নদীর বুকে বৃষ্টি ঝরে পাহাড় তারে সয় না
আজকাল খারাপভাবে টিকে থাকাই মনে হয় জীবন। ভালো থাকা কি সম্ভব? আর কখনো? আমি মাঝে মাঝে বিষয়টা ভাবি। আমার ভেতরে বেঁচে থাকার একটা প্রবল তৃষ্ণা সবসময় কাজ করে। যে কারণে কথাটা ভাবতে হয়।
সেদিন দেখলাম এক বন্ধু ইমেইল ঠিকানা লিখেছে নোহয়্যার অ্যাট গার্ল। নোহয়্যার? কোথাও না। আমার মনে পড়ে গেল নোহয়্যার ইন আফ্রিকা'র কথা। সিনেমাটায় ওবুয়া চরিত্রটা ছাড়া আরেকটি চরিত্র মনে নাড়া দিয়ে গিয়েছিলো। ছোট্ট মেয়েটি- আদর করে যার বাবা ওকে 'ছোট্ট পরী' ডাকতো। সে যখন প্রথমবার জামার্নি থেকে সুদূর কেনিয়ায় বাবার খামারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তার মা মাত্র একবার তাকে সাহসী হতে বলে দিয়েছিলো। আমি পুরো সিনেমায় মেয়েটিকে সাহসীই পেয়েছি।
দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফির কল্যাণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজি বাহিনীর ইহুদী বিদ্বেষের স্বরূপ এত পরিস্কার স্ক্রীনে ভেসে উঠেছে যে, পুরো সিনেমা একদমে বুঝে ফেলতে অসুবিধা হয়নি একটুও। এটা সিনেমার সবচে' শক্তিশালী দিক। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ নাজি-ইহুদী সংঘাততো আসলে বহুল আলোচিত, বহুল চর্চিত এবং আরো অনেক রকম বহুলে সমৃদ্ধ একটা বিষয়। এ নিয়ে বিখ্যাত সিনেমা নোহয়্যার ইন আফ্রিকা'য় আরো ভালো কিছু চেয়েছিলাম। কিন্তু একটা কথা আবারো বলতে হচ্ছে, সাদামাটা কাহিনীটাও এত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে যে শুধু এ কারণেই ডিরেক্টর ক্যারোলিন লিঙ্ক'কে একটা বিগ হাগ দেয়া যায়।
সিনেমার পুরুষ চরিত্র অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক, তার স্ত্রী'র চরিত্রটি কিছুটা লুম্পেন প্রকৃতির তবে বুদ্ধিমত্তায় স্বামীর চেয়ে এগিয়ে। স্বামীর ইহুদী বন্ধুটির চরিত্র দৃঢ় এবং ব্যক্তিত্বও আকর্ষণীয়। প্রত্যেকের সুঅভিনয় চরিত্রগুলোকে প্রাণও দিয়েছে সেভাবে। ওবুয়া'র কথা বলা হয় নি। সে একটা গ্রেট ম্যান। মুভিটা এক কথায় দারুণ লেগেছে! এই সিনেমার নোহয়্যার ছিলো আসলেই একটা নোহয়্যার। আজকাল আর অমন নোহয়্যার পাই কোথায়?
মাঝে মাঝে নিজের ওপর খুব বিরক্ত হই। সবাই তো আর আমি যেটা বলবো, যেটা বোঝাতে চাইবো; সেটাই বুঝবে, এমন নয়। যে যে যার যার মতো করে বুঝবে। এটাই স্বাভাবিক। জানি, তাও আমি কেন এত কথা বলি? আজব্। আচ্ছা বাদ দিই এসব বাইক্কা প্যাচাল। প্রাসঙ্গিক একটা কৌতুক মনে পড়েছে। আমার কৌতুকের বিশেষ ডিসক্লেইমার হচ্ছে, হাসি না পেলেও ঠা ঠা করে হাসতে হবে। বাধ্যতামূলক।
স্কুলে নতুন আসা ম্যাডাম একটা ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছে, অ্যাই বলোতো একটা পুকুরে তিনটা হাঁস। গুলি করে একটাকে মেরে ফেলা হলো। বাকী থাকে কয়টা হাঁস? ছেলেটা বললো, একটাও না ম্যাডাম। একটা হাঁসকে মরতে দেখে বাকীগুলো পালিয়ে যাবে।
ম্যাডাম বললেন, এক সেন্সে তোমার কথা ঠিক। কিন্তু আমি আসলে ওভাবে বুঝাই নি। এখানে একটা হাঁস গুলিতে মরে গেলে বাকী থাকবে তিনটা হাঁস। পিচ্চিপাচ্চাদের ক্লাস। পাশ থেকে এক ছেলে বলে উঠলো, তাহলে ম্যাডাম আমার একটা প্রশ্ন আছে।
-বলো তোমার কি প্রশ্ন।
ম্যাডাম মনে করেন, তিনটা মেয়ে বাজারে গেছে। বাজার শেষে সবাই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। গরমে ঘেমে একসা। তো বাইরে এসে তিনজনে ঠিক করেছে আইসক্রীম খাবে। আইসক্রীমওয়ালার কাছ থেকে তিনটা কোন্ নিয়ে তিনজনে খেতে লাগলো। একজন খেল কামড়ে কামড়ে, একজন চুষে চুষে আর একজন চেটে চেটে। বলুন তো ম্যা'ম এ তিনজনের মধ্যে কে ম্যারেড?
কি টাল্টু ছেলেরে বাবা, ম্যাডাম ভাবতে ভাবতে বললেন; মাঝের জন। যে আইসক্রীম চুষে খেয়েছে।
ছেলেটা এক গাল হাসি দিয়ে বললো, এক সেন্সে আপনার কথাটা ঠিক ম্যা'ম। মাঝের জনই হবেন হয়তো। কিন্তু আমি ওভাবে বুঝাই নি। এখানে কোন্ খাওয়ার সময় যার আঙুলে বিয়ের আঙটি দেখা যাবে, তিনি হবেন ম্যারেড।
---
(লেখার শিরোনামের জন্য শিরোনামহীনের প্রতি কৃতজ্ঞ।)





বন্ধু মনে হয় বিটলস'এর Nowhere Man থেকে নামটা নিসেন।
কি বিটলা ছেলেরে বাবা! কি সব জুক্স বলে!
কারো পোষ্টে, গল্পে যখনই কোন মুভির কথা শুনি, ভাবি এটা দেখবো। তারপর আর হয়ে উঠে না। সেই অবসর আয়েশের সময়টুকুই আজকাল আসে না ।
ভাবনাচিন্তা-সিনেমাকথন-আত্মকথন এবং জোক, মীরের কোথায় শুরু হয়েছিল কিন্তু কোথায় গিয়ে শেষ হলো বুঝতে পারলামনা গোছের লেখাগুলোও ভালু পাই।
লেখা বুঝি নাই তয় জোক্সটা বুজেছি।

==========================
বৃষ্টি নিয়ে ই-বুকের লেখা পাঠান ৩০ ই এপ্রিলের মধ্যে এই ঠিকানায়:
amrabondhublog@gmail.com
শিরোনাম ও জুক্স- দুটোই দারুণ।
জোক্স টা ব্যাপক
হয়না এমন তো হয়না.... নদীর বুকে বৃষ্টি ঝরে পাহাড় তারে সয় না
ছবিটা দেখিনাই । গুগলে চরিত্রদের দেখে আসলাম । ছবিটা দেখার আগ্রহ জাগ্লো ।
sbs tvর কল্যাণে ছবিটা দেখা হয়েছে,মেকিংটা ভাল
ছবিটা দেখতে হবে। আর কোন আইসক্রিম খাওয়াও লক্ষ্য রাখতে হবে
শিরোনামহীনের এই গানটা এক সময় দিনরাত শুনতাম। বিশেষ করে ৬৯ দেখার পর। লেখাটা মীর মীর হয় নাই
মন্তব্য করুন