনা করি না। ওরে আদর দিতে চেয়েছিলাম, পেতেও। কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আমি তো আরেকটু প্রেমময় হয়ে উঠতে পারি! সে প্রেমে তোমাকেও তো ভেজাতে পারি।
: কি বলছো তুমি? আমাকে ভেজাবে তোমাদের প্রেমে?
: আহ্‌। ওভাবে দেখছো কেন? আমাদের প্রেমে নয়। আমার প্রেমময়তায়। জানো, ওকে ভালবাসা দিয়ে, ওর ভালবাসা আদায় করে নিয়ে, আমার প্রেমরসের বর্ধিষ্ণু তোমাকে ঢেলে দিতে চাই। তুমি আমার কাছের। তুমিও তাতে পূর্ণ হয়ে উঠো। তোমার শুষ্কতা আমার কাম্য নয়।

: আভিলা, এতবড় অসন্মান করলে তুমি আমাকে! এত দীন-হীন ভেবেছো আমায়! এত বড় অপমান!

অর্থ অর্জন

আপা দেশে এসেছে অনেকদিন পর। সাথে ভাগ্নেটা। বেশ পাজি। কথাবার্তা শুনতে চায় না। নিজের মতই সব কিছু করে। নিজের মতই সব কিছু পেতে চায়। সবকিছুই তাকে সেইভাবে দিতে হবে, যেভাবে সে চায়। বিদেশ থেকে আসা একটা চার বছরের ছেলে যে এমন জিদ ধরে চলবে, ভেবে পায় না তানিশা। সবে এইচএসসি শেষ করেছে সে। হাতে যথেষ্ট সময়। তাই সব আবদার তার উপরই। কী আর করা আপার ছেলে যে!