একটা অসম্পূর্ণ গল্প
প্রথম দেখার কালে বন্ধু
কথা দিয়াছিলে...
স্কুলজীবনে যে ক'জন বালিকার প্রতি মন থেকে অনুরাগ অনুভব করেছিলাম, তাদের মধ্যে হৃদিতা আর টুয়ী ছিলো সবচে' দারুন। দুঃখের কথা; শেন ওয়ার্ন আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল সমসাময়িক হওয়ায়, ম্যাকগিলের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারে নি ইতিহাস। তেমনি টুয়ীর প্রতিও সুবিচার করতে পারি নি আমি। পরবর্তীতে এ দুঃখ ভুলতে পেরেছিলাম, হৃদিতার বিয়ের অনুষ্ঠানে টুয়ীর সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াতে। তখনও 'বিয়া হইসে তাতে কি/ হলুদে তো গিয়েছি' গান বের হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই মন ভার হয়ে থাকার কথা। ছিলোও।
সেই সময় টুয়ীকে দেখে তাই নিজেকে মনে হয়েছিলো, দ্রুতগামী কোনো জাহাজের পাশে লাফিয়ে লাফিয়ে পাল্লা দিতে থাকা একটা উড়ুক্কু মাছ। মেয়েরা অনেক অসাধারণ প্রকৃতির হয়। হৃদিতার সঙ্গে ভাব করার মতো একটা গর্হিত অপরাধকেও টুয়ী সেদিন অকপটে মাফ করে দিয়েছিলো।
আমার টুয়ীকে নিয়ে সুখ-সাগরে ভেলা ভাসাবার অস্থির দিনগুলি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ওর বাসায় বিয়ের প্রপোজাল আসা শুরু হলো, আর আমার ওপর ওর দিক থেকে অবধারিত চাপ বাড়তে থাকলো। তবে মেয়েটির মনের কষ্ট আমি বুঝতে পারতাম। আমাকে ও ছাড়া আর কেউ কখনো বলে নি,
সোনার যৈবন অঙ্গার হইবো
তোর লাইগা রে...
টুয়ী চলে যাবার পরপরই, নীলিমা নামের একটি মেয়ে এসে গোধূলী বেলায় মুঠো মুঠো সোনালী আলো ছড়িয়ে দিলো আমার আশপাশে। যেদিকে হাত বাড়াই, রং উঠে আসে। পা ফেললে মাটিতে পাএর পাতা আকৃতির রঙিন ছাপ পড়ে যায়। আমি যেন নীলিমায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলাম।
বার বার পোড় খেয়ে ততদিনে অনেককিছু শিখে ফেলেছি। এবার সত্যি একটা স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলায় মনোযোগী হলাম। যদি জীবনে নীলিমাকে না পাই, তাহলে কি হবে সেটা বোঝাতে একদিন বললাম,
তখন কিন্তু বলবো আমি
প্রেম কিছুই না রে...
শুনেই দেখি আমার সুইটু-কিউটু রঙিন প্রজাপতিটা কেমন যেন আড়ষ্ট এবং পরদিন থেকে কিছুটা আলগা হয়ে গেল। আমি ভেবে কোনো কুল-কিনারা পেলাম না- মেয়েগুলি কেন সবসময় এত আনপ্রেডিক্টেবল হয়? একজন কাছে যেতে না চাইলে জড়িয়ে ধরে, আরেকজন কাছে টানতে চাইলে দূরে সরে যায়; কি আশ্চর্য!
ভাঙ্গা মন নিয়ে একদিন মাঝরাতে বসে বসে ভাবছি, আমার পুরোনো প্রেমিকারা এখন কে কোথায়; হঠাৎ দেখি মোবাইলে ফোন করেছে হৃদিতা।
---
(এরপর কি হলো আর জানা যায় নি। কিছুদিন আগে একবার কিছুদিনের জন্য নিউজপ্রিন্টের ফর্মাখাতায় আটকা পড়েছিলাম। সে সময়কার একটা নিউজপ্রিন্টের পাতলা তোড়া খুঁজে পেয়েছি, যেখানে এই লেখাটা ছিলো এবং এ পর্যন্তই ছিলো। এরপরে দু'একটা শব্দ কাটা-কুটি করা আছে, কিন্তু আর কোনো পূর্ণ বাক্য নেই। সম্ভবত একটা গল্প লেখার চেষ্টা চলছিলো। হয়তো লিখতে লিখতে কারো ডাক শুনে কিংবা অন্য কোনো কারণে উঠে গিয়েছিলাম। পরে এসে আর বসা হয় নি। ফলাফল হিসেবে লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। যাক্ শর্মি একবার একটা অসমাপ্ত লেখা আমাকে ডেডিকেট করেছিলো। বলা হয়ে থাকে, ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। এই অসম্পূর্ণ লেখাটাও আমি শর্মিকেই উৎসর্গ করলাম।
)





আগেই কইসিলাম ঘরোয়া এবং নামাজী মেয়ে ছাড়া গতি নাই। হেদায়েত কর, হে আল্লাহু!
এক কাজ করেন..
আপনে শর্মি আপার লেখাটা শেষ কইরা দেন,
আর শর্মি আপারে কন আপ্নের টা শেষ কইরা দিতে!!
নিজের কথাগুলা ঠোঙা অলার কাঁধে তুইলা দেয়ার প্রচেষ্টাটা মন্দ না
টুয়ী নামটা পছন্দ হয়েছে, কেমন যেন ত্রয়ী ত্রয়ী ভাব। লেখার মধ্যে অনেক ইঙ্গিত পাইছি... বাণীগুলাও জটিল দিছেন...
মেয়েরা অনেক অসাধারণ প্রকৃতির হয়।
এই অমরবাণীর পর বেরসিকের মতো মেয়েগুলি কেন সবসময় এত আনপ্রেডিক্টেবল হয়? একজন কাছে যেতে না চাইলে জড়িয়ে ধরে, আরেকজন কাছে টানতে চাইলে দূরে সরে যায়; কি আশ্চর্য!.. হাবিজাবি কী কন? ধ্যুর আপ্নে মেয়েদের চেনেন না 
আসলেই মেয়েরা আনপ্রেডিক্টেবল
এইজন্যেই বলি, পেম টেম ভালু না
গল্পটা সম্পূর্ণ হইলে আমরা আরো কতগুলা সুন্দর নাম পাইতাম ।
আপনার গল্পে ( যে কয়টা আমার পড়া ) নায়িকা শুধু নায়করে ছেড়ে চলে যায়
হিহি, তাইতো লাবনী বলে, "ভাবিয়া করিও প্রেম, করিয়া ভাবিও না..."
ছন্দ মিলাতে গিয়ে তুমি সম্বোদন করায় দুঃখিত মীর দা!
আপনে তো দেখি শাকিব খানের মতোই কঠিন পুরুষ!
ছ্যাঁকা তা'লে খেয়েছেন ক'বার ! নূন ভেবে চূন খেলে জ্বিবতো পুড়বেই ভাই ! ভবি সা ব ধা ন !
কাগজের তোড়াটা হারিয়ে গিয়েই ভালো হয়েছে, তাতেই অসম্পূর্ন লেখাটাই সুন্দর হয়ে দেখা দিয়েছে সবার কাছে .।। অসম্পূর্নতাকেই বেশি মনে রাখি আমরা।
সেদিন মানু'র থেকে একটা লেখা পড়েছিলাম এমন - "তারপর মোহমুক্তি শেষে তোমার আমার মাঝে যেটুকু উচ্ছিস্ট ছিল তার নাম মায়া। পৃথিবী জানে, মায়া বেঁধে রাখে কিন্তু কাছে টানে না।"
আপনার লেখটা পড়ে কেন জানি এটাই মনে এলো।
"বক পাখির .। " এই ধরনের মূহুর্তেই আকাশে উড়ার মতো লেখা পাচ্ছি না কিন্তু অনেকদিন যাবত। আপনার লেখা বেষ্ট ওইটাই আমার কাছে।
ভাইয়া এর পর... ?

আর কারা কারা ছেলে চলে গেছে?
কি ভাব করলেন, শুধু আপনারে ছেড়ে চলে যায়ে
ইশ! কি সিরিয়াস বিষয় নিয়া সবায় লাফিং করতেশে!
(
অনেক দিন পর আসলাম, কেমন আছেন সবাই?
অনেক দিন পরে আসছেন ক্যান? ক্যান এতদিন আসেন্নাই? ঘটনা কি? এত দিন কি কর্ছেন? বিস্তারিত জানান
লেখা চমৎকার... অসাধারণ কিছু কথা আছে লেখায়... কিন্তু এত ছোট্ট একটা ছেড়া কাগজ খুজেপেলেন ক্যান? কাগজটা আরোএকটু বড় হইলে কি হইতো
আমাদের জিন্টু (জ্বীনের বাদশা) একটা লেখা দিয়েছিল... সেখানটায়ও এমন ছিল... সমস্যার মধ্যে রেখে লেখা শেষ... এখনো বিষয়টা মাথা থেকে নামে নাই
বারো ঘাটে পানি খাওয়া একজনের কথা মনে পরল।
গল্পে সব থেকে ভালো লাগছে -
অনেকদিন পর মীরের সেইরকম একটা অসমাপ্ত গল্প পড়লাম। এরকম গল্পগুলো তো অসমাপ্তই থাকে। কতই বা আর বয়স........
মেয়েরা আসলেই অসাধারণ প্রকৃতির হয়। কথাটা বলার জন্য বিরাট বড় একটা থ্যাংকস্।
মন্তব্য করুন