ইউজার লগইন

শিরোনামহীন-১

বিকেলটা ছিলো বিষন্ন। অফুরন্ত সময়, কারো জন্য অপেক্ষা নেই, চোখে ক্লান্তি নেই, কারো জন্য কোথাও যাওয়া নেই। শুধুই ঘরে ফেরা, নিজের জন্য...আর কোথাও যাওয়ার নেই বলে।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো, হেঁটেছি একা পথে। যেনো শুধু শূন্যতার দিকে যাওয়া।আকাশজুড়ে মেঘেরা থমথমে, কোথাও পাখিদের কিচিরমিচির নেই, গায়ে এক্টুও ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা নেই। বিকট শব্দ করে পাশ ঘেষে কিছু গাড়ি চলে গেলো। আমার একাকিত্বরা বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকায়।ঘোর আমাকে নিয়ে গেলো ঘরের দরজায়। আজ তালা খুলতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, হাত থেমে থাকলো কিছুক্ষণ। কিছু ভাবিনি আমি। ভাবনাগুলোও ডানা মেলতে পারছে না।তালা খোলার শব্দটাও কানে বাজলো ভীষণ।ঘরের ভেতর জিনিসগলো আগেও তো এমন ছিলো, তবে এমন জড়পদার্থের মতো তো লাগেনি আগে!

কোথাও একটুও প্রাণের ছোঁয়া নেই। ডানায় ভর করে মেঘের সাথে উড়ে চলে গেলে অজানা কোন গন্তব্যে। থেমে গেলো আমার আমির চারপাশ। কোথাও কেউ নেই। নিজের নিশ্বাসের শব্দ পেলাম আমি। ঘড়ির কাটার টকটক শ্বদ মাথার ভেতর খোঁচালো সারারাত ধরে। কোন কোলাহলে নিজেকে নিতে চেয়েছিলাম। কারও সময় ছিলো না একটু পাশে বসার। শুধু আমার দীর্ঘ সময়।এই কিছুদিনের বিকাল, সন্ধ্যা, রাতগুলো এতটুকুও দীর্ঘ হয়নি, একটুও থেমে থাকেনি, তাড়াহুড়ো হরে ছুটে চলেছে যেনো দৌড় প্রতিযোগিতা।সুখের সময়গুলি কেনো এমন দৌড় প্রতিযোগিতায় নামে কে জানে!ছুটে চলে যায় দিগন্তের ওপাশে।

পোস্টটি ২৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শাওন৩৫০৪'s picture


কি কাহিনি? মন খারাপ?
এমন বিষন্ন বিষন্ন লেখা কেন?

জ্যোতি's picture


মন ভালো। এই দেখো দাঁত বের করছি।এক্টা পোষ্ট দিতে মন্চাইলো।নাইলে তো আমারে ভুইলা যাইবা তুমরা।

হাসান রায়হান's picture


হেতি বিরহ ছাড়া কিছু লেকছেনি

জ্যোতি's picture


আপনের এই কথার জন্য আমি বহুদিন এসব লেখার ধারে কাছে যাইনা।

শাওন৩৫০৪'s picture


আম্রিকা পাঠাই দিলেই হয় তারে, আর বিরহ লেখবেনা!

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমার হাতে আম্রিকার পাত্র আছে! লাগবনি!

রাসেল আশরাফ's picture


আম্রিকার পাত্রের সিভি ব্লগে প্রকাশ করেন আমরা যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করি। Glasses Glasses Glasses

জ্যোতি's picture


ভাতিজার দেখি অনেক বুদ্ধি। কমিটিতে কে কে থাকপে?

সাহাদাত উদরাজী's picture


কাকা, এম্নেই যে অনাস্থা দেখছি! আবার সিভি! আমার দশা শেষ হয়ে যাবে। এ দুনিয়াতে উপকার করাও অনেক কস্টের কাজ!

১০

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমার হাতে আম্রিকার পাত্র আছে! লাগবনি!

১১

জ্যোতি's picture


এলুমিনিয়ামের পাত্র? আমার বাসার পাত্রগলি পুরানা হয়ে গেছে। পাঠায়া দিয়েন।

১২

সাহাদাত উদরাজী's picture


এলুমিনিয়ামের না, খাঁটি মাটির। সোনারাঙ্গা ছেলে আমার!

১৩

রাসেল আশরাফ's picture


সিভি দেন কাকা।

তারপরে আমরা দেখতেছি।কি করা লাগে।

১৪

সাহাদাত উদরাজী's picture


আরো না, এখন না। গ্রীন সিগন্যাল দেক আগে। এখন আমি কবিতা পড়ায় আছি, মাসুম ভাইয়ের লগে।

১৫

রাসেল আশরাফ's picture


কাকা জানেন না বাংগালী ললনাদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না।আপনারে নেচে গেয়ে বলবে??আজিব। Crazy Crazy

আপনার একটা কর্তব্য আছে না।

১৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


কাকা, এবার ক্ষান্ত দাও। পরে আবার আমাকে উল্টা পাল্টা বকে দিবে! এম্নেই বলে দিয়েছে আমি নাকি কবিতা বুঝি না। আমি বিপদে পড়ে যাচ্ছি।

১৭

শাওন৩৫০৪'s picture


আপনে আম্রিকান বাটি সাথে রাখেন নাকি অলটাইম? Shock

১৮

সাহাদাত উদরাজী's picture


আফনের লাগবো! ফুল সিটিজেনশীপো আছে!

১৯

সাহাদাত উদরাজী's picture


চুপচাপ পড়ে গেলাম।

২০

মীর's picture


নিমলেন্দু গুণের কবিতা মনে পড়ে গেলো। Big smile

খবরাখবর কি কন দেহি। আছেন-টাছেন তো ভালোই না কি?

২১

জ্যোতি's picture


কুন কবিতা?
আমি ভালো। আপনি?

২২

মীর's picture


আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক।আমি হাতপাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই ইলেক্ট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।

আমি চাই কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করুক:
আমার জল লাগবে কিনা, নুন লাগবে কিনা।
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না।
এঁটো বাসন গেজ্ঞি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক।কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক: ’তোমার চোখ এত লাল কেন?’

(আছি ভালোই। আম্রিকা না কি জানি একটা শুনলাম মনে হয়?)

২৩

জ্যোতি's picture


এই কবিতাটা আমার পছন্দ , মীর।ধইন্যা। ব্লগে দিয়েছিরাম ও মনে হয়।
আমিও শুনছি। দেখা যাক কি হয়।

২৪

রাসেল আশরাফ's picture


খাইছে????????? Shock Shock Shock Shock Shock

কত কে বসে আছে তোমার জন্য এইগুলা জিগানোর জন্য তারপরেও হচ্ছে না।

শালা কপাল তোমাদেরই।। Crazy Crazy

২৫

মীর's picture


আমি আপনার ঐ পুস্ট থিকাই লেখাটা কপি মার্সি Tongue

রাসেল ভাই খিতা কয়?

২৬

জ্যোতি's picture


:D। অনেকদিন কবিতা পড়ি না। Sad । আপনাকে ধইন্যা, মীর।
মীর, রাসেল আপনারে শালা বরলো কেন?কবে হলো রাসেলের শুভকাজ?

২৭

রাসেল আশরাফ's picture


আর শুভ কাজ। Puzzled Puzzled বৈদেশ থাকি বলে মেয়ের বাপ ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষনা করছে। Sad Sad Sad

২৮

মীর's picture


সরাসরি হওনের সুযোগ নাই। তয় ভাইয়ের বউরে আমি আফা'ই ডাকুম, অসুবিধা নাই।
কিন্তু কুশ্চেন হৈল, কবে আমার ভাইয়ের এতবড় সর্বনাশ ঘটলো? ঘটাইলোই বা কিডা?

২৯

রাসেল আশরাফ's picture


জে রাসেল ভাই ঠিকই বুলছে।নাম গুলা বুললে আবার বুলাবাহেনি বুলছে।এক্টু কষ্টো করহে নিজের আগের পোষ্ট থিক্যা ঘুরহে আশো।তাইলে শব পরিস্কার হয়্যেই যাবেহেনি। Glasses Glasses

৩০

রুমিয়া's picture


হ আম্রিকা না কি জানি শুনলাম।ঘটনাটা কি ?? Stare

৩১

জ্যোতি's picture


ঘটনা এখনও জানো না , রুমিয়া? লেট কইরা ফেলছো। Sad

৩২

সাহাদাত উদরাজী's picture


সিষ্টার, আফনের কি অবস্থা!

৩৩

রাসেল আশরাফ's picture


আমি পোস্টের শিরোনাম দেখেই ভাবছি আবার খিচুড়ি খাওয়ার পোস্ট দিসেন।

কিন্তু দেখি তা না।

তয় যে পোস্ট দিসেন তাতে মন খিচুড়ি মনটা উদাস হয়ে গেছে।

২টা টাইপো পাইছি ঠিক করেন।

৩৪

রাসেল আশরাফ's picture


ধুর কি লিখলাম আর কি আসলো????? Shock Shock

তয় যে পোস্ট দিসেন তাতে মন খিচুড়ি মনটা উদাস হয়ে গেছে।

হবে এটা

তয় যে পোস্ট দিসেন তাতে মনটা উদাস হয়ে গেছে।

৩৫

জ্যোতি's picture


Big smile বানাম ভুল ধরলেন দেখে আপনের বিরাট ভুল হইলো। Laughing out loud

৩৬

রাসেল আশরাফ's picture


হ।বদ দুয়া লাগছে।আর মাস্টারী আমার কাম না আরেকবার প্রমান হইলো।

৩৭

সাঈদ's picture


আমার পোষ্টের হেডিং নিছেন ক্যানু ?

আমি কপিরাইট মামলা করতে চললুম কাগুর অফিসে

৩৮

জ্যোতি's picture


সাঈদ ভাই, এই হেডিং এ আগেও পোষ্ট দিয়েছি আমি। থাই দিলাম। মামলা করবেন? Sad

৩৯

সাঈদ's picture


মামলা না, কাগুর কাছে নালিশ দিপ। বুঝবেন মজা । কপিরাইট আইন ভঙ্গ করার মজা । Big smile

৪০

রাসেল আশরাফ's picture


আমি তো মনে করছি এপার বাংলা ওপার বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নামছেন আপনারা। Tongue Tongue

৪১

জ্যোতি's picture


থাক। ভয়ে আমার হাত পা.....
আছেন কেমুন?

৪২

লীনা দিলরুবা's picture


ফাজলামো করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু এত ভালো লেখায় এসব করতে নেই। জয়িতার মন ভালো হয়ে যাক এই প্রত্যাশা।

৪৩

জ্যোতি's picture


মন তো ভালো, লীনাপা।ভালো লেখা বলে তো লজ্জা দিলেন।
আসেন পেচ্চাপেচি করি।

৪৪

নীড় সন্ধানী's picture


মাঝে মাঝে মন উদাস হওয়া ভালো Smile

৪৫

জ্যোতি's picture


কথা সত্য। আপিন নীড়দা নাকি নীড়দার ভূত?

৪৬

নীড় সন্ধানী's picture


Steve Steve Crazy Crazy

৪৭

রুমিয়া's picture


জয়িপু নাকি লেখতারে না।তাইলে এইটা কি লেখছে Tongue পোস্ট পড়ে মন উদাস হইছে।

৪৮

সাঈদ's picture


এটা বড় বড় লেখক দের বিনয় ।

৪৯

জ্যোতি's picture


এহহহ। আইছে আরেকজন ,চামে রুমিয়ার লগে বাতচিত করতে।

৫০

লীনা দিলরুবা's picture


উদরাজি ভায়া গুলাচ্ছে, উনারে আম্রিকা পাঠায়া দে।

৫১

শাওন৩৫০৪'s picture


কি গুলাচ্ছে?

৫২

জ্যোতি's picture


দেন পাঠায়া। আমেরিকান পাত্র আছে উনার কাছে। কই পাইলো? আমারে পাঠাইবো কইয়া চইলা গেছে।

৫৩

রাসেল আশরাফ's picture


আরে না উনারে না আমরা জয়িতা ফুপিরে আম্রিকা পাঠামু।

৫৪

হাসান রায়হান's picture


ভায়া উদরাজি রে আম্রিকা পাঠাইলে ভালো হইত। কেজানি উনি গুইড়া আসছে কিনা। ২১ টা দেশ ভ্রমনের েক্সপেরিেন্স আছে উনার

৫৫

শাওন৩৫০৪'s picture


কেন, গুলনাহার কাহিনিটা লাস ভেগাসের একটা পার্টির কাহিনি না?

৫৬

জ্যোতি's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor

৫৭

হাসান রায়হান's picture


ডিটো বিলাই ডিটো। তুমিতো মাসুমভাইয়ের কাছাকাছি চইলা যাইতেছ।

৫৮

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমি না। আমার ভাতিজা।

৫৯

শওকত মাসুম's picture


চোখ ভরে যে দেখতে চাও
রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো?
বুক ভরে যে শ্বাস নিতে চাও
জানো তো অক্সিজেনের পরিমাণটা কত?
এত যে কাছে আসতে চাও
কতটুকু সংযম আছে তোমার?
এত যে ভালোবাসতে চাও
তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?

৬০

মীর's picture


মাসুম ভাই, এইটা কার কবিতা?

৬১

হাসান রায়হান's picture


১৮ + না তাইলে আমি শিউর মাসুম হুজুরের না। Crazy

৬২

জ্যোতি's picture


Tongue

৬৩

মীর's picture


রায়হান ভাই, আমার কিন্তু মনে হচ্চে এইটা উস্তাদেরই।

৬৪

হাসান রায়হান's picture


কৈলাম না গুরু এরম রস ছাড়া জিনিস লেখবই না। Laughing out loud

৬৫

শওকত মাসুম's picture


রান্নাঘর থেকে টেনে এনে স্তনগুচ্ছে চুমু খাও তাকে,
বাথরুমে ভেজানো দরোজা ঠেলে অনায়সে ঢুকে যাও-
সে যেখানে নগ্ন দেহে স্নানার্থেই তৈরি হয়ে আছে
আলোকিত দুপুরের কাছে, মনে রেখো, তোমার রাত্রি নেই
অন্ধকার বলে কিছু; বিবাহিত মানুষের কিছু নেই
একমাত্র যত্রতত্র স্ত্রী-শয্যা ছাড়া। তাতেই শয়ন কর
বাথরুমে, পুজোঘরে, পার্কে, হোটেলে,
সন্তানের পাশ থেকে টেনে এনে ঠোটগুচ্ছে চুমু খাও তাকে।

তার প্রতিটি উৎফুল্ল লগ্নে এক-একটি চুম্বন,
প্রতিটি রক্তিম মুখে এক-একটি নিঃশ্বাস দিতে হবে।
সভ্যতা ধংস হোক, গুরুজন দাড়াক দুয়ারে,
শিশুরা কাদতে থাক, যমদূত ফিরে যাবে এবং অভাব
দেখো লজ্জা পেয় ম্লান হবে কিশোরীর মতো।

যেমন প্রত্যহ মানুষ ঘরের দরোজা খুলেই
দেখ নেয় সবকিছু ঠিক আছে কিনা, তেমনি প্রত্যহ
শাড়ির দরোজা খুলে স্ত্রীকেও উলঙ্গ করে
দেখে নিতে হয়, ভালো করে দেখে নিতে হয়:
-জঙ্ঘায়, নিতম্বে কিংবা সংরক্ষিত যোনির ভিতরে
অপরের কামনার কোন কিছু চিহ্ন আছে কি না।

এইটা রায়হান ভাইয়ের জন্য

৬৬

হাসান রায়হান's picture


ওস্তাগফিরুল্লাহ Shock

৬৭

শওকত মাসুম's picture


আফ্রিকান ওস্তাগফিরুল্লাহ Tongue

৬৮

মীর's picture


ভাই আউযুবিল্লাহ পড়েন। ঐটা মনে হয় এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। Wink

৬৯

সাহাদাত উদরাজী's picture


গুরু, দোয়া কাল্মা সব ভুইল্যা গেছি।

৭০

হাসান রায়হান's picture


রসময় দা'র লেখা?

৭১

শওকত মাসুম's picture


নির্মলেন্দু গুণ

৭২

রাসেল আশরাফ's picture


রসময় আপনার কুন জন মের ভাই?? Tongue Tongue

৭৩

সাঈদ's picture


ছি কী অশ্লীষ কবিতা ।

আমি পড়ি না এসব কবিতা

৭৪

শাওন৩৫০৪'s picture


কাব্যগ্রন্থ কুনটা?
এই পোষ্ট তো মনে হয় মডু রাখবেনা!

৭৫

জ্যোতি's picture


কেনু বিলাই? Sad Crying । কি দুষ করছি?

৭৬

বাফড়া's picture


মাসুম ভাইরে থ্যংস কবিতাটার লিগা.। দারুণ এক কবিতা.. অনেক আগে বন্ধুর কাছ থিকা ধার করা এক কবিতার বইয়ে পড়ছিলাম.. পরে আর খুজেই পেলাম না.। নাম জানা না থাকায় Sad.

আবারো ধইন্যা..

৭৭

শওকত মাসুম's picture


বআম জীবনেও কবিতা লিখি নাই রায়হান ভাই Sad

৭৮

শাওন৩৫০৪'s picture


এত যে ভালোবাসতে চাও
তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?

৭৯

হাসান রায়হান's picture


ভালোবাসার সাথে জ্বর এর সম্পক্ক আছে তুমি বুঝবানা।

৮০

শওকত মাসুম's picture


আবুল হাসান

৮১

জ্যোতি's picture


মাসুম ভাই, ধইন্যা। Smile

৮২

শওকত মাসুম's picture


তোমার কথা ভেবে রক্তে ঢেউ ওঠে—
তোমাকে সর্বদা ভাবতে ভালো লাগে,
আমার পথজুড়ে তোমারই আনাগোনা—
তোমাকে মনে এলে রক্তে আজও ওঠে
তুমুল তোলপাড় হৃদয়ে সর্বদা…
হলো না পাশাপাশি বিপুল পথ-হাঁটা,
এমন কথা ছিল চলব দুজনেই
জীবন-জোড়া পথ যে-পথ দিকহীন
মিশেছে সম্মুখে আলোর গহ্বরে…

৮৩

জ্যোতি's picture


আবারো ধইন্যা। কার এইটা?

৮৪

শওকত মাসুম's picture


রফিক আজাদ

৮৫

রুমিয়া's picture


মাসুম ভাই কবিতা গুলার জন্য ধইন্না । Smile

৮৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


বিরাট ভাল লগেছে। এখানে কবি তার মনের মাধুরি মিশিয়ে যা বলতে চেয়েছেন, তা হচ্ছে - কবি তাকে অনেক কঠিন ভাবে ভালবেসে ছিলেন। কিন্তু ।। না, এমন তো হবার কথা ছিল না! কেন হল!

৮৭

শওকত মাসুম's picture


ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি,
পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;
ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,
বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি;
ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি
খুব করে ঝুঁকে থাকা;
ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা
ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া;
ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে
অবিরল কথা বলা;
ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও
মুখোমুখি বসে থাকা।

৮৮

জ্যোতি's picture


আহা।আজ এই সামান্য পোষ্ট দিয়ে ধন্য হয়ে গেলাম।

৮৯

সাহাদাত উদরাজী's picture


আর ডোজ দিয়েন না। অবিবাহিত্রা সইতে পারব বলে মনে হয় না।

৯০

রাসেল আশরাফ's picture


কেন সইটে পারবে না ঝেড়ে কাশেন। Crazy Crazy

৯১

জ্যোতি's picture


মানে কি আপনার কথার? আপত্তি জানালাম।

৯২

রাসেল আশরাফ's picture


আমার না।ম্যাংগো জনতার কথা।

আর আমি কবিতার আগামাথা কিছুই বুঝি না।তাই ঐসব পড়ার ট্রাই করি না। Tongue Tongue

৯৩

জ্যোতি's picture


রাসেল, আমি আপনাকে বলি নাই। সাহাদত উদরাজির কমেন্টের রিপ্লাই দিছিলাম।দুঃখিত, আপরার কমেন্টের নীচে চলে আসছে।

৯৪

সাহাদাত উদরাজী's picture


আরো না, আমার কথা না। মাসুম ভাইয়ের দেয়া কবিতার কথা বলছি। কবিতা পড়ে আগে কি কইছিলাম সব ভেলে গেছি। ইস, কি সুন্দর কবিতা। কবিতার ডোজের কথা বলছি। ইজি ম্যান.।। কবিতার মজা নিতে দিন।

৯৫

হাসান রায়হান's picture


কবিতার ডোজ অবিবাহিতা বলে সইতে পারবেনা কেন?

৯৬

জ্যোতি's picture


রায়হান ভাই, কবিতা তো আসলে সবার জন্য না। একেকজন একেকভাবে বোঝে একেক কথা।এটা মানসিকতার সমস্যা।

৯৭

সাহাদাত উদরাজী's picture


গুরু, কোথায় আপনি এটু হেম্প করবেন, দেখছি আরো শুকনা বাঁশ সাপ্লাই বিজিনেস করছেন!

৯৮

মাথামোটা's picture


উদরাজী ভায়ের ... দেখি সবসময় মাথাত উইঠা থাকে! Wink
কিপিটাপ।

৯৯

শওকত মাসুম's picture


কোন ডোজ? আপনি কি ভাবতাছেন এইখানে?

১০০

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমি 'কবিতার ডোজ' এর কথা বলতে চাইছি। আমাকে সবাই উল্টা ভাবছেন। আমি পালাছি। যাই ঘুরে আসি।

১০১

রাসেল আশরাফ's picture


আরে কই যান কাকা??

অবিবাহিতদের রেখে আপনি আসর থেকে চলে যাচ্ছেন।লক্ষনতো বেশী সুবিধার না। Tongue Tongue

১০২

শাওন৩৫০৪'s picture


অবিবাহিতরা সৈতে পারবোনা, নাকি আজকে আপনের অফিস ছুটি হৈবো দেরীতে, উদরাজী ভাই? Crazy

১০৩

রাসেল আশরাফ's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

১০৪

শওকত মাসুম's picture


অনেকদিন দেখা হবে না
তারপর একদিন দেখা হবে।
দুজনেই দুজনকে বলবো,
‘অনেকদিন দেখা হয় নি’।
এইভাবে যাবে দিনের পর দিন
বৎসরের পর বৎসর।
তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে
বা হয়ত জানা যাবে না,
যে
তোমার সঙ্গে আমার
অথবা
আমার সঙ্গে তোমার
আর দেখা হবে না।

১০৫

জ্যোতি's picture


মাসুম ভাই, এটা অনেক পছন্দের এক্টা কবিতা। যেনো নিজেরই কথা। অনেক আগে আপনি সামুতে পোষ্ট দিয়েছিলেন, ওইখানে প্রথম দেখলাম।

১০৬

জ্যোতি's picture


অনেকদিন দেখা হবে না
তারপর একদিন দেখা হবে।
দুজনেই দুজনকে বলবো,
‘অনেকদিন দেখা হয় নি’।

শুধু এইটুকু নিলাম।

১০৭

শওকত মাসুম's picture


আমার অনেক পছন্দের কবিতা

১০৮

রুমিয়া's picture


খুব সুন্দর কবিতা Smile ।কার কবিতা মাসুম ভাই ?

১০৯

শওকত মাসুম's picture


তারাপদ রায়

১১০

শাওন৩৫০৪'s picture


মাসুম ভাই তো আজকে কবি বর হয়ে গেলো!

১১১

শওকত মাসুম's picture


পৃথিবী শেখায় বহূ তত্ত্বকথা,সব টুকিটাকি
আশ্চর্য খবর জানা যায় গ্রন্থকীট সেজে ব’সে;যেখানেই থাকি
কোথাও আকাশ থেকে দূরে তারা খ’সে
গেলে টের পাই;
সাংহাই জ্বলেছে কবে,কার চোখে ট্রয় জ্বলে পুড়ে হলো ছাই,
রুশোর বিপ্লবে কারা করতালি পেয়েছে প্রচুর,
জীবনের নানা ছলাকলা আর দূর
আকাশের পরপারে যা রয়েছে লেখা
একদিন সবি যায় শেখা।
শিল্পের জটিল সূত্র উন্মীলিত হয়,
রবীন্দ্রনাথের গান সময় সময়
হাওয়া দেয়,হাওয়া দেয় সত্তার গভীরে,
তবু জানি মেয়ে,এত আলো মেখে মনের তিমিরে
কী আশ্চর্য আজো মনে হয়-
তোমার হাতের স্পর্শ,কপালের টিপ,
তোমার কন্ঠের মৃদু গুনগুন ধ্বনি,হাসি,কালো
চুল আর অতল চোখের দু’টি শিখা দিতে পারে যত আলো
তত আর দেয়নাকো অন্য কোনো জ্ঞানের প্রদীপ

১১২

জ্যোতি's picture


আপনার জন্য ১০ বস্তা ধইন্যা। চাটনি বানাইয়া খাইয়েন।

১১৩

শওকত মাসুম's picture


কি আছে তোমার দ্যাশে? নদী আছে? আছে নাকি ঘর?
ঘরের ভিতরে আছে পরানের নিকটে যে থাকে?
উত্তর সিথানে গাছ, সেই গাছে পাখির কোটর
আছে নাকি? পাখিরা কি মানুষের গলা নিয়া ডাকে?
যখন তোমার দ্যাখা জানা নাই পাবো কি পাবো না,
যখন গাছের তলে এই দেহ দিবে কালঘুম,
যথন ফুরায়া যাবে জীবনের নীল শাড়ি-বোনা
তখন কি তারা সব কয়া দিবে আগাম-নিগুম?
আমার তো দ্যাশ নাই, নদী নাই, ঘর নাই, লোক,
আমার বিছানে নাই সোহাগের তাতের চাদর,
আমার বেড়ায় খালি ইন্দুরের বড় বড় ফোক,
আমার বেবাক ফুল কাফনের ইরানী আতর।
তোমার কি সাধ্য আছে নিয়া যাও এইখান থিকা,
আমার জীবন নিয়া করো তুমি সাতনরী ছিকা।

১১৪

জ্যোতি's picture


আবারো ধইন্যা। এন্ড মুগ্ধ। ধইন্যা।

১১৫

শওকত মাসুম's picture


যেখানেই যাও তুমি, যেখানেই যাও
সঙ্গে যায় আরো একজন;
যদিও অদূরে তবু তার দূরত্ব ভীষণ।

যেখানেই দৃষ্টি দাও, যেখানেই দাও
দৃষ্টি দেয় আরো একজন;
যদিও সুনীল তবু সেখানেই মেঘের গড়ন।

যাকেই যে কথা বলো, যাকেই যে কথা
শুনে যায় আরো একজন;
যদিও নিশ্চুপ তবু অবিরাম পদ্মার ভাঙন।

যেখানেই রাখো হাত, যেখানেই রাখো
রাখে হাত আরো একজন;
যদিও নিশ্চল তবু দ্রুত তার শিরায় স্পন্দন।

যখন শয্যায় তুমি, যখন শয্যায়
পাশে আছে আরো একজন;
যদিও ঘনিষ্ঠ তবু ঘুম কেড়ে নিয়েছে কখন।

তুমি কি দেখেছো তাকে ? চেনো তাকে ?
সচকিত মাঝে মাঝে তাই ?
তোমার সম্মুখে তবে আমি এসে আবার দাঁড়াই ?

১১৬

জ্যোতি's picture


যেখানেই রাখো হাত, যেখানেই রাখো
রাখে হাত আরো একজন;
যদিও নিশ্চল তবু দ্রুত তার শিরায় স্পন্দন।

দারুণ দারুণ।কার কবিতা?
প্রিয় পোষ্ট।

১১৭

শওকত মাসুম's picture


সৈয়দ হক

১১৮

দুরের পাখি (পাসওয়ার্ড ভুইল্যা গেছি)'s picture


বাপ্রে Steve

১১৯

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমি বিদায় নিলাম। ভাল থাকেন সবাই। শুভেচ্ছা নিন।

১২০

শওকত মাসুম's picture


মানে কী? গুলনাহাররে ফালাইয়া কৈ জান? বাচ্চা দেখাশুনা কে করবে? আর লাফালাফি ঝাপাঝাপি?

১২১

রাসেল আশরাফ's picture


কাকার কি আর গুলনাহারের উপর দরদ আছে??? Tongue Tongue

১২২

নাজমুল হুদা's picture


রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ এরা সব দুষ্টু ছেলে ! ওদের সাথে মিশতে হয়না ! ওরা কী সব আজেবাজে কথা বলে ! ওসব কথা শিখতে হয় না, বলতেও হয়না ! লক্ষী ছেলেমেয়েদের সাথে মিশলে সবাই ভাল বলবে, আদর করবে !

১২৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মাসুম ভাই আর জনাব রায়হান সাহেবের মাথায় কি ডট ডট উঠছে.... Wink

১২৪

রাসেল আশরাফ's picture


আর উদরাজি কাকা ডট ডট ফেলাতে মাঝ পথে রণে ভংগ দিয়া পলায়ছে। Tongue Tongue Tongue

১২৫

শওকত মাসুম's picture


শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে
বলিলাম: ‘একদিন এমন সময়
আবার আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়!–
পঁচিশ বছর পরে!’
এই বলে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে;
তারপর কতবার চাঁদ আর তারা,
মাঠে মাঠে মরে গেল, ইদুর — পেচাঁরা
জোছনায় ধানক্ষেতে খুঁজে
এল-গেল। –চোখ বুজে
কতবার ডানে আর বায়ে
পড়িল ঘুমায়ে
কত-কেউ! — রহিলাম জেগে
আমি একা — নক্ষত্র যে বেগে
ছুটিছে আকাশে
তার চেয়ে আগে চলে আসে
যদিও সময়–
পঁচিশ বছর তবু কই শেষ হয়!–

তারপর — একদিন
আবার হলদে তৃণ
ভরে আছে মাঠে- -
পাতায় শুকনো ডাঁটে
ভাসিছে কুয়াশা
দিকে দিকে, চুড়ায়ের ভাঙা বাসা
শিশিরে গিয়েছে ভিজে — পথের উপর
পাখির ডিমের খোলা, ঠান্ডা-কড়কড়!
শসাফুল — দু-একটা নষ্ট শাদা শসা
মাকড়ের ছেঁড়া জাল, শুকনো মাকড়সা
লতায় — পাতায়;
ফুটফুটে জোছনারাতে পথ চেনা যায়;
দেখা যায় কয়েকটা তারা
হিম আকাশের গায় — ইদুর পেঁচারা
ঘুরে যায় মাঠে মাঠে, ক্ষুদ খেয়ে ওদের পিপাসা আজও মেটে,
পঁচিশ বছর তবু গেছে কবে কেটে!

১২৬

রুমিয়া's picture


আমি কোন এক পাখির জীবনের জন্য অপেক্ষা করছি
তুমি কোন এক পাখির জীবনের জন্য অপেক্ষা করছো
হয়তো হাজার হাজার বছর পরে
মাঘের নীল আকাশে
সমুদ্রের দিকে যখন উড়ে যাবো
আমাদের মনে হবে
হাজার হাজার বছর আগে আমরা এমন উড়ে যেতে চেয়েছিলাম।

১২৭

মমিনুল ইসলাম লিটন's picture


উদরাজী কই গেলা বাজান, ভািতজারা তোমারে খুজছে?

১২৮

সকাল's picture


মন খারাপ করা লেখা।

১২৯

আসিফ's picture


প্রিয় পোস্টে নিলাম।
কবিতাগুলোর জন্য।

ধন্যবাদ মাসুম ভাই।

১৩০

দুরের পাখি's picture


আমার অতিথি মন্তব্যখান কুন পাপিষ্ঠ জানি ছাপায় নাই । খেলুম না ।

১৩১

মীর's picture


একদা এমনই বাদলশেষের রাতে
মনে হয় যেন শতজনমের আগে
সে এসে, সহসা হাত রেখেছিলো হাতে,
চেয়েছিলো মুখে সহজিয়া অনুরাগে।
সেদিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুজেঁছিল তার আনত দিঠির মানে।
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিলো সাতটি অমরাবতী;
একটি নিমেষ দাঁড়াল সরণী জুড়ে,
থামিল কালের চিরচঞ্চল গতি;
একটি পণের অমিত প্রগলভতা
মর্ত্যে আনিল ধ্রুবতারকারে ধ’রে;
একটি স্মৃতির মানুষী দুর্বলতা
প্রলয়ের পথ ছেড়ে দিল অকাতরে।

১৩২

মীর's picture


মাসুম ভাই কবিতা দিতে দিতে এমন একটা অবস্থা করছে এখন মাথায় খালি এই একটা বিষয়ই ঘুরতেসে।

অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই,
কিছুটা শরীর কিছুটা মাংস মাধবীও চাই।
এতোটা গ্রহণ এতো প্রশংসা প্রয়োজন নেই
কিছুটা আঘাত অবহেলা চাই প্রত্যাখান।

সাহস আমাকে প্ররোচনা দেয়
জীবন কিছুটা যাতনা শেখায়,
ক্ষুধা ও খরার এই অবেলায়
অতোটা ফুলের প্রয়োজন নেই।

বুকে ঘৃণা নিয়ে নীলিমার কথা
অনাহারে ভোগা মানুষের ব্যথা
প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই-
করুণাকাতর বিনীত বাহুরা ফিরে যাও ঘরে।

নষ্ট যুবক ভ্রষ্ট আঁধারে কাঁদো কিছুদিন
কিছুদিন বিষে দহনে দ্বিধায় নিজেকে পোড়াও
না হলে মাটির মমতা তোমাতে হবে না সুঠাম,
না হলে আঁধার আরো কিছুদিন ভাসাবে তোমাকে।

অতোটা প্রেমের প্রয়োজন নেই
ভাষাহীন মুখ নিরীহ জীবন
প্রয়োজন নেই- প্রয়োজন নেই

কিছুটা হিংস্র বিদ্রোহ চাই কিছুটা আঘাত
রক্তে কিছুটা উত্তাপ চাই, উষ্ণতা চাই
চাই কিছু লাল তীব্র আগুন।

১৩৩

তানবীরা's picture


জয়ি তোমার লেখাটা খুব মন কাড়া হয়েছে। দিনের শেষে আমরা সবাই একা।

মাসুম ভাইকে অশেষ কৃতজ্ঞতা।

পোষ্টে লাইক সহ প্রিয়তে।

১৩৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মনে লয় বেডায় মেরিকা চইলা গেছে... হেল্লাইগা একা একা লাগে Wink

১৩৫

সাহাদাত উদরাজী's picture


আর বেজ্জাল দিয়েন না! এম্নিতেই কবিতা পড়তে পড়তে জান যায়!

১৩৬

রুমিয়া's picture


আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো

ছোট ঘাসফুলের জন্যে

একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে
...
আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে

উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে

একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে ।।
আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
দোয়েলের শিসের জন্যে
শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো চোখের মণিতে
গেঁথে থাকা একবিন্দু অশ্রুর জন্যে
...একফোঁটা রৌদ্রের জন্যে
আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে
খুব ছোট দুঃখের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে
একটি ছোটো দীর্ঘশ্বাসের জন্যে
...একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে।

১৩৭

টুটুল's picture


জয়ীতারে ইশপিশাল ধইন্যা পোস্ট দেয়ার জন্য
মাসুম ভাইকে ধইন্যা চমৎকার সব কবিতা দেয়ার জন্য ... সাথে মীরকেও

আর যারা পোস্টে অংশগ্রহন করে পোস্টারে প্রিয়তে নিতে বাধ্য করলে..
স্যালুট সব্বাইকে

১৩৮

রাসেল আশরাফ's picture


যাক জীবনে পয়লা স্যালুট পাইলাম।

ধন্য হলাম টুটুল ভাই Glasses Glasses

১৩৯

রুমিয়া's picture


টুটুল ভাই আমার নাম বলেন নাই কেন ?আমিও কবিতা দিসি... Sad(

১৪০

হাসান রায়হান's picture


টুটুল বেজ্জাল কর্ছে Laughing out loud

১৪১

রুমিয়া's picture


হ... Crying

১৪২

টুটুল's picture


আইচ্ছা... তাইলে তুম্রার জইন্য ভালুভাষা Smile

১৪৩

রুমিয়া's picture


ঠিকাছে Big smile

১৪৪

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


 

 

  ইহা কি কবিতা পোস্টু ?

লন তাইলে, একপিস আবিদ আজাদ

 

যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না

আবিদ আজাদ

যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না সে শহরে যুদ্ধ শেষের
ভাঙা-পোড়ো একটা এয়ারপোর্টের মতো বেঁচে থাকবে তুমি
তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে স্কার্ট পরা বুড়ি-
বার্মিজ মহিলার মতো ভৌতিক নির্জনতা;
তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ ঝুলে থাকবে তছনছ তারের জটিলতা
লতাগুল্মময় ক্রেনের কংকাল, জং পড়া লোহালক্কর আর হিংস্র
ঘাসের মধ্যে ধু-ধু করবে তোমার জীবন
ভয়ার্ত সব মিলিটারী ভ্যান আর উল্টে থাকা ট্রলির পাশে ক্ষত-বিক্ষত
একটা চাঁদ ওঠা রানওয়ের মতো
তুমি মুখ লুকিয়ে রাখবে গা ছম-ছম করা জ্যোৎস্নায় ।

যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না সে শহরে জনহীন কোন
পেট্রোল পাম্পের দেয়াল ঘেঁষে
একটা মরা শিউলি গাছের মতো বেঁচে থাকবে তুমি
তোমাকে ঘিরে হা- হা করবে নিদাঘ রাত
দেখবে পর্যুদস্ত একটা হেলমেটের ফাটল দিয়ে দিয়ে মাথা
তুলছে একগুচ্ছ সবুজ তৃণ
শুনবে ধ্বংস্তুপের মধ্যে অর্ধডোবা সূর্যাস্তের মতো
আগুনলাগা বিলুপ্তপ্রায় লাউঞ্জ থেকে ভেসে আসছে
প্রেত হাসির শব্দ
তোমাকে ঘিরে নামবে এক জোড়া জনশূন্য বুটের স্তব্ধতা ।
যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না সে শহরে প্রতিদিন
দুর্ঘটনা দিয়ে শুরু হবে তোমার ভোর
সকাল সাতটা থেকে অনবরত টেলিফোন আসতে থাকবে
'সান স্ট্রোকে'র সংবাদ
তোমার পাশের সাততলা জানলা থেকে লাফিয়ে পড়বে
কোঁকড়া চুলের যুবক
একদিন গলায় খুর চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়বেন সেই বুড়ো
সবুজ রঙ্গের গলাবন্ধ পরে স্টিক হাতে যিনি মর্নিংওয়াকে
বেরুতেন রোজ
একটি কিশোরী তার আব্বার রেজর থেকে লুকিয়ে নেবে ব্লেড
গভীর জ্যোৎস্নাঙ্কিত স্ট্রীটের মাথায় হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়বে
কালো রঙ্গের একটি গাড়ি
একজন মানুষ শিরিষ গাছের ভিতরে টিপে ধরবে আরেকজন মানুষের গলা
পার্কের ঝরাপাতার উপর সারারাত ধরে শিশিরে ভিজে যাবে
মৃত তরুণীর হাঁটুর ভাঁজ ।
যে শহরে আমি নাই আমি থাকবো না সে শহরে চরম
দুর্বোধ্যতম হয়ে বেড়ে ওঠবে তোমার বিষন্ন সন্তান
বার বার ক'রে বদলাতে হবে তার ঝাপসা চোখের চশমার গ্লাস
তুমি তাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে ভোরের ইস্কুলে

কিন্তু কাঁধে ব্যাগ নিয়ে আর কোনদিন ফিরে আসবে না
নীল হাফ প‌্যান্ট পরা তোমার ছেলে, আসবে না , আসবে না
তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে ইস্কুল বাড়ির সামনে, রাস্তার ওপারে ।

যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না সে শহরে নিয়মিত
দুধের বোতল দিয়ে যাবে গাড়ি
কিন্তু সে দুধে মেশানো থাকবে গুঁড়ো বিষ
তোমার ফ্রিজের ভিতরে মরে পরে থাকবে শাদা ইঁদুর
তোমার ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় বসে থাকবে একটা তেলাপোকা
তার রঙ হবে মারাত্মক রকম লাল
তোমার ওয়ারড্রোবের ভিতর থেকে হ্যাঙ্গার শুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পড়বে মধ্য রাতে কাপড়-চোপড় ।
তুমি পালাতে চাইবে পালাতে চাইবে পালাতে চাইবে
ছুটে পালাবে
ছুটবে
ছুটতে ছুটতে ছুটতে তুমি নিচতলার জানালার একখন্ড পর্দার
মতো আটকে যাবে বারবার
তুমি উদ্র্ধশ্বাসে ছুটে পালাবে ঘুমের ভিতর
কিন্তু মৃতশহর শাণিত করে রাখবে তার সমস্ত রাস্তার বালি
তারার ভিতর থেকে সারারাত ধরে খ'সে পড়বে চূন
হঠাৎ লক্ষ লক্ষ হাতের করতালি বেজে উঠবে আতংকিত মোড়ে মোড়ে
দেখেব শাদা ট্রাফিক দাঁড়িয়ে আছে বাজপড়া তাল গাছের মতো
তার হাত দু'টো ঝুলছে চাঁদহীন মরা ডালের মতো
চোখে লোমহর্ষক দুটো গর্তের ভিতর দিয়ে চলেছে
বিষাক্ত পিঁপড়ের বাহিনী
তার মাথার ফাটলে গজিয়েচে একটা বটচারা
তোমার ভয়ার্ত চিৎকারে শুধু সেই মৃত ট্রাফিকের লাল
হা-এর ভিতর থেকে উড়ে যাবে একটা বনটিয়া ।
যে শহরে আমি থাকবো না সে শহরে
লিফট তোমাকে নিয়ে নেমে যাবে পাতালে
তোমাকে নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো
পার্কের ধারের খাদে ছিটকে পড়বে বাস

লেকের হাঁসগুলি গুগলির মতো ঠুকরে খাবে মানুষের চোখ
আর খুব বিকাল বেলায় তুমি ক্লান্ত হ'য়ে
ক্লান্ত হ'য়ে
ক্লান্ত হ'য়ে
ফিরবে ঘরে
কিন্তু তোমার ঘরের নিঃসঙ্গ দরোজা
তোমাকে খুলে দিবে হু -হু শীতার্ত প্রান্তর
তোমার সোফা তোমাকে বসতে দিবে না
পাঠিয়ে দেবে বিছানায়
কিন্তু বিছানা তোমাকে শুতে দেবেনা
দাঁড় করিয়ে রাখবে হিমশীতল জানালায়
তুমি বাথরুমে যাবে, শাওয়ার খুলে দিলে ঝরবে রক্ত
তুমি বেসিনে নুয়ে পড়বে, পানির ঝাপ্টা দিতেই মনে হবে
কার গলা যেন পাটিয়ে দিচ্ছে যক্ষার ফুল
তুমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে,
দেখবে বিভৎস চিড় ধ'রে আছে আয়নায় ।
সেই চিড় ধরা আয়নার ভিতরে তারপর ক্রমশঃ
হারিয়ে যাবে তোমার আর্তনাদ
আর তোমার মনে হবে , আমি নেই ।

১৪৫

শওকত মাসুম's picture


আমার কাছে কেউ কেউ জানতে চায় পৃথিবীর কোন নারীকে
আমি প্রথম ভালোবাসি
কেউ কেউ জানতে চায় কাকে আমি প্রথম চিঠি লিখি,
কেউ বলে, প্রথম গোপনে কোন নামটি আমি লিখে রেখেছিলাম;
প্রথম আমি কী দেখে মুগ্ধ হই, প্রথম কার হাত ধরি
আমার প্রথম স্মৃতির এই সব প্রশ্নে আমি ঠিক কিছুই
বলতে পারি না, বোকার মতো চেয়ে থাকি।

প্রথম অশ্রুবিন্দুর কথা কার মনে থাকে, তারপর এতো বৃষ্টি এতো বর্ষা
মাটির শ্লেটে প্রথম যে অক্ষর লিখেছিলাম আমি
তা আর কিছুতেই কারো কাছে বলা যাবে না,
প্রথম কবে সেই রাজহাঁসটিকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিলাম
সেই শিহরণ কবে বাতাসে মিশে গেছে,
পুকুরপাড়ের ঘাটলার সিঁড়িতে যে নাম প্রথম খোদাই
করেছিলাম আমি
এতোদিনে চোখের জলে তার কোনো চিহ্নই আর নেই
আমি সেই আদ্যক্ষর কী করে দেখাব?

আমি কী করে দেখাব প্রথম স্বপ্ন দেখে আমি
কীভাবে সারারাত কেঁদেছিলাম,
ভালোবাসা কথাটা প্রথম বলতে গিয়ে কত লক্ষবার
মুখ ঢেকেছি আমি,
প্রথম কবে আমি বর্ষণ দেখলাম পৃথিবীতে
কবে প্রথম পাখির ডাক শুনলাম, সন্ধ্যাতারা
দেখলাম
না, না, সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই
কারোরই মনে থাকে না।

কবে কে আমার হাতে লুকিয়ে একটি গোলাপ ফুল
দিয়েছিল
বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিল একখানা লাজুক চিঠি
কে বলেছিল কানের কাছে কোকিলের মতো মাতাল করা
একটি শব্দ
সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই, মনে নেই।

১৪৬

নাজমুল হুদা's picture


"কবে কে আমার হাতে লুকিয়ে একটি গোলাপ ফুল
দিয়েছিল
বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিল একখানা লাজুক চিঠি
কে বলেছিল কানের কাছে কোকিলের মতো মাতাল করা
একটি শব্দ
সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই, মনে নেই।"

কে বলেছে এসব কথা ? স্মৃতিভ্রষ্ট এ কবিকে মাইনাস । এ সব কথা কেউ ভুলতে পারে ? না কি, ভুলে যাওয়া উচিৎ ?

১৪৭

শওকত মাসুম's picture


পোস্টটারে প্রিয়তে নিলাম। তাই আরও কবিতা দিলাম।
জয়িতারে ধইন্যা

করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই

ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।

চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও …
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!

আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ….
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! …

করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,

টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু, হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো

করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি !

১৪৮

শওকত মাসুম's picture


আমাদের সেই কথোপকথন, সেই বাক্যালাপগুলি
টেপ করে রাখলে
পৃথিবীর যে-কোনো গীতি কবিতার
শ্রেষ্ঠ সঙ্কলন হতে পারতো;
হয়তো আজ তার কিছুই মনে নেই
আমার মনে সেই বাক্যালাপগুলি নিরন্তর
শিশির হয়ে ঝরে পড়ে,
মৌমাছি হয়ে গুনগুন করে
স্বর্ণচাঁপা আর গোলাপ হয়ে ঝরতে থাকে;
সেই ফুলের গন্ধে, সেই মৌমাছির গুঞ্জনে
আর কোকিলের গানে
আমি সারারাত ঘুমাতে পারি না, নিঃশ্বাস ফেলতে
পারি না,
আমাদের সেই কথোপকথন, সেই বাক্যালাপগুলি
আমার বুকের মধ্যে
দক্ষিণ আমেরিকার সমস্ত সোনার খনির চেয়েও
বড়ো স্বর্ণখনি হয়ে আছে-
আমি জানি এই বাক্যালাপগুলি গ্রথিত করলে
পৃথিবীর একটি শ্রেষ্ঠ প্রেমের
কবিতা হতে পারতো;
সেইসব বাক্যালাপ একেকটি
হীরকখণ্ড হয়ে আছে,
জলপ্রপাতের সঙ্গীত মূর্ছনা হয়ে আছে,
আকাশে বুকে অনন্ত জ্যোৎ্লারাত্রির
স্নিগ্ধতা হয়ে আছে;
এই বাক্যালাপের কোনো কোনো অংশ
কোকিল হয়ে গেয়ে ওঠে,
কেনো কোনো অংশ ঝর্না হয়ে নেচে বেড়ায়
আমি ঘুমাতে পারি না, জেগে থাকতেও পারি না,
সেই একেকটি তুচ্ছ শব্দ আমাকে কেন যে
এমন ব্যাকুল করে তোলে,
আপাদমস্তক আমকে বিহ্বল, উদাসীন,
আলুথালু করে
তোলে;
এই কথোপকথন, এই বাক্যালাপগুলি
হয়তো পাখির বুকের মধ্যে পেট করা আছে,
নদীর কলধ্বনির মধ্যে ধরে রাখা আছে
এর চেয়ে ভালো প্রেমের কবিতা আর কী
লেখা হবে!

১৪৯

শওকত মাসুম's picture


আরও একটা
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন!

তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!

১৫০

নাজমুল হুদা's picture


প্রিয়তে না নিয়ে আর কি করি ?

১৫১

শওকত মাসুম's picture


স্নেহসবুজ দিন
তোমার কাছে ঋণ

বৃষ্টিভেজা ভোর
মুখ দেখেছি তোর

মুখের পাশে আলো
ও মেয়ে তুই ভালো

আলোর পাশে আকাশ
আমার দিকে তাকা–

তাকাই যদি চোখ
একটি দীঘি হোক

যে-দীঘি জ্যো‌ৎস্নায়
হরিণ হয়ে যায়

হরিণদের কথা
জানুক নীরবতা–

নীরব কোথায় থাকে
জলের বাঁকে বাঁকে

জলের দোষ? — নাতো!
হাওয়ায় হাত পাতো!

হাওয়ার খেলা? সেকি!
মাটির থেকে দেখি!

মাটিরই গুণ? — হবে!
কাছে আসুক তবে!

কাছে কোথায়? — দূর!
নদী সমুদ্দুর

সমুদ্র তো নোনা
ছুঁয়েও দেখবো না

ছুঁতে পারিস নদী–
শুকিয়ে যায় যদি?

শুকিয়ে গেলে বালি
বালিতে জল ঢালি

সেই জলের ধারা
ভাসিয়ে নেবে পাড়া

পাড়ার পরে গ্রাম
বেড়াতে গেছিলাম

গ্রামের কাছে কাছে
নদীই শুইয়ে আছে

নদীর নিচে সোনা
ঝিকোয় বালুকণা

সোনা খুঁজতে এসে
ডুবে মরবি শেষে

বেশ, ডুবিয়ে দিক
ভেসে উঠবো ঠিক

ভেসে কোথায় যাবো?
নতুন ডানা পাবো

নামটি দেবো তার
সোনার ধান, আর

বলবোঃ শোন, এই
কষ্ট দিতে নেই

আছে নতুন হাওয়া
তোমার কাছে যাওয়া

আরো সহজ হবে
কত সহজ হবে

ভালোবাসবে তবে?বলো
কবে ভালোবাসবে?

১৫২

শওকত মাসুম's picture


এইখানে এসে প্রেম শেষ হল। শরীর মরেছে।
তোমার হাত ধরে আমি দাঁড়িয়েছি বৃষ্টির ভিতরে
গাছ থেকে জল পড়ছে, বৃষ্টিছাট ছুটে আসছে গা-য়,
“ভিজে যাবে’ -তুমি বলছ, “সরে এসো ছাতার তলায়’
আমাদের একটাই ছাতা। তাতে দুজনেরই চলে যায়।

আরও কালো করে এল, গাছে ডানা ঝাপটায়।
দুজনে দাঁড়িয়ে আছি। দুজনে দাঁড়িয়ে থাকব। যতদিন পাশে থাকা যায়।

১৫৩

জ্যোতি's picture


মাসুম ভাইকে অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ, অনেকগুলো সুন্দর কবিতা দেয়ার জন্য। মীর,রুমিয়া, আরাশিকেও কবিতার জন্য ধন্যবাদ।

১৫৪

মীর's picture


ধন্যবাদ-টাদ দিয়ে দিচ্ছেন মানে কি? পোস্ট শেষ??

১৫৫

জ্যোতি's picture


কবিতা দেন আরো। মানা করছে কে? পোষ্ট তো বান্ধায়া রাখলাম।

১৫৬

জ্যোতি's picture


একবার ডাক দিয়ে দেখো আমি কতোটা কাঙাল
কতো হুলুস্খূল অনটন আজন্ম ভেতরে আমার।
তুমি ডাক দিলে
নষ্ট কষ্ট সব নিমিষেই ঝেড়ে মুছে
শব্দের অধিক দ্রুত গতিতে পৌছুবো
পরিণত প্রণয়ের উৎসমূল ছোঁব
পথে এতটুকু দেরীও করবো না।
তুমি ডাক দিলে
সীমাহীন খাঁ খাঁ নিয়ে মরুদ্যান হবো।
তুমি রাজি হলে
যুগল আহলাদে এক মনোরম আশ্রম বানাবো।
একবার আমন্ত্রণ পেলে
সবকিছু ফেলে
তোমার উদ্দেশে দেবো উজাড় উড়াল
অভয়ারণ্য হবে কথা দিলে
লোকালয়ে থাকবো না আর
আমরণ পাখি হয়ে যাবো, খাবো মৌনতা তোমার।

১৫৭

রাসেল আশরাফ's picture


তুমি রাজি হলে
যুগল আহলাদে এক মনোরম আশ্রম বানাবো।
একবার আমন্ত্রণ পেলে
সবকিছু ফেলে
তোমার উদ্দেশে দেবো উজাড় উড়াল
অভয়ারণ্য হবে কথা দিলে
লোকালয়ে থাকবো না আর
আমরণ পাখি হয়ে যাবো, খাবো মৌনতা তোমার।

এইটুকু কি উদরাজি কাকার সেই আম্রিকার ডেকচির উদ্দেশ্যে লেখা??? Tongue Tongue Tongue

১৫৮

জ্যোতি's picture


রাসেল, উদরাজী কাকার ডেকচিরে তো আমি চিনি না।
তবে সব মানুষের মনের ভেতরই একজনের বসবাস থাকে। তার জন্য মনের যতো আয়োজন। Smile

১৫৯

জ্যোতি's picture


আমার এখন নিজের কাছে নিজের ছায়া খারাপ লাগে
রাত্রিবেলা ট্রেনের বাঁশি শুনতে আমার খারাপ লাগে
জামার বোতাম আটকাতে কি লাগে, কষ্ট লাগে
তুমি আমার জামার বোতাম অমন কেনো যত্ন করে
লাগিয়ে দিতে?
অমন কেন শরীর থেকে অস্তে আমার
ক্লান্তিগুলি উঠিয়ে নিতে?
তোমার বুকের নিশীথ কুসুম আমার মুখে ছড়িয়ে দিতে?
জুতোর ফিতে প্রজাপতির মতোন তুমি উড়িয়ে দিতে?
বেলজিয়ামের আয়নাখানি কেন তুমি ঘরে না রেখে
অমন কারুকাজের সাথে তোমার দুটি চোখের মধ্যে
রেখে দিতে?

১৬০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি... ইরাম একটা কতা শুনছিলাম... এখন দেখি উল্টা
সবাই দেখি কবি... Tongue Wink

১৬১

জ্যোতি's picture


Smile

১৬২

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


জনাব/জনাবারা

কবিতার পাশে কবিদের নাম তুইলা দিলে কেমন হয় ?
দেয়াই উচিত নাকি !

ওটা কিছু নয়

নির্মলেন্দু গুণ

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই ।
এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল ।
এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,--না, না, না,
-ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীর
মাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্নি নয়, অই আমি--আমার যৌবন ।

সুখের সামান্য নিচে কেটে ফেলা যন্ত্রণার কবন্ধ--প্রেমিক,
ওখানে কী খোঁজ তুমি ? ওটা কিছু নয়, ওটা দুঃখ ;
রমণীর ভালোবাসা না-পাওয়ার চিহ্ন বুকে নিয়ে ওটা নদী,
নীল হয়ে জমে আছে ঘাসে,--এর ঠিক ডানপাশে , অইখানে
হাত দাও, হ্যাঁ, ওটা বুক, অইখানে হাতা রাখো, ওটাই হৃদয় ।

অইখানে থাকে প্রেম, থাকে স্মৃতি, থাকে সুখ, প্রেমের সিম্পনি ;
অই বুকে প্রেম ছিল, স্মৃতি ছিল, সব ছিল তুমিই থাকো নি ।

১৬৩

জ্যোতি's picture


আরাশির সাথে একমত। কবির নাম দেওয়া উচিত। ।আর গুণের এই কবিতাটা আমার খুব পছন্দ।আপনাকে ধইন্যা।

১৬৪

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


নারী
সুনীল

নাস্তিকেরা তোমায় মানে না, নারী
দীর্ঘ-ঈ-কারের মতো তুমি চুল মেলে
বিপ্লবের শত্রু হয়ে আছো !
এমন কি অদৃশ্য তুমি বহু চোখে
কত লোক নামই শোনেনি
যেমন জলের মধ্যে মিশে থাকে
জল-রং-আলো...
তারা চেনে প্রেমিকা বা সহোদরা
জননী বা জায়া
দুধের দোকানে মেয়ে, কিংবা যারা
নাচে গায়
রান্না ঘরে ঘামে
শিশু কোলে চৌরাস্তায় বাড়ায় কঙ্কাল হাত
ফ্রক কিংবা শাড়ি পরে দুঃখে ইস্কুলে যায়
মিস্তিরির পাশে থেকে সিমেন্টে মেশায় কান্না
কৌটো হাতে পরমার্থ চাঁদা তোলে
কৃষকের পান্তাভাত পৌঁছে দেয় সূর্য ক্রুদ্ধ হলে
শিয়রের কাছে রেখে উপন্যাস
দুপুরে ঘুমোয়
এরা সব ঠিকঠাক আছে
এদের সবাই চেনে শয়নে, শরীরে
দুঃখ বা সুখের দিনে
অচির সঙ্গিনী !

কিন্তু নারী ? সে কোথায় ?
চল্লিশ বছর ধরে অবক্ষয়ী কবি-দল
যাকে নিয়ে এমন মেতেছে ?

সে কোথায় ? সে কোথায় ?
দীর্ঘ-ঈ-কারের মতো চুল মেলে
সে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ?

এই ভিড়ে কেমন গোপন থাকো তুমি
যেমন জলের মধ্যে মিশে থাকে
জল-রং আলো...

১৬৫

জ্যোতি's picture


বাহ।এটা আগে পড়ি নাই।এক ক্ষেত ধইন্যা আপনারে।

১৬৬

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


আসমানী প্রেম

নির্মলেন্দু গুণ

নেই তবু যা আছের মতো দেখায়
আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি,
সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায়
তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি !

জেনেও ভালোবেসেছিলাম তারে ,
ধৈর্য ধরে বিরহ ভার স'বো ;
দিনের আলোয় দেখাবো নিষ্প্রভ
জ্বলবো বলে রাতের অন্ধকারে ।

আমায় তুমি যতোই ঠেলো দূরে
মহাকাশের নিয়ম কোথায় যাবে ?
আমি ফিরে আসবো ঘুরে ঘুরে
গ্রহ হলে উপগ্রহে পাবে !

মাটি হলে পাবে শস্য- বীজে
বাতাস হলে পাবে আমায় ঝড়ে !
মৃত্যু হলে বুঝবে আমি কি যে ,
ছিলেম তোমার সারাজীবন ধরে !

১৬৭

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


কথোপকথন ৩৯

পুর্ণেন্দু পত্রী

তোমাকে বাজাই
সমুদ্র-শাঁখ তুমি
গাছে ফুল আসে
ফুলেরা কিশোরী হয় ।
ডালপালাগুলো সবুজ পাতার খামে
চিঠি লিখে লিখে
প্রেম নিবেদন করে ।
ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পরে
সমগ্র বনভূমি ।
তোমাকে ভাসাই
মেঘের নৌকো তুমি
তুমি জান লাল
প্রবালের নীল দ্বীপ ।
অমরাবতীর
দরজায় এসে নামো,
খাট-পালঙ্ক
পেতে দেয় জোৎস্নারা ।
বুড়ি চাঁদ এসে ঝাড়-লন্ঠন জ্বালে ।
পৃথিবীর ফাটা গালে
হেসে ওঠে পূর্ণিমা ।

১৬৮

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন

আহসান হাবীব

মুখোমুখি ফ্ল্যাট
একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়

: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি ?
: চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব ।
: বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?
: তারো বেশী । আপনার ডাক নাম শানু, ভালো নাম ?
: শাহানা, আপনার ?
: মাবু ।
: জানি ।
: মাহবুব হোসেন । আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন ।
: কে বলেছে । আপনার তো অনার্স ফাইন্যাল, তাই নয় ?
: এবার ফাইন্যাল ।
: ফিজিক্স-এ অনার্স ।
: কী আশ্চর্য ! আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ ?
: মা চান না । মানে ছেলেদের সঙ্গে বসে...
: সে যাক গে, পা সেরেছে ?
: কী করে জানলেন ?
: এই আর কি ! সেরে গেছে ?
: ও কিছুনা , প‌্যাসেজটা পিছলে ছিল মানে...
: সত্যি নয় । উচুঁ থেকে পড়ে গিয়ে...
: ধ্যাৎ । খাবার টেবিলে রোজ মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো ?
: মা বলেছে ?
: শুনতে পাই । বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?
: তারো বেশী । আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে ?
: নেবেন ? না থাক । রিকসা এল, মা এলেন , যাই ।
: আপনি সন্ধ্যে বেলা ওভাবে কখনও পড়বেন না,
চোখ যাবে, যাই ।
: হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই ।
: যান, আপনার মা আসছেন । মা ডাকছেন, যাই ।

১৬৯

জ্যোতি's picture


Smile এটাও পড়ি নাই।কবিতা পোষ্ট হইলো। মীর আর মাসুম ভাই শুরু করলো। কৃতজ্ঞতা সবাইকে।

১৭০

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো ।

এতো কালো মেখেছি দু-হাতে
এত কাল ধরে !
কখনো তোমার কোরে, তোমাকে ভাবিনি ।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয় !

যেতে পারি,
যে কোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু,কেন যাবো ?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো ।

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো
একাকী যাবো না, অসময়ে ।

১৭১

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


সত্যবদ্ধ অভিমান

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি ?
শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায়
তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো
যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে
নীরার সুষমা
চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু ?
তখন সে যুবতীকে খুকি বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়--
আমি ডান হাত তুলি, পুরুষ পাঞ্জার দিকে
মনে মনে বলি,
যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো--
ছুঁয়ে দিই নীরার চিবুক
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে আর কোনোদিন
পাপ করতে পারি ?

এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে , ভালোবাসি--
এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায় ?
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে পড়ে ভীষণ জরুরী
কথাটাই বলা হয়নি
লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশী বাতাস
আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে সবগুলো সিঁড়ি
থমকে দাঁড়িয়ে আমি নীরার চোখের দিকে....
ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ
সত্যবদ্ধ অভিমান--চোখ জ্বালা করে ওঠে,
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে
এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি--
এই ওষ্ঠে আর কোন মিথ্যে কি মানায় ?

১৭২

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


চতুর্দশপদী কবিতাবলী

শক্তি চট্টোপাধ্যায়
--------------------

ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো
যেদিকে দুচোখ যায়- যেতে তার খুশি লাগে খুব ।
ভালোবাসা পেলে আমি কেন পায়সান্ন খাবো
যা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে ।
ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারী
আবরণ খুলে ফেলে দৌড় ঝাঁপ করবো কড়া রোদে...
ভালোবাসা পেলে জানি সব হবে । না পেলে তোমায়
আমি কি বোবার মতো বসে থাকবো-
ভালোবাসা না পেলে কি আমার এমনি দিন যাবে
চোরের মতন, কিংবা হাহাকারে সোচ্চার , বিমনা--
আমি কি ভীষণ ভাবে তাকে চাই ভালোবাসা জানে ।

১৭৩

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


উটপাখি

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
---------------------------

আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি ?
কেন মুখ গুঁজে আছো তবে মিছে ছলে ?
কোথায় লুকোবে ? ধু-ধু করে মরুভূমি ;
ক্ষ'য়ে-ক্ষ'য়ে ছায়া ম'রে গেছে পদতলে ।
আজ দিগন্তে মরীচিকাও যে নেই ;
নির্বাক, নীল, নির্মম মহাকাশ ।
নিষাদের মন মায়ামৃগে ম'জে নেই ;
তুমি বিনা তার সমুহ সর্বনাশ ।
কোথায় পালাবে ? ছুটবে বা আর কত ?
উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা ।
প্রাকপুরাণিক বাল্যবন্ধু যত
বিগত সবাই, তুমি অসহায় একা ।।

ফাটা ডিমে আর তা দিয়ে কী ফল পাবে ?
মনস্তাপেও লাগবে না ওতে জোড়া ।
অখিল ক্ষুধায় শেষে কি নিজেকে খাবে ?
কেবল শূণ্যে চলবে না আগাগোড়া ।
তার চেয়ে আজ আমার যুক্তি মানো,
সিকতাসাগরে সাধের তরণী হও ;
মরুদ্বীপের খবর তুমিই জানো,
তুমি তো কখনো বিপদপ্রাজ্ঞ নও ।
নব সংসার পাতি গে আবার, চলো
যে-কোনো নিভৃত কণ্টকাবৃত বনে ।
মিলবে সেখানে অনন্ত নোনা জলও,
খসবে খেজুর মাটির আকর্শনে ।।

কল্পলতার বেড়ার আড়ালে সেথা
গ'ড়ে তুলবো না লোহার চিড়িয়াখানা ;
ডেকে আনবো না হাজার হাজার ক্রেতা
ছাঁটতে তোমার অনাবশ্যক ডানা ।
ভূমিতে ছড়ালে অকারি পালকগুলি
শ্রমণশোভন বীজন বানাবো তাতে ;
উধাও তাহার উড্ডীন পদধূলি
পুঙ্খে পুঙ্খে খুঁজবো না অমারাতে ।
তোমার নিবিদে বাজাবো না ঝুমঝুমি,
নির্বোধ লোভে যাবে না ভাবনা মিশে ;
সে-পাড়াজুড়ানো বুলবুলি নও তুমি
বর্গীর ধান খায় সে উনতিরিশে ।।

আমি জানি এই ধ্বংসের দায়ভাগে
আমরা দুজনে সমান অংশিদার
অপরে পাওনা আদায় করেছে আগে,
আমাদের 'পরে দেনা শোধবার ভার ।
তাই অসহ্য লাগে ও-আত্মরতি ।
অন্ধ হ'লে কি প্রলয় বন্ধ থাকে ?
আমাকে এড়িয়ে বাড়াও নিজেরই ক্ষতি ।
ভ্রান্তিবিলাস সাজেনা দুর্বিপাকে ।
অতএব এসো আমরা সন্ধি ক'রে
প্রত্যুপকারে বিরোধী স্বার্থ সাধি :
তুমি নিয়ে চল আমাকে লোকোত্তরে,
তোমাকে বন্ধু আমি লোকায়তে বাঁধি ।

১৭৪

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


চাবি

শক্তি চট্টোপাধ্যায়
-------------------

আমার কাছে এখনো পড়ে আছে
তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি
কেমন করে তোরঙ্গ আজ খোলো !

থুৎনি 'পরে তিল তো তোমার আছে
এখন ? ও মন, নতুন দেশে যাবি ?
চিঠি তোমায় হঠাৎ লিখতে হলো ।

চাবি তোমার পরম যত্নে কাছে
রেখেছিলাম, আজই সময় হলো--
লিখিও, উহা ফিরৎ চাহো কিনা ?

অবান্তর স্মৃতির ভিতর আছে
তোমার মুখ অশ্রু - ঝলোমলো
লিখিও, উহা ফিরৎ চাহো কিনা ?

১৭৫

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


একবার তুমি

শক্তি চট্টোপাধ্যায়
-----------------------

একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো--
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো ।

বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়ে-হাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল, তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবিতার নগ্ন ব্যবহার , যেন ঢেউ, যেন কুমোরটুলির সালমা-চুমকি- জরি-মাখা প্রতিমা
বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটে নক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত দেখে আসতে পারি ।

বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল
চিঠি-পত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই - পাথরের ফাঁক - ফোকরে রেখে এলেই কাজ হাসিল-
অনেক সময়তো ঘর গড়তেও মন চায় ।

মাছের বুকের পাথর ক্রমেই আমাদের বুকে এসে জায়গা করে নিচ্ছে
আমাদের সবই দরকার । আমরা ঘরবাড়ি গড়বো - সভ্যতার একটা স্থায়ী স্তম্ভ তুলে ধরবো
রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলে
একবার তুমি ভলবাসতে চেষ্টা করো ।

১৭৬

জ্যোতি's picture


বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

১৭৭

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


যা চেয়েছি যা পাবো না]

সু নী ল গ ঙ্গো পা ধ্যা য়
------------------------

যা চেয়েছি, যা পাবো না
-কী চাও আমার কাছে ?
-কিছু তো চাইনি আমি ।
-চাওনি তা ঠিক । তবু কেন
এমন ঝড়ের মতো ডাক দাও ?
-জানি না । ওদিকে দ্যাখো
রোদ্দুরে রুপোর মতো জল
তোমার চোখের মতো
দূরবর্তী নৌকো
চর্তুদিকে তোমাকেই দেখা
-সত্যি করে বলো, কবি, কী চাও আমার কাছে ?
-মনে হয় তুমি দেবী...
-আমি দেবী নই ।
-তুমি তো জানো না তুমি কে !
-কে আমি !
-তুমি সরস্বতী, শব্দটির মূল অর্থে
যদিও মানবী, তাই কাছাকাছি পাওয়া
মাঝে মাঝে নারী নামে ডাকি
-হাসি পায় শুনে । যখন যা মনে আসে
তাই বলো, ঠিক নয় ?
-অনেকটা ঠিক । যখন যা মনে আসে-
কেন মনে আসে ?
-কী চাও, বলো তো সত্যি ? কথা ঘুরিয়ো না
-আশীর্বাদ !
-আশীর্বাদ ? আমার, না সত্যি যিনি দেবী
-তুমিই তো সেই ! টেবিলের ঐ পাশে
ফিকে লাল শাড়ি
আঙ্গুলে ছোঁয়ানো থুতনি,
উঠে এসো
আশীর্বাদ দাও, মাথার ওপরে রাখো হাত
আশীর্বাদে আশীর্বাদে আমাকে পাগল করে তোলো
খিমচে ধরো চুল, আমার কপাল
নোখ দিয়ে চিরে দাও
-যথেষ্ট পাগল আছো ! আরও হতে চাও বুঝি ?
-তোমাকে দেখলেই শুধু এরকম, নয়তো কেমন
শান্তশিষ্ট
-না দেখাই ভালো তবে ! তাই নয় ?
-ভালো মন্দ জেনে শুনে যদি এ-জীবন
কাটাতুম
তবে সে-জীবন ছিল শালিকের, দোয়েলের
বনবিড়ালের কিংবা মহাত্মা গান্ধীর
ইরি ধানে, ধানের পোকার যে-জীবন
-যে জীবন মানুষের ?
-আমি কি মানুষ নাকি ? ছিলাম মানুষ বটে
তোমাকে দেখার আগে
-তুমি সোজাসুজি তাকাও চোখের দিকে
অনেকক্ষণ চেয়ে থাকো
পলক পড়ে না
কী দেখো অমন করে ?
-তোমার ভিতরে তুমি, শাড়ি-সজ্জা খুলে ফেললে
তুমি
তারা আড়ালে যে তুমি
-সে কি সত্যি আমি ? না তোমার নিজের কল্পনা
-শোন্ খুকী
-এই মাত্র দেবী বললে-
-একই কথা ! কল্পনা আধার যিনি, তিনি দেবী-
তুই সেই নীরা
তোর কাছে আশীর্বাদ চাই
-সে আর এমন কি শক্ত ? এক্ষুনি তা দিতে পারি
-তোমার অনেক আছে, কণা মাত্র দাও
-কী আছে আমার ? জানি না তো
-তুমি আছো, তুমি আছো, এর চেয়ে বড় সত্য নেই
-সিঁড়ির ওপরে সেই দেখা
তখন তো বলোনি কিছু ?
আমার নিঃসঙ্গ দিন, আমার অবেলা
আমারই নিজস্ব--শৈশবের হাওয়া শুধু জানে

-দেবে কি দুঃখের অংশভাগ ? আমি
ধনী হবো
-আমার তো দুঃখ নেই--দুঃখের চেয়েও
কোনো সুমহান আবিষ্টতা
আমাকে রয়েছে ঘিরে
তার কোনো ভাগ হয় না
আমার কী আছে আর, কী দেবো তোমাকে ?
-তুমি আছো, তুমি আছো, এর চেয়ে বড় সত্য নেই !
তুমি দেবী, ইচ্ছে হয় হাঁটু গেড়ে বসি
মাথায় তোমার করতল, আশীর্বাদ...
তবু সেখানেও শেষ নেই
কবি নয়, মুহূর্তে পুরুষ হয়ে উঠি
অস্থির দু'হাত
দশ আঙুলে আঁকড়ে ধরতে চায়
সিংহিনীর মতো ঐ যে তোমার কোমর
অবোধ শিশুর মতো মুখ ঘষে তোমার শরীরে
যেন কোনো গুপ্ত সংবাদের জন্য ছটফটানি
-পুরুষ দূরত্বে যাও, কবি কাছে এসো
তোমায় কী দিতে পারি ?
-কিছু নয় !
-অভিমান ?
-নাম দাও অভিমান !
-এটা কিন্তু বেশ ! যদি
অসুখের নাম দিই নির্বাসন
না-দেখার নাম দিই অনস্তিত্ব
দূরত্বের নাম দিই অভিমান ?
-কতটুকু দূরত্ব ? কী, মনে পড়ে ?
-কী করে ভাবলে যে ভুলবো ?
-তুমি এই যে বসে আছো, আঙুলে ছোঁয়ানো থুতনি
কপালে পড়েছে চূর্ণ চুল
পাড়ের নক্সায় ঢাকা পা
ওষ্ঠাগ্রে আসন্ন হাসি-
এই দৃশ্যে অমরত্ব
তুমি তো জানো না, নীরা,
আমার মৃত্যুর পরও এই ছবি থেকে যাবে ।
-সময় কি থেমে থাকবে ? কী চাও আমার কাছে ?
-মৃত্যু ?
-ছিঃ , বলতে নেই
-তবে স্নেহ ? আমি বড় স্নেহের কাঙাল
-পাওনি কি ?
-বুঝতে পারি না ঠিক । বয়স্ক পুরুষ যদি স্নেহ চায়
শরীরও সে চায়
তার গালে গাল চেপে দিতে পারো মধুর উত্তাপ ?
-ফের পাগলামি ?
-দেখা দাও ।
-আমিও তোমায় দেখতে চাই ।
-না !
-কেন ?
-বোলো না । কক্ষনো বোলো না আর এ কথা
আমি ভয় পাবো ।
এ শুধুই এক দিকের
আমি কে ? সামান্য, অতি নগণ্য, কেউ না
তুবি এত স্পর্ধা করে তোমার রূপের কাছে--
-তুমি কবি ?
-তা কি মনে থাকে ? বারবার ভুলে যাই
অবুঝ পুরুষ হয়ে কৃপাপ্রার্থী
-কী চাও আমার কাছে ?
-কিছু নয় । আমার দু'চোখে যদি ধুলো পড়ে
আঁচলের ভাপ দিয়ে মুছে দেবে ?

----------------

১৭৮

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়

জীবনানন্দ দাশ
----------------------------------------

চোখ দুটো ঘুমে ভরে
ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে !
ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন, -স্বপন ক'দিন রয় !
এসেছে গোধূলি গোলাপিবরন, - এ তবু গোধূলি নয় !
সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়,
আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের 'পরে !

কেটেছে যে নিশি ঢের, -
এতদিন তবু অন্ধকারে পাইনি তো কোনো টের !
দিনের বেলায় যাদের দেখিনি - ধোঁয়ায় - ভিড়ের মাঝে,
শুনেছি স্বপনে তাদের কলসী ছলকে, -কাঁকন বাজে !
আকাশের নিচে - তারার আলোয় পেয়েছি যে তাহাদের !

চোখ দুটো ছিল জেগে
কত দিন যেন সন্ধ্যা - ভোরের নটকান্ - রাঙা মেঘে !
কত দিন আমি ফিরেছি একেলা মেঘলা গাঁয়ের ক্ষেতে !
ছায়াধূপে চুপে ফিরিয়াছি প্রজাপতিটির মতো মেতে
কত দিন হায় ! - কবে অবেলায় এলোমেলো পথ যেতে
ঘোর ভেঙ্গে গেল, -খেয়ালের খেলাঘরটি গেল যে ভেঙ্গে !

দুটো চোখ ঘুমে ভরে
ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে !
ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন, - স্বপন ক'দিন রয় !
এসেছে গোধূলী গোলাপিবরন, - এ তবু গোধূলি নয় !
সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়,
আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের 'পরে !

------------------

কবিতার সংগ্রহ হিসাবে এই কবিতাগুলো তুলে দিলাম ! সময় পেলে আরো দিতে পারি ।

১৭৯

নাজমুল হুদা's picture


শিরোনামহীন নামে পোস্ট দিল জয়িতা
কমেন্টস-এ ভরে গেল, কতশত কবিতা
পড়া আর না-পড়া, রসে সব ভরপুর
ছন্দে গন্ধে একেবারে ভুরভুর ।

১৮০

আরাফাত শান্ত's picture


কমেন্টগুলো পড়ে মজা পেলাম খুব!

১৮১

জেবীন's picture


দারুন দারুন সব মন্তব্যের ফুলঝুরি নাহ কবিতার বাহারের ভরা পোষ্টটাকে প্রিয়তে নিলাম...  Smile

১৮২

তায়েফ আহমাদ's picture


মজারু............ Big smile Big smile

১৮৩

মীর's picture


নিরীহ কলম, নিরীহ কালি,
নিরীহ কাগজে লিখিল গালি-
"বাঁদর বেকুব আজব হাঁদা
বকাট্ ফাজিল অকাট্ গাধা।"
আবার লিখিল কলম ধরি
বচন মিষ্টি, যতন করি-
"শান্ত মানিক শিষ্ট সাধু
বাছারে, ধনরে, লক্ষী যাদু।"
মনের কথাটি ছিলো যে মনে
রটিয়া উঠিল খাতার কোণে,
আঁচড়ে আঁকিতে আখর ক'টি
কেহ খুশী, কেহ উঠিল চটি!
রকম রকম কালির টানে
কারো হাসি কারো অশ্রু আনে,
মারে না, ধরে না, হাঁকে না বুলি
লোকে হাসে কাঁদে কি দেখে ভুলি?
শাদায় কালোয় কি খেলা জানে?
ভাবিয়া ভাবিয়া না পাই মানে।

১৮৪

লীনা দিলরুবা's picture


কবিতা পোষ্ট টা তো ম্রাত্মকই হৈছে Smile
এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, আরাশি'র সামুর ব্লগটা আমার বাসা, অফিস সব পিসিতেই বুকমার্ক করা। এই ব্লগ থেকে আমি নিয়মিত কবিতা টুকলিফাইং করি Big smile
আরাশি'কে এই সুযোগে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর জয়িতার মন খারাপ ব্লগ থেকে কবিতা ব্লগ এ রূপান্তরিত হওয়া লেখা সবার মতো আমিও প্রিয়তে রাখি Smile

১৮৫

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


যাক, নীরব কবিতাপ্রেমীরে আজকে এখানে সরবভাবে পাওয়া গেল !

থ্যাঙ্কস ।

১৮৬

মীর's picture


১.
বলছি ওরে ছাগলছানা,
উড়িসনে রে উড়িসনে।
জানিসনে তোর উড়তে মানা-
হাত পাগুলো ছুড়িঁসনে।
২.
বুড়ো তুমি লোকটি ভালো,
চেহারাও নয়তো কালো-
তবু কেন তোমায় ভাল বাসছিনে?
কেন, তা তো কেউ না জানে,
ভেবে কিছু পাইনে মানে,
যত ভাবি ততই ভালো বাসছিনে।
৩.
বাস্ রে বাস্! সাবাস্ বীর!
ধনুকখানি ধ'রে-
পায়রা দেখে মারলে তীর-
কাগ্ টা গেল মরে।
৪.
আরে ছি ছি রাম! কলকেতা শহরে,
লাল ধুতি পরে মুদি, তিন হাত বহরে।
মখমলি জামা জুতো ঝকমকে টোপরে,
খায় দায় গান গায় রাস্তার উপরে।

১৮৭

রুমিয়া's picture


অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয় করে
জীবনানন্দ দাশ
-------------------------

অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয়
করে ফেলে বুঝছি সময়
যদিও অনন্ত, তবু প্রেম যেন অনন্ত নিয়ে নয়।

তবু তোমাকে ভালোবেসে
মুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসে
বুঝেছি অকূলে জেগে রয়
ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয় ।

১৮৮

শওকত মাসুম's picture


ডাবল সেঞ্চুরি করি

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিলো মেঘকে
আর মেঘ কি ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।

সেদিন ছিলো পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘকে বললে
-- আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
-- আজ তোমাকে স্নান করিয়ে দেবো চন্দন জলে।

ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
-- ওঠ্‌ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে ।

এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।

১৮৯

শওকত মাসুম's picture


তোমায় কিছু দেব ব'লে চায় যে আমার মন,
নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।
যখন তোমার পেলাম দেখা, অন্ধকারে একা একা
ফিরতেছিলে বিজন গভীর বন।
ইচ্ছা ছিল একটি বাতি জ্বালাই তোমার পথে,
নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।।

দেখেছিলাম হাটের লোকে তোমারে দেয় গালি,
গায়ে তোমার ছড়ায় ধুলাবালি।
অপমানের পথের মাঝে তোমার বীণা নিত্য বাজে
আপন সুরে আপনি নিগমন।
ইচ্ছা ছিল বরণমালা পরাই তোমার গলে,
নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।।

দলে দলে আসে লোকে, রচে তোমার স্তব -
নানা ভাষায় নানান কলরব।
ভিক্ষা লাগি তোমার দ্বারে আঘাত করে বারে বারে
কত যে শাপ, কত যে ক্রন্দন।
ইচ্ছা ছিল বিনা পণে আপনাকে দিই পায়ে,
নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।।

১৯০

শওকত মাসুম's picture


ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা
ভালো থেকো চর, ছোটো কুঁড়েঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো
ভালো থেকো কাক, ডাহুকের ডাক, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাঁশি
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি
ভালো থেকো আম, ছায়াঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল
ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল
ভালো থেকো নাও, মধুমাখা গাঁও, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

১৯১

মীর's picture


আমার সুকুমার রায়ের বইটা বাসায়। Crying

১৯২

শওকত মাসুম's picture


কখনো আমি স্বপ্ন দেখি যদি
স্বপ্ন দেখবো একটি বিশাল নদী।
নদীর ওপর আকাশ ঘন নীল
নীলের ভেতর উড়ছে গাঙচিল।
আকাশ ছুঁয়ে উঠছে কেবল ঢেউ
আমি ছাড়া চারদিকে নেই কেউ।

কখনো আমি কাউকে যদি ডাকি
ডাকবো একটি কোমল সুদূর পাখি।
পাখির ডানায় আঁকা বনের ছবি
চোখের তারায় জ্বলে ভোরের রবি।
আকাশ কাঁপে পাখির গলার সুরে
বৃষ্টি নামে সব পৃথিবী জুড়ে।

১৯৩

মীর's picture


তুমি আমার বহুলপাঠে মুখস্থ এক কাব্যগ্রন্থ-
তোমার প্রতি পঙক্তি আমি পাঠ করেছি মগ্ন হয়ে।
বই কখনো ধার দিতে নেই, জেনেও আমি দিয়েছিলাম-
খুইয়েছি তাই।
ছিঁচকে পাঠক হলেও তোমার গ্রন্থস্বত্ব এখন তারই।

বইচোরা কি কাব্যরসিক ? ছন্দ জানে ?
বই অনেকের বাতিক, ঘরে সাজিয়ে রাখে-
নাকি তেমন হদ্দ নবিশ ?
চোরের ঘরে ধুলোয় মলিন বুকশেলফে কেমন আছো ?

চোর কি জানে, চোর কি জানত,
আমি তোমায় মুখস্থ পাই আদ্যোপান্ত?

১৯৪

শওকত মাসুম's picture


১.

থাকুক তোমার একটু স্মৃতি থাকুক

একলা থাকার খুব দুপুরে

একটি ঘুঘু ডাকুক

২.

দিচ্ছো ভীষণ যন্ত্রণা

বুঝতে কেন পাছো না ছাই

মানুষ আমি, যন্ত্র না!

৩.

চোখ কেড়েছে চোখ

উড়িয়ে দিলাম ঝরা পাতার শোক।

১৯৫

শওকত মাসুম's picture


ভয় নেই
আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
এবং স্যালুট করবে
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে
কাঁটা-তার, ব্যারিকেড পার হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে
আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে
ভায়োলিন বোঝাই করে
কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা।

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো-
বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
চকোলেট, টফি আর লজেন্সগুলো
প্যারাট্রুপারদের মতো ঝরে পড়বে
কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা।

ভয় নেই…আমি এমন ব্যবস্থা করবো
একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী
এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক, প্রিয়তমা!

সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা, ঠিক জেনো, শেষ হবে যাবে-
আমি এমন ব্যবস্থা করবো, একজন গায়ক
অনায়াসে বিরোধীদলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন
সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয় পাহারা দেবে সারাটা বৎসর
লাল নীল সোনালি মাছি-
ভালোবাসার চোরাচালান ছাড়া সবকিছু নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, প্রিয়তমা।

ভয় নেই আমি এমন ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন
আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
গণচুম্বনের ভয়ে
হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি, প্রিয়তমা।

ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
শীতের পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন আক্রমণের মতো
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে,

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাংকে গিয়ে
গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।
ভয় নেই, ভয় নেই
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
নৌ, বিমান আর পদাতিক বাহিনী
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-ঘিরে
নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা।

১৯৬

মীর's picture


নিরবতা কোনও এক উদাসীন পাথরের নাম -
অহল্যা সে কোনদিন জানি আর হবে না জীবন।
হবে না সে পরিজাত, কোনওদিন হবে না সকাল,
দিন আর নিশিথের সন্ধিক্ষণে থেকে যাবে জানি -
অহল্যা সে চিরকাল থেকে যাবে, রক্ত মাংশ নিয়ে।
যাবে না সে দগ্ধ ক্ষুব্ধ মানুষের মিছিলে কখনও,
পোড়া মানুষের ক্ষত, রক্ত, গ্লানি বুকে সে নেবে না,
যাবে না সে জানি আর কোনওদিন সবুজ নিভৃতে।
ছোঁবে না সে চিবুকের থরো থরো বিষণ্ন উত্তাপ,
সেই হাত কখনও ছোঁবে না আর উদাসীন চুল।
নি:শ্বাসের ঘ্রাণে আর জাগবে না ভেজা চোখ দুটি,
নক্ষত্রের স্মৃতি শুধু বেঁচে রবে স্নায়ুর তিমিরে।
হবে না বেহুলা জনি সে কখনও গাঙুরের জলে
ভাসবে না ভেলা তার, ভাসবে না স্বপ্নের সাহস,
বেহুলার স্বপ্ব-ভেলা কোনওদিন জলে ভাসবে না -
নিরবতা কার নাম? কার নামে নির্বাসন জ্বলে?

১৯৭

শওকত মাসুম's picture


আহারে বৃষ্টির রা, সোহাগি লো, আমি থাকি দূর পরবাসে।
কান্দে না তোমার বুকে একঝাঁক বুনোপাখি অবুঝ কৈতর?
কেমনে ফুরায় নিশি? বলো সই, কেমনে- বা কাটাও প্রহর?
পরাণ ছাপায়ে নামে বাউরি বাতাস, দারুণ বৃষ্টির মাসে।

যে বলে সে বলে কথা, কাছে বসে, হাতে খিলিপান দিয়ে কয়-
এতো জল ঝরে তবু পরান ভেজে না কেন, কও তো মরদ?
দুয়ারে লাগায়ে খিল যদি কেউ থাকে তারে কে দেবে দরদ।
শরীরের মোহনায় দেখি তার বুনো ঢেউ রক্ত-মাংসময়।

শরীর গুটায়ে রাখি, শামুকের মতো যাই গুটায়ে ভেতরে।
অন্ধকার চিরে চিরে বিজুলির ধলা দাঁত উপহাসে হাসে,
আমি বলি- ক্ষমা দাও, পরান বন্ধুয়া মোর থাকে পরবাসে,
দেহের রেকাবি খুলে পরানের খিলিপান কে খাওয়াবে তোরে।

গতবার আষাঢ়ও পার হয়ে গেলো তাও নামে না বাদল,
এবার জ্যোষ্ঠিতে মাঠে নেমে গেছে কিষানের লাঙল-জোয়াল।
আমাদের মাঝে দেখো জমির ভাগের মতো কতো শত আল্,
এই দূর পরবাস কবে যাবে? জমিনের আসল আদল।
কবে পাবো? কবে পাবো আল্ হীন একখণ্ড মানব-জমিন?
পরবাস থাকবে না, থাকবে না দূরত্বের এই রীতি-নীতি।
মহুয়ার মদ খেয়ে মত্ত হয়ে থাকা সেই পার্বনের তিথি
কবে পাবো? কবে পাবো শর্তহীন আবাদের নির্বিরোধ দিন?

১৯৮

শওকত মাসুম's picture


হাত পেতে আছি দাও

চোখ পেতে আছি দাও

বুক পেতে আছি দাও

অবহেলা দাও অপেক্ষা দাও

বিশবাঁও জলে

আমাকে ডোবাও

তুলে এনে ফের

আমাকে ঘোরাও

যাক ঘুরে যাক

নাগর দোলাও

দাও তুমি দাও অপমান দাও

চাও বা না চাও নাও

পুড়ে খাঁটি সোনা নাও

আঁচলে বেঁধো না তাও

এতো তুচ্ছতা প্রাপ্য আমার?

সিঁড়ি খুঁজে চলি নরকে নামার।

অন্ধ ভ্রমর গেঁথেছে অমর

শব্দপুঞ্জ ডানায় তোমার

কী অর্থ তার বুঝবে কী আর!

সিঁড়ি খুঁজে চলি নরকে নামার।

শুধু ধ্রুবপদ তোমাকে দিলাম

ভালোবাসা নাও ভালোবাসা নাও

তোমার জন্য জীবন নিলাম

করেছি বলেই

শুধু শূন্যতা বিনিময়ে দাও…

হাত পেতে আছি দাও

চোখ পেতে আছি দাও

বুক পেতে আছি তাও…

১৯৯

নাজমুল হুদা's picture


দেহের রেকাবি খুলে পরানের খিলিপান কে খাওয়াবে তোরে।

২০০

শওকত মাসুম's picture


অনন্ত, মেহিদি পাতা দেখেছ নিশ্চয়?
উপরে সবুজ, ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত-
নিজেকে আজকাল বড় বেশি মেহেদি পাতার মতো,
মনে হয় কেন?

উপরে আমি অথচ ভিতরে কষ্টের যন্ত্রনার-
এমন সব বড় বড় গর্ত যে-
তার সামনে দাড়াতে নিজেরী ভয় হয়, অনন্ত।
তুমি কেমন আছো?
বিরক্ত হচ্ছ না তো?

ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও করে তুলতে পারে-
সেদিন তোমায় দেখার আগ পর্যন্ত-
আমার জানা ছিলো না।
তোমার উদ্দাম ভালোবাসার দূতি-
জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে ফেলেছে আমার ভিতর-
আমার বাহির-
আমার হাতে গড়া আমার পৃথিবী।

অনন্ত, যেই মিথিলা শুখী হবে বলে-
ভালোবাসার পূর্ণ চঁন্দ গিলে খেয়ে-
ভেজা মেঘের মতো উড়তে উড়তে চলে গেল,
আজ অন্য শূন্য, অনন্তকে আরো শূন্য করে দিয়ে-
তার মুখে এসব কথা মানায় না,
আমি জানি-
কিন্তু আমি আর এভাবে এমন করে পারছি না
আমার চারদিকের দেয়াল জুড়ে থই থই করে-
আমার স্বপ্ন খুনের রক্ত।

উদাস দুপুরে বাতাসে শিষ দেয়
তোমার সেই ভালোবাসা
পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার মতোন-
তোমার স্বৃতি।
আমি আগলাতেও পারি না,
আমি ফেলতেও পারি না।
শুখী হতে চেয়ে এখন দাড়িয়ে আমি-
একলা আমি-
কষ্টের তুষার পাহারে।

অনন্ত তোমার সামনে দাড়ানোর কোন –
যোগ্যতাই আজ আমার অবশিষ্ট নেই।
তবুও,
তবুও তুমি একদিন বলেছিলে-
ভেজা মেঘের মতো-
অবুজ আকাশে উড়তে উড়তে-
জীবনের সুতোয় যদি টান পরে কখনো?
চলে এসো, চলে এসো-
বুক পেতে দেব-আকাশ বানাবো
আর হাসনা হেনা ফুটাবো।

সুতোয় আমার টান পরেছে অনন্ত,
তাই আজ আমার সবকিছু,
আমার এক রোখা জেদ,
তুমি হীনা শুখী অনেক স্বাপ্ন!
সব, সবকিছু জলাঞ্জলী দিয়ে-
তোমার সামনে আমি নত জানু-
আমায় তোমাকে আর একবার ভিক্ষে দাও।
কথা দিচ্ছি- তোমার অমর্যাদা হবে না কোনদিন।

অনন্ত, আমি জানি-
এখন তুমি একলা পাষান কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াও,
প্রচন্ড এক অভিমানে-
ক্ষনে ক্ষনে গর্জে উঠে অগ্নিগিরি।
কেউ জানে না, আমি জানি-
কেন তোমার মনের মাঝে মন থাকে না,
ঘরের মাঝে ঘর থাকে না,
উঠোন জোরার উপর কলস-
তুলসি তলের ঝড়া পাতা,
কুয়ো তলার শূন্য বালতি-
বাসন-কোসন, পূর্নিমা-অমাবর্ষা,
একলা ঘরে এই অনন্ত-
একা শুয়ে থাকা।
কেউ জানে না, আমি জানি-
কেন তুমি এমন করে কষ্ট পেলে-
সব হরিয়ে বুকের তলের চিতানলে-
কেন তুমি নষ্ট হলে?
কার বিহনে চুপি চুপি, ধীরে ধীরে-
কেউ জানে না, আমি জানি-
আমিই জানি।

আগামি শনিবার ভোরের ট্রেনে তোমার কাছে আসছি।
অনন্ত, আমার আর কিছু না দাও- অন্তত শাস্তিটুকু দিও।
ভালো থেকো!
তোমারি হারিয়ে যাওয়া মিথিলা।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

জ্যোতি's picture

নিজের সম্পর্কে

.