ইউজার লগইন

এখানে আর ভালো লাগার মতো কিছুই পাবে না, সহজে!

আইলসা ভাইদের জীবন চলে যাচ্ছে আগের মতোই, ওহ তার আগে বলে নেই আইলসা ভাইদের গল্প। এক গ্রামে ছিল এক আইলসা ভাই, তাকে জিগেষ করা হয়েছিল 'কলা খাইবা নি? তার উত্তরে সে বলেছিলো ছিল্লা দিলে খাইতাম, নয়তো ইচ্ছা নাই কষ্ট করে খাবার । আমার দিন যাপনও এখন সেরকমই যাচ্ছে, অবরোধ হরতালে একগেয়ে বসে থাকার অলস জীবন। ঘুমাই খাই দাই, ভার্সিটি নাই, বেলায় বেলায় চায়ের দোকানে যাই, কেউ ডাকলে লাজ শরমের বালাই ভুলে বাসায় চলে যাই, এই করেই চলছে। আগে হরতালে একান্তই কাজ না থাকলে, কেউ না আসলে চলে যেতাম পাবলিক লাইব্রেরীতে। এখন প্রানভয় আর পুলিশের ভয়ে কোথাও যাওয়া হয় না মন চাইলেও। তার ভেতরে মুখে ১০-১৫ দিনের দাড়ি আর পড়নে পাঞ্জাবী থাকলে খুব হুশ নিয়ে চলতে হয় এই শহরে। কোন সময় কে বাটি চালান দিয়ে দেয় তাই নিয়ে ভাবি! মানুষ নাকি এখন অনেক ব্যস্ত শুনি সামান্য মোবাইলে গেইম খেলারই সময় নাই, বই পড়ার সময় নাই, দেখা করার সময় নাই, খালি সময় স্বল্পতার ফিরিস্থি শুনি চারিদিকে। আমার জীবনে দেখি খালি সময় আর সময়, অফুরন্ত সময়! আমি যখন ইউনিতে ভর্তি হই তখনই আমার প্রায় সমবয়সী ফুফাতো ভাই চলে গেলো বিদেশে। এক সপ্তাহ আগে সে আসছে, সে যে যতটাকা কামাই করে পাঠিয়েছে দেশে তার তিন ভাগের এক ভাগ টাকা আমি পড়াশুনার উসিলায় বাসা থেকে নিয়েছি। পুরো ব্যাপারটাই আমার কাছে অদ্ভুত লাগছে, আমার চেয়ে ১ বছরের কম বয়সী পড়াশুনা না জানা ছেলে কত টাকা বাসায় দিয়ে গেল আর আমি খালি মাসকাবারী খরচের পালাতেই আছি!

আজকে এক ছেলের কথা অনলাইনে পড়লাম। প্রথমবার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে বিফল হয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরেছে সেই ছেলেটি। কি দুর্দমনীয় অবস্থা! গত সপ্তাহে শুনছিলাম হাতির ঝিল থেকে লাফিয়ে পড়ে আরেক তরুন মরেছে, প্রেমিকাও লাফ দিয়েছিল কিন্তু বেঁচে গেছে। এইসব কোন ধরনের প্রেম তা আমার জানা নাই, এত সাধের জীবনটা বাইক্কা প্রেমে বিলিয়ে দেবার বিলাসীতা মানুষ কিভাবে রাখে তাও আমার জানা নাই! আমার জীবনে এখন প্রচলিত অর্থে কোনো প্রেম নাই তাতেই বেশ আছি। এই বেঁচে থাকা, এই জীবনযাপন যত নিম্নমানেরই হোক আমি তা নিয়েই অসাধারণ আছি!

দিন যাচ্ছে- বয়স বাড়ছে- কিছুই করা হচ্ছে না, এই সব দুখু দুখি টাইপ কথায় আমার ব্লগ ভর্তি। সামনেও এইসব নিয়েই লিখে যাবো, তারচেয়ে বরং আজ সুখের কথা বলি। আজ আমার এক প্রিয় মানুষ পারভীন আপুর জন্মদিন। এই ব্লগের অনেকেই উনাকে চিনে, একাউন্টও আছে কিন্তু লিখেন না। অপথ্য স্নেহ করেন আমাকে। আমি জানি উনার অসংখ্য ভক্ত আশেকান চারিদিকে, তারপরেও উনারে আমার পছন্দ খুব। বাসায় যখন যাই আড্ডা দিতে যেয়ে দেখি খানা খাদ্য আর আদর আপ্যয়নের শেষ নাই, অসাধারণ চা খাওয়ায় আর আমি বিশেষ করে পুরো বইয়ের সেলফ ঘেটে চার পাঁচটা বই সঙ্গে করে আনি ধার হিসেবে। আমার জন্য পুরোই লাভের প্যাকেজে। আমার আম্মু বলতো 'জগতে যারা দিতে পারে তারাই ভালোর নাম কামায়'। দেয়ার ক্ষেত্রে উনার তুলনা নাই, বই আনছি ধারে- যখন পিসি নষ্ট তখন ল্যাপটপ দিচ্ছে, যদি মন খারাপ থাকে তবে সময় নিয়ে কথা বলছে, ফেসবুকে চ্যাটে বসে থাকলেই আলাপ হচ্ছে সিনেমা টিভি দেখা ও জীবন যাপন পড়াশুনা নিয়ে, মোট কথা ঋণের শেষ নাই উনার কাছে। এরকম কয়েকজন মানুষই আমারে অত্যন্ত ভালো পায়। আর কেউ তেমন একটা পুছে না,আপুর জন্মদিনে আজ অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আরো ভালো থাকেন আর আমাদের এইভাবে বেশী বেশী স্নেহ বন্টন করতে থাকেন! এই পোষ্টটা নিবেদন করলাম পারভীন আপুর উদ্দেশেই!

গত দুইতিনদিন সিনেমা টিনেমা দেখা হয় না। সুনীলের কবিদের নিয়ে এক বই আছে 'কবিতা কার জন্য' তা পড়ে পড়েই সময় কাটাই। দেখতে বসছিলাম কলকাতার বিখ্যাত গৌতম ঘোষের সিনেমা 'শুন্য অংক', হিন্দী চুলের এক সিনেমা। তারপর দেখলাম কয়েকটা টকশো ইউটিউবে। যে যার দলে সে তার কথাই খালি বলে যাচ্ছে সমানে। ইংরেজী রোমান্টিক কমেডী সিনেমা যে দেখবো ল্যাপিতে বসে তার উপায় নাই কারন নেটে ডাটার স্বল্পতা। মাসের হাত খরচের টাকাই এখনো আসে নাই! তাও আছে চায়ের দোকান, জেমস -আবীর -পুলক আর আমি মিলে সারাদিন আজাইরা প্যাচাল পেরে যাই। বাসায় এসে বুয়ার রান্না ভক্ষণ করি আর মেহতাব খানমের বই পড়ে মানুষরে সাজেশন দেই এই করেই চলছে। হিন্দুদের উপর আক্রমন যে হলো নির্বিচারে তার কোনো প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমার নেই, খালি ফেসবুক স্টেটাসেই কাজ চালাই। শহুরে নিম্নমধ্যবিত্ত লোক আমি খালি দেখে যাই মানুষের দুঃসহ দিনগুলো ও দিনযাপন। শীত ঝাকিয়ে বসেছে,লেপের তলে হারিয়ে যায় আমাদের সব দিন বদলের আর পাল্টে দেবার স্বপ্নগুলো!

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


পারভিন আপু সবারই খুব প্রিয়। আমিও তাদের দলের একজন শুভজন্মদিন আপু।
হরতাল আবরোধ এ আলস সময় বেড়েছে অনেকের আর আমার কমেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই স্বজনদের কাছে যেয়ে আর ফিরছে না বা ফিরতে পারছে না নানা অজুহাতে। এই তৃতীয় হাতের দৌতত্বে আমি ক্লান্ত প্রান এক।

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

তানবীরা's picture


আজকে এক ছেলের কথা অনলাইনে পড়লাম। প্রথমবার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে বিফল হয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরেছে সেই ছেলেটি। কি দুর্দমনীয় অবস্থা! গত সপ্তাহে শুনছিলাম হাতির ঝিল থেকে লাফিয়ে পড়ে আরেক তরুন মরেছে, প্রেমিকাও লাফ দিয়েছিল কিন্তু বেঁচে গেছে। এই

তানবীরা's picture


আমিও অবাক এটা পড়ে, এই ভেজালের যুগে একী কথা কানার মুখে!!!!

আরাফাত শান্ত's picture


হাহাহহা! Big smile

জ্যোতি's picture


পরভীন আপুর জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, শুভকামনা।

আরো ভালো থাকেন আর আমাদের এইভাবে বেশী বেশী স্নেহ বন্টন করতে থাকেন


পারভীন আপু এমনই থাকেন আর শান্তও এমন থাকুক। বড় হয়ে আমাদের ভুলে না যাক।

আরাফাত শান্ত's picture


দোয়া কইরেন আপু!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!