ইউজার লগইন

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র একটি উপলক্ষ এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের ঠিক দরোজার সামনে। স্কুলের কোনো এক ক্লাসে আমার বই-এ পড়েছিলাম; আজ ঈদ, মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ। সেই আনন্দের দিনে একটি দুঃখী ছেলে বসেছিলো রাস্তার পাশে। মুহাম্মদ তাকে কোলে তুলে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে নিয়ে নতুন কাপড়, খানা-খাদ্য দিয়ে ছেলেটির দুঃখ দূর করেছিলেন। আজ আমাদের দেশের রাস্তাগুলোর দুই ধার ভরে গেছে দুঃখী ছেলেদের ভীড়ে। কিন্তু কোনো মুহাম্মদ নেই তাদেরকে কোলে তুলে নেওয়ার জন্য। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার বা ঈদের অন্য আনন্দগুলোর ভাগ দেওয়ার জন্য।

চলে গেলেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গানের রচয়িতা ভূপেন হাজারিকা। মানুষ মাত্রই মরণশীল- এ বিবেচনাবোধকে আঁকড়ে বেঁচে থাকা আমার মতো একজন দূরবর্তী ভক্ত তাঁর মৃত্যূতে খুব বেশি আপ্লুত হয় না। কিন্তু ক্ষত-বিক্ষত দু’চোখ ভিজে আসে, যখন তাঁর অমর গানটিকেও আজ সরকারী হাসপাতালের নোংরা ওয়ার্ডে কাতরাতে দেখি। যেকোন দিন হয়তো সেটিও মারা যাবে রচয়িতার মতোই। তৃতীয় বিশ্বের পিছিয়ে পড়া একটি দেশে বসে বসে আমার এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। তবুও বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই ভূপেন হাজারিকার প্রতি। প্রিয় গায়ক, বেঁচে থাকো মানুষের অন্তরে তুমি চিরকাল।

গরুর হাট আজব জায়গা। অসুস্থ শরীরে কাল সারারাত হেঁটেছি কমলাপুর, গোপীবাগ, টিটিপাড়ার অলিতে-গলিতে। রাস্তা-ফুটপাথ তো বটেই; মানুষের বাড়ি-ঘর, রেললাইন, ড্রেন সবকিছু গরু, ব্যাপারী আর নগরবাসীর পদচারণায় মুখর। সেখানে কোনদিক দিয়ে দিন পার হয়ে সন্ধ্যা নামছে, তারপরে রাত আসছে, রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটছে- টের পাওয়ার উপায় নেই। অনবরত মাইকের চেঁচামেচিটা কেবলমাত্র ভোর চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত একটু কমেছিলো। এ ধরনের হাট ব্যবস্থা আজ তিন-চারদিন ধরে চলছে। আরো একটা পুরো রাত অবশ্যই চলবে। বাঙালি জাতির কর্মস্পৃহা আমাকে গতানুগতিকের মতোই আরো একবার মুগ্ধ করলো। তবে গাবতলী, নয়াবাজার বা আফতাবনগরের চেয়ে কমলাপুরের এদের কাছে দেখলাম গানের কালেকশন ভালো। পুরোনো দিনের বেদনাবিধুর হিন্দি গানগুলো রয়েছে। অন্তত রাতভর মাইকে ‘রুপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া’ শুনতে শুনতে মস্তিষ্কের কয়েক কোটি স্পর্শকাতর নিউরণকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে হবে না। আর বন্ধু পাপ্পু ভাই একটা দামি কথা বলেছে। হাটে বেশি হেঁটে হেঁটে শরীরটাকে কাহিল করে তুললে, একসময় দুর্বল গরুকেও অনেক বড় মনে হয়। শরীরের কাহিল ভাব মনের ওপরেও এক ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই বেশি হাঁটাহাটি না করে ঝটপট যা কেনার কিনে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শহরময় আনন্দঘন একটা পরিবেশ আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ছে। নয়টায় আর পাঁচটায় রাস্তায় অফিসগামী মানুষের রাশ নেই। হাতে টিফিন-বাটি নিয়ে, লোকাল বাসের ভেতরে কাতর মুখে বসে নেই শহরের দপ্তরজীবী পরিষদবৃন্দ। রাস্তায় জট নেই। রিকশাওয়ালাদের মুখে খিঁচুনি নেই। ভাঙতির বিড়ম্বনা নেই। লোডশেডিং-এর দেখা নেই। এমনকি পত্রিকাগুলোতেও বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর নেই। অবশ্য শেষ কথাটা ভুল। দুর্ঘটনার খবর আছে এবং দুর্ঘটনার কোনো বড়-ছোট নেই। যার যায় কেবল সেই বোঝে। সিরাজদিখানে একই পরিবারের তিন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। খবরটা ভীষণ মন খারাপ করে দিয়েছে। ট্রেনের ছাদে করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে নানাভাবে মারা যাচ্ছে মানুষ। তারপরও মীরসরাই বা মানিকগঞ্জের পুনরাবৃত্তি হয় নি, আমার স্বার্থপর আমজনতা মন এ নিয়ে সন্তুষ্টি খোঁজার চেষ্টা করেছে। সেটাকে কি দোষ দেয়া যায়?

ঈদের দিন সকালে গোসল-নামায শেষ আমরা সবাই গরু জবাই করবো। খুব ভালো কথা। কিন্তু কেন করবো? ত্যাগের দীক্ষা নিতে? কি ত্যাগ? অর্থত্যাগ? এক হিসাবে বিষয়টা তো প্রায় তাই-ই। টাকা দিয়ে পশু কেনা হয়েছে। এখন কুরবানী দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। অনেকেই কুরবানী বলতে এটাই মনে করেন। তারা বিস্তর ভুলের মধ্যে রয়েছেন। অর্থত্যাগের কোনো ফজিলত নাই। অর্থত্যাগ করাই যায়। যখন খুশি, যত খুশি। কখন বোঝা যায় জানেন?

ধরেন একটা দুর্ঘটনা হলো। আপনি সাইকেলে করে অফিস শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফিরছিলেন, এমন সময় একদল দুর্বৃত্ত সাইকেল ছিনতাই করতে আপনার পথরোধ করে দিলো। ঘন্টায় ষাট-সত্তুর কিলো গতিতে চলমান একটা যন্ত্রকে তো চাইলেই থামিয়ে দেয়া যায় না। সেজন্য আপনার রাস্তার সামনে একদম জিরো ডিসট্যান্সে দুম করে একটা সিএনজি ঢুকিয়ে দেয়া যেতে পারে, যখন আর আপনার বাহনের মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার বা ব্রেক করার কোনো সুযোগই থাকে না। সে সময় ধাক্কা খেয়ে-পড়ে গিয়ে-পিচের রাস্তায় কিছুটা ছেঁচড়ে যাবার পরও যদি আপনার জ্ঞান থাকে এবং আপনি যদি দেখেন যে, একদল দুবৃত্ত আপনাকে নানারকম অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘিরে দাঁড়িয়েছে; তখন বুঝতে পারবেন, অর্থত্যাগ আসলে কোনো ব্যপার না। বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।

বলতে চাচ্ছিলাম, আত্মত্যাগের চেয়ে বড় আর কিছু নাই। অর্থ-সম্পত্তি কিংবা অন্য যেকোন কিছু এর সামনে তুচ্ছ। কুরবানীর জবাই নামক অনুষঙ্গটিতে অংশ নেয়ার সময় তাই আমাদের সবারই, আত্মত্যাগী হওয়ার চেষ্টা করাটা উত্তম হবে। মনের পশুটাকে জবাই দিয়ে দেয়া গেলে বোধহয় কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। একটু আগেভাগেই।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজ's picture


ঈদ মোবারাক!

নাজ's picture


আর আমাদের পাশের বাসায় সেই বিকেল থেকে উচচ ভলিউমে গান চলছে। ঈদের ত্যাগ! আর আমাদের হবে ঘুম হারাম Sad

মীর's picture


দুইদিন আগেও সারারাত বাসায় বসে বসে হাটের মাইকের যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে। গত দুই দিন অবশ্য হাটে গরু নাই। যে কারণে 'কি মন্টু ভাই মন খারাপ?' একটু কমই কানে আসতেছে।
যাক্ ঈদ মুবারক আপনাকেও। ভালোভাবে আনন্দের সঙ্গে ঈদটা কাটান। শুভেচ্ছা রইলো। Smile

রাসেল আশরাফ's picture


আপনি সাইকেলে করে অফিস শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফিরছিলেন, এমন সময় একদল দুর্বৃত্ত সাইকেল ছিনতাই করতে আপনার পথরোধ করে দিলো। ঘন্টায় ষাট-সত্তুর কিলো গতিতে চলমান একটা যন্ত্রকে তো চাইলেই থামিয়ে দেয়া যায় না। সেজন্য আপনার রাস্তার সামনে একদম জিরো ডিসট্যান্সে দুম করে একটা সিএনজি ঢুকিয়ে দেয়া যেতে পারে, যখন আর আপনার বাহনের মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার বা ব্রেক করার কোনো সুযোগই থাকে না। সে সময় ধাক্কা খেয়ে-পড়ে গিয়ে-পিচের রাস্তায় কিছুটা ছেঁচড়ে যাবার পরও যদি আপনার জ্ঞান থাকে এবং আপনি যদি দেখেন যে, একদল দুবৃত্ত আপনাকে নানারকম অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘিরে দাঁড়িয়েছে; তখন বুঝতে পারবেন, অর্থত্যাগ আসলে কোনো ব্যপার না। বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।

তোমার কিছু হয়ছে নাকি? Sad Sad

হয়ে থাকলে সুস্থ্য হয়ে উঠো খুব তাড়তাড়ি।এই কামনা রইলো।

মীর's picture


থ্যাংকুস ব্রাদার। আপনের শুভকামনার কল্যাণে ইতোমধ্যে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছি.. ধইন্যা পাতা
ঈদের পরিকল্পনা কি? রান্না-বান্না কি করবেন?
সব মিলায়ে একটা ছবিপোস্ট দিয়েন তো।
ঈদ মুবারক।

জ্যোতি's picture


ঈদ মোবারক। ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভালো আছেন তো! ভালো থাকেন সবসময়.. এই শুভকামনা।

মীর's picture


হাই জয়িতা'পু, আপনাকে অনেকদিন পরে পেলাম এবং পেয়ে খুব্বি খুশি হলাম! Big smile
ঈদ মুবারক। কি কুরবানী দিচ্ছেন? কাটাকাটি-রান্নাবাটি করবেন নাকি বিছানায় পায়ের উপর পা..?
জানান সবকিছু। ঈদ আনন্দ নিয়ে আসুক। শুভকামনা। Smile

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


অর্থত্যাগ আসলে কোনো ব্যপার না। বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।

অনেক ভালো লাগলো লেখাটা। ঈদ মোবারক( যদিও একটু পরে...। Big smile )

মীর's picture


ঈদ মুবারক।
ধন্যবাদ।

১০

আইরিন সুলতানা's picture


ঈই্ইইইইদ মোবারক!

১১

মীর's picture


ধইন্যা পাতা

১২

প্রিয়'s picture


আপ্নেরে ঈদ উপলক্ষ্যে লাল সেলাম। Big smile Big smile

১৩

মীর's picture


TYVM dude কোক

১৪

ঈশান মাহমুদ's picture


ধূর, ঈদ গেছে গিয়া, শুভেচ্ছা মিস করছি ।

১৫

মীর's picture


আরে ধূর, কে কইসে মিস কর্সেন? এখনো আছে শুভেচ্ছা। নিয়া যান। Smile

১৬

লীনা দিলরুবা's picture


কেমন আছেন মীর?
অনেকদিন হল আপনার নতুন গল্প পড়া হয় না।

১৭

মীর's picture


ভালো আছি লীনা আপু।

অনেকদিন হলো আপনার নতুন গল্প-কবিতা কিছুই পড়া হয় না।

(ইন ফ্যক্ট কমেন্ত পড়ার সৌভাগ্যও তো অনেকদিন পর হলো Tongue out)

১৮

মনির হোসাইন's picture


অর্থত্যাগ আসলে কোনো ব্যপার না। বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।

১৯

মীর's picture


সেটাই আসলে। ধইন্যা পাতা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!