ইউজার লগইন

what is love?

আজ সকালে ঘুম থেকে দশটায় উঠে ভাবতেই পারি নাই- যে আজ দিনটা এতো দুর্দান্ত কাটবে। আমার মনে হয় গত একমাসে যত হাসছি তার চেয়েও বেশী হাসছি আজ সারাদিন। উঠতে বসতে এক্সামে বাসে হেসেই চলছি শুধু। এত হাসির কোন মানে নাই তাও হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল। ভার্সিটিতে এক্সাম শেষে- চায়ের দোকানে আড্ডা শেষে, বাসায় ঢূকতেই মামাও জিগ্যেস করে ফেললো শান্ত আজ এত খুশী কেন? ভাগ্যিস এক্সামটা ঠিক মতোই দিলাম সেখানে হাসাহাসি টা মনে মনেই করেছি। শাহবাগ থেকে বাসে উঠে মেগাসিটিতে ব্যাপক ভীড়। আমি কিভাবে জানি সিট পেয়ে গেছি দরজার পাশে, নারী পুরুষ বুড়ো সবাই আমাকে পারা দিয়ে যাচ্ছে তাও আমার বিরক্ত লাগছে না। অন্য সময় হলে কিছু না করলেও বিরক্ত নিয়ে গরম চোখে তাকাই তাও করি নি আজ। এতো আনন্দ আহলাদের উপলক্ষ্য একটাই তা হলো হুট করেই ঝোকের মাথায় আমার আর পুলকের- একশন হিরো মেগাস্টার জলিলের বলাকায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা ওয়াট ইস লাভ নাম বস্তুটা দেখে আসা!

আমি জলিলের আগে কোনো ছবি হলে দেখি নি। টিভিতে টুকটাক দেখছি, মানুষের স্যাটায়ার রিভিউ পড়ছি, টিভিতে জলিলের হম্বিতম্বি দেখছি আর ফেসবুকে পাবলিকের মজা নেয়া দেখছি। আজকেই অভিষেক হলো। সকালে পুলকের কোর্টে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে পারে নাই। তাই চায়ের দোকানেও দারুন আড্ডা মেরে সময় কাটানো যেত। হুট করে পুলক বললো চলেন জইল্লার ছবি দেইখা আসি। আমি বললাম জলিলেরটা দেখে কি করবো? চলেন ভালোবাসা আজকাল দেখি। আপনার আমার ক্লোজ বন্ধু মিরপুর নিবাসী জেমসরে খবর দেই। পুলক বললো না চলেন বলাকাতেই যাই। যে ভাবা সেই কাজ রিকশায় চলে গেলাম নিউ মার্কেট। ঈদে পুলক কি কি করলো তার ফিরিস্তি শুনতে থাকলাম। ওভারব্রিজ দিয়ে বলাকার গেটের দিকে আসতেই দেখি অনেক মানুষ।

লম্বা লাইনে দাড়িয়ে সবাই গেট খোলার আশায়। এত মানুষ যে হলে থাকবে সোমবারে তা আমি কখনোই ভাবি নাই। আর সব স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা। দলবেধে আসছে। চাঁদা তুলে টিকেট কাটছে। কে কে আসবে তা ফোনে কনফার্ম হচ্ছে! আমি পুলককে বললাম চলেন এক্সিকিউটিভ ডিসির টিকেট কাটি। ভেবে ছিলাম মুল্য ১২০+১২০=০২৪০ তাই হবার কথা। কিন্তু চাহিদা বুঝে বলাকা টিকেটের দাম বাড়িয়ে ৬০ টা করছে ১০০। আর ১২০য়ের টা করছে ২০০। জলিলের সিনেমা দেখতে গিয়ে দুই বন্ধুর চারশো টাকা চলে গেল। তাও মন খারাপ লাগলো না। সান্তনা দিতে গিয়ে বললাম পুলক আমরা ফকির মিসকীন নাকি যে টাকা খরচ করে আপসোস করবো! গেট খুললো দোতালায় উঠলাম। আমি আগে কখনো বলাকার দোতালায় উঠি নাই। খুব সুন্দর পরিস্কার স্পেসে সময় টিভি চলছে। বিভিন্ন বিখ্যাত ছবির পোষ্টার বাধানো। খুব সুইট লাগছিলো জায়গাটাকে। তার পাশে সুন্দর একটা ক্যাফে কিন্তু প্রানের জিনিস বাদে আর কিছুই পাওয়া যায় না। সিগারেট খাওয়ার জন্যও খুব সুন্দর কর্নার আছে। দেখে মনে হবে যে কোনো মোটেল হোটেলে আসছি। ঢুকলাম দারুন একটা এঙ্গেলে সিট পেলাম। আমি সব সময়ই বলাকাতে নিচ থেকে ছবি দেখেছি। উপর থেকে ছবি দেখার যে আনন্দ তা পেলাম। পরম করুনাময় আল্লাহর নাম নিয়ে স্ক্রীন চালু হলো। মিতালী থ্রিপিস আর কি সব জানি এড হচ্ছিলো। সুরেশ খাটি সরিষার তেলের একটা পুরানো এড দেখায়। ছেলেটার হিজরা মার্কা ওয়ানলাইনারের ড্যান্স দেখে লোকজনের কি হুল্লোড়!

শুরুতে নাম দেখানো থেকেই নন স্টপের হাসির শুরু। ইংরেজীতে নাম আসছে- মেগাস্টার একশন হিরো এজে অনন্ত, গ্ল্যামার গার্ল বর্ষা। আমার মনে পড়লো সাউথ ইন্ডিয়ান এক ফিল্মের কথা। রাম চরন তেজার মুভি। তার হিন্দী ছবির ডেব্যু হচ্ছে প্রিয়াংকার সাথে বিখ্যাত জাঞ্জিরের রিমেকে। হিন্দী মিউজিক চ্যানেলে গুতালেই পাবেন। তো সেই সিনেমাতে রাম চরন ডজন খানেকরে পিটায়া সাইজ করে তখন নাম আসে সুপার হিরো রাম চরন! যাই হোক এখানেও শুরু একশন দিয়ে। এক মেয়েকে বাচাতে নায়ক থাই গুন্ডাদের সাথে ব্যাপক ফাইটিং দিলো আশি তালা (অনুমান করি) বিল্ডিং থেকে দড়ি বেয়ে নেমে গেলো। বাইকের স্ট্যান্ট। লোকজন যে খুশী সমানে তালি চলছেই। তারপরেই দেখালো বর্ষা এক হাউজে যায় যেয়ে দেখে লম্পট এড নির্মাতা দুই মেয়ে নিয়ে ভিলেন স্টাইলে আমোদে মত্ত। বর্ষা যেয়ে তার কাচের দামী টেবিল ভেঙ্গে আসে। এরপরেই মেগাস্টার একশন জলিলের ঢাকাতে লাইভ শো। ওরে কী নাচ, ওরে কী গান তাও সবাই হুল্লোড় আর চিৎকার করছে। জলিলের নাচ অত্যন্ত বিশ্রী। কেমন বিশ্রী তা বলতে গেলে বলতে হয়, নানান গায়ে হলুদে কিছু পুরুষ মানুষ থাকে যারা দূরের আত্মীয় কিন্তু মেয়েদের নাচানাচি দেখে নিজেও নাচা শুরু করলো। পাত্তা পাচ্ছে না আর মোটেও নাচতে পারছে না। তাও বেহায়ার মতো হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে, জলিল কিছুটা সেই রকমের ড্যান্স দিলো। মাথায় আলগা চুলে আরো বেশী ছাগল ছাগল লাগতেছে। http://www.youtube.com/watch?v=lIngw6E7NCM এইগানে তা পাবেন। তবে সানগ্লাস পড়া থাকলে জলিলকে তুলনা মুলক স্বাভাবিক লাগে। ছবির কাহিনী শুরু হয়ে গেলো। জলিল বাস্তবেও যেমন সিনেমাতেও তাই মস্ত বড় ব্যাবসায় চুম্বক মানে ম্যাগনেট আর কি। বর্ষা তার অফিসে যায়, তার ক্যারিয়ারের জন্য সুবিধা প্রত্যাশা করে। একটা ভালো বিষয় হলো জলিলের প্রোনানসিয়েশনের সমস্যা প্রায় চোখেই পড়ে না। ভালোই গ্রুমিং করছে। কিন্তু তার এক্সপ্রেশন হীন চোখে মুখে রোবটিক আড়ষ্টতা কবে যে কাটবে তাই ভাবি! আরো ভাবনার বিষয় হলো ছবির ক্যামেরাম্যান আর গানে বাদে সবই ওর। নায়ক, প্রযোজক, কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার, পরিচালক সব জলিল। পুলক বললো জলিলই তো বাংলার মেল গিবসন মানে পুরুষের পেটের ছেলে। হাসতে হাসতে আমি খুন!

কাহিনী এগিয়ে চলে। বাবার আদর্শে অনুপ্রানিত ছেলে জলিল মদ খায় না ও সবার উপকার করে সৎ জীবন চালায়। কাকরাইল তাবলীগ মসজিদে তার বাবা তাকে ভালো থাকার শপথ করায়। তবে বেকুবরা জানে না কাকরাইল মসজিদে মাইকে আজান দেয়ার রীতি আগে ছিলো না। কিন্তু সিনেমায় মসজিদ প্রমানে আজান শুনায়। অন্যদিক বর্ষা গরীবের মেয়ে। পালিত দাদার আশ্রিত। মডেল হতে গিয়ে মদ ধরে আর নষ্ট মানুষের প্রেমে পড়ে উচিত শিক্ষা নেয়। জলিল বর্ষাকে মডেলিংয়ে চান্স দেয়, একে একে তিনরুমের ফ্ল্যাট থেকে ত্রিশ লাখ টাকার গাড়ী শুরু করে তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট সব ওর নামে কিনে দেয় নিঃস্বার্থ ভালোবেসে। গ্রামের বাড়ীতে পাকা দালান বানিয়ে দেয় বর্ষার। আর বর্ষার থ্যাঙ্কস ট্যাঙ্কসের বালাই নাই ভালোবেসে ফেলে গান গায় http://www.youtube.com/watch?v=kJZ3-daIikY শুধু ওয়াও আর ওয়াও করে যায়। আর দর্শক সেই ওয়াও শুনে নিজেরা ওয়াও বলে চিৎকার দেয়। ওয়াও! কি কমিউনিকেটিভ বাংলা সিনেমা!

যা হবার তাই হয় গান হয় প্রেম হয়। জলিল হাবুডুবু খায় প্রেমে পড়ে নিঃস্বার্থ ভাবে। কিন্তু এই সিনেমার বর্ষার রোল মায়া হাজারিকার চেয়েও বেশী নেগেটিভ দেখানোর পর্যায় শুরু হয়। মেয়েদেরকে যত ভাবে অপমানিত করা যায় অপবাদ দিয়ে, সব গুন বর্ষা পেতে থাকে পরিচালক জলিলের উসিলায়। বর্ষা মাতাল হলে ঠিক থাকেনা তাই কাবিলা তাকে কোমলমতি বালিকা বানিয়ে ভিলেন ডনের কাছে নিয়ে যায়। মাতাল হয়ে যখন বর্ষার সর্বনাশ হলো বলে। তখনই জলিল এসে মাইর পিট করে জানলা দরজা ভেঙ্গে বর্ষাকে কোলে তুলে ঘরে আনে। আমি ভেবে পাইনা দরজা থাকতে এদের কেন দেয়াল ভেঙ্গে ঢুকতে হয় গাড়ী নিয়ে? সকালে হুশ ফেরে দেখে নায়িকা, জলিল বিদেশ মদের কার্টুন আনছে তার জন্য। আবেগে তখন বর্ষা সব ভেঙ্গে দেয়। গান শুরু হয়ে যায় সম্ভবত এটা।
http://www.youtube.com/watch?v=NFhvuzEySXY অন্য গানও হতে পারে। ছবি তে তো গানের শেষ নাই!

যা বলছিলাম জলিল যেখানে মেয়ে ভক্তদের ফোনই রিসিভ করে না। বর্ষা সেখানে এক কেনিয়ার অধিবাসী মার্কা চেহারার ভক্তের সাথে প্রেমে জড়িয়ে যায়। কালনাগিনী বর্ষার পতন শুরু। জলিল শুটিংয়ে আহত হয়ে ব্যাথায় কু কু করে, সেখানে বর্ষা পরকীয়ার খেলায় মেতে উঠে ফেসবুকে। অনন্ত জেনে যায়। জলিল নিঃস্বার্থ ভাবে ধরা খেয়ে খাজা বাবার কাছে যায়। সেখানে কৈলাস খেরের চরম একটা গান থাকে। গানটা আমার খুব পছন্দ হইছে।
http://www.youtube.com/watch?v=9evjki4JAig
সে কেনিয়া অধিবাসী চেহারার ছেলেটা পল্টি দিয়ে বর্ষাকে জানিয়ে দেয় সে বর্ষার মত মেয়েদের চারপাচটা পকেটে রেখে ঘুরে। গান শেষেই নায়িকা ফিরে এসে মাফ চায়। অনন্ত নিঃশ্বার্থ ভাবে সব মেনে নেয়। আবার গান সম্ভবত এটা। ভুলও হতে পারে সিরিয়ালে http://www.youtube.com/watch?v=FWYX-Wd-Vtc । গানটা খুব দারুন। বাংলাদেশের ক্লোজ আপ শিল্পী কিশোরকে দিয়ে এত অসাধারণ গান গাইয়েছে দেখেই ফিদা। আর জলিলের উদ্ভট নাচ নাই একটা ইমরান হাসমী ফ্লেভারের গান।

চরিত্রহীণ নায়িকা তাও সাইজে আসে না। গাড়ী নস্ট বলে সে নায়কের গুরুত্বপুর্ন মিটিংয়ে এসে জড়িয়ে ধরে। জলিলের কাছে চাঁদা চায় বলে তিন মিনিটের স্টপ ওয়াচে টাইম সেট করে মাস্তান ধোলাই করে। বর্ষা এবার মিশা সওদাগরের ট্রাপে পড়ে। সুপার মডেল বানানোর লোভ দেখায় তাকে জালিয়াতি পেপারস দেখিয়ে বশ করে। সুপার মডেল হবার গরমে সে জলিলকে বাসা থেকে বের করে দেয়। কারন জলিল যে খবরদারী করে। এদিকে স্মাগলার মিশা আগে ভাগেই আইটেম গান দেখিয়ে মদ খাইয়ে বর্ষার থেকে সব সাইন নিয়ে রাখে। http://www.youtube.com/watch?v=tkPRVSZacgg
জাফর ইকবালের এক মুঠো ভাত সিনেমার বিখ্যাত গানটার ইজ্জত লুটে নিল কত সহজে এই কাবিলার উদ্ভট নাচে আর এনির গানে। মদ খেয়ে বর্ষাও নাচে। তা বন্ধু মারফত জানতে পারে জলিল। আবার গান বাজে সেই বিখ্যাত থ্রিডি গান ওয়াট ইজ লাভ? সবার কি কড়তালি আর পর্দায় জলিল ট্রাক বাস গিটার ড্রাম সব সমানে গুড়ো গুড়ো করতেছে। এরকম গান আমি আগে বাপের জন্মেও দেখি নাই। তবে খারাপ লাগে আলখাল্লা পড়ার জলিলের গিটার বাজানো দেখলে। এরকম গিটার বাদক সারা দুনিয়ায় বিরল। http://www.youtube.com/watch?v=tpT6Su_8b8g

মিশা সওদাগরের ট্রাপে পড়ে জলিলও। মন ভেঙ্গে সব সম্পত্তি বর্ষা ও দান খয়রাতের নামে এতিম খানায় করে দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় নায়ক। কিন্তু তার আগে বর্ষাকে অচেতন করে ব্যাংকক এনে ফেলে মিশা। জলিল যখন ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরবে তখনই মিশার ফোন। চিরাচরিত বাংলা ছবিতে যে ধুন্দুমার মারপিট তাই হলো। তবে জলিলের একশন সিন গুলা খারাপ না। নাচ কিংবা অভিনয়ের চেয়ে ভালো। রেকারের মতো কিছুর আঘাতে জলিল আহত হয়। তাও সে মিশার থাবা থেকে নায়িকাকে বাচায়। স্ক্রীনে উঠে এই সিনের শুটিং করতে যেয়ে নাকি জলিল মারাত্মক আহত হয়েছিল। জলিলের লম্বা স্পিচ শুরু হয়। তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সুখী করতে পারে নি বর্ষাকে। আমি মদ খাই না আর কাজে ব্যাস্ত থাকি বলে তুমি অন্য পুরুষের সাথে সময় কাটাও। সাথে সাথে চলে এনিমেশন চিত্রায়ন। জলিলের হার্ট হাতে নিয়ে দেখায় কিভাবে বর্ষা তা তীরের ফলায়, গুলির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এই ডায়লগ শুনে সে কি হাসি সবার আমাদের। এর ফাকেই মিশা এসে গুলি করে আহত হয় জলিল। ফাস্ট টাইম ইন মেডিকেল সায়েন্স হিস্ট্রিতে ফেইল মেরে দেশবাসীর দোয়ায় সে সুস্থ হয়ে যায় হাসপাতালে। এই মোটামুটি ছবির ব্রিফ গল্প। অনেক সময় লাগিয়ে ফেললাম এক সিনেমার গল্প বলতেই। যে হাসছি সমানে তাতে এত কিছু যে মনে রাখছি তাই অনেক। হল থেকে বেরিয়ে দেখি অনেক মানুষ ওয়েট করছে। এত মানুষ ছবিটা দেখছে, জলিলের গর্ব করা উচিত। আমাদের সবার মুখে অট্টহাসি। চশমা পড়া এক মেয়েকে দেখলাম। সে পারতেছেনা হাসতে হাসতে শুয়ে পড়তে। আমাদের কোনায় এক কাপল ছিলো। সারা সিনেমা তারা কি দেখছে জানি না! তবে আমি খালি চোখে দেখলাম তারা গভীর ভাবে পরস্পর অন্তরঙ্গ চুমোর খেলায় লিপ্ত। আহারে বাংলাদেশ প্রেম করারও তেমন জায়গা নাই। তাই হলে বসে টিকেট কেটে এ কাজ করতে হয়! এখন ছবির ব্যাপারে আমার কিছু কথাবার্তা পয়েন্ট আকারে জানাই!

১। গল্পটা খারাপ না ও গানগুলাও ভালো চিত্রায়নও ভালো। কিন্তু জলিলের বদলে অন্য কেউ থাকলে হয়তো আরো ভালো হতো।
২। জলিল ও বর্ষার দুইজনেরই আরো অভিনয় শেখা জরুরি। জলিলকে দিয়ে অবশ্য আর শেখানো সম্ভব না। তবে তিন চার মাস ঘষা মাজা করলে বর্ষা অনেক বড় নায়িকা হবে।
৩। জলিলের উচিত শুধু প্রযোজনা ব্যাবসাতেই নামা। তার ছবির এত বাজেট এত আয়োজন ওর উপস্থিতিতেই সব ভন্ডুল হবে সামনে। কারন আর কতদিন মানুষ খালি তার কাজ কারবারে হেসে যাবে!
৪। কমার্শিয়াল বাংলা ছবিতে ভাড় কাবিলা একটা মহা পেইন। এই পেইন থেকে মুক্তি নাই। শাকিব খানের সাথেও দেখি ওকে, জলিলের সাথে আছে আবার জাজ মিডিয়ার ডিজিটাল ফিল্মেও সে আছে। একটা অভিষাপ। ওর অভিনয় বরিশাইল্লা ঢাকার মিক্সিংয়ে কথা শুনলে আমার গাড়াইতে মন চায় শুধু।

৫। জলিলকে শুধু প্রসেঞ্জিত স্টাইলের পিটি প্যারেড মার্কা ডেন্সেই থাকা উচিত কি আর করা এতই যখন নাচার শখ।

৬। এবার ঈদে টিভিতে শাকিব খানের ইদানিংকালের কিছু সিনেমা হালকা পাতলা দেখছি। শাকিব এত বাজেটের এই ছবিটা করলে ছবিটা হিট হতো। শাকিব আর যাই পারুক না পারুক সিনেমাতে কি করতে হয় তা জানা আছে। জলিল কিছুই জানে না। পুরো ছবি যেন তার ব্যাক্তিগত প্রচার, মাহাত্ম‍্য মহানুভবতা, ভালো মানুষী প্রমান করার ড্রাম ফ্যাক্টরী। আর বর্ষা কত খারাপ তা জানান দেয়া গল্প বলার ছলেই। ঐ যে সেই গল্পটা যে এক রিয়েল লাইফ মাস্তান ছবি করবে। পরিচালক তাকে রোল দিছে শুধু নায়কের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার। বর্ষাকেও যেন সেরকম একটা রোল দেয়া হলো। সবাই ছিঃ ছি করে বলবে বর্ষা এত জঘন্য, আমি দেখি নাই তাও শিউর শাকিব খান অভিনীত পি এ কাজলের ভালোবাসা আজকাল এরচেয়ে অনেক মানের মুভি।

৭। জলিল সামনে তার বুক আর বোগল যেনো ঢেকে অভিনয় আর নাচ করে। দেখলে বমি আসে।
৮। ছবিটা তাও দেখতে পারেন। এন্টারটেইনমেন্ট গ্যারান্টেড।

আজ শেষ করি অনেক আজেবাজে লিখলাম!

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সিরাম পোস্ট।

আপনার হাসিখুশি দিন,
সদা বিরাজমান হোক।

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ বর্ণ। শুভকামনা!

সামছা আকিদা জাহান's picture


কোথায় শুরু আর মাঝিখানে চমক। বেশ ভাল লাগল।

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

প্রজ্ঞা মৌসুমী's picture


অনন্ত জলিলের একটা ফিল্ম দেখেছিলাম। এত বিশাল বাজেট নিয়ে ছবি নামানো হয় যে দেখলে মায়াই হয়। ঋত্বিক ঘটক অর্থের অভাবে প্লেব্যাক মেশিনই ইউজ করতে পারেননি। যাই হোক, সেই ছবি দেখে সব দোষ পরিচালকের উপর দিয়ে দিয়েছিলাম; অভিনেতা থেকে অভিনয় বের করে আনাটা পরিচালকের কাজ। অনন্ত জলিল যে নিজেই পরিচালক এবং নাট্যকার হয়ে গেছেন এটা জানা ছিল না। ফিল্মের ব্রিফ গল্প বিশেষ করে পয়েন্টগুলো ভালো হইছে। 'এন্টারটেইনমেন্ট গ্যারান্টেড' এটা বোধহয় অনন্ত জলিলের বিশাল যোগ-ফোঁটা (প্লাস পয়েন্ট)। আমার এক আত্নীয় বলতেছিল 'মন খারাপ হলে অনন্ত জলিলকে দেখবা।' একসময় পৃথিবীর লোক ভাবতে থাকবে বাংলাদেশের মানুষ এত সুখী ক্যান? কারণ আমরা অনন্ত জলিলের সময়ে জন্মেছিলাম।

আরাফাত শান্ত's picture


একসময় পৃথিবীর লোক ভাবতে থাকবে বাংলাদেশের মানুষ এত সুখী ক্যান? কারণ আমরা অনন্ত জলিলের সময়ে জন্মেছিলাম

সুপার লাইক!

মীর's picture


জলিল সামনে তার বুক আর বোগল যেনো ঢেকে অভিনয় আর নাচ করে। দেখলে বমি আসে।

Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

রুম্পা's picture


আপনার সাথে যোগাযোগের অপশন কি? চ্যাটিং-শ্যাটিং হলেও হবে..

আরাফাত শান্ত's picture


Laughing out loud

১০

রুম্পা's picture


বুক আর বোগল- Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

১১

আরাফাত শান্ত's picture


Cool

১২

রায়েহাত শুভ's picture


huat iz lub???

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

১৪

শরীফ's picture


প্রথমেই বলে নেই ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ আমার কছে সিরিয়াস মোডের ফান মুভিই মনে হয়েছে। কারণ নায়ক যখন কাদে হলের দর্শক দেখি গড়াগড়ি খায়। যাই হোক আমার কছে ছবিটার ডিজিটাল ঝকঝকে প্রিন্ট আর দুই একটি গান ছাড়া কাহিনী, সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয় কোনটাই ভাল লাগেনাই। দুই একটা গান ভাল হয়েছে। কেন ভাল লাগেনি নিচে পয়েন্ট আকারে লিখছি।
১। নায়িকা বর্ষা প্রথমেই তার যে মোরালিটি দেখিয়েছে ও জলিল সাহেবের কাছে বেড়ে ওঠার গল্প বলেছে তার সাথে পরবর্তীতে তার যেভাবে পদস্খলন হয় তার কোন মিল নেই। কারণ যার মোরাল ভ্যালু এতো উচু সে কোন ভাবেই কাবিলার দেখানো লোভ, লম্পট দর্শকের ফোন কল আর মিশার প্রলোভনে এতো সহজেই পটে যেতে পারে না। এছাড়াও জলিল সাহেবের কাছে ফেভার চাইতে গিয়ে প্রথমেই যে লুতুপুতু আচরণ দেখতে খুবই বাজে দেখিয়েছে। বর্ষা যতবার ভাইয়া ভাইয়া করে জলিল সাহেবকে সম্বোধন করেছে ততবারই আমার মেজাজ খিঁচড়ে গেছে। একজন ভদ্র মেয়ে কোন ভাবেই এমন আচরন করতে পারে না।
[ একটি সংশোধনী: ছবিতে বর্ষাকে যে ভাবে দেখানো হয়েছে যদি এভাবে দেখানোই জলিল সাহেবের মূল উদ্দেশ্য হত তবে বর্ষাকে প্রথমে এতো নৈতিক চরিত্রে না দেখিয়ে তাকে প্রথমে নিষিদ্ধপল্লীর কাননবালা হিসেবে দেখাতে পারত, যে কি না ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এমন পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এখন সে ভাল হতে চায় তাই জলিল সাহেবের অনুগ্রহ প্রার্থী। ব্যস এভাবে কাহিনী শুরু করলে সিনেমাটার একটা মিল থাকত]

২। জলিল সাহেব ফেরেশতা তুল্য একজন ব্যক্তি। আমি বুঝলাম না তার মত একজন মানুষ কি ভাবে অপরিচিত উচ্চাকাংখী একজন মডেল কে কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি, গাড়ি অফিসের মিটিং রুম পর্যন্ত বিনা বাধায় এ্যকসেস দিল যেখানে তাদের কোন প্রকার আইনী বন্ধন নেই।
৩। সিনেমার এক মুহুর্তে দেখলাম রাতে ঘুমালো বাংলাদেশে পর দিন কোন কারণ ছাড়াই ঘুম থেকে উঠল ব্যাংককে। নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা জলিল আর লম্পট বর্ষা হোটেলের একই সুইটে।
৪। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খালি গান আর গান। তাও যদি মান সম্মত গান হত। দুইটা ছাড়া সব গুলা গানই ফাউল লেগেছে।
৫। ছবির কাহিনী পরম্পরায় কোন মিল খুঁজে পেলাম না। এক সিন থেকে আরেক সিনে কেন গেল, কীভাবে গেল আমি তেমন কিছু বুঝিনাই। [ আমার স্বল্প জ্ঞানের কারণেও হতে পারে।]
৬। ছবি দেখে মনে হল ছবি বানানোই শুধু জলিল তার নিজের গুনগান ও বর্ষাকে তুলাধুনা করার জন্য।
৭। তবে একটা বিষয় না বললেই না, সেটা হল জালিল সাহেবের উচ্চারণ আগের চেয়ে কিছুটা ভাল হয়েছে। অভিনও আগের গুলোর তুলনায় ভাল। যদিও রোবোটিক ভাব প্রকট।
৮। ছবির অদক্ষ ভিজুয়্যাল ইফেক্ট ছবির মান অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। হলিউড মুভি ও ইদানিংকার বলিউড মুভ্যির বিশাল একটা অংশ ভিজুয়্যাল ইফেক্ট। কিন্তু সেগুলো এতো বাজে ভাবে প্রকাশ পায় না। বরং ছবির সাথে মিসে গিয়ে ছবিরেই একটা বাস্তব অংশ মনে হয়। আর এখনেই আধুনিক টেকনোলজির খেলা। ছোটকালে টিভি সিরিয়াল সিনবাদের যুগ এখন আর নেই।

সর্বশেষ যাই হোক জলিল সাহেব যদি কখনো এটা দেখেন তবে এগুলোকে পারসোনাল এ্যটাক না ধরে সংশোধনের মানসিকতায় দেখলে সিনেমার মান ভাল হবে।

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


দারুন বললেন কথাগুলো!

১৬

তানবীরা's picture


সত্যজিতের সিনেমা দেখে সময় নষট করে না কারণ সেগুলো যতো ভালোই হোক আমাদেরতো আর পিছনে যাবার উপায় নাই

সে দেখে ট্যাকনোলোজী

বসুনধরা জনমানোর আগ অবধি বলাকা ই ছিলো বলাকা, ছুটির ঘনটা ছিল দ্যা ফারষট

১৭

আরাফাত শান্ত's picture


তাই?
আমার কাছে বলাকাই ভালো লাগে। মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মোটামুটি ভালো সিনেপ্লেক্স!

১৮

সাঈদ's picture


জলিলের কোন মুভি দেখি নাই, এইটাও দেখা হইবো না ।

১৯

আরাফাত শান্ত's picture


Glasses

২০

পাভেল's picture


দুর্দান্ত!

২১

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

২২

জ্যোতি's picture


৭। জলিল সামনে তার বুক আর বোগল যেনো ঢেকে অভিনয় আর নাচ করে। দেখলে বমি আসে ... এইখানে বমির একটা ইমো হবে
রিভিউ দুর্দান্ত হইছে। দেখার কিছুটা ইচ্ছা ছিলো কিন্তু তারপর কেন জানি ইচ্ছাটা চলে গেলো।

২৩

আরাফাত শান্ত's picture


আমারই দোষ। রিভিউ লেইখা দর্শক কমায় দিলাম। জলিল ভাই মাইন্ড খাবে!

২৪

দূরতম গর্জন's picture


নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এনাটমী হয়ে গেছে

২৫

আরাফাত শান্ত's picture


Wink

২৬

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


জলিলের ছবি মানেই মহা বিনুদুন Big smile

২৭

আরাফাত শান্ত's picture


টিপ সই

২৮

টোকাই's picture


এই জলিলটা কে? এই যুগের নায়ক?

২৯

আরাফাত শান্ত's picture


হুমম নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, গান রচয়িতা, কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার! Shock

৩০

টোকাই's picture


নিজের টাকা দিয়ে নিশচয়ই।

৩১

আরাফাত শান্ত's picture


অবশ্যই। তার গ্রুপের নাম এজিয়াই গ্রুপ। গার্মেন্টস ব্যাবসা!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!