ইউজার লগইন

শিরোনামহীন-১

বিকেলটা ছিলো বিষন্ন। অফুরন্ত সময়, কারো জন্য অপেক্ষা নেই, চোখে ক্লান্তি নেই, কারো জন্য কোথাও যাওয়া নেই। শুধুই ঘরে ফেরা, নিজের জন্য...আর কোথাও যাওয়ার নেই বলে।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো, হেঁটেছি একা পথে। যেনো শুধু শূন্যতার দিকে যাওয়া।আকাশজুড়ে মেঘেরা থমথমে, কোথাও পাখিদের কিচিরমিচির নেই, গায়ে এক্টুও ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা নেই। বিকট শব্দ করে পাশ ঘেষে কিছু গাড়ি চলে গেলো। আমার একাকিত্বরা বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকায়।ঘোর আমাকে নিয়ে গেলো ঘরের দরজায়। আজ তালা খুলতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, হাত থেমে থাকলো কিছুক্ষণ। কিছু ভাবিনি আমি। ভাবনাগুলোও ডানা মেলতে পারছে না।তালা খোলার শব্দটাও কানে বাজলো ভীষণ।ঘরের ভেতর জিনিসগলো আগেও তো এমন ছিলো, তবে এমন জড়পদার্থের মতো তো লাগেনি আগে!

কোথাও একটুও প্রাণের ছোঁয়া নেই। ডানায় ভর করে মেঘের সাথে উড়ে চলে গেলে অজানা কোন গন্তব্যে। থেমে গেলো আমার আমির চারপাশ। কোথাও কেউ নেই। নিজের নিশ্বাসের শব্দ পেলাম আমি। ঘড়ির কাটার টকটক শ্বদ মাথার ভেতর খোঁচালো সারারাত ধরে। কোন কোলাহলে নিজেকে নিতে চেয়েছিলাম। কারও সময় ছিলো না একটু পাশে বসার। শুধু আমার দীর্ঘ সময়।এই কিছুদিনের বিকাল, সন্ধ্যা, রাতগুলো এতটুকুও দীর্ঘ হয়নি, একটুও থেমে থাকেনি, তাড়াহুড়ো হরে ছুটে চলেছে যেনো দৌড় প্রতিযোগিতা।সুখের সময়গুলি কেনো এমন দৌড় প্রতিযোগিতায় নামে কে জানে!ছুটে চলে যায় দিগন্তের ওপাশে।

পোস্টটি ২৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


বাহ । দারুণ। কবিতায় ভরা পোষ্ট পেলাম এক্টা। কি যে ভালো লাগছে!মীর আর মাসুম ভাইকে আবার ধইন্যা। শুধু বেছে দেবো না, চাইলে চাটনীও বানিয়ে দেবো।

মীর's picture


ডাবল সেঞ্চুরি করলো মাসুম ভাই, ব্যাট দেখায় জয়িতা'পু্। হৈল?

এই যে নেন আরেকটা,

খিলখিল্লির মুল্লুকেতে থাকত নাকি দুই বেড়াল,
একটা শুধায় আরেকটাকে, "তুই বেড়াল না মুই বেড়াল?"
তাই থেকে হয় তর্ক শুরু, চিৎকারে তার ভুত পালায়,
আঁচড় কামড় চর্কিবাজী ধাঁই চটাপট্ চড় চালায়।
খামচা খাবল ডাইনে বাঁয়ে হুড়মুড়িয়ে হুলোর মতো,
উড়ল রোঁয়া চারদিকেতে রাম-ধুনুরীর তুলোর মতো।
তর্ক যখন শান্ত হলো, ক্ষান্ত হলো আঁচড় দাগা,
থাকতো দু'টো আস্ত বেড়াল, রইল দু'টো ল্যাজের ডগা।

জ্যোতি's picture


দারুন তো!কার কবিতা?

মীর's picture


সুকুমার রায়।

বোহেমিয়ান's picture


পুষ্ট ভালা পাইছি!

ওরে কবিতার ছড়াছড়ি!

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


সে অনেক বছর আগের কথা।
এখন কত সাল বলছ?
আচ্ছা, ৩০১০ তাহলে এসে গেছে পৃথিবীতে?
যখনকার কথা বলছি -
তখন এই ২০১০/১২ সাল হবে আর কী ?
আমি খুব ছোট।
মাটির হাঁড়িকুড়ি নিয়ে খেলাধুলো করতাম।
খেলার সঙ্গিনীর নাম কী ছিল ?
হয়তো বিবি। হয়তো সোনালি।
সোনালি ! সোনালি -নামটা মনে পড়েছে !
তো আমরা দু'জন মাটির হাঁড়িকুড়ি নিয়ে খেলতাম।
মাটির হাঁড়ি, মাটির বাসনকোসন।
আমি বাজার করে আনতাম।
মাটির মাছ, মাটির মাংস, মাটির তরিতরকারি।
সোনালি রান্নাবান্না করত।
মাটির চামচ দিয়ে হাঁড়িতে নেড়ে দিয়ে
সোনালি বলত,-গোসল করে এসো, তোমার ভাত খুলছি।
আমরা খেতে বসে যেতাম।
এ রকম একদিন
খাওয়ার পরে মাটির গেলাশে পানি খেতে গিয়ে
আমার হাত থেকে গেলাশটা পড়ে গিয়ে ভেঙেচুরে গেল।
সোনালি বলল,- আমার এত শখের গেলাশটা ভেঙে ফেললে !
যাও, তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
সেই-যে বলল সেদিন আর এলই না।
পরদিনও না।
তারপর সোনালিরা চলে গেল কোথায়-যেন।
দেখা হয়নি আর।

দ্যাখো, জীবনে সুখ-দুঃখ পেয়েছি অনেক।
আজ আর সেসব নিয়ে কিছু ভাবি না।
সকলেই কিছু দুঃখ পায়। পায় কিছু সুখ।
শুধু একটি মেয়ের অভিমানী গলা শুনতে পাই আজো,
-তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
কবে ভেঙে গেছে আমাদের ছোট্ট মাটির সংসার।
কিন্তু এবারের শ্রাবণ মাসে কী রকম উথালপাথাল বাতাস
বইছে, দ্যাখো।
এ রকম বাতাসে আমার কানে একটিই কথা ভেসে আসে,
- তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
'খেলব না আর!' বলে চলে গেল যে-মেয়েটি,
সে আর ফিরল না কোনোদিন।
জীবনে কত ভাঙা-গড়া দেখলাম।
কত জন্ম । কত মৃত্যু।
কত বাদশা ফকির হয়ে গেল।
কত ভিখিরি কুড়িয়ে পেল সোনাদানার থলি।
তারই মধ্যে যখন শ্রাবণমাস আসে,
ঝেঁপে নামে বৃষ্টি,
তার ভেতরে একটি কণ্ঠস্বর বাজতে থাকে অবিরাম
তোমার সঙ্গে খেলব না আর !

আমি কী করব!
আমি কি আকাশ-থেকে-নেমে-আসা নীল বিদ্যুত থামাতে পারি ?
এই শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি বন্ধ করবার সাধ্য আছে কি আমার ?
হাত ফসকে পড়ে গেলাশ ভেঙে যায়।
আমার কিছু করবার নেই।
আমি অসহায় ! আমি অসহায় !
আমার শুধু বাতাসে-বিদ্যুতে-বৃষ্টিতে শুনে যেতে হবে
একটি অভিমানিনী কণ্ঠস্বর ;
-তোমার সঙ্গে খেলব না আর !

-----------------আবদুল মান্নান সৈয়দ--মাটির সংসার

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


- যে কোন একটা ফুলের নাম বল
- দুঃখ ।
- যে কোন একটা নদীর নাম বল
- বেদনা ।
- যে কোন একটা গাছের নাম বল
- দীর্ঘশ্বাস ।
- যে কোন একটা নক্ষত্রের নাম বল
- অশ্রু ।
- এবার আমি তোমার ভবিষ্যত বলে দিতে পারি ।
- বলো ।
- খুব সুখী হবে জীবনে ।
শ্বেত পাথরে পা ।
সোনার পালঙ্কে গা ।
এগুতে সাতমহল
পিছোতে সাতমহল ।
ঝর্ণার জলে স্নান
ফোয়ারার জলে কুলকুচি ।
তুমি বলবে, সাজবো ।
বাগানে মালিণীরা গাঁথবে মালা
ঘরে দাসিরা বাটবে চন্দন ।
তুমি বলবে, ঘুমবো ।
অমনি গাছে গাছে পাখোয়াজ তানপুরা,
অমনি জোৎস্নার ভিতরে এক লক্ষ নর্তকী ।
সুখের নাগর দোলায় এইভাবে অনেকদিন ।
তারপর
বুকের ডান পাঁজরে গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে
রক্তের রাঙ্গা মাটির পথে সুড়ঙ্গ কেটে কেটে
একটা সাপ
পায়ে বালুচরীর নকশা
নদীর বুকে ঝুঁকে-পড়া লাল গোধূলি তার চোখ
বিয়েবাড়ির ব্যাকুল নহবত তার হাসি,
দাঁতে মুক্তোর দানার মত বিষ,
পাকে পাকে জড়িয়ে ধরবে তোমাকে
যেন বটের শিকড়
মাটিকে ভেদ করে যার আলিঙ্গন ।
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত হাসির রং হলুদ
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত গয়নায় শ্যাওলা
ধীরে ধীরে তোমার মখমল বিছানা
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে সাদা ।
- সেই সাপটা বুঝি তুমি ?
- না ।
- তবে ?
- স্মৃতি ।
বাসর ঘরে ঢুকার সময় যাকে ফেলে এসেছিলে
পোড়া ধুপের পাশে ।

------কথোপকথন --৪,পুর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা

ঈশান মাহমুদ's picture


.....সে বলেছিল
রাত যখন নিশ্চুপ হবে তখন সে আসবে....। আমি দরজা খুলে বসেছিলাম তারি অপেক্ষায়......। কিশোরী রাত্রির যৌবন বেড়েছে দ্রুত... কখন ডুবে গেছে পঞ্চমীর চাঁদ.... তবুও সে আসেনি.... তার পথ চেয়ে চেয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা; সকালে...জেগে উঠে দেখি...কিছু নেই, সারা ঘর ফাঁকা.... আমাকে ফুতুর করে দিয়ে গেছে কোন এক দুষ্ট তস্কর....।‘

শওকত মাসুম's picture


খাইছে, এক পাতায় তো হইতাছে না। পরের পাতায় চইলা গেলে পুষ্ট

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

জ্যোতি's picture

নিজের সম্পর্কে

.