ইউজার লগইন

শাদা ময়লা রঙিলা পালে আউলা বাতাস খেলে

বিনোদন যে সবসময় সহজলভ্য নয়, তা যখন নিজেকে আয়নায় দেখি খুব টের পাই। বিনোদনের অভাবে এ শহরের ছেলে-শিশু-কিশোর বা অন্যরা সবাই কেমন নেতিয়ে পড়েছে। তাদের মাজায় জোর নেই। জিন্সের প্যন্ট মাজা বেয়ে নেমে আসতে চায়। একহাতে তাই টানতে টানতে ওরা পথ হাঁটে। ওদের অনিশ্চিত পথহাঁটা স্বউদ্যোগে আমার জন্য বেশ খানিকটা দুশ্চিন্তা বয়ে নিয়ে আসে। কারণ, আমি জানি বিনোদনশূন্যতা মানুষকে মাদক ও অবদমনের পথে ধাবিত করে। যা থেকে কোনো ফলপ্রসূ উৎপাদন সম্ভব নয়।
অবশ্য উঠতিদের কপালে বিনোদনের ভাগ্য না থাকলে কি হবে, পড়তিদের কিন্তু বিনোদনের অভাব নেই। আমি পড়তি গোত্রভূক্ত নই, সেই গোত্রে নাম লেখাবে আমার শত্রুরা; আমি কেন? তবে জীবিকার তাগিদে মাঝে মাঝেই তাদের কাজ-কারবার প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য হয়। সম্প্রতি সেরকম একটি সুযোগ পেয়ে ছেলে-পিলের বিনোদনের অভাব সংক্রান্ত উদ্বিগ্নতা মাথায় ঠাঁই নিয়েছে। এই উল্টোরাজার দেশে শেষতক উল্টো বিবর্তন শুরু হয় কি না, তা নিয়ে বিয়াপুক টেনশনে আছি।
সেদিন দুপুরে খাওয়া হয় নি। সকালের নাস্তার নামে যে ডাবল ডিমের ওমলেট আর গমের রুটিগুলো ভেতরে নিয়েছিলাম, সেগুলো পেটের ভেতরে বেশ জানান দিচ্ছিলো পড়ন্ত দুপুরেও। কারণ নাস্তা করেছিলাম বেলা একটায়। সেদিন এক ব্লগারের কাছে এ সময়টাকে সকাল বলে উল্লেখ করে অল্পবিস্তর ঝাড়ি খেতে হয়েছে। কিন্তু আমার দোষ নেই। ছোটকাল থেকে জেনে এসেছি, মানুষ সকালে ঘুম থেকে ওঠে। তাই নিজের ঘুম থেকে ওঠার সময়ই আমার কাছে সকাল।
অনুষ্ঠানটায় ঢোকার মুখে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কি কর্মসূচি, কি সমাচার কিছু জানি না। চলে এসেছি ঢাকনা দিতে। ইংরেজি কাভার করা শব্দটার এরচে’ ভালো অর্থ মাথায় আসছে না। বিরাট হলরুমটার প্রবেশপথ পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই ছোটখাটো ধাক্কা খেলাম, 'এখন আমাদের মধ্যে উপস্থিত হ’অয়েছেন স্বাধীনতার অন্যতম রূপক, রূপকার জননেতা বিক্রম তিওয়ারি।'
ওরে বাবা! দক্ষিণাঞ্চলের ভাষায়, এ যে সাক্ষাৎ গোরোয় পড়ে গিলাম। আমিও কি তবে উপস্থিত হ’অয়েছি? এই চিন্তা করতে করতে ঘুমানোর সুবিধা হয় এমন একটি চেয়ার খুঁজে বসে পড়লাম। যাক্ অনুষ্ঠান এখনো শুরু হয়ে যায় নি, এই বাচোঁয়া।
উল্লাস বেশিক্ষণ টিকলো না। কানের পাশে কান ফাটানো এক চিৎকার, মাইকের কল্যাণে হাজার গুণ বিবর্ধনসহ বিষ্ফোরিত হলো। বলা যায় চেয়ার থেকে পড়েই যাচ্ছিলাম আরেকটু হলে? হলোটা কি, মঞ্চে উপবিষ্ট রমণীমোহন চেহারার মধ্যমণিটির পাতলুনের ভেতর আরশোলা সেঁধিয়ে গেল না কি? ঠাওর করে দেখলাম, না। কয়েকজন গান গাইছে।
পলিটিক্যল পার্টিগুলো আজ-কাল সংস্কৃতিতেও মনোযোগী হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় বিকেলে দেখা যায়, একদল ছেলে-মেয়ে মিলে উচ্চস্বরে সঙ্গীতচর্চা চালায়। শোনো একটি মুজিবুরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি। এই তার ফলাফল? বাহ্। মানুষের সংস্কৃতি মনস্কতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ভুল ধারণা ভঙ্গ হলো।
তারপরও সঙ্গীতশুধার চেয়ে বড় অমৃত নেই। বসে বসে গান শোনার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সে রস আস্বাদনের চেষ্টায় ছেদ পড়ছিলো গানের মধ্যে মধ্যে পরিচিত লাইন কানে পড়ায়। বিষয়টা কি? একটা গানের ভেতর জাতীয় সঙ্গীতের দুইটি লাইন অবিকল একই সুরে গাওয়া হলো। কিন্তু ভালো করে শুনে দেখি সেটা ভিন্ন একটা গান। সুরও ভিন্ন। একসময় শুনলাম, ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না/ পাশে আছে তোমাদের লাখো জনতা’। নিজেকে প্রবোধ দিলাম, আমি বাঙাল তাই ভ্যরিয়েশন ধরতে পারছি না। এ বোধহয় নতুন কোনো ধারা। এক গানের ভেতর অন্য গানের লাইন ঢুকিয়ে দেয়া। সৌদি আরব গিয়ে বাঙাল যদি বলতে পারে -সবই ঠিক আছে কিন্তু আযান হয় বাংলায়, তখন আমারও এহেন হতবুদ্ধি হওয়া আস্বাভাবিক নয়।
তবে সব ছাপিয়ে কর্ণকুহরে যখন ‘ছোনালি ছবুজ এই বাঙলায় তোমরা আমাদের অহংকার’ প্রবেশ করে তখন অসাবধানতাবশত আমি ফিক করে হেসে ফেলি এবং তাই দেখে পাশের মুগ্ধ রাজনৈতিক শ্রোতা আমার দিকে অগ্নিমাখা দৃষ্টিবাণ নিক্ষেপ করেন। এতে আমি দমে গিয়ে পরের ফিকটিকে গিলে ফেলতে ব্যর্থ হই এবং দন্তপাটি বিকশিত হয়ে পড়ে। ওরা যে আহত হচ্ছে, সেটুকু বোঝার বোধশক্তি আমার আছে। দ্রুতই নিজেকে সংবরণ করি। কি হচ্ছে এসব?
একটি অনুষ্ঠানে বক্তা বা বিদগ্ধজনদের মঞ্চে ওঠানো হয় যাতে আমজনতা তাকে ভালো করে দেখতে পায়। কিন্তু সামনে একপাল সঙ্গীতজ্ঞের উৎপাতে আমি উপবীষ্ট জনদের নড়াচড়া ঠিকমতো ধরতে পারছিলাম না। যদিও পরে এদেরকে কোণার দিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো কিন্তু আমার ঢাকনা দেয়ার কাজ ঠিকমতো না হলে সন্ধ্যায় বসে্র মার একটাও মাটিতে পড়বে না, জেনেও নড়ছিলাম না। রাজ্যের আলসেমী ভর করেছিলো শরীরে। তখনই আবার কান ফাটানো চিৎকার। এটা দলের সবচে’ ধাড়ি পুরুষটির কাণ্ড। ভালভালাই চলতে চলতে হঠাৎ করে ব্যটা ‘ও নদীরে’ টাইপ টান মেরে দিচ্ছে আর সঙ্গে বোধহয় মাউথপিসটায় একটা করে কামড়। এরই মধ্যে ডায়াসে ঘোষক দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমাকে ভীষণ রকম অবাক করে দিয়ে খেঁকিয়ে উঠলেন, এই তোমরা থামো।
কয়েকটা ছেলে-মেয়ে গান গাচ্ছে। ওদের নিশ্চই একটি গানের দল আছে এবং ওদেরকে নির্ঘাৎ আমন্ত্রণ করে গান গাইতে আনা হয়েছে। ওদের সঙ্গে এহেন ব্যবহার সভ্যসমাজে কতটুকু গ্রহণযোগ্য জানি না। কিন্তু স্বীয় চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ভঞ্জনের পর নিশ্চিত হলাম রাজনীতির মাঠে থুড়ি মঞ্চে সবই সম্ভব।
ঘোষণা আসলো, আমাদের মধ্যে উপস্থিত হ’অয়েছেন ৩০ লক্ষ শহীদ আর আড়াই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার অন্যতম ধারক অনুপম শেঠ। এমনভাবে আড়াই লক্ষ মা-বোনের বিষয়টি উল্লেখ করলেন যে আমার মনে হলো, এর বেশ ক’জন নিশ্চিতভাবেই তার নিজের ঘরের ছিলেন। যে কারণে বেদনা সইতে সইতে এত পাথর হয়ে গেছেন যে, ভরা মজলিসে, মাঠে-ময়দানে বুক ফুলিয়ে এ দম্ভ প্রকাশ করতে তার কুণ্ঠাবোধ হয় না মোটেও। আমি তো যতবার এ লাইনটা শুনি ততবার নিজের ভেতর কুঁকড়ে যাই। এহেন অন্যায়ের বোঝা মানবজাতির ওপর যে পশুরা চাপিয়ে দিয়ে গেছে তাদের প্রতি বিবমিষায় মুখ ভরে ওঠে। দেখলাম ঘোষকের মুখ চকচক করছে। যেন সংখ্যাটা আরো বেশি হলে আরো উল্লাস পেতো।
তার ঘোষণাগুলোও অদ্ভুত। বুঝলাম না, একটা মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ধারক হয় কিভাবে? ইতোমধ্যে ঘোষকের বক্তব্য অনুযায়ী আরো অনেক বাঘা বাঘা অতিথি উপস্থিত হ’অয়েছেন। তারা মঞ্চে ভীড় করা শুরু করেছেন। পুরো ব্যপারটার মধ্যে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা জড়িয়ে আছে। মঞ্চে কে কোথায় বসবে তার ঠিক নেই, এমনকি পর্যাপ্ত সংখ্যক বসার জায়গাও নেই। একজন অতিথি আসলেন হুইল চেয়ারে বসে। মঞ্চে ওঠার দু’টো রাস্তাই ধাপসর্বস্ব। তাই দু’জন ষন্ডা রাজনীতিককে দেখলাম দু’দিক থেকে হুইল চেয়ার ধরে মঞ্চে উঠে গেলেন। তাদের শক্তিক্ষয়ের নিমিত্তে বৈতরণী পার হলেন চেয়ারের বাসিন্দাও। ওদিকে গানের দল এখনো নিজেদের বাঁয়া-তবলা আর হারমোনিয়াম নিয়ে কাঁচু-মাচু হয়ে মঞ্চের এককোণে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দিকে যেন কারো খেয়ালও নেই। ঘোষক নানা আবোল-তাবোল বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যার সারকথা অর্থহীন এবং খানিকটা দুর্বোধ্যও বটে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এ লোক আসলে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা চালাচ্ছে। হয়তো প্রধান অতিথি এখনো এসে পৌছায় নি। আসলেই শুরু হবে অনুষ্ঠান। মাঝখানে একটা বিরক্তিকর সময় পার করে দেয়ার দায়িত্বটুকু পড়েছে এর হাতে। এরই মধ্যে গানের দলের সবচে’ কনিষ্ঠ সদস্যা, ওর বয়স বোধহয় চার-পাঁচ হবে, মাউথপিসে জানতে চাইলো; আমরা কি চলে যাবো?
সম্মিলিত একটি হাসির রোল উঠলো। এতক্ষণ বিরক্ত হওয়া অডিয়েন্সের অনেকেই আমার মতো বোধহয় হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। আসলেই একটা পজ্ খুব দরকারি হয়ে পড়েছিলো। শিশুটিও দেখি ফোকলা দাঁতে ফিক করে হেসে দিয়েছে। ঘোষকের পরুত্তরাধুনিক প্রোনাউন্সিয়েশন আর বাক্যগঠনের তোড়ে আরেকটু হলেই সবাই ভেসে যেতো বানের জলের সামনে পড়া খড়কুটোর মতো।
যাক্ টেনশন খানিকটা রিলিজ হওয়ায় দেখলাম মঞ্চের বাঘারাও নড়েচড়ে বসলেন। অনুষ্ঠান শুরুর জন্য তাগাদা দিলেন ঘোষককে। কপালটা ভালো, সে সময় প্রধান অতিথি হলরুমে ঢুকে পড়লেন। সঙ্গে শ’খানেক ভাড়াটে শ্লোগানদাতা। বদ্ধ অডিটোরিয়ামের ভেতর স্লোগানের শব্দ, মাইকের কু কু, করতালি ইত্যাদি মিলে একটি ভজঘট যখন লেগেই গেল, তখন পাশের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীটিকে আমার আসনখানি দেখভালের কাতর অনুরোধ জানিয়ে, বাইরে বেরিয়ে আসলাম। একটা সিগারেট না খেলে আর হচ্ছেই না। এখনো অনুষ্ঠান শুরুই হয় নি। এরই মধ্যে কত কি ঘটে গেল!
এবার হলের ভেতরে ঢুকতেই কেমন জানি পিছলে পড়ে যেতে ধরেছিলাম। তাড়াতাড়ি সামলে না নিলে হয়তো ঘটনা একটা ঘটেই যেতো। সিটে বসতে বসতে কানে ঢুকলো, ’৭১-এ যাদের বক্তব্য শুনে শরীরের লোম দাঁড়া হয়ে যেতো, আজ তাদের সঙ্গে একমঞ্চে বক্তৃতা দিতে পারছি এ আমার সৌভাগ্য।
আমি এ লাইনটির কিছুটা অশ্লীল একটা অর্থ তৈরী করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু খুব বেশি সুবিধা করতে পারলাম না। আজ না হয় ব্যাটা পাতলুন পড়েছে, তখন নিশ্চই টাইট ফিটিং প্যন্টই পড়তো। সেসময় চল ছিলো টাইট ফিটিং স্ট্রেইট প্যন্টের। উহু, সম্ভব না, কিংবা সম্ভব হলেও কঠিন। অবশ্য এ বক্তব্য দাঁড় করাতে না পারলেও, হলে ঢোকার মুখে পিছলে পড়তে ধরার কারণটা উদ্ঘাটন করে ফেললাম। মঞ্চে চলছে তেল বইয়ে দেয়ার মহড়া। একটা কন্টেইনার থাকলে খানিকটা তেল ধরে নিয়ে যেতে পারতাম। একটা বড়সড় সুযোগ মিস হয়ে গেল।
এরই মধ্যে আরেক সার্কাস হয়ে গেল। নিজেকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি না করে সীটে গ্যাঁট হয়ে থাকার সুবাদে ঘটনাটি মিস্ না করে বসার জন্য। মঞ্চে একজন নারী রাজনীতিক ক্যমেরা হাতে উঠে পড়েছেন। তিনি ক্যমেরা চালানোয় দক্ষ নন, বুঝতে বেগ পেতে হলো না। তবে তার হাতের যন্ত্রটি যে ক্যমেরা নয়, মোবাইল; সেটি বুঝতে যথার্থই বেগ পেলাম। মহিলার শরীরিভঙ্গি ছিলো মোটামুটি ফিশ আই লেন্স লাগানো টোটাল প্রফেশনাল নাইকন চালকের মতো। একবার তো তিনি প্রধান অতিথির টাকের ওপর ঝুঁকে সামনের টেবিল আর মামের বোতলগুলো নিয়ে কি যে কম্পোজিশন করলেন, আমার ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ধরতেই পারলো না।
হঠাৎ কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়লাম যখন তাকে মঞ্চের একদম কিনারায় এসে ঊর্ধ্বঙ্গটা কোমরের ওপর থেকে কিছুটা পেছনে বাঁকিয়ে এ্যক্রোবেটিক স্টাইলে ছবি তোলার কসরৎ করতে দেখলাম। মঞ্চ মেঝে থেকে অন্তত পাঁচ ফুট উঁচু। পড়লে খবরই আছে। বুঝলাম মোবাইলের ক্ষুদ্র স্ক্রীনে বিস্তৃত টেবিল পুরোটা আসছে না। ভদ্রমহিলার তাই অতো কসরৎ। মনে মনে বললাম, ফেলে দিও না ঠাকুর। মহিলা মানুষ, ভীষণ ব্যথা পাবে।
ঠাকুর বোধহয় কথা শুনলেন। সে যাত্রা কোনো অঘটন ঘটলো না। এরপরে এক মাচোম্যান উঠে এলেন মঞ্চে। তার হাতে মেগাপিক্সেলের হিসেবে গোণা ডিজিটাল ক্যমেরাগুলোর একটি। পরনের গেঞ্জির হাতা ছোট হয়ে বাইসেপের সঙ্গে খাপ খেয়ে বসে গেছে। লাল স্ট্রাইপের গেঞ্জি ও সুতির কালো প্যান্ট। দর্শনীয় সব হাতের মোচড়ে ক্যমেরা পাকড়াও করছিলেন তিনি। দেখে আমার মনে এসেছিলো দুইটি কথা। প্রথমতঃ গোলগলা গেঞ্জি ইন্ করে পড়ে আসার মাজেজা নিশ্চই ভিন্ন হবে, কেননা এ ধরনের গেঞ্জি পড়ে শোবার ঘরের বাইরে আসাটা ইংরেজদের মতো আমার কাছেও ঝকমারি মনে হয়। দ্বিতীয়তঃ সেটা সুতি কাপড়ের প্যান্টের সঙ্গে ইন্ করা হয়েছে কেন? নিচে আবার চকচকে নতুনদা’ মার্কা পাম্প সু দেখা যাচ্ছে। এহেন বৈসাদৃশ্য বোধহয় ঠাকুরেরও সহ্য হলো না। এই লোক কিনার থেকে ছবি নিতে গিয়ে হাড়-গোড়ে মটমটাশ শব্দ তুলে মঞ্চ থেকে পড়ে গেলেন।
আমার জীবনে এমন ঘটনা আর দেখি নি। ফলে এ ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে কি করতে হয় জানতামও না। উচ্চস্বরে হেসে উঠতে গিয়েও সফলভাবে চেপে গেলাম। তবে হলের সবাই যে পারেন নি সেটা পরিস্কার হয়েছিলো পরের মুহূর্তেই।
ইতোমধ্যে মহিলা ক্যমেরাম্যান আবার উঠে এসেছেন মঞ্চে। ডামাডোলের মধ্যে কোনোকিছুই হয় নি এমন ভাব করে এবার তিনি প্রধান অতিথির কানের ওপর দিয়ে টেবিলের একটা লম্বা শট নিলেন। তখন আমার ওই পতিত লোকটির জন্য একটু মায়াই লাগলো। আহা, বেচারা কেমন ক্যমেরা ধরা দুই হাত ভাঁজ করে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাইসেপগুলো ফুলাচ্ছিলো। মনে হয় নিয়মিত ওগুলোর ওপর দিয়ে ডাম্বেল-মুগুরের ঝড় বয়ে যায়। একটা জিনিস অবশ্য বুঝতে পারছিলাম না, ছোট্ট ক্যমেরাটা ধরতে কি এতই শক্তি লাগে যে ওভাবে পেশীর ওঠা-নামা শুরু হয়? না বোধহয়। ওটা মনে হয় উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ছিলো। আর পড়ে যাওয়াটা আসলে সুতো ছিঁড়ে যাওয়া। যুব সমাজকে রবার্ট ব্রুস হতে হবে। একবার না পারিলে দেখ শতবার।
এ ঘটনায় কিঞ্চিৎ উত্তেজনা তৈরী হলো। বিশেষত হুইল চেয়ারে উপবীষ্ট নেতা মুখ বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন সামনে ঘটনাটা আসলে কি ঘটেছে। হুইল চেয়ারের ভেতর কচ্ছপ হয়ে বসে থাকায় সেটা তার জন্য একটু কষ্টসাধ্য ছিলো। বুড়ো কষ্টকর কাজটি আগ্রহসহ করা শুরু করলেন।
দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ঘোষক উত্তেজিত মুখে ঘোষণা দিয়ে বসলেন, এবারে বোকতিরিতা দিবো আম্গো সবার প্রাণের ন্যাতা প্রধান অতিথি আব্দুল করিম জব্বরিয়া। আর সহ্য হলো না। দেখলাম ন্যাতাও কেমন নেতিয়ে গেছেন। উঠে দাঁড়ালাম। এটা শেষ হলে পালিয়ে বাঁচতে হবে। ঘাট হয়েছে দুপুরে না খেয়ে বেরিয়েছি। আর কোনোদিন বেরুবো না। খালি পেটে এত বিনোদন অসহ্য।
---

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


মীর কি আর রম্য লিখেছে?
এইটা বলে বিদায় নেই।
ঠান্ডা মাথায় পড়ে কমেন্ট করবো Smile

মীর's picture


আপনের জন্য পুরুস্কার আছে। পরে দিবো এবং কিজন্য সেটা বুঝে নেন। Big smile

লীনা দিলরুবা's picture


মাথা চুলকানোর ইমো দিলাম,।ধরতে পারছিনা Sad
পুরুস্কার পেয়ে নিলে হয়তো বুঝতে পারবো Smile

মীর's picture


শুক্রবার মাথা একটু চুলকাবেই Big smile
আছেন কিরাম?

লীনা দিলরুবা's picture


আছি Smile

তানবীরা's picture


মীর আপনার সাথে যখন দেখা হবে, মনে করাবেন সিলটি রবীন্দ্র সংগীত থেকে সুনীলের খেউ খতা রাকেনি শুনিয়ে দিব। লাইফ টাইম এক্সপিরিয়েন্স, বুলবেন না Wink

মীর's picture


উখে মনে করায় দিবো। Smile
আপনে দেশে আসেন না ক্যান?

তানবীরা's picture


আপ্নে টিখট দ্যান না ক্যান?

মীর's picture


১০

তানবীরা's picture


মাথায় বারি দিয়া টিখট আইত্তোনো। মাতা আস্তাই রাইখুন Smile

১১

লিজা's picture


হাহাহাহাহা Laughing out loud
আপনার ঠাকুর মহিলাদেরকে লাইক করেন বেশী ।

তানবীরা আপু, খেউ খতা রাকেনি অডিও রেকর্ড করে ইউ টিউবে ছেড়ে দেন , আমরাও শুনি টিসু
তবে সেলিম চৌধুরীর গান শুনি তো, আপনারটা হৃদয়ে তেমন আঘাত করবে বলে মনে হয় না ।

১২

তানবীরা's picture


সেলিম চৌধুরী কোন ব্যাটা? লিঙ্ক কই? পুলাপান রেফারেন্স ছাড়া খতা খয় ক্যান? আমার আজকে ঘুম হবে না। লিজা কালকেই ফেসবুকে লিঙ্ক পাঠাও Wink

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


Laughing out loud

মজাস্য মজার।।

দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ঘোষক উত্তেজিত মুখে ঘোষণা দিয়ে বসলেন, এবারে বোকতিরিতা দিবো আম্গো সবার প্রাণের ন্যাতা প্রধান অতিথি আব্দুল করিম জব্বরিয়া।

হাহামগেরে ভাই.........।

জিন্সের প্যন্ট মাজা বেয়ে নেমে আসতে চায়। একহাতে তাই টানতে টানতে ওরা পথ হাঁটে।

এই যাতনায় বড় শরমের মধ্যে পড়ি, মাঝে মাঝে ছেলেদের নিম্নগামী জিন্সের প্যান্ট চোখের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে Sad

১৪

জ্যোতি's picture


ঊর্ধ্বঙ্গটা কোমরের ওপর থেকে কিছুটা পেছনে বাঁকিয়ে এ্যক্রোবেটিক স্টাইলে ছবি তোলার কসরৎ করতে দেখলাম।

এরম করে আমার খুপ প্রিয় একজনরে একটা ফটুক তুলতে দেখছিলাম। Big smile Tongue

জিন্সের প্যন্ট মাজা বেয়ে নেমে আসতে চায়। একহাতে তাই টানতে টানতে ওরা পথ হাঁটে।

আসলেই শরম লাগে।
ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেতে খেতে মজার একখান পুষ্ট পড়লাম। মীররে ধইন্যা পাতা

১৫

মীর's picture


দুইটা বাজে। আমি পর্যন্ত এখন খিচুড়ি+খাসির মাংস+সালাদ খাবো। আর ইনি খান নাস্তা??Surprised
ফটুক তুলতে কারে দেখছিলেন? আমি একজনরে একবার একটা রুমান্তিক পোজ দিতে দেখছিলাম, তিনি নিজে বাঁকেন নাই কিন্তু পৃথিবীটা মনে হয় বেঁকে গিয়েছিলো। আর তিনি সোজা হয়ে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন প্রাণপনে। Big smile
সেই ভদ্রলোক আমারো খুব প্রিয়। আর রাসেল ভাই কি কুলখানি দিছে? জিগায়েন তো।

১৬

জ্যোতি's picture


আমি তো ঘুম থেকে উঠলাম ১২.১৫ টায়। Big smile খাসির মাংস খাইনা। Sad
কারে দেখছিলেন এমুন পোজ দিতে। আমি তো ভদ্রলুকরে দেখি নাই, ভদ্রবালিকারে দেখছি। Tongue
রাসেলের নাকি জ্বর। সে এখন ঘি দিয়া খিচুড়ী রানছে।এক্লাই খাবে। বদ পুলা।

১৭

রাসেল আশরাফ's picture


খিচুড়ীতে লবণ বেশি হয়ছে।। টিসু টিসু টিসু

১৮

জ্যোতি's picture


সান্তনা খেয়ে ফেলেন ব্যাপর না। Tongue
পরে দুটা আলু সিদ্ধ করে সাথে দিয়ে দিয়েন। লবণ কমে যাবে।নাইলে লবণ ছাড়া কিছু রেঁধে সাথে খান Tongue
নির্ঘাত মীর আপনের খিচুড়ীতে নজর দিছে এজন্য লবণ বেশী হইছে। মীরের বাসার খিচুড়ী আপনারে পাঠাতে বলেন।

১৯

রাসেল আশরাফ's picture


মীর দিন দিন বদ হয়ে যাচ্ছে। খালি মানুষের জিনিসের দিকে নজর দেয়। মাইর মাইর মাইর

২০

জ্যোতি's picture


আর কি করছে? কথাটা সন্দজনক লাগতাছে। Fishing

২১

সাহাদাত উদরাজী's picture


Smile

২২

জ্যোতি's picture


শুনতে পারেন

২৩

শওকত মাসুম's picture


দেখতে জানলে কে কয় এই দেশে বিনোদনের অভাব?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!