অভিমানী দম্পতির চিঠি চালাচালি
স্ত্রীকে স্বামী
আমার পেটে-বুকে খুব জ্বালাপোড়া করছে। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক বছর ধরে এই যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছি। ওষুধ খেতে খেতে আমার চুল উঠে গেছে।
চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে। তবু তোমার ইচ্ছা পূরণের অদম্য ইচ্ছায় কাগজটা, কলমটা নিয়ে বসলাম। আমিতো তোমাকে কিছুই দিতে পারি না। অন্তত এই চাওয়াটা পূরণ করি না খানিকটা।
পুরনো কাউকে মনে পড়া, ভালোবাসা ভাগ হয়ে যাওয়া- এসব আমার চিন্তার মধ্যে নেই। তুমি খুঁচিয়ে মনে করিয়ে দিলেও আমার মধ্যে সেসব নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না। আমার কোনো ফিলিংস নেই- তা নয়, আসলে ওসব ঘটনা আমাকে খুব বেশি স্পর্শ করে না। স্পর্শ করার মতো ফিলিংস আমার তখনো ছিল না। থাকলে একজনকে এত অনায়াস-অবলীলায় ভুলে যেতে পারতাম না। আমি তখনো বুঝেছিলাম, ওটা আমার কাউকে পাওয়ার জন্য অদম্য প্রেম ছিল না, ছিল মোহ। বয়সের কারণে যা থাকা খুব স্বাভাবিক। তাই তোমাকে দেখে সেই মোহটা খুব সহজে ভেঙে যেতে পেরেছিল। সবকিছুর জন্য আমার সামান্য অপরাধবোধ আছে। তবে সেটা আমার মনে খুব বেশি প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ফেলে না। কত মানুষের এরকম কতশত প্রেম কাহিনি আছে। সব বিশ্লেষণ করতে গেলে তো কুরুক্ষেত্র হয়ে যাবে। তুমি হয়তো বলবে- আমি অন্য মানুষের মতো না, কিন্তু মানবিক বৈশিষ্ট তো আমার মানুষের মতোই।
তোমার সঙ্গে প্রেমের ব্যাপারটাও তাহলে মোহ ছিল- এমনটা ভেবো না আবার। মোহ হলে আমার পরিবারের সাথে, মা-বাবার সাথে এত যুদ্ধ আমি করতাম না। আমার ভালোবাসা নিয়ে কেন তোমার সন্দেহ হয়- আমি বুঝতে পারি। তোমার সঙ্গে ঝগড়া করি, মেজাজ দেখাই, সোহাগ করি না। অন্যায়টা আমি স্বীকার করি। আমি চেষ্টা করব ভালোবাসার পরিবেশটা ফিরিয়ে আনতে। তুমি শুধু একটা কথা মনে রেখো, ২৪ ঘণ্টা যে লোকটার সঙ্গে তুমি সংসার করছ, সে সারা চব্বিশ ঘণ্টা অসুস্থ থাকে প্রায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুম আসা পর্যন্ত কীরকম কষ্ট পাই আমি শারীরিকভাবে! মাঝেমাঝে খুব কম সময়ের জন্য ভালো থাকি। বিয়ের প্রথম প্রথম আমি কত কাতরভাবে তোমাকে অনুরোধ করতাম- আমাকে দুশ্চিন্তা, মনখারাপের মধ্যে রেখো না, আমার অসুখ বাড়বে। অনেকদিন সেটা বলি না। তুমি নিজ থেকে যদি বুঝতে না পারো, আমার আর কী করার আছে?
আমার এই অসুস্থতার জন্য মেজাজটা খিটখিটে থাকে।
তুমিও সেরকম।
আমি বলেছি ভাত রাধতে ৩টা বাজে। বলতে পারতে- কথাটা ঠিক নয়, ২টা কি আড়াইটা বাজে।
প্রতি কথায় প্রতিক্রিয়া দেখানোই আমাদের সমস্যা।
সমাধানের একমাত্র উপায় সমস্যা চিহ্নিত করতে পারা। আমরা জানি সমস্যা কোথায়। তাহলে সমাধান হবে না কেন?
আমার এখন খুব মরে যেতে ইচ্ছা করছে। তাহলে বুঝতে আমি তোমাকে কত ভালোবাসতাম!
স্বামীকে স্ত্রী
আর যাই বলো, মরার কথা বলো না প্লিজ। ওটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না। আমাদের বাবুর কথা ভাবোনি ওটা বলার সময়?
তুমি আমার চিঠির কাতর নও জেনেও তোমাকে লিখতে আমার ইচ্ছা করে। কারণ অনেক অব্যক্ত কথা চিঠিতে লিখতে পারি। কিন্তু আমি তোমার চিঠির জন্য প্রচণ্ড কাতর জেনেও তোমার লিখতে ইচ্ছা করে না। কেন করে না? আমাকে খুশি করতে এই সামান্য কাজটুকুন যদি না করতে পারো তবে আমাকে ভালোবেসেছো কেন?
আমাকে লেখার কথা বললেই তুমি তোমার অসুস্থতার কথা বলো। কিন্তু কত বড় বড় কাজ তুমি কর। চাকরি, ব্যবসা, কত সামাজিক কাজ তোমার। আমাকে লেখাটা ওরকমই একটা কিছু মনে করো না হয়। আমি তাতেও খুশি। আমি তোমাকে আবার চিনতে চাই। আগের মতো পেতে চাই।
এখন বলো, আমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে যদি তুমি মোহহীন ভালোবাসতে, তার জন্য কি তোমার পরিবারেরর সঙ্গে যুদ্ধ করতে না?
থাক সে বিতর্ক।
তোমার অসুস্থতা আমি বুঝি। তোমার ব্যস্ততাও বুঝি। কিন্তু তোমার সব হয়, আমারটা থেমে থাকে কেন? সারাদিন তুমি কয়টা কথা বলো আমার সঙ্গে? আমাকে একটু সময় দাও না। তুমি অফিসে যাওয়ার সময় আমি কাঙালের মতো দাঁড়িয়ে থাকি তোমার একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য। তুমি ফিরেও তাকাও না। বিয়ের আগে আমি কত স্বপ্ন দেখেছিলাম এসব নিয়ে। আর তুমি এখন ভাত রান্না করতে দেরি হলে আমাকে বকা দাও।
আমার কান্না আসছে। আজ রাখি।





লেখাটা অসাধারণের পর্যায়ও অতিক্রম করেছে সিরাজী ভাই। হ্যাটস্ অপ।
(*)(*)(*)
কী যে বলেন মীর! লজ্জা পাচ্ছি
এইতো জীবন । প্রেমের বাস্তবতা আর সংসারের বাস্তবতায় কি দুস্তর ব্যবধান ! প্রেমিক বা প্রেমিকা উভয়ের উভয়কে পাবার আকাঙ্খা দু'জনকে মুগ্ধ করে রাখে । স্বামী বা স্ত্রী তো ঘরকা মাল, মুগ্ধতা ছুটে যায় দূরান্তরে । পড়ে থাকে দু'জনেরই না-পাওয়ার হা-হুতাশ ।
মীরের সাথে একমত । সুন্দর একটা গল্পের জন্য ধন্যবাদ ।
কোয়ান্টাম মেথডের একটা বাণী পড়লাম আজ। না পাওয়ার হা হুতাশ, বেশি বেশি আশা করতে থাকা এক ধরনের আসক্তি। আর আসক্তি কখনো সুখ দিতে পারে না।
কথাটা খুব কঠিন। কী বলেন নাজমুল ভাই?
না চাইতেই যা পাওয়া হয়ে যায়, তাতে আর কতটুকু আনন্দ ? যা চেয়ে পাওয়া যায় - তাতে আনন্দ অনেক বেশি । আর চেয়েও না-পাওয়ার দুঃখও তাই বেশি পেতে হয়।
এ কথা ঠিক যে, বেশি বেশি আশা করতে থাকা এক ধরনের আসক্তি। তবে না চাইলে পাওয়া যায়না কিছুই । জীবনটা্ বড়ই কঠিন, আর তাইতো একে সহজ করে দেখবার চেষ্টা চালাতে হয় অবিরত, অভিনয় করে যেতে হয় সুখীর ভূমিকায় ।
- দুর্দান্ত বলেছেন নাজমুল ভাই
এ কি আর আমার কথা ? এ আমার জীবনের উপলব্ধি - জীবনের কথা !
এমুন দুঃখু বিলাস করতে মঞ্চায়
করে ফেলুন শীঘ্র
সহজ কাজ যায় না করা সহজে

আফনেরা সিনিওররা একটু সাহায্য করেন
সহজ কাজ করতে সাহায্যের দরকার পড়ে না। সাহসও লাগে না। সাহসীরা কখনো বিয়ে করে না।
আমি ত জানতাম সাহসীরাই বিয়ে করে
বাহ্ বাহ্ ... ... ...

খুবই চিরাচরিত বিষয় কিন্তু এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করলেন যে পোষ্টটিকে আর ভাল মন্দের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেল না ...
দুর্দান্ত লেখা
দুনিয়ার বিবাহিত, এক হও, এক হও!
বেবাগ বিবাহিত এক হইয়া কি করবেক?কেনো বিয়া করলেন এই মিলিয়ন ডলার কশ্চেন এর উত্ত খুইজবেন?

এক হও, এক হও...
এই এক হওয়া সমবেত বিবাহিতদের দলে (রাজনৈতিক দলের মত) নারী সদস্যদের স্থান আছে কিনা তা আগে-ভাগে স্থির করা উত্তম । পরে ক্যাচাল/প্যাচাল করা ঠিক নয় ।
উদরাজী ভাই কী বলেন?
নারীদেরও এতে নিতে হবে। কারন বিবাহটা একজনের নয় - বিবাহ পুরুষদের যেমন (জ্বালায়), নারীদেরও তেমন (পোড়ায়)। হা হা হা.।
এ বিষয়ে আমি আর বেশী কিছু বলব না। কারন কি কইতে কি কইয়া ফেলি, পরে আবার কোন দোষে পড়ি!
নারীদেরও এতে নিতে হবে। কারন বিবাহটা একজনের নয় - বিবাহ পুরুষদের যেমন (জ্বালায়), নারীদেরও তেমন (পোড়ায়)। হা হা হা.।
এ বিষয়ে আমি আর বেশী কিছু বলব না। কারন কি কইতে কি কইয়া ফেলি, পরে আবার কোন দোষে পড়ি!
্তা'হলে এবার জ্বালা-পুড়া বিবাহিত দল গঠন করা যাক । সাহাদাত উদরাজী -সভাপতি আর মাইনুল এইচ সিরাজি- সাধারন সম্পাদক হবেন, আমার প্রস্তাব । দয়া করে মতামত দিন ।
হুদা ভাই, আপনিতো দেখছি মজায় আছেন! আমাদের ভাল মনে হয় আপনার সহ্য হচ্ছে না।
আমি কিন্তু রাজি, উদরাজী ভাই
ঠিকাছে ! এর পর থেকে আপনারা যেভাবে ভাল থাকেন, আমি না-হয় তাতেই খোশহালে থাকবো ।
বেবাগ বিবাহিত এক হইলে কি গলা ধইরা কান্নাকাটি করবা নাকি !
গলা ধইরা কান্নাকাটি করা যাইতে পারে। দারুণ আইডিয়া
চুপচাপ পড়ে গেলাম, কাহিনী কমন পড়ে।
ভাল কথা মনে করছেন তো। আমার বাসায়ও ভাত দেরিতে রান্দে
ভাত দেরিতে রাধলে মেজাজ খারাপ হয় না মাসুম ভাই?
এই বুড়া বয়সে আমার উপলব্ধি- দাম্পত্য ব্যাপারটা শেষে অভ্যাসে পরিণত হয়। পারস্পরিক টানটাও অভ্যাসের ফসল। অবশেষে মূখ্য হয়ে দাঁড়ায় পোলাপান। বিয়ের প্রাথমিক অবস্থা থেকেই যারা অভ্যস্ত হতে পারে না- একজন অন্যজনকে ত্যাগ করতে সমস্যা হয় না। অভ্যাসের কারণেই বলা যায়- ঝগড়া করার মানুষটাও রইলো না!
-লেখায় তারাইলাম।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতাও আছে এমন । সত্যিই, আমাদের এক সিনিয়র বন্ধুর অতি ঝগড়াটে কুশ্রী বউ মারা যাবার পরে সে আমার কাছে এমন আক্ষেপই করেছিল ।
এ উপলব্ধি সঠিক বলে মনে করি ।
পোস্টে তারামু, নাকি মন্তব্যে -সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা ।
অভিমানী দম্পতিদের মধ্যে চিঠি চালাচালির অভ্যাসটা যদি বাস্তবে থাকতো ! তবুও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বউকে একটা চিঠি লিখবো (শেষ কবে লিখেছি মনে নেই)। চমৎকার আইডিয়া দেয়ার জন্য সিরাজী আপনাকে ধন্যবাদ ।
শুধু ধন্যবাদ দিয়ে শেষ! ঈশান, চিন্তা করুনতো কত বড় ডোজ এটা। কোরামিনের মতো!
এটার পরের পর্ব আসবে কবে? এটার সুন্দর সিরিজ হতে পারে, ঝগড়ার বিষয়েরতো আর অভাব নেই
লাইক।
ধন্যবাদ তানবীরা।
আরেকটা ঝগড়ার খোঁজ পেলে পরবর্তী পর্ব আসতে পারে
দারুণ তো!
চমৎকার!
বাহ! চমৎকার
মন্তব্য করুন