ইউজার লগইন

সংখ্যালঘু বিতারনের (Elimination of Minorities) রাজনীতি ২:স্বাধীনতা উত্তর পর্ব

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মহাকাব্যিক স্বাধীনতা সংগ্রামের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা নতুন দেশে সম-অধিকার নিয়ে বাচার স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্ন দেখাটা খুবই যৌক্তিক ছিল। দেশটাকে স্বাধীন করতে হিন্দুদেরকে সবচেয়ে বেশী মূল্য দিতে হয়েছে । ১৯৪৭ সালের পর যখনই পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের উগ্র শাসক গোষ্ঠীর অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে, তখনই পাকশাসকেরা ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়িয়ে দিয়ে হত্যা করেছে হিন্দুদের । ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট যন্ত্রকে ব্যবহার করে হিন্দুদের কে শত্রু বানিয়ে তাদের চাষাবাদ ও বসতবাড়ির জমিজমা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১ নভেম্বর এডওয়ার্ড কেনেডি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর সিনেট কমিটিকে দেওয়া এক রিপোর্টে লিখেছিলেন “"Hardest hit have been members of the Hindu community who have been robbed of their lands and shops, systematically slaughtered, and in some places, painted with yellow patches marked "H". All of this has been officially sanctioned, ordered and implemented under martial law from Islamabad"

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকারকে নিশ্চিয়তা দেওয়া হয়। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু প্রথম বক্তৃতাতে স্বাধীনতার জন্য হিন্দুদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকার করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে কলকাতায় সফরে গিয়ে দেশে ফিরে দেশ গড়ার জন্য হিন্দু শরণার্থীদের অনুরোধ করেন। জাতির পিতার এই সব পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সহাবষ্হান করার জন্য সাহস জুগিয়েছে। মূলতই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও পরমতসহিষ্ণুতা গড়ে ওঠতে শুরু করে। সাধারন জনগণকেও পাকিস্তান শাসন আমলের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার মানসিকটা থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, যুদ্ধাত্তর বাংলাদেশে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা থাকলেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেনি। হিন্দুদের যে সকল সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি আইনে রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করেছিল ,স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার তা ফিরিয়ে দেবে বলেই তাদের বিশ্বাস ছিল।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা যে ১০০ হিন্দু ধর্মানুসারীদের কে হত্যা করে ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির দখল করে নিয়ে ছিল তা স্বাধীনতার পর পরই ফিরে পাবে বলে আশা করেছিল হিন্দু সমাজ । কিন্তু তা আজো ফিরে পায়নি। হিন্দু ধর্মানুসারীদেরকে হত্যা করে শত্রু সম্পত্তি আইনে এই জায়গা ঢাকা ক্লাবের কাছে হস্তান্তর করেছিল পাকিস্তানীরা। সারাদেশ ব্যাপি হিন্দুদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিও ফিরে পায়নি। এই কালো আইনে ১৯৭২ -১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে ও পরবর্তীতে ১৯৭৬-১৯৮০ জিয়ার শাসন আমল পর্যন্ত হিন্দুদের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল চলে। ইতিহাসবিদেরা মনে করেন যে স্বাধীন দেশে এই আইন বাস্তবায়নের ফলে হিন্দুদের সংখ্যা আবার কমতে শুরু করে। পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদ ১৯৮৪ সালে ঘোষণা দেন যে হিন্দুদের আর কোন জমিকে শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় নেওয়া হবে না। কিন্তু যখনই এরশাদ ক্ষমতা হারাতে বসে , ঠিক তখনই (১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে ) সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়িয়ে দিয়ে হিন্দুদের সম্পতি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করে ।

প্রিয় পাঠক, প্রথম পর্বে আমি বলেছিলাম যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে এই দেশের অসাম্প্রদায়িক চেহারা আস্তে আস্তে দানবে রুপ নেয়। প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীরা রাজনৈতিক ইসলামের রাজনীতি প্রমোট করে। আর যিনি ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পাকিস্তানের থেকে আমদানি করেছেন , তিনি গলাচিপা বহুদলীয় গনতন্ত্রের সৈনিক মেজর জিয়া। তিনি বিশিষ্ট রাজকার শাহ আজিজুরকেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছিলেন।

মেজর জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সংবিধান থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী দল জামায়েত-কে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার ফলে এই দেশের সংখ্যালঘুরা সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে, হলিষ্টিকিলি সামাজিকভাবেও আবার সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সংহিংসতার উস্কানি আঁচ করতে পারে। কারন এই জন্য যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে হিন্দুদেরকে হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও ধর্ষণ করার জন্য পাক-জানোয়াররা এই দেশীয় রাজকার, আলবদর সহ জামায়েত ইসলামের অন্যান্য মিলিশিয়া বাহিনী কে ব্যবহার করে। এই বাহিনীর সদস্যরা হিন্দুদেরকে নির্যাতনের পাশাপাশি পাকসেনাদের কাছে শনাক্ত করে দিত। তাই এই রাজনীতির আদর্শটিকে আবার রাজনীতি করার সুযোগ হিন্দুদের কে উদ্বিগ্ন করে তুলে। হিন্দু সমাজ বুঝতে পরে , আবারও সেই ১৯৫০ কিংবা ১৯৬৪ সালের মত সাম্প্রদায়িকতা বাজারজাতকরন শুরু হয়েছে। উগ্রধর্মীয় ফেরিওয়ালারা আবারও রাজনীতির নামে ধর্মকে ব্যবহার শুরু করেছে । বলা যায় স্বাধীনতার পরে জিয়ার শাসন আমলে সাম্প্রদায়িক উস্কানির বীজ এই দেশের সমাজে প্রথম বপন করা হয় । আস্তে আস্তে এই বীজকে জেনারেল এরশাদ সংবিধানের ৮ম সংশোধনে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাজের ধর্মভীরু মানুষের মনে গাছ হিসাবে দাড় করিয়ে দেয়। ১৯৯০ সালে ভারতে বাবরি মসজিদে হামলার ফলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংহিংসতা জড়িয়ে পড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই প্রথম সাম্প্রদায়িক হামলা। প্রথম বারের মত ঢাকেশ্বরি মন্দিররে উগ্র মুসলিমরা হামলা করে। জেনারেল এরশাদ তার বিরুদ্ধে গনআন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য এই সাম্প্রদায়িক হামলাকে আরও উস্কে দেয়। এরশাদের মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম এক সভায় (বর্তমানে বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট) চট্রগ্রামে শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৩০ জন নিহতের মধ্যে তিন জন হিন্দু থাকায় বলেছিলেন “ যারা মারা গেছে তাদের নাম গুলি পড়ুন, অপার থেকে দাদারা আন্দোলন করতে এসে মারা গেছে (লিতু চৌধুরী, ২০১০)।

স্বাধীন বাংলাদেশ ফিরে পেতে শুরু করে স্বাধীনতার আগের চেহারা। ১৯৯২ সালে ভারতে যখন বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে দেওয়া হয়, সারা দেশ ব্যাপি হিন্দুদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। ৩৫২ টি মন্দির আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ধর্ষণ ও লুটতরাজ করা হয় পাশবিক ভাবে । যার মূল নেতৃত্বে ছিল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৯১ সালে সাধারন নির্বাচনেই বিএনপি হিন্দু বিরোধী ও ভারত বিরোধী কার্ড খেলে ভাল ফল পেয়েছে। ফলে হিন্দুদের উপর দেশ ব্যাপি নির্যাতনে বিএনপির রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা দিয়েছে একশ ভাগ (State of Human Rights, ১৯৯৩)। খালেদা জিয়ার বাঁধার কারনে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ভোলায় হিন্দু একটি মেয়ে ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হওয়ার ঘটনাটি উপস্হাপন করা হয় ,তখন সংসদে খালেদা জিয়ার উপস্হিতিতেই বিএনপি তৎকালীন মহাসচিব সালাম তালুকদার ব্যঙ্গ করে বলে ছিলেন “ মেয়েটার মনে হয় ফারটিলিটি খুব বেশি”। রাষ্ট্র যন্ত্র কে ব্যবহার করে সারা দেশ ব্যাপি হিন্দুদের উপর নির্যাতনের নেতৃত্বে দিয়েও বিএনপির ক্ষুধা মিটেনি। ১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি সময় বিএনপি সরকার দুইটি আদেশ ইস্যু করে। প্রথমটি হল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশ দেয় যেন ব্যাংক হিন্দুদের টাকা উত্তোলনকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করে । দ্বিতীয়টি; কোন ব্যাংক যেন হিন্দুদের ঋন না দেয়, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার হিন্দুদের। ( সামাদ, ১৯৯৮)। ১৯৯৩ সালের ৪ নভেম্বর, বিএনপি আবার যে সব সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় আনা হয়েছে , সেই সম্পত্তির তালিকাটি পর্যালোচনা করা শুরু করে (State of Human Rights, ১৯৯৩)। এই পদক্ষেপটি আবারও হিন্দুদের কে অসহায় করে তুলে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে হিন্দুদের নিয়োগসহ বিসিএস চাকুরীতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় (সাহা, ১৯৯৮)।

পাঠক, আপনাদের অবশ্যই খেয়াল থাকার কথা, ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কিভাবে ভারত ও হিন্দু বিরোধী কার্ডটি খেলে। খালেদা জিয়া সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ফেরি করা শুরু করেন। বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন এই বলে “ আওয়ামী ক্ষমতায় এলে দেশ হিন্দু দেশে পরিণত হবে, মসজিদে উলু ধ্বনি শুনা যাবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা ১৯৯৬ সালে আরেকটি সাম্পদায়িক হামলা থেকে রক্ষা পায় আওয়ামী লীগের জয়ের মধ্যে দিয়ে। যদি বিএনপি এই নির্বাচনে জয়ী হত ২০০১ এর ন্যায় ১৯৯৬ সালেও আরেকটি হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা পরিচালনা করা হত বিএনপির নেতৃ্ত্বে।

২০০১ সালে নির্বাচন উত্তর জামায়েত-বিএনপির নেতৃ্ত্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে পরিকল্পিত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, স্বাধীনতা উত্তর এটিই সবচেয়ে ভয়ানক ও অমানবিক। গনহত্যা ,অপহরণ, ধর্ষণ (শিশুরাও রক্ষা পায়নি), জোড় করে হিন্দু মেয়েদেরকে বিয়ে করা, ধর্মান্তরিত করা, চাদা নেওয়া ও সম্পত্তি দখল করা হয়েছে জামায়েত- বিএনপির নেতৃ্ত্বে। এক হিন্দু বিধবাকে জোড় করে তার গরুকে নিজ হাতে জবাই করার পরে রান্না করে মুসলিমদের খাওয়াইতে বাধ্য করা হয় (রায়, ২০০৭)। ভোলার চরফ্যাশনে এক রাত্রে ২০০ হিন্দু মহিলাকে গনধর্ষণ করা হয় ( The Daily Star, November 13, 2001)। মা-মেয়ে কে ধর্ষণ করা হয় একই বিছানায় শিশুদের সামনে ( দৈনিক জনকণ্ঠ ফ্রেব্রুয়ারি ৫ ও এপ্রিল ২২, ২০০২)। জামায়েত-বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে পুলিশ প্রশাসনও এই নারকীয় হামলায় অংশ নেয় “Tofazzal Hossain, Officer In-Charge led a procession at the dead of night that ransacked two Ashrams (place of religious retreat for Hindus), a temple of Goddess Kali, and three houses at Gopalpur when seven to eight people were injured in mass beating.” (The Daily Star, June 3, 2003)।

২০০৩ সালে ১৯ নভেম্বরে সাধনপুরে চারদিনের একটি নবজাতক শিশুসহ একই পরিবারের ১১ জনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে রোস্ট বানিয়ে ফেলা হয় (Bando, 2004) । পাঠক, অবশ্যই সীমা ও পূর্ণিমার কথা মনে আছে। অনেকেই জামায়েত- শিবিরের গন ধর্ষণের শিকার হয়ে বেচে আছে। এক অসহায় মা ধর্ষকদেরকে অনুরোধ জানিয়েছিল একজন একজন করে তার মেয়ের কাছে যাওয়ার জন্য যেন মেয়েটা মরে না যায় । পুকুরের পানিতে ঝাঁপ দিয়েও বাঁচতে পারেনি এক মেয়ে। তুলে এনে গন ধর্ষণ ,তারপর হত্যা।

শুধু সংখ্যালঘু হিন্দুরা নয়, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধরাও রক্ষা পায়নি জামায়েত-বিএনপির হাত থেকে। স্হানীয় উগ্র মুসলিমদের সহায়তায় বিডিআর ( বর্তমানে বিজিবি) আক্রমণ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় । “ On August 28, 2004 the para-militia forces, together with the local extremists, burned down 400 dwelling houses in Mahalchari, Chittagong Hill Tracts, after looting the villages, gang raping their women and destroying Buddhist temples. These indigenous Buddhist people represented 97% of the population in 1947, by 2001 they accounted for less than 50% (US Department of State’s Country Report on Human Rights Practices, 2004)”।

জামায়েত-বিএনপির এই সাম্প্রদায়িক হামলা থেকে মুক্তি উপায় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইকোনমিস্ট লিখেছিলেন, দেশ থেকে চলে যাওয়াই সংখ্যালঘুদের একমাত্র পথ “ Many families were forced to migrate out of their “Homeland of generations” for physical safety. The sad part is that no end is in sight. It is because this ‘Hindu Holocaust’ is fully intentional and approved by Government, aiming to wipe out an entire group. The situation is so alarming that while describing the plight of the minorities of Bangladesh, a newspaper published an article with the heading (The Economist. Nov. 29, 2003: “Bangladesh’s religious minorities: Safe only in the departure lounge”)

২০০১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ১৬.৮৩ মিলিয়ন । ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১৮.২ মিনিয়ন হওয়ার কথা। কিন্তু ২০১১ পরিসংখ্যানে দেখা যায় এই সংখ্যা ১২.৩ মিলিয়ন। ২০০১ পরিসংখ্যানে অনুযায়ী মোট জন সংখ্যার ৮.৫ % হিন্দু যা ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ছিল ৯.২ %।

অতি সাম্প্রতিক কুখ্যাত রাজাকার দেইল্লার ফাঁসির রায় হওয়ার পর সারা দেশ ব্যাপি যে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে তা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মৌলিক অর্থেই এই হামলা ১৯৫০,১৯৬৪,১৯৯০,১৯৯২ ও ২০০১ এর ন্যায় একই কারনে। সিঙ্গাপুর থেকে খালেদা জিয়া ফিরে সারা দেশ ব্যাপী যে জামায়েত-শিবিরের নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে এই বিষয়ে উনি কিছু বলেননি। দেশের বিভিন্ন জেলায় যে মধ্যযুগীয় কায়দায় হিন্দুদের ধর্মীয় উপসনালয় ও ঘর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ, লুটতরাজ, হত্যা চালিয়েছে এই বিষয়ে আমাদের আপোষহীনা প্রতিক্রিয়া হীন। বরং তিনি চতুরের মত ইসলাম কার্ডটি খেলছেন। ভারতীয় প্রথম বাঙ্গালি রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখ্যার্জি সাথে খালেদা জিয়ার দেখা না করাটাও এই দেশের ধর্মীয় সহমর্মিতা ও পরমতসহিষ্ণুতার জন্যও হুমকি।

১৯৯১ ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল বিএনপি প্রত্যেকটি জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু ও ভারত বিরোধী কার্ড টি খেলেছে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে এই কার্ড গুলি, বিশেষ করে হিন্দু বিরোধী কার্ডটি কাজে আসেনি। ২০০১ সাল থেকে ইসলাম কার্ডটি (যেমন কুকুরে মাথায় টুপি) বিএনপি খেলে ব্যাপক লাভবান হয় দুই ভাবে; প্রথমত নির্বাচনে ও দ্বিতীয়ত নির্বাচন উত্তর সংখ্যালঘু বিতারনে।

দেশের সংখ্যালঘু বিতারনে বিএনপির এই সব কার্ডগুলি অগ্রন্য ভূমিকা রাখে। তাই যখনই এই কার্ড গুলি রাজনীতির টেবিলে থাকে, সংখ্যালঘুরা মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেয় নির্যাতিত হওয়ার জন্য, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বিজন সরকার's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি।।। ...। ঘৃনা করি সেই সব মানুষদের যারা স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। ।