ইউজার লগইন

দেখিবার মতন যদিও কিছুই নাই, তাও দেখিতে হয় ঈদে টেলিভিশন!

আমার বয়সী লোকেরা আর টিভি দেখে না, আমি কেন দেখি? কারন ভালো লাগে তাই। যে কারনে লোকজন বাংলা সিনেমা দেখে হলে বসে, সেই কারনে আমি টিভি দেখি। ছোটবেলা থেকেই টিভির পোকা ছিলাম সেই পোকাটা বুড়ো হয়ে গেলেও এখনো মাথায় বিদ্যমান। তাই দেখতে হয় টিভি কারন ভালো পাই। যদিও গত ১ বছর ধরে বাসায় টিভিকার্ড আছে ডিসের লাইন নাই তাই দেখতে পারি না কিছুই। তবুও বাড়ীতে গেলে টিভি দেখতেই হয় চাই বা না চাই! কারন বাড়ীতে আমার তেমন কোন কাজ নাই যে অন্য কিছু করবো। তাও দেখা যায় ডিস থাকে না, কারেন্ট থাকে না কত ধরনের প্রতিকূল অবস্থা। আর এবার নানু বাড়ী ছিলাম আড়াই দিন তাতেও ঠিকঠাক টিভি দেখি নাই। যদিও নানু বাড়ীতে টিভি দেখার খুবই সুব্যাবস্থা। আমি ঘরে ঢূকলেই সবাই চলে যায়। রিমোটের নিয়ন্ত্রন আমার হাতেই থাকে। তাও ভালো লাগে না। নিজের ঘর, নিজের প্রাইভেসী, নিজের আরাম মতো মায়ের হাতের অসাধারণ রান্না খেতে খেতে টিভি দেখার মজাই আলাদা!

বাংলাদেশে এখন দুই ডজনের মতো চ্যানেল। এত চ্যানেল কেউ যদি জিগেষ করে সব কয়টার নাম বলতে পারবো না এক মিনিটে। মনে করে করে বলতে হবে। তবে চ্যানেলের নাম যাই হোক ঘুরে ফিরে সব একই জিনিস। সংবাদ হলে একই ধরনের সংবাদ, নাটক হলে একই ধরনের নাটক এবং টকশো গুলাও সেই একই ধরনের লোকজনেরাই। কোনো চ্যানেলকে আলাদা করার উপায় নাই। তবে আমার কপাল ভালো ঈদ উপলক্ষে টকশো নাই চ্যানেল গুলাতে। তাই হজম করতে হয় না কিছুই। তৃতীয়মাত্রায় হয় ভালোবাসার বাংলাদেশ। সেখানে রাজনীতিবিদ স্বামীদের প্রশংসা করে আড়াই মন মেকাপ করা স্ত্রীরা। বাপের প্রশংসার পঞ্চমুখ হয় ডিজুস সন্তান বা হিজাবী কন্যারা। কি একটা অবস্থা। এই অনুষ্টানেই আবার একটা মহা অনুষ্ঠান হয় যেখানে অনেক সংসদ সদস্য ও পলিটিশিয়ান নেতা নেত্রীরা গান বাজনা, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় করেন। এবার দেখলাম রনি, অপু উকিল, পাপিয়া পান্ডে সব একত্র হয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাইতেছে। গাওয়ার যে ছিরি দেখলাম এরচেয়ে স্কুলের বাচ্চাদের কন্ঠে 'আমার সোনার বাংলা' শোনা অনেক উপকারী। আব্বু ছিল পাশে। আব্বু বলে বসলো এদেরকে গান গাইতে কে বলছে? তার চেয়ে টেলিভিশন স্কুল বিতর্কের মতো যেকোনো একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলুক। আমি মনে মনে হাসলাম, আহারে আব্বু তোমার যত বুদ্ধি তা তো আর এদের মাথায় নাই। তবে ঈদের ষষ্ঠ বা সপ্তম দিনে সময় টিভিতে সলিমুল্লাহ খানের কথা খুব ভালো লাগছে। সলিমুল্লাহ খান অত্যন্ত বাক্যপটিয়সী লোক। এই ধরনের লোকদের কথা মানুষ শুনতে পছন্দ করে। ঈদের সেকেন্ড দিন সম্ভবত বাংলাভিশনে হলো আনিসুল হকের উপস্থাপনায় একটা ভালোবাসা নিয়ে টকশো। উপস্থিত ছিলেন নির্মলেন্দু গুন আর আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। খুব ভালো লাগছে। আনিসুল হক সাহেবের উপস্থাপনার কোয়ালিটি তাঁর গল্প লেখার চেয়ে ভালো। তিনি এই ধরনের প্রোগ্রামে টিভি উপস্থাপনা করলে ভালো নাম করবেন। আর কোনো টকশো দেখি নাই তেমন। নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে একটা টকশো হলো বাংলা ভিশনেই। সেখানে দেখলাম সবাই খালি বলতে চায়, শোনার মানুষ নাই। ইটিভিতে একটা চার মেয়ে মডেল নিয়ে টকশো হলো সেখানে দু মিনিট রিমোট বিরতি দিলাম। ফারিয়া নামের এক মডেল বলছে ' আমাদের শোবিজ তারকাদের খুব বিপদ। একটু মোটা হলে বলে এক্সপেকটিং, চিকন হলে বলে ইয়াবা খাচ্ছি আর হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে এডমিট হলে বলে সুইসাইট এটেম্পট নিয়েছিলাম। আলোচ্য অংশটুকু শুনে আমার হলো মেজাজ খারাপ, মনে মনে ভাবছিলাম কত খাসী এই টিভির বুকে ডায়লগ মেরে বেড়ায়! আর বিরক্তিকর তারকাদের ফোনো লাইভ টকশো ঈদের অনুষ্ঠান মালায় থাকে। উপস্থাপিকারা প্রশ্ন করে ঈদে কি করেন, কি খান, কি রাধেন, ছোটবেলার ঈদে কি করতেন। এই সব কাদের জন্য যে বানায়? আর কারাই বা দেখে মাথায় আসে না? তবে ইন্ডিপেন্ডেন্টে 'আমরাই বাংলাদেশ' অনুষ্ঠানে বাচ্চু, মাকসুদ আর লিংকন ছিল। স্মার্ট একটা প্রোগ্রাম হইছে!

আগেই বলেছি এবার ঈদে আমি আগের মতো বেশী নাটক দেখি নাই। নানু বাড়ীতে দাওয়াতের উপর ছিলাম রাত এগারোটার পর ছাড়া টিভি দেখার সময় পাওয়া যায় নাই তখন। আর নিজের বাড়ীতেও ডিস থাকেনা ঠিক মতো। বাংলা চ্যানেলগুলাও সব আসেও না নিজের বাড়ীতে। তাতে অবশ্য আশেপাশে বাড়ীর মানুষের কিছুই যায় আসে না। কারন তাদের স্টার জলসা আর জি বাংলা আসলেই হলো। নাটক নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে ঈদের প্রথম দিন একাত্তরে নাটক নিয়ে টকশো। সাদামাটা ভাবে সেই অনুষ্ঠানে টিভি নাটকের ঈদ বাজার, এডের পরিমান, আর্টিস্ট পেমেন্ট, এজেন্সীর ভুমিকা এইসব নিয়ে কথা বলেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আলভী আহমেদ আর মৌটুসী। অনুষ্ঠানটায় যখন আলাপ জমলো তখনই শেষ হয়ে গেল। এরকম অনুষ্ঠান আরো বানানো জরুরী তাতে একটা দায়বদ্ধতা ও ইনফরমেশন শেয়ারের ব্যাপার আসবে। এবার নাটক নিয়ে বলি কথা অগোছালো ভাবে । এবারে একটা ভালো জিনিস হয়েছে দুই তিনটা চ্যানেলে বিরতিহীন নাটকের চাঙ্ক বানিয়েছে। তাতে ভালো নাটক দেখা যায়। এরকম একটা নাটক বাংলাভিশনে হলো শাওনের বানানো, হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে ঈদের থার্ড ডে তে- নাম 'সংসার'। ভালো বলা যায়। গল্পটা সুন্দর, আগুনের অভিনয় ভালো এবং শেষ দিকের ধাক্কা টাও ভালো। মাসুদ সেজানের এক নাটক হলো এনটিভিতে নাম সত্য বালক। সেইটাও টেনেটুনে চলে যায়। বিরক্তি লাগে না দেখতে। এনটিভির আরেকটা ভালো উদ্যোগ ছিল দু মিনিট বিরতির সাতটা খন্ড ভালোবাসার গল্পের সিরিজ। এই সিরিজটা ভালো হইছে। কম সময়ে একটা নাটক দেখার স্বাদ পাওয়া যায়। আর রেদোয়ান রনির ডিরেকশনের উন্নতি হয়েছে ভালো। তবে চ্যানেল আইতে একটা নাটক হলো শাওনের বানানো। মোটেও যুতের না। একজন বরেন্য লেখক চিত্র পরিচালক, নাট্যপরিচালকের বউ ও অভিনেত্রীর কাছে আরো ভালো প্রোডাকশন আশা করে লোকজন। তবে যে কোনো চ্যানেলে -এড দেখতে দেখতে কাহিল অবস্থা হয় একটা নাটক দেখতে চাইলে! আরেকটা বাজে নাটক হলো ইদের দিন এনটিভিতে বিকেলে হলো। নট মাই লাইফ, এত স্টার এত বিদেশের মনোরম লোকেশন তাও নাটকটা অতি বাজে। কিছু সিন দেখেই এই মন্তব্যটা দিলাম। চ্যানেলে আইয়ের গাজী রাকায়েতের অনুদানের ছবিটাও কিছুদূর দেখলাম। নাটকের মত গল্প। নাটকের গল্প মার্কা সিনেমা দেখতে ভালো পাই না। বিপাশা হায়াতের রচনায় একটা নাটক দেখলাম কোন চ্যানেলে ভুলে গেছি। নাম 'আব্দুল জলিলের বিদেশ যাত্রা' সেই নাটকটিও মোটামুটি। দেখতে খারাপ লাগবে না। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের একটা নাটক হলো চ্যানেল আইতে। দ্বিতীয় দিন হবে মনে হয়। নাম গৃহবধু সুন্দরী। নাটকটা উপভোগ্য। এ্যাডের ও সংবাদের যন্ত্রনা না থাকলে আরো ভালো লাগতো। ছোটকাকু সিরিজের নাটক এবারও হলো। রাজশাহীর রসগোল্লা। দুই পর্ব দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, আমার কাছে ভালো লাগে নাই। আরো ভালো মেকিং দরকার ছিল। শিশু কিশোরদের ভালো লাগবে কিনা জানি না? তবে আমার মনে হয় এত বাজেট এত রথী মহারথীদের দিয়ে এর চেয়ে আকর্ষনীয় ভালো জিনিস বানানো সম্ভব। তাহসানের নাটক ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম কিছু অংশ দেখলাম, নাটকটা ভালো। তবে বন্ধু আরমানের স্ট্যাটাস থেকে বলি-- "ফেসবুকে অনেক প্রশংসা দেখে 'ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম' নাটকটা দেখলাম। আমার কাছে চলে টাইপ লেগেছে। তবে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আমার মনে হয় নায়ক তাহসান বাবাজি তার ডান পকেটে বড়সড় সাইজের একটা মোবাইল/ট্যাব নিয়ে শুটিং করছিল। পকেটে মোবাইল রেখে ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম ইজ জাস্ট লাইক অ্যা বস~!" আরটিভিতে মাসুদ সেজানের এক নাটক হলো মোশারফ করীম কে নিয়ে। নাম 'মানি ইজ নো প্রবলেম' হালকা মজার। এনটিভিতেও একটা নাটক হলো নাম ভুলে গেছি, মোশারফ করীমের সেইটাও ফানি। আর বিরতিহীন ছিল বলে ৩৫ মিনিটেই নাটক খতম। রাত বারোটায় এনটিভির নাটকটা হলো মাবরুর রশীদ বান্না র, পুরা ফাউল একটা নাটক। কাহিনী কনসেপ্ট সব বিদেশী ছবি থেকে চুরি করা। আরেকটা ইদানিং একটা প্রবনতা দেখলাম নাটকগুলাতে যে কথায় কথায় দুই দিকে কাশফুল আর মাঝে পাকা রাস্তা ঐ জায়গাটায় চলে যাওয়া। নাটকের সব প্রেম ডেটিং ঝগড়া প্রপোজের জায়গা এখন কাশবনের মধ্যে। এবার ঈদ ছিল চোর দের দখলে। কম করে হলেও সাত আটটা নাটকের নাম চোর রিলেটেড। গত ঈদে ১০ টা নাটক ছিল জামাই রিলেটেড। ঈদের চতুর্থ দিনে টিভি তেমন দেখা হয় নি যত দূর মনে পড়ে। দুপুর বেলা দাওয়াত খেয়ে এসে জিটিভিতে একটা টেলিফিল্ম দেখলাম নাম হোসেন মিয়ার ক্যানভাস। পরিচালক কে জানি না তবে দুর্দান্ত হইছে। বাংলা সিনেমার এক ব্যানার পেইন্টারের জীবনী দেখানো হইছে। এডের ভোগান্তিটাই বেশী এইটুকুই সমস্যা, নয়তো এরকম গল্প নিয়ে সিনেমা বানানো যায়। এবং পরিচালক খুব দারুণ ভাবে গল্পটাকে সাজিয়েছে। এনটিভিতে একটা টেলিফিল্ম হলো নাম 'পাড়ি' বন্ধু এহতেশাম বললো খুব নাকি ভালো লাগছে ওর। দেখিনি আমি। রাতিফ ভাই একটা টেলিফিল্মে র কথা বললো উনার ভালো লাগছে, আমি সেইটার কিছু অংশ দেখছি। রিমোটের উপর এত প্রেশার, এক সাথে আর কয় জিনিস দেখা যায়? সেই টেলিফিল্ম টার নাম হলো 'কেবলই রাত হয়ে যায়'। সেই রাতেই এনটিভিতে একটা নাটক হলো নাম জোকার। এই নাটকটাও মানসম্মত। ভালো মানের। নিশো ছেলেটা অভিনয় ভালো করে। সজলের মত বলদ না। এই ঈদে সজলের নাটক আগের মতো বাম্পার ফলন হয় নি। তাও ধারনা করি ৩০টার উপর তো হবেই। হানিফ সংকেতের একটা নাটক যা ঈদের দিন এটিএনে হলো দেখলাম ইউটিউবে, পুরাই বিটিভির পরিবার পরিকল্পনার যে নাটিকা গুলা হতো সেই স্টাইলে। এত ম্যাসেজ দেয়া শিক্ষামুলক ভালো লাগে না। ঈদের পঞ্চম দিনেও টিভি দেখা তেমন হয় নি, হেঁটেছি অনেক গ্রামের মেঠো পথে। সব জায়গাতেই স্টার জলসা বা জি বাংলার আওয়াজ ভেসে আসে বাড়ী থেকে। কি এক জামানা আসলো, এত প্রোগ্রাম দেশের চ্যানেল গুলাতে কেউ দেখে না। রাত সাড়ে দশটায় টিভি দেখতে বসছিলাম। হিন্দী সিনেমার স্টাইলে শিরোনামহীনের তুহীন আর মীমের এক গ্যাংস্টার মার্কা নাটক হলো পুরাই ফাউল। ঈদের ষষ্ঠদিনে কলকাতার চ্যানেল রুপসীবাংলায় সিনেমা দেখলাম, ক্রসকানেকশন। গান গুলা অসাধারণ আর টাইমপাসের জন্য গুড মুভি। এনটিভির বিরতিহীন নাটকটাও দেখলাম রোমেলের বানানো। খারাপ না কিন্তু বড়ই অযত্নে বানানো। এই মোটামুটি শেষ নাটকের গল্প। আরেও হয়তো দেখছি যা বাদ পড়ে গেছে। টোটালি মেমোরী থেকে লেখা এই পোষ্ট ভুল হতেই পারে।

এবার আসি গানের অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশে গানের অনুষ্ঠান মানেই এখন লাইভ ফোনের অনুষ্ঠান। তা হয় মাঝরাতে, আব্বু আম্মুর রুমে টিভির অবস্থান তাই আমার দেখা হয় না। এবার কিছু কিছু দেখা হলো। বিশেষ করে দুপুরের স্লটের অনুষ্ঠানগুলো। টেলিনাটক দেখার ফাকে ফাকে গান শুনেছি। সব চেয়ে ভালো লাগছে দেশটিভির আয়োজন। তারা ভাগে ভাগে বিভিন্ন লিজেন্ড নিয়ে একেকটা অনুষ্ঠান করেছে। নাম এত সুর আর এত গান। এবং তাদের শিল্পী নির্বাচন খুব ভালো। যার গলায় যা মানায় ভালো তাদেরকে দিয়ে লিজেন্ড সব সুরকারদের গান গাইয়েছে তারা। খান আতাকে নিয়ে যা হলো তা তো দুর্দান্ত। একদিকে রোমানা ইসলাম আরেকদিকে বাদশাহ বুলবুল। দারুণ আয়োজন। শচীন দেব বর্মণকে নিয়েও অনুষ্ঠানটা জবরদস্ত ছিল। চ্যানেল নাইনে একটা 'ফিউশন লাউঞ্জ' নামে অনুষ্ঠান হলো বিভিন্ন শিল্পীকে নিয়ে সেইখানেও কিছু গান খুব ভালো হইছে। এনটিভিতে ক্লোজআপ ওয়ানের তারকাদের গান শুনলাম, লিপ সিং। আগে দেখি নাই যেহেতু তাই চিনলাম শিল্পীদের। সাবিনা ইয়াসমীনের একক দেখলাম, ভালোই লাগলো। সোমলতার গান শুনলাম চার পাঁচটা দেশ টিভিতে। আর টিভিতে আর বৈশাখী চ্যানেলে তারার মেলা বসে আনপ্লাগডের উসিলায়। একদিনই দেখেছি শাকিলা জাফর ও নকীব খানদের। ভালো লাগছে। ওয়ারফেইজ আসছিলো কোনদিন জানি চারটা গান শুনলাম। মাকসুদ ছিল জিটিভিতে। শুনলাম 'মনে পড়ে' গানটা শুধু। খুশী হইছি। এশিয়ান টিভির গান বাজনা আমার মোটেও ভালো লাগে নাই। কলকাতায় শিল্পীর সাথে দেশী শিল্পীদের ছ্যাবলামি দেখে মেজাজ খারাপ লাগছে। তাও আবার কার সাথে? শিল্পীর নাম সমিধ। যার গানই হলো তুই আমার কোকাকোলা মার্কা গান! মোহনাও আরেক চ্যানেল কি সব শিল্পীদের আনে, যারা শুদ্ধ করে কথাই বলতে জানে না।

সিনেমা খুব একটা দেখি নাই। ফারুকীর সিনেমাটা দেখলাম। ওতো ভালো লাগে নাই। আর চারিদিকে শুধু শাকিব খান। শাকিব খানের ছবি অসহ্য লাগে সবসময়ই। তবে চ্যানেল টুয়েন্টিফোর সব থেকে ভালো করছে। তারা ছোট ছোট তথ্যচিত্র বানিয়েছে অসংখ্য খ্যাতিমান ব্যাক্তির উপর তা দারুণ। কিছু ডকুমেন্টারী ছিল তাদের দেশীয় বিভিন্ন প্রবাদ প্রতীম লোকদের নিয়ে তাও দারুণ। বিশেষ করে এস এম সুলতান ও বিজয় সরকারকে নিয়ে। তারেক মাসুদের বানানো আদম সুরতের কিছু অংশ দেখা গেল। মনে পড়ে গেল ছফার কথা। সময় টিভিতে সংসদ সদস্যদের সাধারন মানুষের সাথে লোকালয়ে আড্ডা মারার উদ্যোগটা ভালো। কিন্তু কেমন জানি লোক দেখানো মনে হয়।

এই মুলত টিভি দেখার গল্প। দেখার মতো কিছুই নাই তাও জোর করে দেখা, অসংখ্য বাজে নাটক ছিল, অনেক এডের ভোগান্তি, অনেক রিমোট টিপতে টিপতে ক্লান্তি এইসব দেখা। দেখতে চাই টিভিতে ভালো কিছু কিন্তু তা বেশীর ভাগ সময়ই পাওয়া যায় না। পচাশিটা খারাপ জিনিস দেখার পরে ১৫টা ভালো জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। কে চায় ৮৫ টা খারাপ জিনিস আগে দেখতে। হাতে রিমোট এখন সময় কই দেখার এত? আমিও হয়তো সামনে দেখবো না। এখন যখন দেখছি তাই লিখে ফেললাম এই পোষ্ট!

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


অযথা পরিশ্রমের লেখা! টিভি দেখতে কঠিন পরিশ্রম আর তা লেখা আরও পরিশ্রমের।

আরাফাত শান্ত's picture


কথা সত্য!

রাতিফ's picture


" জোকার " নামে একটা নাটক দেখলাম, সম্ভবত "চ্যানেল নাইনে" ... সেই রকম একটা Production , নাটকের script টা বেশ জমজমাট ছিলো ...... নিশো আর জেনির কাজও সেই রম হইছে , এই ঈদের একটা ট্রেডমার্ক কাজ লাগছে ...... তাহসান আর তিশার "Love Lane" এক ঘণ্টার নিখাদ বিনোদন ...... চকচকে কাজ ।।

আরাফাত শান্ত's picture


লাভ লেইন দেখি নাই, দেখবো সামনে!

টুটুল's picture


কতদিন ঠিক মত টিভি দেখি না Sad

আরাফাত শান্ত's picture


ফেসবুকে যে পড়লাম রিহান রিমোট এগিয়ে দেয়, তখন কি দেখেন? Smile

তানবীরা's picture


এবার দেখলাম রনি, অপু উকিল, পাপিয়া পান্ডে সব একত্র হয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাইতেছে। গাওয়ার যে ছিরি দেখলাম এরচেয়ে স্কুলের বাচ্চাদের কন্ঠে 'আমার সোনার বাংলা' শোনা অনেক উপকারী। আব্বু ছিল পাশে। আব্বু বলে বসলো এদেরকে গান গাইতে কে বলছে?

পয়সার জন্যে কত কি করতে হয়

এবার ঈদ ছিল চোর দের দখলে। কম করে হলেও সাত আটটা নাটকের নাম চোর রিলেটেড। গত ঈদে ১০ টা নাটক ছিল জামাই রিলেটেড।

মনে হয় রোজার ঈদে জামারা বেশি শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যায় Wink আর কোরবানী ঈদে বেশি লোক বাড়ি যায় তাই বাসা বাড়িতে চুরি হয় বেশি - সাহারা খাতুন তাইতো তালার কথা বলিয়াছিলেন

টেলিভিশান দেখলাম ---- অনেকটাই আমার ছোটবেলা ---- আমিতো চিনি উহাদের Big smile

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো বলছেন। পোষ্টটা আপনাকে উৎসর্গ করতে ভুলে গেছি। পরে ভাবলাম অন্য আরেক পোষ্ট এই কাজ করা যাবে!

জ্যোতি's picture


এবার খুব কম নাকট দেখেছি । কেন যেন যুইত লাগেনি তাই রিমোট টিপেই সময় পার করেছি ।
দারুণ পোষ্ট শান্ত । ধৈর্য্য নিয়ে প্রোগ্রামগুলা দেখে আবার ধৈর্য্য নিয়ে লেখো । সত্যি অসাধারণ ।

১০

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস আপু। নিয়মিত আমার লেখা পড়ে যান তাই অনেক খুশি হই!

১১

শওকত মাসুম's picture


তেমন কিছুই দেখি নাই। কেবল টেলিভিশন সিনেমাটা দেখছি, ভাল লাগছে

১২

আরাফাত শান্ত's picture


টেলিভিসন সিনেমাটা লাগছে মোটামুটি!
ভালো করছেন, টিভি দেখা পুরাই লস প্রজেক্ট এখন!

১৩

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


টিভি দেখা হয়নি তেমন। খালি দাওয়াত খাইয়া বেড়াইছি Laughing out loud
সেই সাথে ২৫ তারিখের হুমকিতে অস্থির ছিলাম! Puzzled

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


Sad

১৫

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


খেলা না থাকলে এখন আর টিভি দেখতে ভাল্লাগে না। তবে বাংলাভিশনে সিকান্দার বক্সের নাতকটা ভাল্লাগছিল।

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


সেকান্দার বক্স ইউটিউবে দেখলাম, গত ঈদেরটা বেশী মজার!

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হইয়ো..

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!