ইউজার লগইন

সংখ্যালঘু বিতারনের (Elimination of Minorities) রাজনীতি ১: স্বাধীনতাপূর্ব পর্ব।

১৯৪৭ সালে যখন দ্বি-জাতি ( Dual Nation Theory) তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয় তখন পূর্বপাকিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যায় ৩১%। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ পরিক্রমায় ১৯৫২ সালে ২২ %, ১৯৬১ সালে এর সংখ্যা দাড়ায় ১৮ % (সুত্র: আবুল বারাখাত, লিভিং উইথ ভেস্টেড প্রপার্টি) । স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে কেন হিন্দুদের সংখ্যা সময়ের সাথে সাথে কমে গেল। তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মৌলিকভাবে বিশ্লেষণে করলে যে মূল কারণ পাওয়া যায় তা হল পূর্বপাকিস্তানের জনগণকে শোষণ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলির ও সামরিক শাসকদের ধর্মীয় উগ্রবাদের অপব্যবহার । রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মকে অপব্যবহার করে দেশ থেকে হিন্দুদের বিতারনের (elimination) কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এখানে উল্লেখ্য যে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে সংখ্যালঘু বিতারনের (elimination) রাজনীতি নতুন ধর্মীয় মোড়কে বাজারজাত করা হয়েছে (পড়ুন এই লেখার ২য় অংশে)।

ভারত ভাগের আগেই যে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্পের বীজ এই উপমহাদেশের সমাজের প্রতিটি স্তরে ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকেরা সচেতন ভাবে ইনজেক্ট করেছিল, সেই বিষের ছোবল থেকে উপমহাদেশের জনগণ আজো যে নিরাপদ নয় তা সাম্প্রতিক দেশব্যাপ্তি সংখ্যালঘুদের উপর পাশবিক অত্যাচারই বাস্তব উদাহরণ। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগ মুহূর্তে তৎকালীন মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ জিন্নাহ মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠনের উদ্দেশ্যে ইংরেজ শাসক ও কংগ্রেস নেতৃ্ত্বকে চাপ দেয়। এই চাপের অংশ হিসাবে ১৯৪৬ সালে সারা ভারতব্যাপি মোহাম্মদ জিন্নাহ “ ডিরেক্ট একশান ডে” কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৬ আগস্ট কলকাতার ময়দানে প্রায় এক লক্ষ (এই সংখ্যাটি নিয়ে দ্বিমত আছে) মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জড়ো হয়। ময়দান থেকে মিছিল বাহির হওয়ার পরপরই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতায় চারদিন ব্যাপি ইতিহাসের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে মারা যায় ৪০০০ হাজার মানুষ, প্রায় এক লক্ষ মানুষ হয়ে পড়ে গৃহহীন। পরবর্তীতে বিহার, পাঞ্জাব ,নোয়াকালীসহ পূর্ববাংলাতেও এই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। মুলত এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাতে ধর্ম কেবল রাজনীতিবিদের দাবার গুটি হিসাবেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৪৭ সালে ধর্মের উপর ভিত্তি করেই জন্ম নিল দুইটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় কলকাতা রয়ে গেল ভারতের সাথে ,আর মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় পূর্ব বাংলা চলে গেল পাকিস্তানের সাথে।

দেশ ভাগের পর তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে সে সব সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, তার একটিও ধর্মের জন্য নয়। সব গুলিই উগ্রবাদী ধর্মীয় মৌলবাদের রাজনৈতিক আদর্শের কারনে। পাকিস্তানের শাসকরা তাদের রাজনৈতিক অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করার জন্য সব সময় বলির পাটা করেছে সংখ্যালুঘদের, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের । ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করল পাকিস্তানের উগ্র শাসকশ্রেণী । স্বাধীন পাকিস্তানে ১৯৫০ ও ১৯৬৪ সালে সংখ্যালঘুদের উপর যে সব সাম্পদায়িক হামলা হয়েছে ( দাঙ্গা নয়,কারন দাঙ্গা হয় যখন দুইটি কিংবা তার অধিক গোষ্ঠী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়), প্রত্যেকটির পিছনে হিন্দুদেরকে বিতারনের অপরাজনীতিই দায়ি।

দেশ ভাগের পরপরই পূর্ব বাংলার সংখ্যালঘুদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের দৃষ্টি ভঙ্গি খুবই তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়। এর কারন এই দেশের ব্যবসা-বানিজ্য,অর্থ- সম্পদ , চাকুরী সহ সর্বপুরি সমাজের উঁচু পর্যায়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণের সংখ্যাই বেশী ছিল । যাদের বেশির ভাগই বাস করতেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এলাকায়। ফলে সাধারন মুসলিমদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ ছিল । তাছাড়া ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষময় প্রভাব তখনও সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান ছিল । হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতিদিনেই সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে থাকেন । খুব পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণকে বিতারনের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয়। এখানে উল্লেখ্য যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র না বানানোর জন্য মুসলিম লীগের নেতাদের প্রতি আহব্বান জানিয়েছিলেন । তিনি পাকিস্তান ন্যাশানাললীগ নামক একটি দল গঠন করে দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুখত রাখার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েও মুসলিম লীগের বাধার কারনে ব্যর্থ হন। ১৯৫০ সালের আবার দেখা দেয় সাম্প্রদায়িক হামলা। পাকিস্তানের প্যারামিলিটারি, পুলিশের সহায়তায় সাধারন মুসলিমরা ফ্রেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন, লুটতরাজ , ধর্ষণ ও অপহরণ করে। এখানে উল্লেখ্য যে ঢাকাতে ১০ ফ্রেব্রুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে হামলা শুরু হয়ে দুই দিন ব্যাপি চলছিল । ঢাকাগামি সকল ট্রেন থেকে হিন্দুদেরকে ধরে ধরে হত্যা করা হয়েছিল । এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ফ্রেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে , ১৩ ফ্রেব্রুয়ারিতে বরিশাল , নোয়াখালি, সিলেট, রাজশাহী, যশোরসহ সারা দেশ ব্যাপি হিন্দুদের উপর প্রশাসনের সহায়তায় নির্বিচারে হামলা চালানো হয় । শুধু ঢাকাতেই ২০০ লোককে প্রান দিতে হয়েছিল । সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে পরিসংখ্যান মতে প্রায় ১০০০ সাধারন হিন্দুকে হত্যা করা হয়। মজার বিষয় হচ্ছে যে তখন এম,এল,এ ( Member of legislative assembly) ও বীর মুক্তি যোদ্ধা সতিন্দ্রনাথ সেন কে গ্রেফতার করা হয় । কারন তিনি হিন্দুরা দেশে শান্তিতে বাস করছে এই রকম এইটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একই ভাবে এম,এল,এ মেম্বার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, মোহিনী মোহন কর, জমিদার ও কংগ্রেস নেতা কৃপেশ চন্দ্রসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩০ জন নেতা কে জেলে পাঠানো হয়। এই গনহত্যার তদন্ত করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায় থেকে যে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে থেকে পাঁচ জনকেও প্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল । ১৯৫০ সালে হিন্দুদের উপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ,গণহত্যা ,লুটতরাজ ও অপহরণ ফলে এই দেশে থেকে কি পরিমাণ হিন্দু পূর্ববাংলা থেকে ভারতে চলে যায় তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে ১৯৫২ সালে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় হিন্দুদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে আসে।

পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ধারণা ছিল যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও স্বায়ত্বশাসন দাবির নির্মাতা হিন্দু intelligentsia । জুলফিকার আলী ভুট্টো বিশ্বাস করতেন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দু intelligentsia কে ফিফ্থ কলাম ( fifth column) হিসাবে। ভুট্টো বলেছিলেন “ by leaving the youth of East Pakistan to the care of Hindu teachers and professors , we have lost the present generation but we cannot afford to lose the generation of tomorrow”.

১৯৬২ সালে চীনের সাথে ভারতের পরাজয়ের পর,পাকিস্তানী শাসকরা ভেবেছিল যে পরাজিত ভারতকে হটিয়ে কাশ্মির দখল করবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, ধর্মীয় উগ্রগোষ্টি সহ সাধারন জনগণকে ভারত বিরোধী যুদ্ধে জরানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হয় । মুলত সেই উদ্দেশ্যেই ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রকটভাবে পাকিস্তান নামক রাষ্ট ও সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষের মত জড়িয়ে দেয় । ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মারা যাওয়ার পর দখলদাররা সাধারন মানুষের ঐক্যতে ফাটল ধরানোর জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। কাশ্মীরের হযরত বাল মসজিত থেকে নবী করিমের একটি চুল চুরি হওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে মুসলিমলীগ সারা পাকিস্তান ব্যাপি সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়িয়ে দেয়। ১৯৬৪ সালের ৩ জুনকে ঘোষণা করা হয় “কাশ্মীর দিবস” হিসাবে । ১৯৬৩ সালের শেষের দিকে বিহারিদের নেতৃত্বে পূর্বপাকিস্তানের শিল্প এলাকায় সাম্পদায়িক হামলা শুরু হয়। চলে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত । প্রথম হামলা করা হয় খুলনায় কলকারখানার শ্রমিকদের উপর। পরবর্তীতে রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই হামলা ছড়িয়ে পড়ে। এখানে উল্লেখ্য যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে “ পূর্ব বাংলা রুখিয়া দাঁড়াও’ ব্যানারে সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে ঢাকায় মিছিল করেন সাধারন জনগণ সহ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা । সাধারন মুসলিমরা হিন্দুদেরকে এই হামলা থেকে রক্ষা করে। হামলাকারিদের হাত থেকে বিদেশিরাও রক্ষা পায়নি। একটি হিন্দু পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে আমেরিকান প্রফেসর ফাঁদার নভাক নিহত হন। ইতিহাসবিদেরা হিন্দু-মুসলিমদের এই সহমর্মিতা ও সহ অবস্হান দখলদার বিরোধী আন্দোলন সহ পরবর্তীতে একাত্তরের মহান যুদ্ধে বিশেষ ভুমিকা রাখে বলে মনে করেন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের শুধু সামরিক বাহিনী নয়, অনেক ধর্মীয় দলসহ জিহাদি গ্রুপ ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে । অনেক সাধারন জনগণও অংশ গ্রহণ করে এই জন্য যে পাকিস্তানের শাসকেরা বুঝাতে সক্ষম হয় যে এই যুদ্ধ হচ্ছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে, এই যুদ্ধ ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র যুদ্ধ। তাই তাদের অংশ গ্রহণ ইসলামের দৃষ্টি বাধ্যতামূলক।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তানের এই যুদ্ধের কুপ্রভাব পড়ে পূর্বপাকিস্তানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। ডিসেম্বরের ৩ তারিখে পাকিস্তানী শাসক পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইন নামক কালো আইনটি প্রণয়ন করে এবং এই আইনের অধীনে হিন্দুদেরকে এই দেশের শত্রু দেখিয়ে তাদের সকল সম্পত্তিকে শত্রুদের সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। অফিসিয়ালি হিন্দুদের ৭৫ শতাংশ জমি এই কালো ও বর্বর আইনে সরকার বাজেয়াপ্ত করে । মোট ৯২৫, ০৫০ টি পরিবার ( হিন্দু পরিবারের ৪০% ) এই আইনের থাবায় পড়ে। এর মধ্যে ৭৪৮,৮৫০ টি পরিবার তাদের চাষযোগ্য জমি হারায়। মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ১.৬৪ মিনিয়ন একর (৬,৬৬০বর্গ কিলো মিটার) যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মোট ভূমির ৫৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশের মোট ভূমির ৫.৩ শতাংশ।(সুত্রঃ আবুল বারখাত, ১৯৯৬ ও ২০০০)। শুধু তাই নয়, সরকার প্রশাসনের সকল সেবা থেকে হিন্দুদেরকে বাইরে রেখে। স্কুল, কলেজ সহ বিশ্ববিদ্যালয়েও হিন্দুদের প্রবেশাধিকারকে প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য নোবেল বিজয়ী অমর্ত সেনের জমি ও বাড়ি এই আইনে শত্রু সম্পত্তি হিসাবেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল । যতদূর শোনা যায়, বর্তমান সরকার অমর্ত সেনের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

১৯৭১ সালের বাঙ্গালী জাতির মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান জানোয়ারারা হিন্দুদের উপর হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে। পাকিস্তানের উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির বিশ্বাস ছিল যে পাকিস্তানকে ভাঙ্গার জন্য হিন্দু সম্প্রদায় ও ভারত দায়ি। বাঙ্গালির সংস্কৃতিকে ভারত ও হিন্দুদের বলেই তারা বিশ্বাস করত। যুদ্ধে নিয়োজিত সেনাদের বলা হয়েছে যে তারা যুদ্ধ করছে ইসলাম রক্ষার জন্য, কাফের ও মালাউন্দের বিরদ্ধে। যে সকল শরণার্থী প্রতিবেশি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল , এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ছিল হিন্দু। পাকিসেনারা হিন্দুদের উপর যে সব পরিকল্পিত গনহত্যা চালায় , তার মধ্যে জগ্ননাথ হল, চোখ নগর , জাতিভাঙ্গা, শাঁখারি পাড়া ও জিঞ্জিরা গণহত্যাগুলি উল্লেখ্যযোগ্য । জেনারেল নিয়াজি বলেছিলেন “ It was a low lying land of low lying people.’ The Hindus among the Bengalis were as Jews to the Nazis: scum and vermin that [should] best be exterminated’।

ধর্মের মড়কে কু-রাজনীতি জানোয়ার পাকিস্তানিদের ক্ষমতাকে ঠিকিয়ে রাখতে পারিনি। যদিও ১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেই জয়ী করল এই দেশের বীর সন্তানেরা, রাজনীতি পট–পরিক্রমায় সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প এই দেশের অনেক রাজনৈতিক দলের কাছে সম্পদ। ১৯৭৪ সালের সরকারী আদমশুমারির পরিসংখ্যানে দেখা যায় হিন্দুদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৩.৫ %।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শুভ্র সরকার's picture


দারুণ লিখেছেন!!!
এখন সময় এসেছে রাজনীতিতে সংখ্যালঘু জামাত শিবিরকে নিধন করার৤ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জামাতের বিষবৃক্ষ সমুলে উপড়ে ফেলতে হবে৤

বিজন সরকার's picture


ধন্যবাদ শুভ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বিজন সরকার's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি।।। ...। ঘৃনা করি সেই সব মানুষদের যারা স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। ।