ইউজার লগইন

যখন সব ভেঙ্গে যায়, আমি দাঁড়িয়ে কিনারায়!

শিরোনামটা যথারীতি অযথাই দেয়া। এক বড় ভাইয়ের মুখে আর্বো ভাইরাস ব্যান্ডের খবর শুনলাম যে তাদের নতুন এ্যালবাম আসছে এবং তা তাদের সাইটেই ফ্রীতে পাওয়া যাচ্ছে। অডিও বাজারের ব্যাবসা যেহেতু খুব খারাপ। তাই ফ্রীতেই তারা তাদের গান গুলো দিয়ে দিলো। শ্রোতারা শুনুক। আর্বো ভাইরাস ব্যান্ডটা পারফর্ম করে খুব জোস। সেইটা আরসিসিতেই হোক বা আর্মি স্টেডিয়ামেই হোক। কিন্তু তাদের উচ্চারনরীতি একটু গেঞ্জাম প্রবন। এখনো ভোকাল সুফী বা আগে সুহার্ত ভাইয়ের র আর ড় য়ে সমস্যা রয়েই গেল কিংবা আছে। কিন্তু তাদের লিরিক অত্যন্ত পাওয়ারফুল। যেমন এই গানটার কোরাস লাইন গুলার কথাই বলি।
যখন সব ভেঙ্গে যায়, আমি দাঁড়িয়ে কিনারায়
তাকিয়ে দেখি মেঘের পরে রোদের সীমানায়
কেন সব ভেসে যায়, নবজাতক প্রেরনায়
আজ তবে শেষ হোক সব অন্ধকার!

মন মেজাজ ভালোই তো ছিলো। কিন্তু এই গত দুই দিন যাবত সেমিস্টার ফাইনাল উপলক্ষে মেজাজ খারাপ। কারন সবাই এত ভালো ভালো এক্সাম দিলো আমার হলো মোটামুটি। মোটামুটি এক্সাম আমি জীবন ভরই দিয়ে গেলাম। কখনোই ভালো ছাত্র ছিলাম না তাই মোটামুটি পাশ করে যাওয়াটুকুই সম্ভল। তবে এই পচিশ ছাব্বিশে এসেও তাই করে যাচ্ছি। তাও পড়াশুনার শেষ হবার বালাই নাই। ইন্টার্ন সহ আরো ২ সেমিস্টার বাকী। এই বোঝা টানতে টানতে নিজেই বিরক্ত। যতও দিন যাচ্ছে বিরক্তি আরো বাড়ছে। তার ভেতরে ক্লাস শেষে কাল হাটছি আধুনিক ভাষা কেন্দ্রের পাশ দিয়ে। খুলনার স্কুল ফ্রেন্ডের আগমন বাইক নিয়ে। ডাক দিলাম সাধারনত আমি ডাকি না। অনেকদিন পরে দেখা তাই ডাক দেয়া। শেষ দেখা হয়েছিলো ২০০৯ এ। ধানমন্ডীর এক রেস্টুরেন্টে। কথা প্রসঙ্গে জানলাম সে খুব ভালো আছে। ব্যাবসা করতেছে সাথে সিএটির টিচিং। মাসে লাখের উপরে আয় রোজগার। আমি যে এমবিএ করতেছি তা জানছে হয়তো কারো কাছ থেকে। বললো এই এমবিএ এখানে করতে আসলি কেন? তুই তো বোকা বোকাই রয়ে গেলি। এই কথা শুনে আমার মেজাজটাই হলো খারাপ। তার ভেতরে ও জোর করে ওর স্টেশন ওয়াগনে তুললো। বললো তোকে নামায় দেই। আমাকে শ্যামলীতে নামাই দিলো। পুরা আধা ঘন্টা সময় আমার যে কী বিভীষিকাময় লাগলো। তার গার্লফ্রেন্ডের ঝকঝকে ছবি গ্যালাক্সী এস ফোরে দেখাচ্ছে, সে সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, মালোশিয়া ও ভারতে মুড়ি মুরকীর মত যায় আসে তার ফিরিস্থি হজম করলাম। কি উচ্ছাস এই সব বলতে! ছেলেমেয়ে কারোর খবর তার জানা নাই। তার জানা আছে শুধু আমাদের যেগুলা অফিসারের ছেলে মেয়ে ক্লাসমেট ছিলো তাদের খোজ খবর। এইটা এক নতুন প্রবনতা দেখি আজকাল, তুলনামুলক বিত্তশালী ছেলেমেয়েদের খবর সবাই রাখতে চায় কিন্তু স্কুল লাইফে তাদের কোনো বেইলই ছিল না। আর আমাদের মত যাদের সঙ্গ ছাড়া ছেলেমেয়েদের দিন চলতো না, সেই সব মুল ধারার ছেলেদের হদীস কমই রাখে সবাই। আমি আবার সবার খবরই রাখি কিন্তু খবর রাখার উসিলায় অনেককে নিয়ে গসিপ টসিপ শুনতে ভালো লাগে না। গাড়ীওয়ালা বন্ধুর সাথে যেতে যেতে ভাবতেছিলাম শালার তমালটা এখন বাগেরহাট। থাকলে ওকে আজকে নাকানিচুবানী খাইয়ে ছাড়তাম। কি আর করা সময় খারাপ। তাই এইসব হিন্দী চুলের পোলাপানের কথা শুনতে হয়। চায়ের দোকানে ফিরে মেজাজ এত খারাপ ছিল। পুলকের এত ইন্টারেস্টিং সব আলাপ সালাপ সব কেন জানি বোরিং লাগতেছে!

ঈদ উপলক্ষে আমার পকেটে ভালোই টাকা পয়সা ছিলো। ভেবেছিলাম জমিয়ে রাখবো নয়তো সামনের মাসে অনেক গুলা বই কিনবো। কিন্তু শিল্পী গান গেয়ে গেছে কি আশায় বাঁধি খেলাঘর, বেদনার বালুচরে! আমার এক বন্ধুর টাকা লাগবে খুব জরুরী কিন্তু ফেরত দিতে দেরী হবে। আমি ছাড়া তার চেনাজানা কেউ নাই এমন শর্তে টাকা দিবে। আমি প্রথমে মানা করলাম আমার কাছে টাকা নাই। পড়ে মনে হলো টাকা জমিয়ে কি হবে? চাইলেও জমাতে পারবো না। যা ছিল সব দিয়ে দিলাম বন্ধুকে। এখন চলার মতোই টাকাই খুব লিমিটেড। কি আর করা। নিজের কিংবা বন্ধুদের এই টাকা পয়সার টানাটানি খুব পীড়া দেয়। একই সমান্তরালে আমার কিছু বন্ধুদের কত টাকা, কত আয় রোজগার! আবার অন্যদিকে আমার চেয়েও কয়েকজন কত বিপদে আছে, বাসা থেকে টাকা পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক ক্রান্তিকাল। চিটাগাং ভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করা আমার এক বন্ধু এক দশহাজারী বেতনের সেলসের জবে ঢুকলো। চাটগাতে নানান অফিসে যেয়ে কম্পিউটার এক্সেসসোরিসের অর্ডার নিতে হয়। আমি ঢাকায় বসে ভাবছিলাম কি বাজে অবস্থা দেশের, নৃবিজ্ঞআন থেকে মাস্টার্স পাশ করা ছেলেদের এইসব হিন্দী চুলের চাকরী করতে হয়। আমি তো তেমন চেষ্টা করছি না যদি এমন চাকরী করেই জীবন পার করতে হয় তবে এর চেয়ে বেকার থেকে থেকে পড়ে মরাই ভালো!

টিভি নিয়ে লেখার কথা কিন্তু লেখা হচ্ছে না। প্রথম আলো বাদে বাকী চারটা ঈদ সংখ্যা পড়া শেষ তা নিয়েও লিখছি না। অনেকগুলা নতুন বই শেষ করলাম তা নিয়ে যে ভেবে লিখবো সেই ইচ্ছাও আজ হলো না। বই নিয়ে ফেসবুকে লিখতে ইচ্ছা করে না অন্যদের মতো। আমার জন্য ব্লগে লেখাই ভালো। নিজের সমস্ত মতামত ইচ্ছের স্বাধীন ডানায় ভাসানো যায়। বাড়ীতে যেয়ে টিভিতে সিনেমাও দেখা হলো অনেক কারন বাড়ীতে ডিস লাইন দাতাদের তিনটা চ্যানেল আছে। এর ভেতরে দুটোতেই রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা বাংলা ছবি চলে, আরেকটাতে হিন্দী ইংলিশ। না চাইলেও অনেক ছবি দেখছি তা নিয়ে বাড়ীতে বসেই লেখার প্ল্যান ছিলো তাও আর হলো না। ঢাকাতে ফিরেই সেমিস্টার ফাইনাল শুরু। তা দিতে দিতে আর পড়াশুনা করে ভাবতেই ভাবতেই চার পাঁচ দিন চলে গেল। কাল রাত থেকেই ফ্রী সময় তাও লেখতে বসি নাই। নিজের কথা আগডুম বাগডুম সাজিয়ে আর কতদিন বাকবাকুম করবো? তাই এখন থেকে ভাবছি মাঝে মধ্যেই নিয়মিত লেখা বাদ দিবো? ওতো নিয়মিত লিখে আর কাজ কি?

এই পোষ্টটা তাহলে কেন লিখলাম? তার কারন বলি। অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে যাই। পাঁচ টা সাড়ে পাঁচটার দিকেই। উঠে চা বানিয়ে আউট বই হোক আর লেকচার শীট হোক নিয়ে বসে থাকি। পড়া হয়ে যায় সেভাবেই। কিন্তু আজ ভোরে উঠেও একটা বই অনেকটুকু পড়লাম। দেখি খিদা লাগে। প্রতিদিন হোটেলে নাস্তা খেতে বিরক্ত লাগে, নাস্তা খেতে গেলে অনেক গুলো টাকা চলে যায় সকাল সকাল। রয়ে সয়ে খেতে পারি না। আর সকাল বেলা শুকনা খাবার যেমন ব্রেড বিস্কুট মুড়ি এসব খেতে আরো বোর লাগে। তাই ভাবলাম নাস্তা ভুলে থাকতে মোক্ষম উপায় হলো একটা পোষ্ট লেখা। যে দেড় দুই ঘন্টা ধরে পোষ্ট লিখবো, তখন একটা ঘোরে থাকবো। এই লেখার ভেতরে থাকলে আমার কোনো অনুভুতি কাজ করে না। নেশায় থাকি কত তাড়াতাড়ি লেখাতে সব কথা বলে শেষ করতে পারবো। তাই লিখে ফেললাম এই পোষ্ট। কাল তাতাপু একটা সামান্য কাজ দিছিলো করি নাই, বললো মরে যাও। আমি ভাবতেছিলাম আহ কথাটা যদি ফলে যেতো। কি যে ভালোটাই না হতো। ওতো যন্ত্রনাক্লিষ্ট জীবন না হলেও ছোটবেলা থেকেই আমার ভাবনায় মরন চিন্তা আসেই। অসংখ্য দিন আমার নামাযের পড়ে প্রার্থনা ছিলো আল্লাহ ভালো লাগে না মৃত্যু দাও। তবে আজরাইলকে নিজ উদ্যোগে ডেকে আনতে চাই না। তাই মরিও না। মরে যাবার ঠিক আগে আগে হয়তো বাচঁতে খুব ইচ্ছা করবে। তবে সেই ইচ্ছার কোনো দাম নাই। মরে গেলেই ভালো। জগৎ সংসারের এতো এক্সপেকটেশনের বাইরে গিয়ে অন্য এক ভুবনে যাওয়া যাবে সহসাই। তবে মরছি আর কই? চাইবা না চাই বেঁচে থাকাই আমার নিয়তি। মরে মরে বেঁচে থাকতে সন্জীবের ভালো লাগে নাই, আমারো ভালো লাগে না! তাই হয়তো আমি দাঁড়িয়ে থাকবো কিনারাতেই!

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Confused Sad

আরাফাত শান্ত's picture


Puzzled

সামছা আকিদা জাহান's picture


শুকনা টোষ্ট খেতে খেতে ই তোমার পোস্ট পড়লাম। এখন ও হাতে টোষ্ট। সকালে দুধ চিনি ছাড়া এক কাপ চা আর শুকনা দুইটা টোষ্ট আমার বরাদ্দ দীর্ঘ দিন। বড় ভোজন বিলাসী মানুষ ছিলাম । খুব খেতাম না কিন্তু ভাল খেতাম। এখন সব বাদ (নিজে নিজেই দিসি কারন হজম হয় না ) কই মরার কথা ভুলেও ভাবি না। তাতাপু কে কঠিন বকা। কারন বোকাকে বকা দিয়েছে।
ঈদি দিয়ে কি করলে? ঝকঝকে চকচকের চমক সেখানেই থাক আর তুমি যেখানে আছ সেখানেই থাক ভাল থাক।

আরাফাত শান্ত's picture


সকালে টোস্ট খেতে পারি না তাই খাওয়াই হয় না এইসব। ভোজন রসিক আমিও খুব বেশী না। কিন্তু খেতে খারাপ লাগে না বিশেষ করে ক্ষুদা নিয়ে খেতে!

ঈদী মিদি যা ছিলো সব তো দিয়ে দিলাম বন্ধুকে ধার তাই সংকট Sad

সাঈদ's picture


তাতাফু কে দিক্কার

আরাফাত শান্ত's picture


না থাক!

তানবীরা's picture


তাতাফু কে দিক্কার Sad(

আরাফাত শান্ত's picture


নিজেই নিজের ধিক্কার চান!

রায়েহাত শুভ's picture


বাচ্চা কাচ্চা পোলাপান মরার কথা চিন্তা করো কেন?

১০

আরাফাত শান্ত's picture


মরার চিন্তা কি আর বয়স মানে, তাই আইসা যায়!

১১

টোকাই's picture


পিচ্চি পোলাপাইন অলোয়েজ কচি বয়সে কিছু সময়ের জন্য ফ্রাস্ট্রেটেড থাকে। এটা কিছু না। শান্ত'র মত সময় আমরা সবাই পার করেছি। জীবনের শুরুতে এমন কিছু বিরক্তিকর সময় থাকে, মেনে নিলেই ভালো। বয়স আর সময়ের তুলনাইয় শান্ত আপনি অনেক বাস্তব বাদী। এখনো পড়াশুনাই শেষ হয় নাই, কাজে ধৈর্য হারানোর কিছু নাই।

মনে রাখতে হবে জীবন টা একটা চ্যালেঞ্জ, আর মোকাবেলা করার পর বাকী জীবন কিন্তু অনেক সুন্দর , আপনি যেভাবেই সাজান না কেন। কথাটা মনে রাখবেন।

যাক, জেনে রাখলাম, বিদেশে বসে দেশের শান্ত কে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া যায় ( যেমন তাতাপু কিছু করে দিতে বলেছেন) , কথাটা মনে রাখবো আর কিছু করার দরকার হলেই শান্তকে মনে করবো : Tongue

১২

আরাফাত শান্ত's picture


মনে রাইখেন কোনো সমস্যা নাই!
থ্যাঙ্কস ভাইয়া ভালো থাকেন Glasses

১৩

দূরতম গর্জন's picture


পড়তেছি

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

১৫

হাসান আদনান's picture


তাই ভাবলাম নাস্তা ভুলে থাকতে মোক্ষম উপায় হলো একটা পোষ্ট লেখা। যে দেড় দুই ঘন্টা ধরে পোষ্ট লিখবো, তখন একটা ঘোরে থাকবো। এই লেখার ভেতরে থাকলে আমার কোনো অনুভুতি কাজ করে না। নেশায় থাকি কত তাড়াতাড়ি লেখাতে সব কথা বলে শেষ করতে পারবো। তাই লিখে ফেললাম এই পোষ্ট।

আহ - কত সরল প্রকাশভঙ্গি।

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ!

১৭

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


এত হতাশ কেন শান্ত!! Sad

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


Stare

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!