ইউজার লগইন

উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (১)

নিজের ধৃষ্টতা দেখে নিজেই অবাক হচ্ছি। সেই অবাক হওয়ার মাত্রা এত বেশি যে এ নিয়ে বেশি কথাও বলতে পারছি না। আমার সকল বন্ধু-বান্ধবের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, প্লীজ এই অধমের উপন্যাস লেখার অপচেষ্টা চালানোর দুঃসাহসকে ক্ষমা করে দিন। আমি মনে হয়, জীবনে খুব বেশি বার এই অপকর্ম করবো না।
আরেকটা জরুরি কথা হচ্ছে, গত বছর আমি কিছু পোস্টে ডিসক্লেইমারের কথা বলে রেখেছিলাম। সাতটা পোস্ট। ডিসক্লেইমারগুলো পরে জানাবো বলেছিলাম। এই উপন্যাসটা লেখা হলেই সেগুলো জানিয়ে দেবো। এটা আসলে খুবই ছোট আকৃতির একটা উপন্যাস। আমি জানি উপন্যাসতো নয়ই, এটা উপন্যাসের নামে কোনো অপন্যাসও হয় নি। তারপরও ধারাবাহিকভাবে এটা আমার ব্লগে প্রকাশ হবে। সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী আবারো।
শেষ জরুরি কথাটা হচ্ছে, লেখার ব্যপারে তীর্যক-চাঁছাছোলা মন্তব্য পেলে আমার খুবই ভালো লাগবে। কারণ সেগুলো আমাকে খুব ভালোভাবে অনুপ্রাণিত করে। ইচ্ছা ছিলো এই ধারাবাহিকটা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার। নানা কারণে সম্ভব হয় নি। প্রতি দুই-তিন দিনের বিরতিতে একেকটা পর্ব প্রকাশের ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কি হয়। সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ।
---

১.
মর্ণিং শো’জ দ্য ডে কথাটা এক-এক দিন ভুল হয়ে যায়। দিনটি শুরুই হয় এমনভাবে যে টের পাওয়া যায় না, দিনশেষে কি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য। মিলতে পারে হতাশা, ভালবাসা, ভয়াল দুঃসংবাদ, প্রাপ্তির আনন্দ কিংবা যেকোনো কিছু। মাঝে মাঝে দেখা হয়ে যায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রিয়বন্ধু’র সঙ্গে। যার সঙ্গে হয়তো দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ হয় নি। হয়তো ক’দিন ধরে তার কথা বার বার মনেও পড়ে যাচ্ছিলো। মোবাইল ফোনে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার উদগ্রীব আগ্রহ দেখাচ্ছিলাম, কিন্তু দেখা হচ্ছিলো না শেষ পর্যন্ত। প্রায়শই হয়। দু’জন দেখা করতে ইচ্ছুক মানুষের মধ্যে অপেক্ষার প্রহর প্রলম্বিত হয় আর মধ্যে দিয়ে-মধ্যে দিয়ে ঘটে যায় ছোট-বড়-মাঝারী বা নিরাকার ধরনের ঘটনা-দুর্ঘটনা ও অপঘটনা। এগিয়ে চলে জীবন। আসলে মানুষের জীবনটাকেই আমার সৃষ্টির মূল রহস্য বলে মনে হয়। আর জীবনাবসান মানে হচ্ছে সৃষ্টির অবসান।
যাক্ সেদিন আমার মনে তেমন কোনো পুরোনো মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুপ্ত ইচ্ছে ছিলো না। আমি বরং চলার পথে পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা না হওয়াটাকেই বেশি পছন্দ করি। সকালে যখন বাসা থেকে বের হলাম তখন জানতাম না, সামনে একটি বিষম দিন অপেক্ষা করে আছে আমাকে কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেয়ার জন্য। জানলে হয়তো কিছুটা সাবধান থাকতাম। একটা রৌদ্রকরোজ্জ্বল হাসি হাসি মুখের দিন ছিলো সেটা। সেই অতিপ্রাকৃত হাসির আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে ছিলো মহাপ্রকৃতির একটি নিপীড়ন-চিন্তা। সে আজ আমায় দেখা করিয়ে দেবে পুরোনো মানুষদের সঙ্গে। অবশ্য কুচক্রী সূর্যালোকিত দিনটি জানতো না; যে আমি একসময় পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে হুট-হাট দেখা হয়ে যাওয়াকে ভয় করতাম, সে আমি সম্প্রতি সমস্যাখানা বেশ কাটিয়ে উঠেছি।
বাসা থেকে বের হয়ে প্রথম যে মানুষটিকে দেখলাম তার কথা খুব আবছাভাবে মনে পড়ছে এখন। আমাদের মহল্লার ছেলে আবদুল আজিজ। বয়সে আমার সমান হতে পারে আবার একটু বড়ও হতে পারে। দু’জন দু’জনকে বন্ধুত্বপূর্ণ ‘স্পেস’ দিয়ে চলি। তার ব্যবসা হচ্ছে- জোগালিগিরি। পার্শ্ববর্তী উপার্জনের উপায় মাল্টি লেভেল মার্কেটিংএর ব্যবসা। এ দুই সিঁড়িকে অবলম্বন করে সে মাধ্যাকর্ষণকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর স্বপ্ন দেখে। যদিও তার সঙ্গে আমার স্কুল-কলেজ-মহল্লাবাজি’র কোনো সময়েই পরিচয় হয় নি। পরিচয় হয়েছে অকারণেই। চলতিপথে। তবুও তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। এ কথাটি চট করে মনে পড়ে যায়- দেখা হলেই। ভালো সম্পর্কের মাশুল হিসেবে কিছু আনুষ্ঠানিক, কিছু আনুষ্ঠানিকতাত্তোর নিবিড়ালাপ চালাতে হয়। এতে যে আমার বিশেষ কোনো সমস্যা হয়, তা না। কিন্তু বিষয়টা অতোখানি গুরুত্বপূর্ণও না, যে দিনের শুরুতে এই ছেলেটির সঙ্গে মহল্লায় দেখা হয়ে গেলে আমি মনে করবো, আজ বুঝি অনেক পুরোনো জনদের সঙ্গে দেখা হবে। যাদের কথা ভেবে মাঝে মাঝে আমার অলস সময় কাটে।
পথে পরিচিত এক এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময়, হঠাৎ মনে পড়ে যায়; সেখানে আমার এক ডিলার ছিলো। যে ২০ টাকা দামের রোল বিক্রি করতো। গাঁজার রোল। একশ টাকায় দিতো ছয়টা। বছর দুয়েক দেখা হয় নি বয়স্ক-কানেখাটো সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে। দুই সংখ্যাটা আমার বেশ প্রিয়। সংখ্যা হিসেবে। আরেকটা প্রিয় সংখ্যা হচ্ছে আট। কেন প্রিয় তা বলতে পারবো না, কারণ আমি জানি না। কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- তোমার প্রিয় সংখ্যা কি? তাহলে আমি বলবো, দুই আর আট।
তাই দুই বছরের ফ্রাকশনটা মাথায় আসতেই আমি যাত্রায় ছোট্ট একটা বিরতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। গেলাম বুড়োর কুটিরে। আগের চেয়ে শীর্ণকায় হয়েছে ঠিকই; কিন্তু শাদা গোলগলা গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে, কালো তেলচর্চিত কেশওয়ালা দুর্বল শারীরিক কাঠামো নিয়ে- টিকেই আছে আজো। দেখে খানিকটা অবাক হলাম। তার সঙ্গে ব্যবসা করার সময়টাতে কখনো শেক হ্যান্ড করা হয় নি। আজ সেটা হলো। তখন কুশলাদি জানার ইচ্ছায় তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাকা কেমন আছেন?’
বুড়ো কথাটা পরিস্কার শোনে নি। সে ভেবেছে ‘মাল’ চেয়েছি। তার কাছে যারা যায়, সবাই এ জিনিসেরই খোঁজ করে। অভ্যাসবশেই তাই জিজ্ঞেস করলো, ‘কয়টা? তিনটা না ছয়টা?’ আসলে তিনটার দাম হচ্ছে ৫০ টাকা আর ছয়টার দাম কত তা তো আগেই বলেছি, এই ফ্রাকশন বোধহয় মৃত্যূর পরেও বুড়ো ভুলতে পারবে না। আমি হেসে এবং গলার স্বর আরেকটু চড়িয়ে বললাম; ‘না, মাল না। জানতে চাইছি আছেন কেমন?’
এটা জানতে চাওয়া আমার খুবই বদঅভ্যাস। যেকোন মানুষের সঙ্গে দেখা হলেই আগে এটা জানতে চাই। অবধারিতভাবে। এবারে বুড়ো আমাকে বুঝতে পারলো। পেরে দন্তপাটি বিকশিত করে দিয়ে বললো, ‘বসেন আব্বা বসেন। এতক্ষণ আপনারে ঠিক-ঠাক চিনতে পারি নাই।’
নজরে এলো তার তাকে আড়াল করে রাখা আছে একটি প্রায় জ্বলন্ত বাঁশি। প্রায়, কারণ পরিপূর্ণরূপে তামাক সাজা বাঁশিটির মুখে নারকেলের গনগনে লাল ছোবড়া স্থাপনের পর কড়া পরে যাওয়া বুড়ো আঙ্গুলের অগ্রভাগ চালিয়ে সেটাকে টেঁসে (চাপা দেয়া অর্থে ব্যবহৃত, এই শব্দটা বন্ধু মিজ খুব ব্যবহার করতো) দিয়ে, যখনই বুড়ো সেই জিনিসটার ওপর অবতীর্ণ হতে উদ্যত হয়েছে তখুনি; আমি ঘরে ঢুকেছি। এরপরে আমাকে লুকিয়ে জিনিসটা সে যে কখন তাকের পেছনে পার করে দিয়েছে টের পাই নি।
জিনিসটি বেরোলো। বুড়ো ওতে কষে এক টান দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো, ‘এটা ছোবড়ার ধোঁয়া। আসল ধোঁয়া দেখবেন এইবার।’ এরপরে সে আরেক টান দিয়ে পেঁজা মেঘের মতো ধোঁয়ায় ভরে দিলো স্যাঁতসেতে বাঁশের চাটাইয়ে তৈরি ঘরের ভেতরটা। আমি সামনে বসে বুড়োর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সে বাঁশি আমার দিকে এগিয়ে দিলে অদক্ষ হাতে একবার চেষ্টাও চালালাম। ঠোঁট ছোয়ানো মাত্রই টের পেলাম একরাশ গলগলে ধোঁয়া আমার মুখ, গলা ও পেটের ভেতরে ঢুকে পুরোটা ভরিয়ে দেয়ার জন্য আকুলি-বিকুলি করছে। আমায় শুধু তাদেরকে টেনে নিতে হবে।
ছোটবেলায় যখন বছরান্তে শহর থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হতাম হাওয়া পাল্টাবো বলে, তখন আমার সবচে’ মজার খেলাটা ছিলো ট্রেনের জানালা থেকে দিগন্তের দিকে টানটান চোখে তাকিয়ে থাকা। যেন আমাকে এই ট্রেনে বসেই দেখে ফেলতে হবে- ঐ দূরের দিগন্তটা কি দিয়ে তৈরি। সেটার পরে আর কি আছে। যাত্রাপথে স্টেশনে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে বেড়ায় যে ফেরিওয়ালা তার হাঁকডাক, ফেরীতে করে নদী পার হওয়া, পার হয়ে নতুন ট্রেনে টেনে টেনে মাল-পত্তর তোলা- অনেককিছুই ছিলো মুগ্ধ হয়ে দেখার মতো বিষয়। কিন্তু আমি শুধু গলা যতটা সম্ভব উঁচু করে চেষ্টা করতাম দিগন্তটাকে দেখতে।
বাঁশি হাতে নিয়ে আমার সেই কথাটা হঠাৎ মনে পড়ে গেলো। আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে ছোটবেলার সেই যতদূর পর্যন্ত চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত দেখার আপ্রাণ চেষ্টা করার মতো করে একটা টান দিলাম। এবং তারপর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ধোঁয়া ছেড়ে ছেড়ে আমিও ঘরটাকে আরেকটু মেঘাচ্ছন্ন করে দিলাম। তখন পর্যন্তও আমি জানতাম না, এই দিনটি আমার পুরোনো অনেক কিছুর সঙ্গে দেখা হওয়ার দিন। বুড়ো জোর করে শ’দুয়েক টাকার মাল দিয়ে দিলো। আমি সবুজ পলিথিনের ভেতর কাগজে পেঁচানো মালগুলো নিয়ে আবার নিজের পথে পা বাড়ালাম। পেছনে বসে রইলো ছুঁড়ে দেয়া একটুকরো ধন্যবাদকে বাতাস থেকে মুঠোবন্দী করার চেষ্টায় লিপ্ত, আমার পুরোনো ডিলার।

(চলবে)
---

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জোনাকি's picture


লেখাটা পড়ে গাঁজা খেয়ে দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে । Day Dreaming
ভালো লেগেছে ....পরের পর্বের অপেক্ষাতে....

মীর's picture


আজকালকার দিনে যেকোন রকম ইচ্ছাপূরণ খুব বেশি সমস্যা না। বেশ্টভ্লাক। আরিগাতো।

জোনাকি's picture


কাকার বাড়ির ঠিকানাটা দেন Big smile
খ্রবখুন খাহ্ !

মীর's picture


ঠিকানা সামনে পেয়ে যাবেন।
ইয়েইন্দি তন রাপ Smile

জোনাকি's picture


মাই পেনরাই খা ! Laughing out loud

মীর's picture


খাইলাম।

একজন মায়াবতী's picture


মোড়ক উন্মোচন হলো তাইলে Smile

মীর's picture


এইটারে কি মোড়ক উন্মোচন বলে?

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হঠাৎ কৈরা উপন্যাস লেখায় হাত দিলেন ক্যান, কনতো ? আপনের গল্পইতো ফাটাফাটি... শুরুতে গাঁজার ধোঁয়ার মাঝেও রহস্যের ধোঁয়াটে আভাস পাচ্ছি। অল দ্য বেস্ট গুরু Big smile

১০

মীর's picture


আপনে গুরুমানুষ যেহেতু অল দ্য বেস্ট উইশ করলেন সেহেতু সাহস বাইড়া গেল। আর আসলে অনেকদিন ধরে এই লেখাটা লিখতেছিলাম। লিখতে লিখতে একসময় দেখলাম উপন্যাসের মতো একটা চেহারা পাইসে। তাই আর কি... Smile তবে এটা সত্য, উপন্যাস নামানোর উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাটায় হাত দিই নাই।

১১

রায়েহাত শুভ's picture


ওয়েটিং টিং টিং...

১২

মীর's picture


আচ্ছা ঐদিন লীনা'পু কৈল আপনে নাকি সিগারেট একটার পিঠে দশটা খান। আমি কইতে চাই, ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়। (এখন কপিরাইট আইনে কট না খাইলেই হয়!)

১৩

কামরুল হাসান রাজন's picture


শুরুতে বিনয়টা না করলেও হত Tongue উপন্যাস শুরু করেছেন তাই অভিনন্দন Laughing out loud পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম Smile

১৪

মীর's picture


আইচ্ছা। উপদেশ মাথায় করে রাখলাম।

১৫

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপনার গল্প পড়ে প্রত্যাশার পারদ অনেক বেশি উপরে উঠে গেছে,
শুরুটা আরও ভাল হবে বলে আশা করেছিলাম।

প্রথম প্যারাটা বাকি লেখাটা থেকে আলাদা লাগছে, কেন জানি।

তবু-ও চলুক। অজস্র শুভকামনা। Smile

১৬

মীর's picture


প্রথম প্যারাটা আলাদা লাগারই কথা ছিলো। ওটা উপলব্ধি থেকে লেখা। আর বাকী অংশ বানোয়াট। শুভকামনার জন্য ধনেপাতা। লেখার শুরুতেও একবার দিসি কিন্তু।

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


গল্পের শুরুর প্যারাটার কথা বলেছি। Stare

১৮

মীর's picture


আমিও তো সেই প্যারাটার কথাই বলসি। সৃষ্টি সম্পর্কে আমার উপলব্ধি। এটা আলাদা লাগারই কথা। আশা করি বুঝাতে পারলাম।

১৯

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হুম্। তাইলে ঠিক আছে।

এই অংশটুকুর রেশ বাকি অংশে আরেকটু বেশি হলে আরও ভাল লাগত।এই আর কি!

পরবর্তী অংশ কবে দিচ্ছেন?

২০

মীর's picture


জলদি পাবেন বলেই মনে হয় Big smile

২১

জেবীন's picture


যাক, সেই ডিস্ক্লেইমারগুলোর রহস্য খুলবে তবে এদ্দিনে!! Laughing out loud

মূল গল্প নিয়ে আরো কয়েকটা পর্বের পরে বলতে চাই, আরেকটু দেখি
আর আপনার গল্পগুলা তো অনেক পছন্দের হয়, কারন গল্পে বলা পুরো ছবিটা যেন দৃশ্যমান হয়। উপন্যাস নিয়েও সেই প্রত্যাশা রইল। Smile

২২

মীর's picture


প্রত্যাশা ছাইড়া দেন আপামনি। লেখাটা পুরাটা পড়ে কারো বিরক্তি উদ্রেক না হইলেই আমি খুশি।

২৩

জ্যোতি's picture


আমিও ওয়েটিং টিং টিং টিং ----

২৪

মীর's picture


আমিও আপনের জন্য ওয়েটিং টিং টিং টিং টিং...

২৫

লীনা দিলরুবা's picture


মীরের কাছ থেকে এমন উদ্যোগ আসবে-প্রত্যাশিত। শুধু ধন্যবাদ দিলে কম হবে।

মীরের লেখার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তরতর করে এগিয়ে যাবার ব্যাপারটি-কম্যুনিকেটিভ ভঙ্গিটাও চোখে পড়ে।

উপন্যাসের ভূমিকায় যে তথ্য আসলো তার অপেক্ষায়... আর উপন্যাস নিয়ে যা বলবো- শুরুটা শুরুর মতোই হয়েছে। গল্পটার প্রতি তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ রাখলাম।

আমি- কি কি করতে পারে তার একটা আগাম ধারণা করতে পারি Smile হুম, পরে মিলিয়ে নেবো।

২৬

মীর's picture


আপনের আগাম ধারণাটা জানান। আমার লেখাটা প্রায় পুরোটাই শেষ হয়ে গেছে। মিলিয়ে দেখার বিষয়টা এখন দুই তরফ থেকে হতে পারে।
আর কমিউনিকেটিভ ভঙ্গিটা আমাকে একটু ধরায় দেন তো। কোথায় পাঠকের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে পারসি জানতে ইচ্ছা হচ্ছে। আমার ধারণা কোথাও পারি নাই।

২৭

লীনা দিলরুবা's picture


আগাম ধারণা আমার ব্যক্তিগত, ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা আমি লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে পছন্দ করি Smile

আপনে কী বিনয় দেখাতে পছন্দ করেন? তাইলে আমি আর কথা বাড়ামু না।

২৮

মীর's picture


আচ্ছা। কথা তাইলে আপাতত এখানেই...।
তবে আমি জানি আপনে লেখার সঠিক পরিণতিটাই অনুমান করসেন। Smile

২৯

শাফায়েত's picture


তীর্যক একটা মন্তব্য করতে পারি। লেখার শুরুটা খুব একটা চমকপ্রদ হয়নি।
তবে আশায় আছি আস্তে আস্তে পাঠককুল একটা ভালো লেখার মধ্যে প্রবেশ করবে।
আর বিনয় কমান মিয়া Smile

৩০

মীর's picture


ভাইজান আপনে যেভাবে সবাইরে ঝাড়ি দিয়া বেড়াইতেসেন, তাতে তো ডরাইতেসি। তীর্যক মন্তব্যের জন্য সুপ্রচুর ধইন্যা। Smile

৩১

লাবণী's picture


চলুক-----মীর দা Smile
উপন্যাসের গন্ধ পেলাম প্রথম পর্বেই! Smile

৩২

মীর's picture


থ্যাংকস্। লেখা কেমন লাগসে বলেন।

৩৩

নেয়ামত's picture


উপন্যাস এর বাকিটা কেমন হবে জানিনা।।
তয় শুরুটা আপনার গল্পের মতো চমৎকার মনে হয়নি।
আপনার লেখা বলে কথা, তাই পরবর্তী চমকের অপেক্ষায় রইলাম।

৩৪

মীর's picture


এই যে, সঠিক মূল্যায়নটি পাওয়া গেছে। থ্যাংকিউ ব্রাদার। অনুপ্রাণিত হইলাম।
তয় ভাইজান চমকের অপেক্ষা ছাইড়া দেন। কারণ আমার মনে হয় না সেরকম কিছু দেয়ার ক্ষমতা আমার আছে কিংবা কখনো ছিলো। আরে আমি তো বলসিই, এইসব হাবিজাবি জিনিসপাতিরে সিরিয়াসলি নেয়া যাবে না। কথাটা আমার ব্লগের সকল লেখার জন্যই কিন্তু প্রযোজ্য।

৩৫

নেয়ামত's picture


আশা ছাড়ি কেমনে?
গল্প পড়ে পড়ে তো আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গেছি।
তাই শেষ পর্যন্ত চমকের অপেক্ষাতেই থাকব।

৩৬

মীর's picture


আচ্ছা ঠিক আছে ভাইজান। দেখতেসি কি করা যায়। মানে চেষ্টার সর্বোচ্চটা চালাবো আর কি।
ভালো থাইকেন। শুভেচ্ছা Smile

৩৭

হাসান রায়হান's picture


চলুক মীর্দা Smile

৩৮

মীর's picture


ধন্যবাদ অচিন্দা Smile

৩৯

এ টি এম কাদের's picture


আপনি লোকত সুবিধের না ভা'য়া ! প্রথম সুযোগেই পাঠককে 'বাঁশি' ধরিয়ে দেবার তালে আছেন । তয় পোলা-পুলি গুলা যদি আসক্ত হয়ে পড়ে তার দায় কিন্তু আপনার ক'লাম ।

এই প্রথম তার লেখায় মীরকে খুঁজে পেতে কষ্ট হলো । কেমন মনে হলো ইনিতো মীর না----অন্য কেউ । আশা করি যথা শীঘ্র মীরকে তার আপন ফরমে পাওয়া যাবে ।

নূতন প্রয়াস শুরুর জন্য অভিনন্দন !

৪০

মীর's picture


আয়হায়, এমনে বললে তো আসলেই পেরেশানিতে পড়ে যাই। ভাইরে ফরম-টরম কিছু না। লেখালেখির অপচেষ্টা এমনিই চালাই। এই ব্লগটাকে খুব ভাল্লাগে। ব্লগারদেরকে ততোধিক ভালো লাগে। তাই এইখানে আবোল-তাবোল লিখে রাখি। এসব নিয়ে আশাবাদী ও আশাহত কোনোটাই হওয়ার সুযোগ নাই, বুঝলেন? ধইন্যা পাতা

৪১

শওকত মাসুম's picture


আমিও ওয়েটিং

৪২

মীর's picture


আমি ওয়েটিং। আপনের রম্যরচনা পড়ার জন্য।

৪৩

সাঈদ's picture


কবে আমাকে উপহার দিবেন বইটা ?

৪৪

মীর's picture


উপহার লাগবে সাঈদ ভাই? ঠিক আছে। এইটাতো দেয়া যাবে না। তবে দেখতেসি কি করা যায়। Wink

৪৫

জ্যোতি's picture


পরের পর্ব কই? এত অলস হলে তো চলবে না!পরের পর্ব পড়ার অপক্ষোয় মশার কামর খাচ্ছি বসে বসে Crying Crying

৪৬

মীর's picture


আয়হায় কন কি? আমি তো মুভি দেখতেসি আরামসে শুয়ে শুয়ে।
আপনে মশার কামড় খান ক্যান? রাত্রে ভাত খান নাই?

৪৭

জ্যোতি's picture


ভাত রানতে মন্চায় না। Sad Sad Sad Sad

৪৮

মীর's picture


ওরে বাবা! তাহলে একটা রান্নার লোক খুঁজে নেন। তাও প্লীজ মশার কামড় খাইয়েন না। ওইটা ঠিক স্বাস্থ্যসম্মত না।
ওয়েটান। নতুন পর্ব দিচ্ছি। কিন্তু রাত্রে ভাত খান নাই শুইনা বেজার হইলাম। Stare

৪৯

তানবীরা's picture


অল দ্য বেস্ট প্রথম মলাটের বই নিয়ে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।