ইউজার লগইন
ব্লগ
কাক ও দুঃখ
কাক
পৃথিবীর অন্য পাখিদের চেয়ে অন্যরকম।
আমরা কালো, কুৎসিত কতো কথাই না বলি।
কাক
কি সেটা জানে?
আমাদের বাসায় একবার কুকি নামে একটা কাক এসেছিল।
ওকে দেখে মনে হয় নি সেটা জানে।
দুঃখ
পৃথিবীর অন্য অনুভূতিগুলোর চেয়ে অন্যরকম।
আমরা কষ্ট, বেদনা কতো নামেই না ডাকি।
দুঃখ
কি জানে সেটা? আমার কাছে হারানোর নামে একবার দুঃখ এসেছিল।
দুঃখ কেমন বা কতটা সর্বনাশী আগে বুঝি নি।
---
তুমি দয়াময়ী হইও রে বন্ধু, ছাড়িয়া না যাইও
আসমানে যাইও না বন্ধু
ছুঁ'তে পারবো না
পাতালে যাইও না বন্ধু
ধরতে পারবো না
বন্ধু যখন একবার চলেই যায়, তখন সে কোথায় গেল সেটার কি আর কোন গুরুত্ব থাকে? হয়তো ভাল আছে কিনা ইত্যাদি জানার একটা তাগিদ থেকে খানিকটা গুরুত্ব থাকে। সেটাও মানুষ ও অবস্থাভেদে। কিছু কিছু সময় বন্ধু এমনভাবে চলে যায় বা যেতে বাধ্য হয় যখন আর সেই তাগিদ মেটানোরও কোন উপায় থাকে না।
জীবনটা যে শরীরের ভেতর বন্দি, সে শরীরের ভেতর বিশাল একটা ব্যাথার দলা জমে থাকে শুধু। ব্যাথাটা যে ঠিক কোথায় থাকে কেউ বলতে পারে না। বুকে, না মাথায়, না শরীরের অন্য কোনখানে- তা বোঝা যায় না। বিজ্ঞানীরা বলেন, সবই মস্তিষ্কের খেল! তাই হবে। বিজ্ঞানীরা তো না জেনে শুনে, কিংবা গবেষণা না করে কিছু বলেন না।
ভালবাসার চিরকুট
ওয়েল শো মি দ্য ওয়ে টু দ্য নেক্সট হুইস্কি বার
ওহ্ ডোন্ট আস্ক হোয়াই
ওহ্ ডোন্ট আস্ক হোয়াই,
ফর ইফ উই ডোন্ট ফাইন্ড দ্য নেক্সট হুইস্কি বার
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই
আই টেল ইউ
আই টেল ইউ
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই...
পরিচিত পছন্দের গানের কলিটি শুনতে পেয়ে একটু সচকিত হলাম। উদ্যানের ভেতর একটি মেয়ে গানটি গুনগুনিয়ে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। আমি উবায়েদ ভাইয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে একটি শলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছিলাম। বাতাসের কারণে তাতে বারবার বিঘ্ন ঘটছিলো। তখন মনে মনে একটা ডোরস্-এর লিরিক আমিও ভাঁজছিলাম। কাম’ন বেইবী লাইট মাই ফায়ার...। আর ঠিক সেই সময়ে আমার পেছন দিয়ে খুব ধীরে ধীরে, অনেকটা যেন স্লো মোশনে, একজন ডোরস্-এর একটা গানই শুনিয়ে দিয়ে গেলো!
বব ডিলানের লিরিকে চেপে কাটিয়ে দেয়া সেই সন্ধ্যায়
বাপ্পী'দার দোকানটা আড্ডার জায়গা হিসেবে বেশ। দোকানের পাকা অংশের ভেতরে বসেন বাপ্পী'দা। তার সামনে রয়েছে দু'টো গ্যাস স্টোভ। যেগুলোর একটাতে অনবরত গরম পানি ফুটতে থাকে, আরেকটাতে ফুটতে থাকে চা পাতা মেশানো পানি। তার একপাশে সিঁড়ি আকৃতির সিগারেটের আলনা। সেখানে থরে থরে সাজানো রকমারি সিগারেটের প্যাকেট। সেটার নিচে রয়েছে একটা ক্ষুদ্রাকৃতি ড্রয়ার। ওটাই বাপ্পী'দার ক্যাশবাক্স। এছাড়া দোকানের ভেতরে আর কিছু নেই। বাইরে দু'টো বেঞ্চি আছে। ছিমছাম চায়ের দোকান বলতে যা বোঝায়, বাপ্পী'দার দোকানটা তাই। চা আর সিগারেটের কাঁচামাল ছাড়া তিনি এক ছড়া কলাও কখনো দোকানে রাখেন না। কলা, বিস্কিট, ড্যানিশ ইত্যাদি রাখলে নাকি দোকানে রিকশাওয়ালাদের ভিড় লেগে থাকে সবসময়। বাপ্পী'দা তার দোকানে নন-এলিট শ্রেণীর কাস্টমার দেখতে খুব একটা পছন্দ করেন না। আমি সৌভাগ্যবান কারণ হতদরিদ্র হওয়া সত্বেও তিনি আমাকে নন-এলিট মনে করেন না।
টক-ঝাল-মিষ্টি ছেলেবেলা - ঝাল পর্ব
ছেলেবেলার জীবনটা আমাদের বড় অন্যরকম ছিল। যা আজকালকার শিশুদের যাপন করতে হয় না। যদিও শিশুদের ঠিক কি জীবন আজকাল আমাদের দেশে যাপন করতে হয়, তা নিয়েও আমার তেমন সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই। তারপরও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আর ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হয়েছে, আমাদের সময়ের সেই টক-ঝাল-মিষ্টি শিশুকাল আজকালকার বাচ্চাদের নসিবে কমই জোটে।
আন্ধার রাইতে চান্দের আলো দেখলাম না নজরে
আজ বহুদিন লেখালেখি করা হয় না। এককালে দিনলিপি লিখতাম; গল্প, কবিতা, মুক্তগদ্য লিখতাম। অথচ এখন সেসবের কোনকিছুতে মন বসানোর ইচ্ছেটাকেই পাই না। মাঝে মাঝে ভাবি আবারও সেই আগের মতো একটা জীবন শুরু করা গেলে খারাপ হয় না। কিন্তু চাইলেই কি সব মেলে জীবনে? মেলে না। না মেলে সময়, না মেলে প্রেরণা। মেলে শুধু অজুহাত। আজ গরম, কাল লিখবো। কাল আসলে মনে হয় আজ শরীরটা ভাল না। নাহয় পরদিনই লিখবো। এসবই শুধু অজুহাত তাই নয়। আরও যে কতশত অজুহাত আমার মস্তিষ্কের নিউরণেরা খুঁজে খুঁজে বের করে আনে তার ইয়ত্তা নেই। তাই লিখবো বলে প্রায় প্রতিদিনই একবার ভাবলেও, সে ভাবনাকে বাস্তবে আর রূপ দেয়া হয় না।
শুধু কি লেখালেখিতেই এই আলস্য? তাতো নয়। সর্বশেষ কত বছর আগে যে একটি বই আমি পুরোপুরি পড়েছি, তা মনে করতে কষ্ট হয় ইদানীং। আট বা নয় বছর তো হবেই। এমন আরও আছে। তালিকা তৈরি করতে ইচ্ছে হয় না। শুধু বসে ভাবতে ইচ্ছে করে।
শুধু আপনার, আর কারো না?
মহাদেব এখন আর আগের মতো ঘন ঘন দেখা দেন না
শূন্য বাসার এক কোনাটায় তিনি আসন গেড়েঁছেন
মাঝে মাঝে দেখি সেদিকটায় তাকিয়ে অনেকক্ষণ
মহাদেব ছিলেন। যখন জীবনটা সহজ সরলরেখার মতো
একটা প্রাথমিক শ্রেণীর সরলাংকই ছিল,
তখন মহাদেব ছিলেন।
কাদামাটি কিংবা খালি স্লেটের মতো একটা মস্তিস্ককে
তার সব নিউরণসহ নিজের কব্জাতে পেয়েছিলেন,
মহাদেব আজকাল আর আসেন না।
আমি মাঝে মাঝে মহাদেবকে খুঁজেছি
তিনি ধরা দিতে চান না অথচ
একটা সময় ছিল যখন
না চাইতেই চৌপরদিন
ঘরময় কুরুক্ষেত্র
করতেন।
আহা মহাদেব
কেন করতেন সেসব?
দীঘির জলের মতো শান্ত সবুজ
শৈলাধার হিসেবে আমার
দীর্ঘদিনের সুনাম ছিল
মহাদেব।
আপনার ছোট্ট খেয়ালে জন্মানো ঝড়ে
সেই দীঘির জলে পাখা লেগে
সাগরে মিশেছে গিয়ে
জানেন?
মহাদেব
আপনি জানেন না একবার
শুধু যদি আপনি আসেন
আমার প্রতিদিনের সূর্য উঠে যায়
আকাশে, আমার মনটা ভাল হয়ে যায়
অনায়াসে, আমি পাখির মতো উড়ে বেড়াই
মতিন সাহেবের সাধারণ গল্প
মূল্যস্ফীতি ইদানীং এত বেশি হয়ে গিয়েছে যে সাধারণ মানুষের ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা। সরকারের ভুলভাল ও ঢিলেঢালা অর্থনীতি, ব্যাবসায়ীদের অযাচিত মুনাফার লোভ সবকিছুতে পিষ্ট দেশের বেশিরভাগ মানুষ। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে দেশের সিংহভাগ সম্পদ কুক্ষিগত। বাসাভাড়া বাড়তে বাড়তে ঘরের ছাদ ছুঁয়েছে। কাঁচাবাজারে এমন কিছু নেই যার দরদাম করতে গেলে গরম আগুনের ছ্যাঁকা না খেয়ে বের হয়ে আসার উপায় আছে। গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সবকিছুর দাম চওড়া। কোথাও যাওয়া-আসারও উপায় সীমিত হয়ে এসেছে উচ্চভাড়া ও যানজটের কারণে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা আর অনিরাপত্তা যেন সব সমস্যাকে এক সুতায় বেঁধে পরিণত করছে একটা মহাসংকটে। নগরবাসী প্রতিনিয়ত এ মহাসংকটের আবর্তে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনকিছুর কোন নিরাপত্তা নেই জেনেও করুণাময়ের কাছে দু'হাত তুলে শান্তি চাইছেন। এমন এক শনিগ্রস্থ সময়ের গল্প এটা।
জানালা থেকে এক ভিনদেশি পাখির বাসা দেখা যেত
আমার জানালা থেকে এক
ভিনদেশি পাখির বাসা দেখা যেত
শীতের শেষে সেবার যখন খুব বরফ পড়েছিল
সে পাখিটির বাসাটাও বরফে ঢেকে যায়।
পাখিটা আমাদের ঘুলঘুলিতে এসে ঠাঁই নিয়েছিল।
ছোট্ট সে পাখিটা ধীরে ধীরে বন্ধু
তারপরে বন্ধু থেকে আপনজনে পরিণত হয়।
যদিও আমাদের ভেতর কথা হতো না কোনই
কিংবা ছোট্ট দু'টো চোখের ভেতর ওর
কোন আকুলতাও দেখি নি আমি কখনো।
শুধু একবার সেই ছোট্ট পাখিটা
আমাকে কি যেন বলতে চেয়েছিল।
বেচারী! কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে
আমার হাতেই নেতিয়ে পড়ে।
আমি তাকে সারিয়ে তোলার
চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি
বুকের ঠিক মাঝখানটায়
নরম পালক দিয়ে উষ্ণ
মাংস ঢেকে রাখার জায়গাটায়
খুব যত্ন করে লুকিয়ে রেখেছিল
গোলাপের কাঁটা একটা।
পাখিটা একটা গোলাপকে ভালবেসেছিল
আহা রূপকথার বোকা পাখিদের দল
আর কতকাল বোকার মতো ভালবেসে যাবি তোরা?
ভাবতে ভাবতে হু হু করে কেঁদে দিয়েছিলাম আমিই।
নি:সঙ্গ জীবনটায় ওই পাখিটাই
একই প্রশ্নে বিদ্ধ অগণিত নক্ষত্রকণা
একটা তারার আলো
অনেক দুর থেকে ডাকাডাকি করে একদিন
বাড়ি এসে বার্তা দিয়ে গেল।
ভোরসকালে তখন একটু মুক্ত হাওয়ায় মেলে ধরেছিলাম
সারারাতের বাসি মুখ।
চোখ বন্ধ করে নিচ্ছিলাম বাতাসের মিষ্টি গন্ধ।
আর তখনই সেই তারাটা সমন নিয়ে হাজির হলো।
আমার নাকি ডাক পড়েছে!
তারাটা এসেছে আমায় নিতে!
আজব কথা!
কি করে কখন কে আমাকে ডেকে পাঠালো?
এ মকবুল, দেখলি ব্যাপারটা? কেমন করে ডাক দিয়েছে?
এখন কি সব ছেড়েছুড়ে আমায় উঠতে হবে?
এটাও একটা কথা!
পৃথিবীর প্রায় পুরোটাই না দেখা রয়ে গেল তারপর।
তারার উদ্দেশ্যে ছুটতে গিয়ে আর সবার মতো মহাশূন্যে পথও হারিয়ে ফেললাম একদিন। তারপর থেকে তো ভেসেই বেড়াচ্ছি, এ অন্তহীন যাত্রাপথে।
সাড়ে চার বিলিয়ন বছর চলে গেল! ডাইনোসরের পর মানুষ এলো।
আগুনের পর এলো চাকা। ধর্মের পর সমাজ। তারপর টাকা। তারপর মালিকানা।
তারপর যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধ
রেনেসাঁ, ষোড়শ, সপ্তদশ, অষ্টাদশ
Notes from Driving School
I don't know what went wrong after about 45 minutes of driving today. The first thing I remember now is that I was finding it difficult to switch gear between 5 and 6. Although he said the even numbered gears are on at the back, and the odd numbered gears are on the front. Maybe it's just hard to make it work at high speed. Going from 1 to 2, upto 4 I have almost no issues.
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (শেষ পর্ব)
বলবো না ভাবলেও; মিসিসিপিকে বলতে হয়েছিল, কি ভাবছিলাম আমি শেষ রাতে। পরদিন সকালে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে লামা-টু-চকোরিয়ার বাসে ওঠার পর থেকে প্রশ্ন করা শুরু করেছিল সে। আসলে সে প্রথমে জানতে চেয়েছিল, আগের রাতে কি করেছি, ঘুম কেমন হয়েছে- এসব। সেসব প্রশ্নের উত্তর থেকেই বেরিয়ে এসেছিল যে, আমি সারারাত ঘুমাই নি। তাই শুনে সে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন? তখন আমি বলেছিলাম, অনেক চিন্তা মাথায় এসে বাসা বেঁধেছিল গতকাল। তাই ঘুমুতে পারি নি সারারাত। এরপর থেকে 'কি চিন্তা করেছো' জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছিল সে একটু পর পর।
There is nowhere I must go, there is nothing I must do
There is nowhere I must go, there is nothing I must do. The pain will be gone. Just be happy that there is life. And there is endless time to live like this, to feel the eyelids softly closing, and the breadth gently falling.
And then there is desire. A desire to sit down in front of a silent lake, or on the sand, where the waves are coming from far far away. To go out camping again, but this time alone. Or maybe with a good friend. Because who knows where it will take me.
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৮)
ঘুম থেকে ওঠার পর সেদিন বেলা ১১টার দিকে আমরা লামা ফিরে যাবার উদ্দেশ্যে নৌকায় সওয়ার হই। যে ক'জন এসেছিলাম, সে ক'জনই ফিরে যাচ্ছি। সঙ্গে কেউ নতুন যোগ হয় নি, বিয়োগও হয় নি সঙ্গের কেউ।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৭)
আমাদের বান্দরবানের দিনগুলি স্মৃতির আকাশে গভীর আনন্দ সহকারে জমিয়ে রাখার মতো কয়েকটি নক্ষত্র হয়ে টিকে আছে। মিসিসিপি যেন সেই ক'টা দিন প্রকৃতির সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছিল। শহুরে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আমি আগেও বান্দরবান গিয়েছি। লামা বাজারেই। হ্লা মংদের বাসায়। কিন্তু মিসিসিপির সঙ্গে যাওয়ার স্মৃতিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।
কয়েকটা দিনের জন্য আমরা যেন পাহাড়, বনানী, সবুজ প্রকৃতি, মাতামুহুরী নদী, জেলে নৌকা, শিকারের পোশাক আর সরঞ্জামের সঙ্গে একীভূত হয়ে গিয়েছিলাম। লামা বাজার এলাকা থেকে চকরিয়া পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর দুই পাশে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়। সেসব পাহাড়, তাদের ঘিরে থাকা নদীপথ, সড়কপথ, জনপদ সবকিছু দু'হাত বাড়িয়ে আপন করে নিয়েছিল আমাদের।