ইউজার লগইন

আমাদের জন্য,সব আমাদের জন্য!

মনটা ফুরফুরে কাল থেকে, এই ক্রিকেটের নামে যে সার্কাস ফরমেট এখন চালু সেই টিটুয়েন্টিতে তার বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়িংয়ের প্রথম ম্যাচে আফগানদের হারালো। বাংলাদেশের কেন কোয়ালিফাইং খেলতে হবে এই জিনিস ভাবলেই আমাদের মেজাজ খারাপ হয়। মানছি আমরা এই ফরম্যাটটায় দুর্বল তাই বলে হংকং নেপালের সাথে খেলতে হবে মুলপর্বের জন্য। ব্যাপারটা আমার কাছে জেনেই খুব ইন্সাল্টিং লাগছে। পরে ভাবলাম ঠিকই আছে, হংকং নেপালদেরওতো সাধ জাগে আমাদের মত দলের সাথে খেলার তাই তাঁদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। ম্যাচের আগেই বলছিলাম লোকজনদের, বাংলাদেশ জাস্ট উড়িয়ে দেবে। তাই হলো, নিজের কথা মিলে গেল, মনে আনন্দ। যদিও ওয়ানডেতে সেই এশিয়া কাপে্র ম্যাচেও সেইম বয়ান দিয়েছিলাম, উল্টা নিজেরাই উড়ে গেছি। সেইদিন যে কি মেজাজ খারাপ হলো, বলে বুঝাতে পারবো না। তাই গতকাল ষোলোই মার্চ, রোজ রবিবার আমার দিনটা এক আফগান জয়েই খুব খুশি!

আগের মত ডেইলী লেখার অভ্যাসটা মার খেয়ে যাচ্ছে। আগের মত সেই পেশেন্সটাও নাই। আগে পিসি ছিল, লিখতাম লেখা হারিয়ে যেত, অনেকবার লিখেও লেখা দিতে পারি নি ব্লগে কারন সেইভ থাকে নি, তবুও লেখার প্রতি ডেডিকেশন ছিল। এখন কত রকমের সুবিধা, চাইলেই লেখা যায় নোটবুকে, কারেন্ট যাওয়ার ঝক্কি নেই, আগে লিখতে বসে চা খাওয়ার জন্য মনটা উশখুশ করতো এখন তারও ব্যাবস্থা আছে- মামার দেয়া দারুণ একটা ওয়াটার হিটার। এত সুবিধা তাও আগের মত মন বসে না লেখায়। খালি রাত করে বই পড়ি আর ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ি। আর মুড ভালো থাকলে বাসায় বসে একা অনলাইনে সিনেমা দেখি। অনলাইনে সিরিয়াস সিনেমা দেখা হয় কম। খালি গণ্ডা গণ্ডায় হিন্দী আর বাংলা সিনেমা দেখি। ইদানিং পুরানো দিনের অনেক সিনেমা দেখা হয় ইউটিউবে, তবে দেখা হলেই নাম ভুলে যাই। ইন্টারনেটে হিস্ট্রী থেকে পড়ে সেই নাম উদ্ধার করি পরে। আর হিন্দি সিনেমা দেখা হয় শুক্রবার কি কি সিনেমা বাজারে মুক্তি পেল তা দেখে। হিসাব করে দেখলাম, এই বছরে মুক্তি পাওয়া আশিভাগ বস্তাপচা হিন্দি সিনেমাই আমার দেখা। কি আজাইরা কান্ড, দেশ ভাসছে এ আর রেহমানের সেলিব্রেশন কনসার্ট ও তা থেকে উৎপন্ন উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রোষানলে আর আমি চুটিয়ে দেখি হিন্দি সিনেমা। এই নিয়ে আমার কোনো আত্ম অনুশোচনা নেই, কারন বঙ্গদেশে ঘরে ঘরে মানুষ হিন্দী সিরিয়াল দেখে বড় হচ্ছে, আর আমি তো সামান্য হিন্দি সিনেমা দেখি, কয়েকটা হিন্দি গান শুনি এই যা। শিল্পী আগুনের একটা কথা আমি মানি, যে হিন্দি গান শুনবো অবশ্যই তবে পাঁচটা বাংলা গান শোনার পর। আমিও সেই আইডিয়োলোজীর লোক, কত লোক তো পাকিস্তানী ব্যান্ড সিঙ্গারের গান কত মন দিয়ে শুনে, আমি তো আর তাঁদের মতো না। এমনকি আমি হিন্দি সিনেমা ডাউনলোড করেও দেখি না কারন এতে হিন্দি সিনেমারে জাতে তোলা হবে বেশী। অনলাইনে নিম্নমানের প্রিন্টে দেখি কাহিনী খালাস!

তবে কোনো বিশেষনেই বাঙ্গালী জাতির হিপোক্রেসীময় নাটুকেপনার তুলনা চলে না। যেমন এক নাটক হলো হায়দার বাবা ওরফে হাটা বাবার মরে যাবার পর থেকে তা কবরস্থ করার ঘটনা নিয়ে। হায়দার বাবা বয়স ছিল অনেক, প্রায় আশির কাছাকাছি। তাঁর সমন্ধে আমার জানার খুব একটা সু্যোগ নেই, কারন তাঁকে নিয়ে কথা সব শুনতে হয় লোকজনের মুখ থেকে। তবে গত পনেরো বিশ বছর ধরে তিনি মোহাম্মদপুরের একজন সবচেয়ে চেনা ক্যারেক্টার। তিনি তো কারে সাথেই কথা বলেন না, নিজের মতো হাটেন, কেউ খাওয়ালে রুটি কলা চা খান, ভক্তরা তাঁর সাথে সাথে হাঁটে কারন উপকার নাকি পাওয়া যায়। তবে তিন যুগ ধরে তিনি ভাত টাত খুব একটা খান না, জাতে অবাঙ্গালী বিহারী, দুই সন্তানের আকস্মিক খুন হবার কারনেই তিনি জীবনের প্রতি এই বৈরাগ্যের সুচনা করেন। মুর্তজার দোকানে চা পুরি চুপচাপ শুধু খেয়ে যেতেন কারো সাথে একটি টু শব্দেও কথা বলতেন না তখন। তাঁর নামে ভক্তরা বাড়ী কিনে দিয়েছি, প্লট দিয়েছে, তিনি খালি ফ্লোরেই থেকেছেন একই শার্ট একই লুঙ্গি পরে আছেন প্রায় দুই তিন যুগ ধরে। একবার নাকি তাঁর দাড়ি মোল্লারা কেটে দিয়েছিল জিহাদী জোশে। তারা সবাই নাকি এখন প্যারালাইসড। এইসব আমার বিশ্বাস হয় না, ভক্তদের অতিরঞ্জিত আশাবাদ। তাঁর ভক্তরা তাকে নিয়ে প্রচারনা চালায় যে দেখে গেছে মোহাম্মদপুরে, তিন ঘণ্টার ব্যাবধানে মুন্সীগঞ্জ গিয়েছে সেখানেও দেখে বাবা হাটছে। আমি এইসব শুনে বলতাম আপনাদের মনে যে ভালোবাসার ছায়া তাতেই আপনারা নানান জায়গায় দেখেন, যেখানে দেখতে চান সেখানেই, প্রেমে পড়লে পুরুষেরা যেমন জলে স্থলে অন্তরীক্ষে সব জায়গাতেই তাঁর প্রেমিকার উপস্থিতি অনুভব করে, ঠিক তেমন আপনাদের অবস্থা। তাঁর সমন্ধে আরেক প্রচারনা গায়ে এক ফোটা গন্ধ নাই, কত বছর ধরে বাথরুমে টয়লেট করেন না, গোসলের বালাই নাই, আমি জানি না তা সত্যি কিনা, তবে আমার ধারনা ভক্তি যখন থাকে তখন সব কিছুতেই দুনিয়ার সেরা সুবাস বের হয়। তিনি হেটেছেন তাঁর মতো, কাউকে হাটতেও বলেন নি, ভক্তরা হেটেছে, ফল পেয়েছে নাকি পায়নি তাঁদের ব্যাপার। তবে তাঁর ভক্তের পঞ্চাশভাগই অবাঙ্গালী বিহারী। এরাই বিশাল ওরশের আয়োজন করতো আগে। এরাই মারপিট করছে মোহাম্মদপুরের ইদ গা মাঠে হায়দার বাবার কবরস্থ করার জন্যে। তাঁদের প্ল্যান ছিল কবরটা মাঠের গেটে থাকবে। শেষমেশ সবার হস্তক্ষেপে তা কবরস্থানের দেয়াল ভেঙ্গে, মাঠের সাথে লাগোয়া ভাবে দেয়া হয়েছে। এই ঢাকা শহরে মোহাম্মদপুরেই এখনো দুই হালি খেলার মাঠ বেঁচে আছে তার ভেতরে একটা যদি এই উসিলায় হারিয়ে যায় তাহলে ভালো কিছু হবে না। কারন কয়দিন আগেই খুব যত্ন নিয়ে নতুন করে ঘাস লাগিয়ে মাঠটাকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এক কবর দেয়া দেয়ি নিয়ে তাঁর অবস্থা সঙ্গিন। লাশ কে যখন গোসল করানো হলো সেই পানি নেয়ার জন্যেও হয়েছে হাতাহাতি। মানুষের ধর্ম কর্মের এইসব সুরতহাল দেখলে মেজাজ খারাপ হয়। এক ফারাবীর মতো মেন্টাল পেশেন্টের হুমকিতেই রকমারীর মত বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান বই সরিয়ে নেয়, আর সেখানে এরকম মানসিক ভাবে অসুস্থ একটা লোকের কবর নিয়ে এরকম এনার্কি হবে তাই তো নরমাল

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


এক ফারাবীর মতো মেন্টাল পেশেন্টের হুমকিতেই রকমারীর মত বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান বই সরিয়ে নেয়, আর সেখানে এরকম মানসিক ভাবে অসুস্থ একটা লোকের কবর নিয়ে এরকম এনার্কি হবে তাই তো নরমাল

তা যা বলেচো ভাই Sad(

আরাফাত শান্ত's picture


ভাইটা কার দেখতে হবে না! Steve

জ্যোতি's picture


চা খাওয়ার দারুণ ব্যবস্থা, নোটবুক, অনেক বই, নিজের মত থাকা.... এর চেয়ে সুখ আর কি আছে!!! একসময় এই একা থাকাই মিস করবা ।
হাটা বাবাদের যারা অন্ধ ভক্ত তারা কি সত্যি কোন ফল পায়? জানতে ইচ্ছা করে ।

আরাফাত শান্ত's picture


যারা ফল পায় তারাই ভালো জানে!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টাইগাররা আবার জিতা শুরু করছে এইটাই সবচে খুশির খবর।

একটু নিজের উপর জোড় খাটাইয়া হইলেও আরেকটু ঘন ঘন লেখা দিয়েন, আপনেরে না দেখলে ভাল্লাগে না।

আরাফাত শান্ত's picture


তোমাদের অবারিত ভালোবাসায় মুগ্ধ হই!

জাকির's picture


ভন্ডদের ভান্ডামি দেখলেই মেজাজটা বিগড়ে যায়। আর যারা বাবা বাবা করে এগুলারেও কেমন জানি লাগে ! পিডাইতে ইচ্ছা করে।

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

প্রিয়'s picture


শিরোনাম দেখে প্রথমেই কি মনে হল জানেন? আপনারে আর আমারে গানে ধরসে।:D

১০

আরাফাত শান্ত's picture


লোল Laughing out loud

১১

প্রিয়'s picture


হ্যাঁ সত্যি! ভেতরের কন্টেন্টে মিল থাকুক বা নাই থাকুক শিরোনাম আমি গানেই দিব মাস্ট। Big smile

১২

আরাফাত শান্ত's picture


নিজের মাথায় লাইন আসে কম, তাই গানের লাইনই আশ্রয়!

১৩

প্রিয়'s picture


হাহাহাহাহাহাহা। এটা ঠিক। আর আমার ক্ষেত্রে কি হয়, যখন আমি লিখতে বসি তখন গানও শুনতে থাকি। আর বেশীর ভাগ সময় যে গানটা শুনতে থাকি সেটারই কোন একটা লাইন মেরে দেই। Laughing out loud

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


আমার ক্ষেত্রে একদম ঠিক। রিপিট শাপল দিয়ে একেকটা গান শুনি, দেখা যায় যাই শুনছি সেখান থেকেই লাইন মেরে দিলাম শিরোনামে!

১৫

প্রিয়'s picture


হুম। সেটা আমি বুঝতে পারসি আপনার শিরোনাম দেখে যে আপনার কেসও আমার মতোন। Big smile

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


Tongue

১৭

প্রিয়'s picture


বিসিএস দিবেন নাকি এবার? আমারে তো আব্বু আম্মু দিতে বলে। কিন্তু পড়তে পেইন লাগে।

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


আরে না, দিমু না এবার, যেবার দিছি সেবারই প্রায় হইছে, তাই মেধার সমুদ্রে ইগো নিয়ে বসে আছি!

রিটেন এক্সাম ভয়াবহ পেইন, পড়াশুনা করে তিন ঘন্টা ধরে বাংলা ইংরেজী বিজ্ঞান গনিত লেখা মাইনষের কাজ না!

১৯

প্রিয়'s picture


আরে আমিতো অংকে মারদাঙ্গা টাইপ ভালো। ২ যোগ ২ এ চার এটা করতেই আমার জান কুরবান হওয়ার যোগাড়।

২০

আরাফাত শান্ত's picture


আমিও অংকে যুতের না, মেট্রিকে অংকে পেয়েছিলাম সি, নাইন এলিভেন দুইবারেই কমার্সের ছাত্র, তাও ক্লাস এইট নাইনের ম্যাথ একটূ নিয়ে বসলেই হয়ে যায়। তাই আমারো হয়ে গিয়েছিল। আর পাশে বসা একটা ম্যাথমাস্টার থাকলে তো কথাই নাই, কিছু না মিলিয়েই আপনি সব অংক পেরে যাবেন!

২১

প্রিয়'s picture


আরে আমার অঙ্কের কাহিনী কাউকে বলাটাও খুব লজ্জাজনক। আমি প্রত্যেক অংক পরীক্ষায় হলের মধ্যে হয় অজ্ঞান হইতাম নইলে বমি করতাম। একবার টেনশনের চোটে পরীক্ষার খাতায় আমার নামের জায়গায় বোনের নাম লিখে দিয়ে আসছিলাম। Tongue

২২

আরাফাত শান্ত's picture


শেষ লাইনটা পড়তে গিয়ে, হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ার উপক্রম হলো Big smile

২৩

প্রিয়'s picture


Sad হাসিতো আসবেই। পরীক্ষার খাতা দেয়ার সময় আমাকে যে অপমানটা করলো সেটার কি হবে?

২৪

আরাফাত শান্ত's picture


আমার এক ক্লাসমেটের কথা মনে পড়লো। সে এতই বেশী টেনশনে ছিল নাইনের এনুয়ালে যে নাইনের জায়গায় তাকে ক্লাস এইটের গনিত প্রশ্ন দিয়েছিল স্যার ভুল করে তাই এন্সার করছে আপন মনে, ত্রিশ মিনিট পরে স্যার আসলো ভিজিটে ওর প্রশ্ন -স্যার এইসব তো আপনি ক্লাসে করান নি, স্যার দেখলো প্রশ্ন আর বললো তোর মতো বলদ এশিয়ার জাদুঘরে রাখা হবে সামনে!

২৫

প্রিয়'s picture


হাহাহাহাহাহাহা। না হয় অঙ্কে সে আমার মতোই তাই বলে এভাবে বলা লাগে! আমি অঙ্ক পরীক্ষায় খালি আমার পেছনের মেয়েটার সাথে উত্তর মেলাতে চাইতাম। কিন্তু সে দিতনা। মেয়েগুলি যে কি হিংসুটে ছিলনা!

২৬

আরাফাত শান্ত's picture


তবে অনেক মেয়ে ভালো তারা চান্স পাইলে ছেলেদের উপকার করতে গিয়ে বলে উঠে-- হচ্ছে না তোমারটা! এইভাবে লিখো!

২৭

প্রিয়'s picture


হ, ওইটাতো ছেলেদেরকে বলবেই। শুধু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা করেও দিতে চাইবে। কিন্তু মেয়েতে মেয়েতে ব্যাপারটা আলাদা ম্যান। Tongue

২৮

আরাফাত শান্ত's picture


Laughing out loud

২৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


বুঝলাম যারা বি সি এস দিয়ে দেশের কর্নধার হয় তারা অংকে গাধা তাই দেশের অর্থনীতির এই দশা।:(

৩০

আরাফাত শান্ত's picture


Tongue

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!