ইউজার লগইন
ব্লগ
দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৭
বেশিরভাগ সময় আমার জীবন কাটে ঝড়ের গতিতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা কোথা দিয়ে পার হয়ে যায় তার কোন হদিস থাকে না। তারপর আবার জীবনের এমন সময় আসে যখন সবকিছু চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে। সকাল থেকে দুপুর হতে চায় না, দুপুর হয় তো বিকাল হয় না, কোনমতে একবার বিকাল হতে পারলে তারপর আর কোনকিছুই হয় না। সেসব দিনগুলোর সঙ্গে সবসময় মনের অবস্থার কোন যোগসাজশ থাকে এমন না। অমন ধীরস্থির দিনগুলো মন ভাল থাকলেও আসে, মন খারাপ থাকলেও আসে। জীবনের তাৎক্ষণিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
তবে এবার মনের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করার মতো কিছু নেই। চলছে সবই। যতোটা চলবে বলে ভেবেছিলাম, তারচেয়ে বেশিই চলছে। সেদিক থেকে আমি খুশি। প্রতিদিন ভোর ছয়টা ৪৫ মিনিটে একটা অ্যালার্ম বেজে ওঠে। তারপর আমার বিছানা ছাড়তে ছাড়তে সাতটা বাজে। কম্বল আর বিছানাটা গুছিয়ে তারপরে ছাড়ি বিছানাটাকে। রাতে যাতে আবার ফিরে ঝুপ করে ওর ভেতর ঢুকে যেতে পারি।
আমি গান আপলোড করতে পারিনি।
আমি কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম আমার লেখা/গাওয়া গান আপলোড করতে কিন্তু পারিনি।
PM SARGAM studio আমার লেখা গানগুলো কম্পোজ করছে।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid0xmk9KHi6n4XGy5LLgt61wCWgDQsE4FwgwYpr31aSvBekFbmf8iDeM2xYut3ky4isl&id=100001784364749
আর তো কিছুই নাই যে লেখার কেমনে ৫০ পুরন করি
এই গ্রুপটাকে অনেক ভালো বাসি তাই সদা স্বরণ করি।
এই গ্রুপের সবাই বড় মানুষ সবার বড় বড় অবদান।
তবু কেন জানি গ্রুপটা দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছে ম্রিয়মাণ।
আশায় বুক বাধি, আছি শেষ অবধি থাকবো চিরদিন।
আসবে ফের জোয়ার, অন্ধকার হবো পার, ফিরবে সুদিন।
যার তুলনা বাংলাদেশ
গীতিকবিতাঃ যার তুলনা বাংলাদেশ
আহসান হাবিব
১৬/১১/২০২২
নদী সাগর পাহারের দেশ
কি যে সুন্দর আমার দেশ
আহা কি সুন্দর সুজলা সুফলা দেশ
যার তুলনা বাংলাদেশ।।
শত নদী বয়ে যায় যাতে শত প্রজাতির মাছের মেলা
ইলিশ মাছের ঝলমল রুপে পাগল সারা দুনিয়া পাগলা
ভাজি খাই বা তরকারি খাই, খেতেই থাকি
হয়না শেষ।
যার তুলনা বাংলাদেশ।।
বর্ষাকালে থৈথৈ পানিতে ভাসে যদিও কভু হয় বন্যা
পানি গেলেই সোনার ফসল ফলায় মায়ের আদুরে কন্যা
পলির মাঝে সবুজ বধু সেজে
আহা কি সুন্দর মানায়/দেখতে বেশ।
যার তুলনা বাংলাদেশ।।
যুদ্ধ করে মামলা করে জিতে এনেছি বিশাল সাগড়
সাগড় বুকে কতোই সম্পদ তুলে এনে ভরবো ঘর।
পৃথিবী দেখবে আবাক হয়ে
সোনার বাংলা হবে সোনার দেশ।
যার তুলনা বাংলাদেশ।।
পাহাড় গুলো দেশের সম্পদ ঘরের যেমন থাকে খুটি
ঝড়-ঝঞ্ঝা বন্যা এলে রক্ষা করে,যায় না তো কভু টুটি।।
পাহাড়ি সব বন্য প্রাণী, মানুষগুলো
হারিয়ে যেও না- কবীর সুমন!
হারিয়ে যেও না হারিয়ে যেও না স্বপ্নে ঝিকিমিক দূরের তারা
এখনও ডাক দেয় অনাগত দিন যদিও এই রাত দিশেহারা
এখনও জীবনের কোথাও না কোথাও বিরল ভরসার সাহসী সুরভি
এখনও রোদ্দুর সহসা জ্বেলে দেয় বিদ্রোহের রঙে রক্তকরবী
হারিয়ে যেও না হারিয়ে যেও না রক্তকিংশুক দিনের আশা
এখনও লালে লাল ভোরের আকাশে পাঠায় সুখবর ভালোবাসা
এখনও কিছু হাত হতাশা রুখছে বাতাসে কাঁপছে প্রাণের স্লোগান
এখনও কিছু মুখ মুখর কণ্ঠ সজীব রাখছে আগামীর গান
হারিয়ে যেও না ফুরিয়ে যেও না আমার আগামী গানের ভাষা
এখনও শরীরের পরতে পরতে উতরোল উতরোল জীবন পিপাসা।
সুর কথা ও কন্ঠঃ কবীর সুমন
https://youtu.be/8IyEEaTsuGQ
কবীর সুমন এই গান নিয়ে বলেছেন, "১৯৮৫ সালে বেঁধেছিলাম এই গানটি। ৩১ বছর কেটে গেল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন - 'তেত্রিশ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি।' - কিন্তু না, কালের কলম লিখছে - কেউ কেউ কথা রাখছে।...
সুমনামির ভেতরে!
ফেসবুকে না থাকার সুবিধে অসুবিধা হলো ভাইরাল জিনিস নিয়ে জানা বোঝা যায় একটু পরে। যেমন আজ দুপুরে সোহানকে ফোন দিয়ে জানলাম বেগুন নিয়ে আগুন মাখা ইস্যু হয়ে গেছে। পরে রাতে জেমসের মুখে শুনলাম ঘটনা। ব্যাপারটা বিস্ময়কর ও হাস্যকর দুটোই লাগলো। এমনিতেই বারেকে বসলে আমি দেশের রাজনীতি নিয়ে হালচাল জানতে পারি। বিএনপি ফ্যান সবাই বারেক সাহেবকে ঘিরে ধরে, বারেক সাহেব রাহুল দ্রাবিড়ের মত ব্যাটিং করেন আওয়ামীলীগ নিয়ে। সেখানে দল করতে গিয়ে অনেক কথাই ভুল ঠিকের বাইরে গায়ের জোরের। তবে আমি ভাবি সাধারণ মানুষের এই তেল, কোনো দলই তাদের দু চার আনা উপকার করে নাই তাও কি কঠিন ভক্তি দলের প্রতি। আমরা লীগ বিএনপি না করলেও আমাদেরও আছে নানান এজেন্ডা। এই যে যেমন সুমন বাংলাদেশে গান গাইলো, তাই নিয়ে আমরা দুই পক্ষ হয়ে গেলাম ফেসবুকে। কেউ কেউ সুমনের বাংলা গানের জীবন্ত ইতিহাস কিংবা ব্লগার হত্যার সময় সুমন কি বলেছিল এসব নিয়ে। আমি এখানেও মধ্যপন্
দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৬
সুযোগ থাকলে প্রতিদিন একবার করে লিখতে বসতে সমস্যা কি? সপ্তাহে দুইদিন এবার সুযোগ পাইলাম। এমন সপ্তাহান্ত বারে বারে আসুক।
দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৫
বাসায় ঢুকে ব্যাকপ্যাক নামায় রেখে সরাসরি যে বিছানায় চলে যাই, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। সাধারণত প্রথমে রান্নাঘরে ঢুকে চারপাশটায় একবার চোখ বুলানো হয়। কেন যে কাজটা করা হয় জানি না। যেন ঘরে ঢুকে রান্নাঘরে একবার চোখ বুলিয়ে আমি মস্তিষ্ককে আশ্বস্ত করলাম ঘরে ঢুকেছি।
কাপড় ইত্যাদি পাল্টে তারপর শোবার জায়গাটায় আসি। বিছানাপাতি এখনও পুরোদমে ব্যাবহার করা শুরু করি নি। সামনে সপ্তাহে আলমারি আসবে। যেটা আবার নিজেকে সেট করতে হবে। পার্ট বাই পার্ট। এসব কাজে আমার দক্ষতা চিরকালই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে উদ্যম খুঁজে পেলে ঝাপিয়ে পড়তে পারি তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই। তবে সমস্যাটা আসলে উদ্যম খুঁজে পাওয়াই। সে ব্যাটার খোঁজ ত্রিভুবনে যারা দিতে পারে তাদের খোঁজ পাওয়াটাই ভীষন দায়।
সোনাঝুরি বনের একাকী!
উন্নয়নশীল দেশে থাকার সুবিধা অনেক। প্রচুর পাইরেসি চালানো যায়। তাতে অবশ্য মোবাইলের বারোটা বাজতে পারে কিন্তু কাজ হয় দারুণ। যেমন আমি খেলা দেখি স্পটজফাই নামের এক এপিকে ফাইলে। তাতে তিন বল পরে আসলেও খেলা দেখা যায়। বইয়ের জন্য আছে ফ্রি ইবুক ডাউনলোডার। ইউটিউবে গান মিনিমাইজ করে শোনার জন্য আছে, একটা এপ। তাতে আপনি স্পটিফাইয়ের মতন ইউটিউবে গান শুনতে পারবেন। এগুলো কোনোটাই গুগলের প্লেস্টোরে নাই। ব্রাউজারে সার্চ দিলে আসে। ফাইল গুলো আমার আগাম সতর্কতা জানায়, যে তুমি যে ফাইল নামাচ্ছো, তাতে ক্ষতি হতে পারে। তখন অপশন আসে, ডাউনলোড এনিওয়ে। জীবনটা আমাদের হয়তো তেমনই, এনিওয়ে কিংবা হোয়াটেভার করে করেই পার হচ্ছে। যাক এপিকে ফাইল নামানো এপে সেটের খুব একটা ক্ষতি হয় নাই। আর মন না চাইলেই আমি ডিলেট করে দিই। গেম টেম খেলি না, মোবাইলে ভারী কিছু দেখিও কম। এই টুকটাক ইউটিউব ভিডিও দেখা আর গান শোনা ও পড়াশোনাই মোবাইলে কাজ।
ফাক অল দোজ পারফেক্ট পিপল!
শিরোনামের কথাটা আমার না। চিপ টেইলরের একটা গানের লাইন। আমার ভীষণ প্রিয়। সকল ব্যর্থদিন, গ্লানির দিন, হতাশার দিন, সুইসাইডাল ভাবনার দিন গানটা মনে পড়ে। আসলেই এই প্ল্যানেটে দরকার ছিল না এদের। তাও তারা আছে। উপকার করছে না বিশেষ। তবুও আছে। গানটা শুনতে শুনতে মনে পড়ে কয়েকটা লাইন। ইন্টারনেটেই দেখেছিলাম।
The loneliest people are the kindest,
the saddest people smile the brightest,
and the most damaged people are the wisest.
All because they don't wish to see others suffer like they do!
চিপ টেইলের বাবার দেয়া নাম ছিল ভিন্ন। এটা তার শিল্পী জীবনের নাম। আশি বছরের উপরে তার জীবনে তিনি সবসময় ইন্ডিপ্যান্ডেন্ট বিভিন্ন লেভেলে নিজের কান্ট্রি ও ফোক রক গান শুনিয়ে যাচ্ছেন। তার একটা রেকর্ড কোম্পানীর নাম, বুদ্দাহ রেকর্ডস। আরো অনেক গল্পই তাঁকে নিয়ে করা যায়। সেটা আজ থাক।
দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৪
গভীর রাতে ব্লগ লেখার সেই প্রাচীন ব্যামোটি কি আবার ফিরে আসতে পারে না? আমার মনে আছে, কোন এক কালে গভীর রাতে ব্লগ লেখার ব্যামো ছিল। না লিখলে ঘুম আসতো না। হাত নিশপিশ করতো, পানির তৃষ্ণার চেয়ে বেশি ধোঁয়ার তৃষ্ণা পেতো এবং নানান উপসর্গ দেখা দিতো। সেই উজ্জল সময়টা হেলায় হারিয়েছিলাম দেখেশুনেই। এ জীবনে দেখেশুনে আমি যা কিছু হারিয়েছি তার তুলনায়, না বুঝে হারানো সবকিছুর অনুপাতই অনেক কম। কি ভয়ংকর, তাই না? কিন্তু আমার আরও মনে হয়, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো একই রকম।
হাঞ্চ-মতো একটা কিছু আরকি! একটা সামাজিক গবেষণার মানচিত্র আঁকা গেলে অবশ্য হাঞ্চটা টেস্ট করে দেখা যেতো। সেটা তো সম্ভব না। জীবনের বেশিরভাগ জিনিসপত্রই আবার এই কাতারের, "সম্ভব না"।
হ্যাপি বার্থডে, প্রিয় আমরা বন্ধু!
শুভ জন্মদিন আমরা বন্ধু। এখন সেই ব্লগের পাতার পর পাতা যখন আমার প্রিয় ব্লগারদের লেখা দেখি না, নিজেও লিখি না তেমন, ভারী অবাক লাগে। নিজের কাছে অচেনা লাগে সব কিছু। অথচ আমরা বন্ধু ব্লগ মানেই একটা সময় প্রথম পাতায় আমার লেখাই থাকতো চারটা পাঁচটা। প্রতি পাতায় পাতায় আমার লেখা। এরপর এখন আমি শুধুই পড়তে যাই। হারিয়ে যাওয়া রাসেল ভাইয়ের পুরোনো লেখা পড়তে যাই, মীর কি লিখলো একটু ঢু মারি, আহসান হাবীবের এত কবিতা কই থেকে আসে তা ভাবি, তানবীরা আপুর কোনো পোষ্টের কথা মনে পড়লে দেখি, জেবীন আপু, জ্যোতি আপু, বিমা ভাইয়ের পোষ্ট ও কমেন্ট দেখি, প্রিয় ও বিষন্ন বাউন্ডুলের কথা মনে করি, গৌতম দার আক্ষেপ দেখি, শুভ ভাইয়ের কবিতায় চোখ রাখি, কামাল ভাইয়ের পুরোনো লেখা পড়ি। আমরা বন্ধুর কাছে আমার অনেক ঋণ। এখনো যে ব্লগটা যে বেচে আছে, এটাও এক ধরনের স্বার্থকতা। আমরা বন্ধু আমাকে দিয়েছে অবারিত স্বাধীনতা, মন যা চায় লিখো। সেখানের সবাই যে ভূয়সী প
নতুন শহরে ঢোকার রাতটা অদ্ভুত ছিল
ধরো তোমাকে যদি সাতটা গোলাপ ফুল দিই, তুমি কি করবে? অবাক চোখে তাকিয়ে থাকবে নিশ্চই, তাই না? আধপাগলা লোকটা ক্ষেপলো কিনা ভেবে হয়তো চিন্তাও করবে খানিকটা। জানি তো আমার ভাল থাকা, খারাপ থাকা সবই এখনও তোমাকে চিন্তিত করে। তারপরও কেন যে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করো সবসময় সেটাই বুঝি না। কি দরকার বলো তো? তারচেয়ে চলো না দুই জনে চলে যাই অনেক দুরে কোথাও। যেখানে খুঁজে পাবে না চেনাজানা কেউ আমাদের। সবাই, আশপাশের সব্বাই যেখানে দুরের মানুষ, সেখানে গিয়ে চলো দেখি, কাছাকাছি থাকা যায় কিনা।
কবিতাঃ কিছু না শুধুই হারিয়ে ফেলা
যদি কোনদিন আর ফিরে আসা দেখতে না পাও
ভেবে নিও ভালবাসা তার সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
তা'বলে আবার ভেবো না কিন্তু পুরোনো ভালবাসা
সত্যি ছিল না,
জীবনটা গোলমেলে তাই
এ হিসাব বড় সহজে মেলে না।
ঐ হাত ধরে একদিন সত্যি মিলে ছিল সুখ,
অনেকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ার পর
শুধু টিপটিপ করেও বেচেঁ ছিল বহুদিন।
দু'টি প্রাণ তাদের আপনাতে অতল গহীনে হারিয়ে কামড়ে ধরেছিল মাটি।
ভেবেছিল এই বুঝি কেউ এগিয়ে আসবে।
কিন্তু হায়! অপরের কাছেই তা চেয়েছিল তারা,
নিজে থেকে কেউ হাত বাড়ায়নি।
অতোখানি বাজে ভাবে কি আর বেচেঁ থাকা যায়?
তাই আমরা পারিনি,
এ তো সহজ এক প্রক্রিয়া মাত্র
বড় কিছু আমরা করে ফেলিনি তো।
ওঠো, সত্যি কিছু হয়নি, শিগ্রি
ভালোর পানে মুখ ঘোরাবে সবকিছু,
বলে দিচ্চি কিন্তু
হাল ছেড়োনি।
---
দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৩
আজকে আমার এই অফিসে শেষ কর্মদিবস। এরপর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কাগজে-কলমে আমি অফিসের কর্মচারী থাকলেও, ছুটিতে থাকবো। তারপর থেকে আর কাগজে-কলমেও আর থাকবো না এখানকার কোথাও।
আজ আমার এ অফিসে কাজ পাওয়ার স্মৃতিটা মনে পড়ছে বারবার। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে, জানুয়ারির ২০ তারিখে আমায় জার্মানির ইলমিনাউ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন দিয়ে দিয়েছিলো। সেদিন মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করে বের হতে পেরে আমার ভালও লাগছিল আবার একটু চিন্তাও হচ্ছিলো। কেননা ঠিক সেদিন থেকেই চালু হয়ে গিয়েছিল ১৮ মাসের একটা ঘড়ি। এ সময়ের ভেতর আমায় "মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন" সম্পর্কিত কোন একটা চাকুরি জোগাড় করতে হবে নয়তো ব্যাবসা দাঁড় করাতে হবে। নাহলে জার্মানি থেকে পাঠিয়ে ফেরত দেয়া হবে। অন্য কোন লাইনের চাকুরি বা ব্যাবসা হলেও হবে না।
যার জন্য কোনকিছুর সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় না
মৌসুম এসে পড়েছে। ঝরা পাতার মৌসুম। বছরের অদ্ভুত সুন্দর একটা সময়। খুব অল্প কয়েকটা দিনের জন্য এ সময়টা আসে। সব গাছের পাতা অল্প কয়েকদিনের জন্য রঙিন হয়ে যায়। পথ চলতে চলতে রঙিন পাতাওয়ালা গাছ দেখতে দেখতে চিরপরিচিত রাস্তাঘাটও খানিকের জন্য অচেনা ঠেকে। তারপর একদিন গাছগুলোকে শুন্য করে দিয়ে সব পাতা ঝরে যায়। পরের বছর আবার পাতায় পাতায় ভরে ওঠার জন্য।
এ সময়টায় করার মতো একটা দারুণ কাজ হচ্ছে ট্রেনে চেপে ঘুরতে যাওয়া। ট্রেনের জানালা দিয়ে রঙিন বাহারি পাতাসমৃদ্ধ গাছগুলো যখন যখন একটা পর একটা পার হয়, তখন সাধারণ ছোটখাটো মানসিক অশান্তির কারণগুলো এমনিতেই ঝরে যায়। তবে খুব বড় যেগুলো, সেগুলো ঝরে না। সেগুলো কখনোই ঝরে না। নিজেদের মতো থেকে যায়। কখনো, হয়তো কোন এক বন্ধ্যা সময়ের বানে, গোপন কুঠুরি থেকে বের হয়ে এসে নিউরণে আঘাত হানে।