মৃত্যূর পর আমার কবিতা লেখার কথা ছিলো
নিউজপ্রিন্টের ফর্মা খাতাটি মুক্তি দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত পৃষ্ঠাগুলো আমার কলমের কালি চুষে খেতে চায়। প্রকৃতি খুবই নিষ্ঠুর। আজ পর্যন্ত ক'জন ছেলে ওর প্রেমে আত্মাহুতি দিয়েছে? জানি না, কিন্তু আমিও সেই দলের একজন সদস্য। এখন আমাকে যদি হেলিকপকপে বেঁধে কোনো নির্জন বনের গহীনে ফেলে রেখে আসা হয়, তাহলে আমি সেখানে নিরবচ্ছিন্ন শান্তিতে মৃত্যূর প্রতীক্ষা করতে পারি। ভালবাসাটা পূর্ণতা পায়।
অসাধারণ লাগে নীল রৌদ্রকরোজ্জ্বল আকাশ। কোনো কোনো দিন বৃষ্টিস্নাত ভোর পার হয়ে অল্প কিছু সময়ের জন্য এমন আকাশের দেখা মেলে। নগরজীবন বড় যাতনাময়। অভাব, না পাওয়ার ভীড় এত বেশি যে; যেমনটি চাই তেমন নীল উজ্জ্বল আকাশ ভীষণ দুর্লভ। শাদা পেঁজাতুলা মেঘের প্রাসাদের ওপর আপন আলোয় উদ্ভাসিত একটা ঝকঝকে সূর্য দেখার আশায় চোখ দু'টো শান দিয়ে রেখেছি অনেকদিন হলো।
একবার একটা সোনারঙা আকাশ পেয়েছিলাম অল্প কিছু সময়ের জন্য। মাঝনদীতে ঝড়ো হাওয়া আমায় প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। দু'হাতে শক্ত করে নৌকার গলুই ধরে বসেছিলাম। মনে হচ্ছিলো ইন্দ্রদেবের রাজসভায় উর্বশী আর মেনকা, বিভোর হয়ে নাচছে। নাচতে নাচতে ওরা আজ দেবলোক ভেঙ্গে নিয়ে নদীতে এসে পড়বে।
আমি টলোমলো মনে কালো আর গভীর লালে হারিয়ে যেতে দেখছিলাম সেই সোনারঙ। সে সময় ওই রঙ হারানোর ভয় আমার ভেতর মৃত্যূভয়কে ছাপিয়ে উঠেছিলো। অথচ প্রকৃতি এত নির্দয়! ঠিকই রঙগুলো হারিয়ে গেল, আমার প্রাণটা হারালো না। তারপর, বরাবরের মতোন, আফসোস নিয়ে ঘরে ফিরে আসা।
আকাশের ভেলাগুলোর আড়ালে যখন সূর্য খেলা করে, তখনও আমি একটু দাঁড়াই। এই খেলাটার নাম কি? মেঘেদের আড়াল-আবডাল থেকে বেরিয়ে আসে অপার্থিব আলোকরশ্মি। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মুগ্ধ হই। ইচ্ছে করে ওয়ালপেপার বানিয়ে রাখার জন্য একটা ছবি তুলে নিই। এমন সময় ভালো মনেও যদি ভাবি- আর ওদের দিকে তাকাবো না, তবু ওরা থাকুক কিছুটা সময়; সঙ্গে সঙ্গে ভাসতে ভাসতে সরে যাবে ভেলা। সাঙ্গ হবে মেঘের সঙ্গে সূর্য সূর্য খেলা। তাই আমি ভাবি না কোনোকিছু। চুপ করে সরে পড়ি। ওই অসাধারণ মেঘ-সূর্যের দ্বৈরথ তো আমার জন্য নয়। ভেলাগুলো আমার জন্য ভাসে নি বা পূর্বাকাশে কেউ কোনোদিন আমার জন্য ওঠেও না।
তবু ছিন্নবিচ্ছিন্ন মেঘকে গভীর নীলের জমিনে চলতে দেখলেই আমি বিকল হওয়া শুরু করি। এটা আমি স্বেচ্ছায় করি না, আপনাআপনি হতে থাকে। হয়তো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। ডাইলেটেড হয়ে আসে আইবল। কোনো নেশাদ্রব্য ছাড়াই। মাদকই সবসময় সর্বনাশা নয়। সর্বনাশ করতে পারে অনেক কিছুই। সবুজ মাঠের ওপর কালো আকাশের ছায়া, সেই ছায়াদের নিশ্চল ত্বরণে চলতে থাকা আর মৃদুমন্দ বাতাসের মাথা ছুঁয়ে ছুয়ে এগিয়ে যাওয়া- করে রেখে যেতে পারে পরিপূর্ণ সর্বনাশ।
আমি মরে খুব বেশি সুখ পাই নি। তবে কখনো হয়তো কেউ সেভাবে মারতেই পারে নি। শুধু মনে আছে; একবার শাদা ডেইজী ফুল দেখে, প্রেইরীর সমতলভূমির মতো বিস্তীর্ণ একটা সবুজ মাঠের ওপর মরে গিয়েছিলাম। একেকটা ফুলের দশ-বারোটা পাঁপড়ি। তার কয়েকটা আবার দুই স্তরের। লম্বা সবুজ ডগার ওপর ছোট্ট ছোট্ট ফুল। আমি ঘাসের ডগায় শুয়ে নিচে থেকে সেই পরলৌকিক ফুলের আকাশ ছোঁয়ার খেলা দেখতে দেখতে মারা যাই। বোধহয় ওই ডেইজী ফুলের নিচে একটা লাইফলাইন-ব্রেক ছিলো।
মৃত্যূর পর আমার কবিতা লেখার কথা ছিলো। কিন্তু লিখি নি। কারণ মৃতদের কবিতাগুলো জীবিত পৃথিবীতে একেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বোঝা কোনো সত্যিকারের মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া অন্যায়। ভীষণ অন্যায়।
---
(লেখাটা শাস্তিমূলকভাবে লীনা আপুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
)





প্রথম কমেন্টস

যাই পইগা আসি
প্রথম রিপ্লাই।
আমিও পইগা আসি
প্রথম মন্তব্যকারী হৈতে যাইয়া তাড়াতাড়ি টাইপের কারনে হৈছে, শরম দিলেন ?
আপনের মত র আর ড় উল্টা পাল্টা ভাবে ব্যবহার করিনা
পইগাছি
নাহয় একদিন একটু পরেছিলো-কে পড়েছিলোই লিখেছিলুম, তাই বলে এভাবে?
দিলে বড়ই দাগা পেলুম, আর চৌক্ষে পানি আয়া পড়লো
আপনাকে কিন্তু অভিনন্দন জানাইছি
কেন? আমি কিন্তু বুঝতে পারছি না। আপ্নে কি চান?
আমিও প্রথম পইগা মানে জিজ্ঞাসা করলাম।
পইগা কি??
পইগা মুনয় যাইগা'র ভাই। কি কন?
মাথার উর্পে দিয়া গেল...
কেমতে কী !!
বলি সবসময় যে উপর দিয়ে যেন চলে না যায়, সেজন্য একটা ব্যবস্থা করেন। সেটা তো করতে চান না
এইটা মীরের আরেকটা জটিল লেখা
আপনের কবিতাটার জন্য
এখন আমি যদি পুরান ডায়েরীতে লেখা জিনিসগুলা ছাড়তে শুরু করি, তখন কি করবেন?
ছাড়েন ছাড়েন, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে
ভাতে বাড়ে মানে কি? বেশি ভাত হয়?
পগি নাই।
বেশ।
কঠিন লেখা!!
কে কোথায় লিখে রাখসে বলেন। এখুনি তাকে বুঝিয়ে দেবো, কত ধানে কত চাল।
খাইছে আমারে। শিরোনাম দেখেই ভয় খাইছি। মরার পর লেখা কবিতাগুলি কাদের নিয়া হপে, ১০১টা হুর পরীরে নিয়া নাকি দোজখের শাবানা ববিতাদের নিয়া। (শাবানা ববিতা যে দোজখে যাবে সেটা আমার কথা না মওলানাদের কথা) ।
উপরের মন্তব্য না পড়েই করা। এবার পড়ে এলাম,লেখা বুঝেছি কিন্তু কি বোঝাতে চাইছেন বুঝিনাই, তবে লীনা আপুরে এই কঠিন লেখা উৎসর্গ করেছে বলে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
ইয়ে, ববিতা'কে মাসুম ভাই বুক দিয়ে রেখেছেন। এবং সেদিকে নজর দিলে তিনি লাঠিসহ দৌড়ানি দেবেন, এ ব্যপারে আমি নিশ্চিত। আপনি বরং দেখেন না, দোজখে যদি ক্রিস্টিন স্টুয়ার্টকে একটু পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। মোল্লারা এ ব্যপারে কি বলে? আমি প্রচুর কবিতা লিখে দিতে পারবো। নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
পগচি
ভাইসাব, আপনের কাজকাম কিন্তু সবই সিরিয়াসলি পর্যবেক্ষণ করতেসি
দাঁড়ান এই অন্যায়ের একটা বিহিত আমি করবোই।
আর আপ্নের নতুন পোস্ট কৈ?
ইয়ে, মানে, রাসেলের বোমাবাজি দেখে কী বলতে চেয়েছিলুম, ভুলে গিয়েচি
কামাল ভাই@ হুদাই কামে আমার দোষ দেন ক্যান ?? সত্য কইরা বলে দিলে হয় কিছু বুঝি নাই। আমি পয়লা দুই লাইন পইগা বুঝছি এ আমার এন্টেনার কাজ না তারপরে বাদ দিসি।দিয়া বোমাবাজী শুরু করলাম।

হ্যাঁ, এই লোকটা ইদানীং টেররিস্ট গ্রুপের সঙ্গে মেলামেশা করছে বলে সন্দেহ করছি।
শ্রেনীশত্রু খতমে নামছি।




পগছি, কিন্তু যদি বলি বুঝি নাই, তাইলে কী কেউ ভাববেন যে আমার জ্ঞানবুদ্ধি কম? তাইলে কিছু না বলি।
আমিও কিন্তু লেখাটা সম্পর্কে কিছু বলি নাই।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কেউ আমার জ্ঞানবুদ্ধি নিয়ে কিছু ভাবার চেষ্টা করলে ছেড়ে দেবো
আজকাল কমেন্ট বক্সে কোট আসছে তো লেখা আসছে না, লেখা আসছে তো কোট আসছে না; কি যে সমস্যা।
মনে হচ্ছে ফ্যসিস্ট মডু'র ব্যঞ্চাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে।
অসাধারণ, অপূর্ব।
রোজ পোষ্ট প্রাইভেট করছো কেনো?
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
মন্তব্য করুন