ইউজার লগইন

রৌদ চশমা'এর ব্লগ

অভিশপ্ত

আমায় কবর দিয়ে দিতে পারো চাইলে। চিতায় ওঠালেও
রাগ করবো না। অথবা ঢাকা মেডিকেলে পাঠয়ে দাও।
শিক্ষানুবিসরা দেখুক, কাটুক
এক পরাজিতা মৃতদেহ।

আমার শ্বাস চলছে এটা দেখে যেন
না ভাবে আমি বেঁচে।
আহা! ওটা বিভ্রম।
ইশ্বর এমন মায়াজাল খুব ভালোবাসেন। আজ তাই খুব কুয়াশা।
ওখানে যদি হারানো যেতো কিছু সময়ের জন্য!
তাহলে,হয়তো বাঁচতে পারতাম
আসলে
ভেঙে না পরতে পারাটা একটা অভিশাপ।
আর
অভিশপ্ত আমি

ধুমপানের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হয়? আর?
এটি মৃত্যুর কারণ?
বাহ! বেশ তো প্যারাডক্সখানা!

রাবণের চিতাবেশে তোমাদের প্রমাদপ্রমাণ
সন্দেহেও যে শ্বাসপ্রশ্বাসের ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার
উপক্রম! কী মুশকিল! সতর্কীকরণ প্রয়োজন
ছিলো যে!
বারংবার আমাকে অভিযুক্ত যে করো তারপর মৃত্যদন্ড দাও
সেখানা কে দেখলো! তার জন্য সাবধানতাজনিত
বানী কই গো?

নিজেকে বরাবরি সক্রেটিস মনে করি।

কফি হাউজ (দ্বিতীয়)

মান্না দে সহ সকল পাঠক মাফ করবেন।

তখন সবে মাত্র গিটারে সুর তোলা শিখেছি।গিটার শিখি বুয়েটের দাদার কাছে।আজিজ সুপার মার্কেট। দাদাকে এক দিন জিজ্ঞাস করলাম দাদা কোন গানটা গিটারে তুললে তোমার গায়ের লোম ভয়ানক অনুভূতি সৃষ্টি করে?

দাদা চোখ বন্ধ করে গিটারে মাদকতায় পাগল করা "কফি হাউজ" গানটা বাজিয়ে শুনিয়েছিল।বাজানো শেষে বলেছিল " দেখিস এই গানটা কখনো পুরানো হবে না।টিকে থাকবে হাজারো বছর।মানুষ হাজার বছর পরেও এই গান শুনবে একই মাদকতায়।

বলা বাহুল্য আমার প্রথম গিটারের সুর ছিল কফি হাউজ।
চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি কফি হাউজ দ্বিতীয় এর সুর তুলতে...

""স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,
আজ আর নেই
জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,
আজ আর নেই
নিখিলেশ লিখেছে প্যারিসের বদলে
এখানেই পুজোটা কাটাবে
কী এক জরুরি কাজে ঢাকার অফিস থেকে
মঈদুলকেও নাকি পাঠাবে

ব্লগ নয়, ভালবাসা আর দু চার লাইন কথা

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের সূর্য্যি কেমন
ছিল জানি না।তবে এটা জানি ৩০ লক্ষ শহীদের
রক্ত একত্রিত করলে যতটুকু লাল
হবে নি:সন্দেহে তার চেয়ে বেশি লাল ছিল।

বিজয়ের মাস।সবাই দেশপ্রেমিক। আমার যে বন্ধু গোলাম আযমকে আল্লাহর অলি বলে এখনো বিশ্বাস করে সকালে তাকেও দেখলাম মাথায় লাল সবুজের পতাকা।শুধু মুখ বুঝে সয্য করেছি।কেঁদেছি....

ইনবক্স ভরে গেছে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছায়।আমি কাউকে শুভেচ্ছা জানাই নি। কিছু কিছু বিজয় প্রাণ খুলে উপভোগ করা যায় না।বুকের ভিতর কোথায় জানি ব্যাথা লাগে।

এই দিনে হাজারো মায়ের সন্তান ফিরে এলেও ফিরে আসেনি "শহীদ রুমি"। ফিরে আসেনি ৩০ লক্ষ সন্তান। বাবা,মা,ভাই,বোন....তারা চলে গেছে। ফিরবেনা।অনেক অভিমান তাদের।রেখে গেছে হাজারো স্মৃতি।এক সাগর রক্ত আর একটি দেশ।

বাংলাদেশ

গোল্ডলিফের প্যাকেট এবং শীত

শীতের শুরুর কোনও একটা সন্ধ্যায় চায়ের
কাপে টুংটাং আওয়াজ বলে দেয় , বাহিরের
তাপমান
পাতলা চাদরটা ভালোমতো জড়িয়ে নেবার
মতোই কমছে।

রাস্তা পার
হতে গিয়ে অনিচ্ছুক শীতল
হাতটা অত্যুতসাহী এক তপ্ত মুঠোয়
বাঁধা পড়তে গিয়েও পড়েনা। হেমন্তের এই
শেষপ্রান্তের যাযাবর বাতাসে উষ্ণতার
বড্ড অভাব।

সোডিয়ামের বাতিঘর আর ধোঁয়াশার
বিভ্রমে ঝরাপাতার
দলে মিশে যাওয়া একটা পাতার গান
আলাদা করা যায় না।

এই শহরে মমতাময় কোনও শীত আসে না!
এখানে শীত পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাটের
অপরিচিত প্রতিবেশির মতো মুখ
ঘুরিয়ে হাঁটে!

ফুটপাতের শীতবস্ত্রের
মেলার দিকে লোভাতুর
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শতছিন্ন পোশাকের
' অভদ্র ' বাচ্চাটাকে " ছিঃ! কী নোংরা!"
বলে পাশ কাটায় শীত , শপিংমলের
পাশে বিএমডব্লুকে পার্কিং লট
ছেড়ে দিতে!

শীত বেঁচে থাকে শুধু ফায়ার প্লেসে , রুফটপ
বারবিকিউ পার্টি আর উইন্টার স্পেশাল

অর্থহীন গল্প

সবারই একটা গল্প থাকে। আছে। তাতে হিরো থাকে,
ভিলেনও। প্রায় ক্ষেত্রেই হিরো কিংবা ভিলেন দুটোই
আর কেউ না। সিম্পলি যার যার গল্প সে সে।
বই কিংবা ফিল্মের গল্পগুলো যেমন মেঘের
মতো আকাশপট নিয়ে বৈচিত্রে ভরা আবার পুনরাবৃত্তির
ভারে নুয়ে থাকে, আমাদের কাহিনীও অনেকটা তেমন।
কারোটা খুব খাপছাড়া, খেপাটে পাগলামিমাখা,অনে
কেরটা ক্লিশে,কমন,রিপিটেড শিট।
যেমনই হোক শেষতক কিছুই যায় আসে না।
হ্যান্স এন্ডারসন বলেছিলেন "জীবনটাই রূপকথা"।

রূপকথায় যেমন প্রায়
অবশ্যম্ভাবী যে হ্যাপি এন্ডিং থাকবেই,পাঠক
তা আগে থেকেই জানে, তেমনি আমাদের জীবনকথার
সবথেকে শেষের পাতায় যে মৃত্যু লেখা আছে এটাও
জানা।
তাতেও কিছু যায় আসে না। মানুষ বাঁচে বেঁচে থাকার জন্যই।
হাসে,কাঁদে,ভালোবাসে,ঘৃণায় মুর্ছায়, সবই
বেঁচে থাকবে বলে।

কোনো বই বা মুভি পড়ে পাঠক আনন্দ পায়, কারণ
বইটা বা ফিল্মটা সুখপাঠ্য কিংবা সুখদর্শনীয় ছিল।

সৌরভের জন্য ভালবাসা

এই অবেলায় ফোটা কাশফুল নিয়তির
মতো
যেন আহত কোন যোদ্ধার
বুকে বেঁচে থাকা এক মেঘফুল.........।'
রোদ্দুর,
একসাথে হেঁটে হেঁটে যেতে চাই
বহূদুর
বুকের ভেতর ডানা ঝাপটায় পাখি,
বেপরোয়া ভাংচুর।'

- কি রে জংগল। কত দিন ধইরা শেভ করিস না?এই কি হাল!চুল কাটিস না কেন?

- মহাপুরুষ এমনি হয়!আমি আবার মহাপুরুষ হব! "ঈশ্বর না থাকলে তাকে বানানো হত,কিন্তু প্রকৃতি বলেছে ঈশ্বর আছে"। বলতো এটা কার উক্তি??

- ধুর!পারলাম না!বাদ দে তো এইসব উচ্চলেভেলের কথা!!তোর হাতে কিসের বই রে??

-একটা "দা গডস দেমসেলভ" আর একটা " উইনিংস অফ ফায়ার"।

-ঢাকা আসলি কবে?এডমিট হবি কোথায়?সব এক্সম তো শেষ।

-পৃথিবীর পাঠশালায়!যেখানে আমি শিক্ষক আবার আমিই ছাত্র!একটা সিগারেট খাওয়াবি?টাকা পয়সার সংকট। দুই দিন ধরে হলিউড খাইতেছি।গোল্ডলিফ খাওয়ার টাকা নাই।

বাবার সার্টিফিকেট

বিজয় দিবসের আনন্দ কিংবা ভাললাগা একজন সাধারণ মানুষের যতটুকু থাকে তার চেয়ে অনেক বেশি থাকে একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার।যে মুক্তিযোদ্ধার বয়স ছিল ১৯৭১ সালে মাত্র ১২ বছর।এই লেখাট শুধু আবেগের বশে লিখা।বলে কয়ে বাবার প্রতি ভালবাসাটা শুধু লোকদেখানোই।তবু লিখি..... হাজার হোক তিনি আমার বাবা।জন্মদাতা বাবা।একজন দরিদ্র বাবা।যিনি ১০ টাকা, ১৫ টাকা, ২০ টাকার হোমিও ঔষধ বিক্রি করেন।

আমার চোখে বিটলস

অগাস্ট ১,১৯৭১

- ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন নিউইয়র্ক।

স্টেজের পেছনে বসে উত্তেজনায় ঘামাচ্ছেন
গিটার
লিজেন্ড এরিক ক্ল্যাপটন। প্রচন্ড অসুস্থ এরিক।
হেরোইন
এডিকশন তাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।
পারবেন
তো ঝর তুলতে গিটারে। যদি ভুল হয়। ঠিক
সে মুহুর্তে ক্ল্যাপটনের চোখে ভেসে উঠে হাজার
মাইল দূরে বাংলাদেশ নামক জন্মযুদ্ধে লিপ্ত এক
দেশের মা হারা সন্তানটার ছবি...এর আগেই
ক্ল্যাপটম
পারফর্ম করতে পারবেন না বলে নিশ্চিত সবাই।
সে ক্ল্যাপটন স্টেজে উঠলেন বাজালেন জয় করলেন।

জর্জ হ্যারিসনের সাথে ক্ল্যাপটনের " হোয়াইল মাই
গিটার
জেন্টলি উইপস" গানে দুই লেজেন্ডের গিটার ডুয়েল
লাইভ কনসার্টের ইতিহাসেরই অংশ হয়ে থাকবে।
অসুস্থ
ক্ল্যাপটন যার বাজাবার কথাই ছিলনা, সে ক্ল্যাপটন
পুরো কনসার্টে একটা কর্ড মিস করলেন না... দিস ইজ
এরিক
ক্ল্যাপটন ফর ইউ।

বব ডিলান তো কনসার্টের আগের দিন থেকে একই