ভালো থাকবে না মানে কি!
ইচ্ছা করে না লিখতে তাও জোর করেই লিখতে বসা। ইচ্ছে না করার কারন খুজে পাচ্ছি না আপাতত। আসল কথা ভালো লাগে না। আমার মুখে ভালো লাগেনা শুনতে শুনতে সবাই টায়ার্ড, বলে উঠে পরিচিত মানুষেরা 'তোর 'ভালো লাগেটা কবে?' আসলেই আমার ভালো লাগে না। এত ভালো আছি, ভালো বই পড়ছি, ভালো হাসি আড্ডার আনন্দময় দিন যাপন তাও ভালো লাগে না। ভালো থাকলেও ভালো লাগে না, খারাপ থাকলেও ভালো লাগে না, তাহলে কি থাকা যায় আর! আর আমি ঢং করে বলতে পারি না যে, খুব ভালো আছি। সবসময়ই বলি মোটামুটি, কারন অতো ভালো থাকার আসলেই কিছু নেই। সঞ্জীবের গান ছিল 'আমি ভালো নেই, কারন ভালো থাকার কিছু নেই'। আসলেই আমাদের এই দেশে যে জীবন যাপন সেখানে সবাই ভান করি ভালো থাকার, আদতে থাকি মোটামুটি বেঁচে বর্তে কিংবা খারাপ। মনকে অজস্র সান্তনা দিয়ে প্রফুল্ল থাকার ভান করি, নিত্য নতুন বাহানা বানিয়ে নিজেকে সুখী করার মন্ত্র ঢালি। মন্ত্রে বিশেষ কার্য সাধন হয় বলে আমার মনে হয় না। তবুও কবীর সুমনরা গান গেয়ে যান, ভালো থাকবেনা মানে কি?
তবে এখন একটু মনটা ভালো লাগছে। সারাদিন একবারেও খেলা দেখি নাই, তাও শ্রীলংকার জয়ে আমি একটু আনন্দিত। যদিও যেখানে বাংলাদেশ নাই সেখানে আজকাল আমার ক্রিকেট নিয়েই আগ্রহ কম, তবুও পাকিস্তানের হারে ভালো লাগছে। বাংলাদেশ যদি হারাতো তাহলে আরো বেশী খুশি হতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যময় এই বছর বাংলাদেশের কোনো কিছুই নিজের পক্ষে আসছে না। আজ অনেক পাকি বাংলার লোকেদের দেখলাম বড় আশা নিয়ে বাগাড়ম্বর করিতে ব্যস্ত ছিল, বেচারাদের ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেল। এই দেশে যারা ক্রিকেটে ভারত পাকিস্তানের সমর্থক তাঁদের জন্য আমার বড়ই করুনা হয়, আহারে বেচারারা, সারাটা জীবন এদের কোহলি আফ্রিদীর আশাতেই খেলা দেখতে হবে। সমানে হারছি তাতেও আমরা বাংলাদেশই থাকবো কারন এর বাইরে আর কিবা করার আছে। আমার ২০০৬ এর পর থেকে আমার ফুটবল বিশ্বকাপই ভালো লাগে না কারন সেখানে বাংলাদেশ নাই। আগে আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করে তৃপ্তি পেতাম এখন আর্জেন্টিনার কি প্লেয়ারের কি নাম মেসি আগুয়েরা বাদে আর কারোর নামই জানি না। এরচেয়ে বরং গোল ডট কমে মোহন বাগান আর মোহামেডানের কিংবা ঢাকার শেখ জামাল আবাহনীর খোজ রাখতে ভালো লাগে। কারন এখনো পশ্চিম বাংলার জনগোষ্ঠী ফুটবলটাকে আমাদের আশি নব্বই দশকের মতোই ফীল করে। এমন তো না যে ওরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ দেখে না তাও নিজেদের প্লেয়ারদের কি ভক্তি টাই না করে তা দেখা যায় আকাশ আট নামে এক টিভি চ্যানেলে। আর কলকাতার ফুটবল নিয়ে ভাবলেই আমার রশীদ করীমের কথা মনে পড়ে। যে দারুন ভাবে তিনি তার প্রবন্ধ বা স্মৃতি কথায় সেই সময়ের মোহামেডান ক্লাবের প্রতি তার প্যাশনের বিস্তৃত বর্ণনা দেন তাতে আমি মুগ্ধ। নিজেও তিনি ফুটবল খেলতেন, তাই খেলা নিয়ে বর্ণনা চমকপ্রদ। আসলে একজন লেখকের অনেক শক্তি। লেখকের অসামান্য শক্তিতেই নাম না জানা খেলোয়ারদের অসাধারণ সব স্কিলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা হয়তো আমি খেলাটা দেখলেও উপলব্ধি করতে পারতাম না!
দু চারটে বই একত্রে পড়া হচ্ছে। একদিকে সতীনাথ ভাদুরী সমগ্র ১ আর দুই পড়েই চলছি, আরেকদিকে অনান্য বই। শেষ করলাম কামাল ভাইয়ের সংশয়ীদের ইশ্বর ও শিল্পের শক্তি শিল্পের দায়, টক শো মাস্টার নুরুল কবীরের ইন্টারভিউয়ের বই কথকতা, আর আহমদ ছফাকে নিয়ে সর্বজন পত্রিকার দুটো সংখ্যা। মোটামুটি ফলপ্রসু দিন যাচ্ছে পড়ার। তবে আসল পড়াশুনা তেমন করিনা, শেষ সেমিস্টার বলে তেমন মন নাই ক্লাসে। ২৪ তারিখ থেকে ৩৪ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা, দেয়ার ইচ্ছা নাই। এবার যদি ফাইনালী হয়েই যায় তাহলে হলো নয়তো নাই। ওতো বিসিএস প্রেমিক আমি না। তবে অনেক বাংলাদেশী ফ্যামিলী দেখি বিসিএস বলতে পাগল, আমার এক বন্ধু একটা ব্যাংকে মোটামুটি ভালো পোষ্টে আছে তার একটা সমন্ধ আটকে গেল যে মেয়ে পক্ষ বিসিএস ক্যাডার ছেলে ছাড়া আর কারো সাথে বিয়ে দিবে না। আহা কি উচ্চবংশ রে বাবা!
সিনেমাও দেখছি ধুমায়া। ভুতের ভবিষ্যতের ডিরেক্টর অনিক দত্তের নতুন ছবিটা দেখলাম 'আশ্চর্য প্রদীপ'। সিনেমাটা ভালো ব্যাবসা করে নি, আমার ভালোই লেগেছে। শ্বাশতর অভিনয়, শীর্ষেন্দুর গল্প, ভালো পাঞ্চলাইন, সমসাময়িক কলকাতার মধ্যবিত্তের জীবন, সত্যি উপভোগ্য। বাংলাদেশী ছবি 'পূর্ণদৈর্ঘ প্রেম কাহিনী' দেখলাম ইউটিউবে। মনে ধরে নাই। জয়া আহসানের মত এত প্রতিভাবান অভিনেত্রীকে সিনেমায় বাজারী নায়িকাদের মতো প্লাস্টিকের পুতুল বানিয়ে রেখে দিয়েছে পরিচালক। তবে তুলনামুলক ভাবে গোটা সিনেমায় শাকিবের চেয়ে আরেফীন শুভর অভিনয় ভালো। ২০১০ সালে বিরসা দাস গুপ্তের সিনেমা '০৩৩' দেখলাম। সিনেমাটা মোটামুটি, পরমব্রতকে বাচ্চা বাচ্চা লাগে, সস্তিকাকেও এখনকার মতো বিরক্তিকর লাগে না, তবে সমস্যা হলো স্ক্রীপ্ট ও পরিচালকের। কাহিনীকে তিনি ইচ্ছা করেই জটিল করে তুলেছেন তার মুন্সীয়ানা বুঝাতে গিয়ে। সিনেমাটার সব গান চন্দ্রবিন্দুর। আমার ভীষণ প্রিয় একটা গান আছে, 'আমার শহরে শুকিয়ে আসছে জল' গানটা আমার মুখস্থ অনেক দিন ধরেই। আজ দেখলাম আরো দুটো ছবি পুরনো, এলার চার অধ্যায় ও অঞ্জনদত্তের চলো লেটস গো। এলার চার অধ্যায় সিনেমাটা ভালো লাগে নাই। স্বদেশী আন্দোলনের গল্প কিন্তু স্ক্রীপ্ট, অভিনয়, ডায়লগ কিছুই পছন্দ হয় নি। খালি রবীন্দ্রসংগীতে দু তিনটার নতুন ভাবে উপস্থাপনটাই ভালো লেগেছে। বাপাদিত্য যদিও ভালো ডিরেক্টর তাও টোটাল সিনেমাটাই আমার কাছে সাদামাটা মুখস্থ ডায়লগের এক প্রর্দশনী বলে মনে হলো। গোটা সিনেমায় পাওলী দামকেই খালি ভালো লাগে। সুচিত্রা সেন স্টাইলে ব্লাউজ বা স্ব্দেশীদের এক রঙ্গা শাড়ীতে দারুন লাগে। যে পাওলী দামকে আমরা এমনি দেখি নানান সিনেমায় তা আমুল পাল্টে ফেলা ছবি। চলো লেটস গো সিনেমাটা টিভিতে মন দিয়ে দেখি নি, তাই ইউটিউবে দেখতে ইচ্ছা করলো। মোটামুটি ভালোই লাগে। পরমব্রত ঋত্বিক, রুদ্র, শ্বাশত এই চার ভালো অভিনেতা আর অঞ্জনদত্তের কারনেই সিনেমাটা অসাধারণ। বাংলাদেশি বানিজ্যিক মুভি রাজত্ব মুক্তি পেয়েছে, হলে গিয়ে দেখে পোষ্ট লেখার খায়েশ আছে। দেখা যাক!
আজ আবার নারী দিবস। এই সব দিবস টিবসের আদিখ্যেতা ভালো লাগে না। নারী দিবস মানেই এখন মিডিয়ায় ন্যাপকিনের এডে ঠাসা অগ্রযাত্রা দেখে দেখে আমি ক্লান্ত। আমি যে চারপাশটা দেখি সেখানে নারীদের খালি অনেক চেষ্টা করেও শুধু পিছিয়ে থাকার গল্প। সারাদেশে প্রতিদিন পত্রিকার কোনায় ১০-২০টা করে ধর্ষণ, আত্মহত্যা বা এসিড নিক্ষেপ কিংবা নির্যাতনের গল্প পড়তে পড়তে আমার শৈশব কৈশোর থেকে এখন যৌবন কাটছে। আর কত হাজার হাজার ঘটনা গোপন থাকে তাতো আমাদের চোখের সামনেই রোজ ঘটছে। অনেক কাল আগে আমি যখন নিতান্তই কিশোর তখন বলেছিলাম, একেকটা নারীর পরাজয় মানে গোটা পুরুষ তো বটেই, সমস্ত দুনিয়ার সভ্যতার পরাজয়। কথাটা এখন খুব কানে বাজে, আমাদের এত মাতৃভক্তি, এত নারীর অগ্রযাত্রা সব কিছুকে ঠূনকো প্রমানের জন্য প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা খুললেই যথেষ্ট। আমাদের মতো হিপোক্রেট জাতি দুনিয়ায় বিরল!





হু, দিনগুলো ভালোই যাচ্ছে। তবে, সত্যিই আর ভালো লাগে না।
হুমম
দিনোগুলো ভালো না লাগলেও আপনার লেকহা কিনটু ভালো লাগছে।

থ্যাঙ্কস, আপনার দিনকালও ভালো যাক!
ভাইরে দিন কাটাইয়া লন........ চাকরী তে ঢুকলে ভালো লাগে না বইলা কিছুই থাকবে না.....আর......পরবর্তীতে বিয়া-শাদী হইলে....... হা হা হা........ এভাবে চালাইয়া যান ভাই যতদিন সম্ভব....... শুভ কামনা রইল...
ওরে বাবা আপনি দেখি কত এডভান্স!
আপনার দিনও ভালো যাক ভাইয়া
এখনও দিন কেটে যাচ্ছে বেশ, এমন যেন কাটে বেলা সব সময়।
'আমি ভালো নেই, কারন ভালো থাকার কিছু নেই'। আসলেই আমাদের এই দেশে যে জীবন যাপন সেখানে সবাই ভান করি ভালো থাকার, আদতে থাকি মোটামুটি বেঁচে বর্তে কিংবা খারাপ।
কিন্তু কতদিন আর
মনকে অজস্র সান্তনা দিয়ে প্রফুল্ল থাকার ভান করা যায়? সত্যি ভালো থাকার একটা উপায় কি বের করা যায় না?
আমার নিজের কাছে মনে হয় এই ভান করা ছাড়া আর কোনো ওয়ে নাই!নিয়তি
চলো হাত মিলাই
অনেক দিন পরে আপনারে ব্লগে দেখিয়া মনে ধন্য ধন্য রব উঠিল!
হাত তো মেলাবোই
ভালো থাকেন আপু!
আমিও ভালো নাই!
ভালো থাকতে পারলে ভালো, না পারলে খুব খারাপ না!
বাই দা ওয়ে আন্টির জন্মদিনে শুভেচ্ছা!
আমিও ভালো নাই! Smile
কেনো কি হয়েছে?
আপনি এতো রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন! কেন?
আন্নের মত অ্যাঁর কুনো অফিস আদালত নাই, তাই জাগি থাকি!
মন্তব্য করুন