বৃষ্টিকথা
মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমার পড়াশোনা খুবই সীমিত। কিন্তু তা বলে আগ্রহ সীমিত এমন ভাবা যাবে না। বরং মনস্তত্ত্ব বুঝতে চেষ্টা করাটা আমার একটা শখ বলা যেতে পারে। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম মজার বিষয় আছে। লেখক হুমায়ুন আহমেদ নেত্রকোণার কুতুবপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। কি মনে হলো, একদিন তিনি ঘুরে দেখতে গেলেন সেই স্কুল। সঙ্গে নিয়ে গেলেন কিছু চাবি।
সেসব চাবি দিয়ে তাঁর দরজা খুলে দেয়ার ইচ্ছে ছিলো। শিশুদের জন্য সৌভাগ্যের দরজা। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে সেখানে দেখলাম সবসময় বেশ ব্যস্ত। মাইকে একটা কথাও বলার শুরুতে ‘অ্যাই শোনো আমি কিন্তু আজ কথা বলতে আসি নি’ বলে শুরু করছেন। অ্যাই শব্দ দিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে তিনি সম্বোধন করছেন। তারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
তো আমি সেখানে তার মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করছিলাম। মানুষ কেন সবসময় নিজের চারপাশে একটা ক্যামোফ্ল্যজ তৈরী করে রাখে? সবাই’ই দেখা যায়, কথা বলার সময় মুখে হাসি ধরে রাখে কিংবা অনেক রকম চিন্তা-ভাবনা করে কথা বলে। এ সবই নিজেকে আড়াল করার খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আর এ থেকেই শুরু হয় পরবর্তী বড় বড় প্রচেষ্টাগুলো।
এ সবকিছুর কারণে একটা মানুষ আসলে ডিসপ্লে’তে একরকম, কিন্তু ভেতরে অনেক অন্যরকম। যারা মানুষটির সঙ্গে সবসময় মেশে যেমন- স্বামী বা স্ত্রী; তারা হয়তো বেশ খানিকটা জানেন। কিন্তু তবুও একটা মানুষ সম্পর্কে শতকরা একশ’ ভাগ, অন্য আরেকজন মানুষ কখনো জানতে পারে বলে মনে হয় না। এর মানে কি, মানুষ সারাজীবন বাইরের পৃথিবীর কাছে খানিকটা আড়ালেই থেকে যায়?
আমি জিনিসটা নিয়ে টেনশনে আছি। মানুষের জীবন অনেক অদ্ভুত। আমার প্রায়ই মনে হয়, আজ যদি কোনো কারণে আমি মারা যাই, সেক্ষেত্রে কি হবে? এ্যপল-এর সিইও স্টিভ জবস্ নাকি প্রতিদিন সকালে এ কথাটা ভাবেন। যাক্ নিজের কথায় আসি, মৃত্যূবরণের প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমেই আমার যেসব বদ গুণাবলী আছে সেসব লুকোনোর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে মানুষ সেগুলোর খোঁজ না পায়। দ্বিতীয়ত আমি না থাকলে মানুষ যেন আমার অভাবটুকু অনুভব করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কাজগুলো করা কঠিন নয়। প্রথমত বদ গুণাবলীর চর্চা খুব সন্তপর্ণে করতে হবে। যাতে হঠাৎ একদিন থেকে আমি আর সেসব করতে না পারলেও, অন্যরা যেন কোনো পার্থক্য না ধরতে পারে। এবং দ্বিতীয়টির জন্য মানুষের ভেতর নিজের প্রয়োজনীয়তা তৈরী করতে হবে।
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তো উপায় বের হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়নের ইচ্ছা জোগাড় করা দরকার। ইচ্ছা খুঁজতে ধর্ণা দিলাম স্টিভ জবস্এর প্রোফাইলেই। প্রথমে খুঁজলাম কিভাবে সন্তপর্ণে আমার দুষ্ট আমিটাকে লুকিয়ে রাখা যায়। নাই। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার আগ্রহ নাই, আর তাঁর কর্মজীবন-দর্শন ইত্যাদিতে সেই সমস্যার সমাধান নাই।
রাতে ঘরে ভাসমান নিকোটিনের ধূম্রজাল কাটানোর জন্য যখন এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করছি তখন সমাধান মাথায় আসলো। সিগারেটের গন্ধ ঢাকার জন্য এয়ার ফ্রেশনার ছিটাতে কেউ আমাকে শিখিয়ে দেয় নি। এটা কাউকেই শেখাতে হয় না। তারমানে নিজেকে লুকিয়ে রাখাটা মানুষের নিজেকেই শিখতে হয়। যে যে যার যার মতো করে সেটা করে। আর সে কারণেই মৃত্যূর পর কারো খারাপ কাজ মানুষের স্মৃতিতে থাকে না। বদ গুণাবলী শেষ পর্যন্ত লুকোনোই থেকে যায়।
দ্বিতীয় সমাধানটা খুজেঁ পেলাম ভদ্রলোকের প্রোফাইলে। অলওয়েজ স্টে ইন আ কী পয়েন্ট। একটা কী পয়েন্টে থাকুন। চাবি হয়ে থাকুন। আর সেটা করতে পারলে’ হুমায়ুন আহমেদই বলি আর যার কথাই বলি, আপনাকে খুঁজে নিয়ে যাবে। টেনশনের কিছু নাই।
আমার চিন্তাগুলো সাধারণত বিক্ষিপ্ত ধরনের হয়। পরে সবগুলো ডট’কে একসঙ্গে জোড়া দিতে পারি না। এটা হচ্ছে কি, এক ধরনের ধ্যান। অনবরত সবগুলো ডট’কে জোড়া দেয়ার চেষ্টা করে যাওয়া। আমার মনে হয়, ছোট ছোট ঘটনা জোড়া দিয়ে দিয়ে এগুতে থাকলে একদিন পুরো পৃথিবীর একটা ইতিহাস খুঁজে বের করা সম্ভব। কারণ পৃথিবী তো একবারই জন্মেছে এবং একবারই এতটা পথ অতিক্রম করেছে, তাই না?
আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, মানুষ যা মন থেকে চেয়েছে তা পেয়েছে। একটা কিছু সত্যি সত্যি পাওয়ার জন্য সেটা মন থেকে চাইতে হবে আগে। গভীরভাবে কোনকিছু চাইলেও পাওয়া যায় না, এ কথাটা কেবল মৃত ব্যক্তিদের বেলায় সত্য। চাইলে পৃথিবীর সবচে’ সাধারণ মানুষটি হঠাৎ সবচে’ দামী মানুষ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটা চাইতে বসলেই ভয় হয়। মনে হয়, আমিই কি সেই সাধারণ মানুষ? যার সবচে’ অসাধারণ হয়ে ওঠার কথা? আমি বলি, হ্যাঁ। আপনিই সেই অনন্য মানুষটি, যার পথ আগলে থাকা রৌদ্রকরোজ্জ্বল চূড়াটিতে উঠে কপালে হাত দিয়ে সূর্য্যের ঠিকরে পড়া আলো ঠেকিয়ে সামনে রাস্তা কোনদিকে, সেটা দেখার এবং অন্যদের দেখানোর কথা। এতদিন ভয় পেয়ে পেয়ে নিজের কাজে অনেক ফাঁকি দিয়েছেন। এবার দয়া করে দায়িত্বটুকু বুঝে নিন।
বৈশাখ মাস চলছে। প্রায়ই ছোট-বড় কালবৈশাখী চলছে। বৃষ্টির ছাঁট যখন মুখে-চোখে বাড়ি দেয়, তখন আমি আবেগে সিক্ত হই। ইচ্ছে করে বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু বৃষ্টিকে কি আর সত্যি সত্যি জড়িয়ে ধরা যায়? শুধু শরীরে শরীরে শিহরিত হওয়া যায়। ঠান্ডা ভেজা জলে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া যায় অকাতরে। আমি যদি পারতাম তাহলে, অণুতে-পরমাণুতে ভেঙ্গে মিলিয়ে যেতাম। ছড়িয়ে পড়তাম পুরো পৃথিবীময়। আমার বৃষ্টির মতো করে নিজেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে ইচ্ছে করে প্রায়ই। তাই বসে বসে এতগুলো কথা বলে ফেললাম। সবাইকে ধন্যবাদ।
---





ডায়রি ভাল হইছে। ঝড় হইলে আমার হয় উল্লাস, একদম আদিম আদিম সব ধ্বংস হয়ে চুরমার হয়ে যাক ধরনের উল্লাস। ঐটা ফাটাফাটি।
ও মীর, ক্যামেরন ক্রোয়ের একটা মুভি আছে, এলিজাবেথটাউন, সাউন্ডট্র্যাক শুনতে শুনতে মনে হইল এইটা আপনার পছন্দ হবে। মানে মুভিটা। দেইখা ফেইলেন সময় করতে পারলে।
হুম।
একথাগুলোর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হলাম। ধন্যবাদ। আমিও বিশ্বাস করি, মানুষ মনে-প্রাণে চাইলে তা অর্জন করা তার খুব কঠিন নয়।
তবে, আরেকটি বিষয়ও লক্ষ্যণীয়।অনেক সময় সেই চাওয়াটা বাস্তবায়ন করার জন্য লেগে থাকলেও তা অধরা থেকে যায়। তখন আমার মনে হয়, বিষয়টি তার সাথে Suit করেনা। সেক্ষেত্রে সেটা নিয়ে পড়ে থাকারও কোনো অর্থ হয়না।
সত্যি তো। শরি আসলেই গ্রেট এন্ড গ্রেট।
খাইছে। এইটা দেখি জটিল আর কঠিন মনস্তাত্তিক লেখা হৈছে
বৃষ্টি আসলে আমরো অন্যরকম এক ভালোলাগায় মন ভরে যায়। বৃষ্টির সাথে বাঙালির কিছু একটা আছে। কালবৈশাখিও ভালো লাগে শুধু ক্ষতিটা ছাড়া। আচ্ছা, এই বয়সেই আপনার এত হতাশা কেন?
হ সেইটাই। আর বয়স যেনো কত?
বারো কি তের!!

হ
মানুষ সারাজীবন বাইরের পৃথিবীর কাছে খানিকটা আড়ালেই থেকে যায় - খানিকটা নয় মীর, বেশ খানিকটা
আমিই কি সেই সাধারণ মানুষ? যার সবচে’ অসাধারণ হয়ে ওঠার কথা? - আমার কেন যেন ম নে হ য় আপনি কিন্তু সাধারণ কেউ না,
আমি যদি পারতাম তাহলে, অণুতে-পরমাণুতে ভেঙ্গে মিলিয়ে যেতাম। ছড়িয়ে পড়তাম পুরো পৃথিবীময়। আমার বৃষ্টির মতো করে নিজেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে ইচ্ছে করে প্রায়ই।-- এটা কিন্তু খুব সাধারণ কার চিন্তা হতে পারে না।
আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, মানুষ যা মন থেকে চেয়েছে তা পেয়েছে-------মীর আপনাকে ব্লগের সবাই দেখতে চায়, খুব ম ন থেকেই চায়, ক বে সবার সেই আশা পূর্ণ হবে?
আমি মীর কে দেখতে চাই না
তবে মীর যেমন আছে তেমন মীরকেই সব সময় চাই
...
কী হইছে?
ভালো লাগছে
এটাই মনে হয় করতে পারি না আমি
এ কথাটা তুমি বিশ্বাস করো সেটা আমি বিশ্বাস করি না।
সহমত!
পড়লাম।
মন্তব্য করুন