ইউজার লগইন

কোলাহলের দিনরাত্রী!

জানি না লিখতে পারবো কিনা তাও চেষ্টা যদি লিখে ফেলতে পারি।।। মনিটর নষ্ট একদম তাই নতুন ল্যাপটপে লিখছি নানাবিধ টুকটাক সমস্যা তো লেগেই আছে, তার ভিতরে লেখার জন্য এই চেষ্টাটা করছি। লিখতে আসলে আমার খুব ভালো লাগে, ভালো লিখতে না জানলেও।। অল্প বিদ্যে যেমন ভয়ংকরী তেমনি আমার এই টুকটাক ব্লগ লেখার জন্য চেষ্টা আরো ভয়ংকরী। সেই কবে শেষ লিখেছিলাম তারপর আর লেখাই হলো ্না। কতদিন মোবাইল দিয়ে লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু এক প্যারা লিখে আর ইচ্ছা করে নি কারন মোবাইলটার বয়স হয়ে গেছে সন্দিহান ছিলাম লেখা শেষ করতে পারবো কিনা! আর এখন আর সেই আগের মতো বেগার খাটতে ইচ্ছা করে না। যা লিখতে চাই তাই লিখতে না পারলে লেখার কোনও মানে হয় না। সাইবার ক্যাফেতেও একদিন বসছিলাম কিন্তু শ্যালকদের অভ্র নাই তাই আমারও লেখার মন উঠে গেল। অবশ্য বাড়ী থেকে এসে সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে ছিলাম তারপর বন্ধু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কিন্তু প্রতিটা দিনের শেষে মনে পড়তো লেখার কথা।। গরীবের ঘোড়া রোগ আর কি! আজ পাওয়া গেল যোগার যন্ত্র রাতে বসে গেলাম লিখতে এ যেন ঈদের খুশী!

ব্লগে অবশ্য না লিখলে অনেকেই সিগনেফিকেন্টলি আমার খোজ খবর নেয়।। তাতে আমি অবশ্য আনন্দিতই হই, তখন মনে হয় মাঝেমাঝেই এরকম অবসরে যেতে হবে। কিন্তু অবসর আমার ভালো লাগে না। যেমন পড়া থেকে মানুষ অবসর নেয়- কিছুই পড়ে না তখন কিন্তু অবসরেও আমার যাই হোক পড়তে ইচ্ছা করে তা পুরাতন পত্রিকার গ্রাম বাংলার খবর হলেও। এই জন্য আড্ডার ফাকেও আমি মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকি মানুষের দু চারটা স্ট্যাটাস হলেও তো পড়া যায় সেই অবসরে। বই পড়া, ব্লগ লেখা, পেপার পড়া, চায়ের দোকান, ফেসবুকে গুতাগুতি এই সব কেন জানি খুব মিশে গেছে মনের ভেতরে।। যদিও কোনওটাই খুব একটা বৈষয়িক কাজের কাজ না তাও না করলে মনে হয় দিনটাই মাটি হলো। মধ্যে কত ঘটনাবহুল সব দিন রাত্রী কাটলো তা নিয়ে এক ফোটাও লিখতে পারলাম না। কোলাহল ও আনন্দের দিন নিয়ে না লিখলে কেমন জানি নিজেকে স্যাডিস্ট স্যাডিষ্ট লাগে। আর দেখা যায় নিজের লেখায় মন খারাপের গল্পই আসে বেশী। মন খারাপ ও অপ্রাপ্তির গল্প সবদিন লিখতে নিজেরও ভালো লাগে না।

শেষ সাত দিন বাদে এর আগের ১৫-১৬ দিন অসাধারণ কাটছে বলা যায়।। অসাধারণ কেন? কারন সেমিস্টার ব্রেক ছিল আর বন্ধুরা আসছিলো বাসায় চিটাগাং থেকে। আমার বাসাটা খুব একটা যুতের বাসা না তাও যে আমার কারনে বন্ধুরা ভালোবেসে আসে তাতে মাঝে মধ্যে নিজেরই অবাক লাগে। আর তারা যদি স্কুল ফ্রেন্ড হয় তাহলে তো আনন্দের সীমা নাই। দুই বন্ধু আসছিল বাসায় ২৮ তারিখে। এক বন্ধু আসছিল তার কাজিনের বিয়ের দাওয়াত খেতে।। নতুন চাকরী পাইছে মার্কেটিংয়ের তাতে তার উচ্ছাসের সীমা নাই। তবে বেতন ভালো না।। আমি হলে এই ধরনের চাকরী কখনোই করতাম না। আর কামরুল জবতো করতেছেই সংগে কত আনন্দ! কথায় কথায় বলে টিউশনী করার চেয়ে বিভিন্ন অফিসে গিয়ে চাপা পিটানো অনেক ভাল। যাই হোক সাথে আসছে আবীর।। আবীরের কাজ ভিন্ন সে আসছে মুলত ইউএসএতে যাবে পড়তে তা নিয়ে নানান অফিসে টেকা পয়সা নিয়ে আলোচনা করতে।। আবীরের ব্যাপারটা আমি বুঝি, দুই বন্ধুর কঠিন পিরীতি আমি যে ভার্সিটি থেকে বিবিএ করছি আমার দুই ব্যাচ পড়ে এডমিশন নিয়ে সেও সেখান থেকে বিবিএ শেষ করছে। তাই আবীরকে আমি চিনি অস্থি মজ্জায়। সে এখন চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে ইভিনিং এমবিএ করছে শান্তিতেই কিন্তু আমেরিকা যাওয়ার বুদ্ধি তার বাপজানের মাথা থেকে আগত। আবীরের বাপ একখান পিস কত সময় যে কত ভাবনা উনার আসে ছেলেরা নিয়ে তার হিসাব আল্লাহও জানে না। তবে আমেরিকার ভাবনা মাথায় আসায় সব চাইতে বড় লাভ হইছে আমার।। এই ঢাকার বুকে আবীর সাহেব দশদিন থেকে গেছে আর দারুন সময় কাটছে আমার!

বন্ধু কামরুল যে বিয়ে খেতে আসছিল তার প্রথম দিনই যেতে পারে নাই আমার আর আবীরের কারনে।। আমরা এমন গল্পের পাল্লায় পড়ছিলাম কখন যে দুপুর শেষ হয়ে বিকেল গড়িয়ে গেল টেরই পায় নাই।। আমাদের গল্প ঘুরে ফিরে একই জায়গায় থাকে আলাপের চিটাগাংয়ে কে কি করতছে, কে কি বলতেছে, পট পরিবর্তনে কার কি আচরন তাই নিয়ে আলাপ।। যেমন আমার এক বন্ধু একটু ভালো জব করে তাই ডায়লগ দিয়েছে "সবাই তো আমরা এক সাথেই পড়লাম, কিন্তু কেউ উপরে কেউ ্নিচে! বেচারা এই ডায়লগ দিয়ে পড়ছে আবীরের কোপানলে। অলরেডী তাকে এভারেষ্ট বলে ডাকা হচ্ছে, কেউ কেউ আবার ডাকে মুসা শরীফ বলে হাহাহা! শুনলাম ইফতার পার্টি নিয়ে ফাপর বাজ বন্ধুদের কান্ড কারখানা, আমাদের অনেক বন্ধু নেভীর ইয়াং লেফটেনেন্ট তাদের হাল হাকিকত এবং ভাব নেয়ার বৃত্তান্ত জানা হলো। তবে আবীর ও কামরুল দুইজনের এই গুনটা খুব ভালো কেউ ভাব নিলে তারা নগদে তাদের কথা শুনাতে এক মিনিট সময় নষ্ট করে না। তাই ইদানিং আর আগের মতো পোলাপান ওদের সামনে ভাব নেয় না। ঘুরে ফিরে আমি সকাল বিকাল তাদের নিয়ে যাই চায়ের দোকানেই।।, আবীর তো আমার সাথে ৮ মাস ছিল তাই চায়ের দোকানে সবাই তারে খুব ভালো পায়।। আমার চেয়েও বেশী পপুলার। বয়ানে পুরা দোকান গরম করে ফেলার জন্য সবাই শ্রদ্ধা আর টিটকারী করে ডাকে গুরুজী বলেই, আবীর অবশ্য পুরা ঢাকা শহরের পপুলার তার উদ্ভট কথা বার্তা ও নানা কাজে পারদর্শীতার জন্য। তবে ধানমন্ডীতে ও পপুলার ফুটবলের জন্য। দারুন খেলে ফুটবল আর এত এনার্জি। দিনে ১০-১৫ টা বেনসন টেনে এত এনার্জি সে কোথা থেকে পায় আল্লাহই জানে। আর আবাহনী মাঠের যে ক্লাব এলিভেন সেই জায়গার এক কালের সুপারস্টার। আমিও যেতাম এই কারনেই সেখানে আমাদের দুই বন্ধুর বিশাল সার্কেল।, আবীর ঢাকায় আসলে সেই আড্ডা আবার পুনঃস্থাপিত হয়। আড্ডা শেষে কাদেরের চাপ।। কাদেরের চাপ এখন ফালতু হয়ে গেছে তাই আগের মত খেতে ইচ্ছা করে না। তাই এবারে দুই বন্ধুর টার্গেট ছিল শওকত, লেগুনাতে ঘামে সিদ্ধ হয়ে খেয়ে আসো মিরপুর থেকে গরুর চাপ।। শওকতের টেষ্ট এখনো পচে নাই। আর মোস্তাকিমের যে অসাধারণ চাপ ছিল তাতো এখন ১০০ ভাগের পাচ ভাগও নাই। তাও দেখি মানুষ খাচ্ছে এই জঘন্য জিনিস! এখন অবশ্য আরেক জায়গা আছে নাম তার সিপি। সস্তায় চিকেন খাওয়ার জায়গা। লোকজন দেখি খেতে খেতে তামা বানিতে ফেলতেছে পঞ্চাশ টাকার স্পাইসি চিকেন আর ৬৫ টাকার উইংস পেয়ে!

চাপ চুপ স্পাইসি চিকেন ঝাল ফ্রাই খেয়ে পেটের অবস্থা বারোটা বাজিয়েছি তা বুঝি গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা উঠলে।, যখন উঠে তখন মনে হয় পেপে সিদ্ধ খেয়েই দিন পার করা উচিত ছিল।। ঢাকা শহরে মেসে থাকলে গ্যাস্ট্রিক হবেনা এমন নজির খুব কম।। নিয়ম করে চললে বেচে থাকাই দায়। এত অল্প বয়সে জীবনটাকে ঢেড়শ বানাতে চাই না। বন্ধুরা কেউ আসলে নিজে যা খেতে পছন্দ করি তার সব খাওয়াই। এই জন্য আমার গল্প মাঝে মধ্যে অন্যদের মুখ থেকে শুনি। তখন শান্তি লাগে।। তবে কালের ধারায় বীর চট্টলাতে আমার বন্ধুর সংখ্যা শুধু কমছে। আগে ছিল সাত আটজন এখন তা তিন চারজনে। তবে আমার মামা বলে আরো কমবে এইটাই নাকি নিয়তি! তবে এইসব নিয়তি টিয়তিতে আমি বিশ্বাস করি না খুব একটা। যা আছে চিটাগাংয়ে বন্ধু তা থাকলেই হলো। তারা এইভাবে কাজে অকাজে আসবে আর অসাধারন আড্ডাময় সময় কাটবে আমার। যখন ওরা আসে আমার মনে হয় আমার বয়স ১৫-১৬। হাসতে লুটিয়ে পড়ছি, অযথা কুতর্ক করছি মনে হয় সেই কলেজে উঠার দিন কেবল শুরু হচ্ছে। কিন্তু মাঝখানে যে দশটা বছর চলে গেল এই করে করেই তা বেমালুম ভুলে যাই!

এই পোষ্ট নিবেদন করলাম তানবীরা আপুকে। কারন আমি স্বার্থপর, কেউ আমার প্রশংসা করলে আমি বিগলিত হই খুব জলদি। যখন উনার মুখে শুনি তুমি ব্লগে না থাকলে ব্লগটা এতিম এতিম লাগে তখন নিজেরে আমার এতীম খানার ভুড়িওয়ালা মাওলানার মতোই ইম্পোর্টেন্ট মনে হয়!

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


কেউ আমারে কিছু উৎসর্গ করলেও আমি বিগলিত হই Big smile

তবে চাপা দিতে এটা বলি না, তুমি না থাকলে সত্যি ব্লগটা এতিম এতিম লাগে। ওয়েলকাম ব্যাক, বন্ধুদের সাথে এতো আড্ডা পিটাইছো, লেখারতো হেভভী রসদ জমে গেছে দেখা যায়

আরাফাত শান্ত's picture


চাপা তো পিটান না তাতো জানি অপথ্য স্নেহ!
দেখি কত দূর লিখতে পারি, ভালো থাকেন আপু!

টোকাই's picture


এটা ঠিক যে শান্ত ছাড়া ব্লগ এতিম এতিম লাগে . তিতাফু যদি এমন করে আমারে কইত তাইলে ডেইলি ছাইপাশ লেখে ব্লগ ভরায়ে ফেলতাম Smile

আরাফাত শান্ত's picture


আমি বলে দিলাম যান এবার লিখেন!

তানবীরা's picture


তিতাফু

এমন কথা কইতে পারলেন!!!!!!!!!!! Sad( Sad( Sad(

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আহ! আপনেরে দেইখা এই গরমে ঠান্ডা রুহ আফজা খাওয়ার মত শান্তি শান্তি লাগতাছে। Laughing out loud

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কু বিষণ্ণ মন দিয়ে পড়াশুনা করো Wink

টুটুল's picture


Big smile Big smile Big smile Big smile

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

১০

নাজনীন খলিল's picture


এতীম খানার ভুড়িওয়ালা মাওলান

এতীম খানার ভুড়িওয়ালা মাওলানা

Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

১১

আরাফাত শান্ত's picture


Big smile
ব্লগে কম দেখি কেন আপু?

১২

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


এতীম খানার ভুড়িওয়ালা মাওলানার সাহেব, আপনে আসলেই ইম্পোর্টেন্ট। আপনার দিনলিপি সকালের গরম চায়ের কাজটা করে... মনকে অনেক চাঙ্গা করে। নিয়মিত লেখা দেন। Crazy

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস বস!

১৪

জ্যোতি's picture


তুমি ব্লগ না লিখলে মানায় না । আর ব্লগও তোমাকে মিস করে ।
এমন আড্ডাময়, আনন্দময় দিন কাটাও সবসময় ।

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ আপু। আপনিও লিখেন, কতদিন লিখেন না!

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


তোমাকে আমি তো খুজেই মরছি। অনেক দিন পর আমাকে ব্লগে রেগুলার করিয়ে দিয়ে তুমি উধাও। ভাবছিলাম গেলা কই। যাক দেখা পেলাম। : bigsmail :

১৭

আরাফাত শান্ত's picture


আমি তো ছিলাম কিন্তু ব্লগে লেখার যোগার যন্ত্র ছিল না!
ভালো থাকেন আপু!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!