এলো কি অসময়!
ভালো লাগছে না কিছুই। সাদামাটা বাঙ্গালী, ধর্মে মুসলমান, বেকুব কিসিমের মানুষ আমি। একটা দরিদ্রপ্রবন দেশে সাধারণ জীবন আমার। তাও মনের ভেতরে কিছু আশা ভরসা থাকে, স্বপ্ন থাকে তাই নিয়ে বসবাস। সেই স্বপ্নের যখন টুকরো টূকরো হতে দেখি তখন খুবই মন খারাপ হয় সবার মতো করেই। নিজের জীবন যাপন ক্যারিয়ার নিয়ে আমার তেমন বিশাল চাওয়া পাওয়া নাই। বেঁচে বর্তে গেলেই হলো। জীবনে অভাবের অন্ধকারে না পড়লেই হলো। কিন্তু দেশ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, অনেক আশাবাদ। সেই আশাবাদ থেকে আমি কখনোই পিছু হটি নাই। সবাই যখন দেশ নিয়ে ভাবনা করা ছেড়ে দেয় আমি তাও আমি ভেবে যাই। কিছুই তো করার হলো না জীবনে, না দেশের জন্য না নিজের জন্য তাই অত্যন্ত দেশ কে নিয়ে ভাবি। ভাবনা ছাড়া আমার মতো ইন্টোভার্ট বেক্কেলদের কিছুই আর করার নাই! এতো ভেবেও মনে সামান্য আশাবাদ ছিলো যে আজ ফাসীর রায় শুনবো। কিন্তু কিসের কি! সব কিছু প্রমানিত হয়েও গোলাম আজমের হলো কারাদন্ড। যেই গন আদালত আয়কোনিক এই রাজাকার শিরোমনিকে ২১ বছর আগেই ফাসীর রায় ঘোষনা করেছিলো। সেই তথাকথিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তাকে হাসপাতালের ভালো কেবিনে তসবীহ গোনার ব্যাবস্থা করে দিলো বাকী জীবন। এই নিয়ে ফেসবুকে যতো তোলপাড়, তার চেয়েও বেশী তোলপাড় আমার মনে। খুবই অস্থির লাগতেছে। স্বাভাবিক হতেই পারছি না। অনেকেই নিজেদের ভারডিক্ট মিলে যাবার আনন্দে আহললাদিত। অনেকে আপোষের ও ভোটের রাজনীতি প্রভাব মেনে নিয়ে শান্ত। আমার ভালো লাগছে না, সান্তনা আসছে না কিছুতেই। আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃনা আজ আমার অন্তরে জানি না তা কোনোদিন মিটবে কিনা। এরচেয়ে জামাত বিএনপির সরকারই ভালো। এক্সেপটেশন থাকবে না এক আনাও। মেনেই নিবো রাজাকারেরা দেশ চালায় তাদের কাছে আর আশা ভরসা কিসের? সেইফ সাইডেড হয়ে বেঁচে থাকলেই চলে যায়। কিন্তু এতো মুক্তিযুদ্ধের সরকার। এর নজীরবিহীন দুঃশাসন দেখে দেখেও সান্তনা খুজছি যে বিচার তো করছে। সব আশাই গুড়েবালি। আমরা হেরে গেলাম। পালাবদলের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ হয়তো আবার আসবে পাওয়ারে। কিন্তু যে দৃষ্টান্ত রেখে গেলো তা কি এতো সহজে ভুলবো? রায়ই পেলাম না তার কার্যকর কবে দেখবো আর? যাই হোক রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করলো সরকার। ধন্যবাদ আল্লামা শফীর তেতুল সরকারকে। তারা তাদের কলিজু জামাত নিয়ে সুখের সংসার করুক!
আমি সেহেরী খেয়ে ঘুমাতে যাই। তাই রোজার সকাল কাটে ঘুমিয়ে। অনান্য রায়ের দিনে টেনশন যেমন ফীল করতাম তেমন করার সুযোগ হয় নাই। একটার দিকে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে দেখলাম নব্বই বছর হাসপাতাল থাকার রায়। শুনে মেজাজ এতো খারাপ হলো। ভালো মতো গোসল করতে পারছিলাম না, নামাযে মন বসলো না। রিক্সা নিয়ে বের হলাম খেয়াল ও রাখি নাই যে পকেটে ভাংতি নাই। রিক্সা শাহবাগ পর্যন্ত নেয়া ছিলো। মানিব্যাগ কাছায়া দেখি আছে ৫৮ টাকা। নিঊমার্কেটে নামলাম। তারপর শাহনাজ রহমাতুল্লাহর এক বার যেতে দে না শুনতে শুনতে হাটতে হাটতে গেলাম শাহবাগ। দেখি সবাক। অনেকদিন পরে মিস্টার সবাকের সাথে দেখা। কাল নাকি টেলিভিশন স্ক্রলে দেখাচ্ছিলো বিমান বাহিনীর ট্রেইনিং বিমান ভুপাতিত। কিন্তু পাইলট আরাফাত শান্ত অক্ষত। এই কঠিন সময়েও নিজের নামের হুবহু মিতার বেঁচে থাকার গল্প শুনে হাসি পেলো। আরো কথা ছিলো সবাকের সাথে হলো না। স্লোগান চলছে। তীব্র রোদে এতো গরম পিচে বসে স্লোগান দিতে শুরু করলাম। তেমন কোনো কারন নাই এর। তীব্র মেজাজ খারাপ তাই এই কাজ করে মেজাজ ঠান্ডা করার চেষ্টা। পাঞ্জাবী পড়ে গেছি, তীব্র ঘামছি, সাংবাদিকদের পারা খেয়ে বসেই ছিলাম। বাংলাদেশের কিছু টিভি সাংবাদিকরা অসভ্যের শিরোমনি। আল জাজিজার এক মেয়ে ইংরেজীতে পেট পেট করতেছে। কানে ভেসে আসলো মেশিনটার ফিগার দ্যাখ। আমি অবাক হলাম এতো শফী এই সমাজে, ঘামটি মেরে লুকিয়ে। বসে বসে স্লোগান দিলাম, দিতে দিতে দেখি ছয়টা বাজতে দশ মিনিট বাকী। ভাবতেছিলাম বাসায় চলে যাবো নাকি থাকবো মশাল মিছিলের জন্য! পরে ভাবলাম যাই এবার একদিনও অফিসে মামার সাথে ইফতারী হয় নাই। কিন্তু পকেটে নাই ভাংতি টাকা। গেলাম আজিজে। বিদিততে কি কি বই আসছে তার খোজ নিলাম। হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল কিনলাম। নিজের জন্য না। একজনকে দিবো বলে। এর আগেও একটা কিনছিলাম তা নিয়ে গেছে আরেজন। প্রথমাতে গেলাম। রক্ষী বাহিনীর সত্য মিথ্যা বইটা দেখলাম। দাম ২৮৫। পাবলো নেরুদার অনুস্মৃতি দাম ৪৮০ টাকা। রোজা ছাড়া অন্য কোনো মাস হলে কিনে ফেলতাম। কিন্তু রোজার দিন হাটতে তো পারি না খালি পেটে। রিক্সা ভাড়ার জন্য টাকা রাখতেই হবে। কেনা আর হলো না। রিক্সা নিলাম শিয়া মসজিদ বরাবর। রাস্তাঘাট ফাকা লোকজন ইফতারী কিনতে কিনতে শহীদ হয়ে গেলো। স্টারে এতো ভীড় দেখলাম দেখে মনে হচ্ছে মাগনা খাওয়াবে। এতো হইচই এতো মানুষ তারা কতো আনন্দে আছে। আমি এক চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স যে দেশ দশ নিয়ে ভাবতে ভাবতে গলা শুকাচ্ছি তৃষ্ণায়। চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স কেন, কি তা নিয়ে অন্যকোনো দিন বলবো। শিয়া মসজিদ থেকে রিক্সা থাকলাম প্রিয় মাদ্রাসা আশরাফুল মাদরিসে। আমাকে আর পুলককে পেয়ে খাদেম এবারের ইফতারীর বাজেট কতো কম তা নিয়ে ফিরিস্থি দিলো। শুনলাম আর দেখলাম কাঠাল ভাঙতেছে ইফতারীর জন্য। ইফতারীতে কেউ কাঠাল খায় তা আমার জানা ছিলো না। আমার আব্বুর অতি প্রিয় ফল। দেখে আব্বুর কথা মনে পড়লো। প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার সময় কাঠাল আনতো গরমে। আমি আর ভাইয়া কেউই খেতাম না। আম্মু আব্বু খেতো আর বিচি দিয়ে দারুন তরকারী রান্না হতো। আহ কতোদিন খাই না! নামায পড়ে বসে ছিলাম। দেখলাম এক ছেলে ইফতারী আনছে বাসা থেকে। কি ইফতারী পাকা পাকা রাত আসলেই যে কলা পচে যাবে তা, মুরি, খেজুর, আর ছোলা। ছোলার চেহারা দেখে আমার কেমন জানি লাগতেছিলো। তাও খাদেম খুশি, ইফতারী মাখাচ্ছে এক তরুন তার গল্প শুনলাম। আগে যে মাদ্রাসায় সে থাকতো তাতে নাকি দারুন ইফতারী দিতো। এখানে তার কিছুই নাই। আমি এইসব গল্প শুনতে শুনতে মুয়াজ্জিনের হাতে টাকা দিলাম ২০০। রেখে দেন আপনাদের বাজেট নাই আমারো টাকা নাই। পুলক আর আমি প্ল্যান করলাম চাদা উঠিয়ে কি কি কিনে দেয়া যায় এবার। অফিসে গেলাম। দেখি ব্যাপক আয়োজন। খেলাম ব্যাপক। চার পাচ শরবত গিললাম ঢকডক করে। কারো দিকে তাকানোর সময় নাই খালি খাচ্ছি আর খাচ্ছি। খেয়ে দেয়ে নামায পড়লাম। মুয়াজ্জিনকে টাকা দিয়ে পকেটে আবার ভাংতি নাই। তাও রিক্সা নিলাম দোকান বরাবর। লন্ড্রীর দোকান থেকে রিক্সা ভাড়া দিয়ে চায়ের দোকান। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছিলো না। প্রিয় ছোটভাই পাভেলকে নিজের মনের অবস্থা জানালাম। পুলক আদনানের সাথে গল্প করে হালকা হবার চেষ্টা করলাম। মামা আসলো অনেক দিন পরে চায়ের দোকানে। আড্ডাবাজি শেষে মামা আমি রিক্সায় বাসা। তারপর ফেসবুকে জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস দেখলাম পাবলিকের। হিন্দী রাজনা ছবিটা শেষ করলাম। অনেক দিন পরে ফেসবুকে মান্ধাতা যুগের ব্লগার মনের কথার সাথে চ্যাটে ম্যাক্সিম গোরকীর লেখা নিয়ে আলাপ হলো। কলকাতার অবস্থা কি তা নিয়ে খোজ নিলাম। তারপর গান শুনতে শুনতে এই পোস্ট লেখা। রাজ্যের যতো আজাইরা গান তা শুনতে থাকলাম। মেজাজ খারাপের দিনে আজাইরা গানের বিট মাঝে মাঝে মনকে শান্ত করে দেয়!





এসব কি বলেন!
আইনমন্ত্রী তো বলছেই
জনগন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
আসেন
খুশিতে ডুগডুগি বাজাই!
একসাথে এত্ত মানুষরে ধোঁকা দিতে বুকের পাটা লাগে! ধন্য সরকার, ধন্য রাজনীতি। BAL দীর্ঘজীবি হোক। :@
রায় যখন দেয় বাবার জন্য দোয়া পড়ছিলাম। দোয়া ভুলে গেলাম। একই লাইন বার বার পড়ে মনে করার ব্যার্থ চেষ্টা করে জানুকে ফোন করলাম। অপরপ্রন্তে কন্ঠ স্ব্র শুনবার সাথে সাথেই গলার কাছটা দলা পাকিয়ে গেল। কোন শব্দের বদলে শুধু কান্নাই বের হতে লাগল। বহু সময় পরে একটা কথাই বললাম আমি এইদেশে থাকব না। আমাকে অন্য কোথাও নয়ে চল। আমি এই দেশে আর থাকব না।
হায় আমি নিজেই সময় ও সুযোগ থাকা সত্বেও এদেশ ছেড়ে যাইনি শুধু স্বপ্ন পূরনের জন্য।
আহারে আপু
ধিক। ধিক এই রায়কে। আদালত যদি অবমাননা হয়, তবে বলি, ধিক আমাকে। বেঁচে কেন আছি।
আসলেই ধিক!
আমরা সবাই খেলার পুতুল, সব দলই আমাদের নিয়ে খেলে! কালকের দিনটা খুব অসহায় লাগছিলো।

আমারো!
মন্তব্য করুন