নিরর্থক আলোচনা পোস্ট
হুমায়ুন আজাদ স্যারের দুইটা প্রবচন আছে-
"টেলিভিশনে জাহাজমার্কা আলকাতরার বিজ্ঞাপনটি আকর্ষনীয়, তাৎপর্যপূর্ণ; তবে অসম্পূর্ণ। বিজ্ঞাপনটিতে জালে, জাহাজে, টিনের চালে আলকাতরা লাগানোর উপকারিতার কথা বলা হয়; কিন্তু বলা উচিত ছিলো যে জাহাজমার্কা আলকাতরা লাগানোর উৎকৃষ্টতম স্থান হচ্ছে টেলিভিশনের পর্দা, বিশেষ করে যখন বাঙলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা যায়।"
এবং
"বাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে বই খুলুন,
অবাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে টেলিভিশন খুলুন।"
আমার ইদানীং স্কারলেট জোহানসন, টনি ল্যাং, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র প্রমুখ অবাঞ্ছিতদের সঙ্গে সময় একটু বেশিই কাটছে। তবে আমার সুবিধাটা হচ্ছে, আমাকে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখতে হয় না। আমি ডোরেমন দেখি, টিএলসি'তে রান্না-বান্না দেখি আর ফক্স টিভিতে মুভি দেখি। এইচবিও'তে অনেক বিজ্ঞাপন দেখায়। তারপরও এইচবিও দেখি। এটাও ভালো। টিভিতে মুভি দেখার সুবিধে হচ্ছে, ভালো-মন্দ বাছ-বিচার করার ঝামেলা নাই। ডাউনলোডের ঝামেলা নাই। মুভি ছাড়ো, বসে দেখো; ব্যাস্। আর অসুবিধে হচ্ছে, মাঝে মাঝে বস্তাপচা কিছু মুভি চোখের সামনে পড়ে যায়। তখন চোখ কচকচ করে।
সেদিন অচেনা বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিলো, তাকে বললাম; 'আমার বয়স খুবই কম। সামনে লম্বা সময়। এইটা নিয়ে যে কি করি বুঝতে পারছি না। আপনের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে-বেড়ায় কাটাইতে পারলে ভালো হইতো।' এ কথা বলার পর থেকে অচেনাজন আর আমার সঙ্গে কথা বলে না। সম্ভবত সে আমাকে এ্যভয়েড করতে চায়। আমি তার সঙ্গে ঘুরে-ফিরে বেড়াই সেটা চায় না।
মনটা খারাপ। অচেনা বন্ধুকে একদিন এইচবিও দেখাতে পারলে ভালো হতো। সেখানে একটা বিজ্ঞাপন দেখায়। গ্রীনপ্লাই প্লাইউডের বিজ্ঞাপন। একদিন আমাদের চেনাজানা পৃথিবীটা চেঞ্জ হয়ে যাবে। গাড়ি পেট্টলে না চলে পানিতে চলবে। মানুষের জীবন চলবে মোবাইল ফোন ছাড়াই। কিন্তু সেসব দেখার জন্য কি আজকের মানুষেরা থাকবে? থাকবে না। থাকবে কেবল গ্রীনপ্লাইয়ের আসবাবপত্রগুলো।
এই বিজ্ঞাপনটা দেখলে অচেনা বন্ধু হয়তো বুঝতে পারতো, জীবন কত ছোট্ট একটা ব্যপার। এমনকি সামান্য আসবাবপত্রের চেয়েও এটা তুচ্ছ। এটাকে মহার্ঘ্য মনে করার কিছু নেই। যারা মহার্ঘ্য মনে করে, তারা আজীবন এটার পেছনে ছুটে বেড়ায়। আর যারা মনে করে না, এটা আজীবন তাদের পেছনে ছুটে বেড়ায়।
যাক্ রিসেন্টলি এইচবিও'তে দেখা দুইটা মুভির ব্যপারে লেখার জন্য বসেছিলাম। দুনিয়ার আলাপ করে ফেলেছি, কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে এখনো বলি নি-
দ্য ব্লাইন্ড সাইড (২০০৯)

মুভিটার সবচেয়ে সুন্দর যে জিনিসটা, সেটা হচ্ছে একটা সুখী পরিবারের দৃশ্যায়ন। চমৎকার একটা কনজারভেটিভ সাব-আরবান ফ্যামিলি, দেখলেই ভালো লাগে। তারা কেউ অবাধ্য নয়। কেউ অবিশ্বাসী নয়। কেউ সংকীর্ণমনা নয়।
মিসেস টুয়ী (সান্দ্রা বুলক) যখন সিনেমার মূল চরিত্র মাইকেল ওহার বা বিগ মাইককে বাসায় নিয়ে আসে, সেই দৃশ্যটা খুব সুন্দর। বেচারা মাইকেল মিসেস টুয়ীর ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা করে। বিশাল বপুর কারণে পুরো স্কুলে সে বিগ মাইক নামে পরিচিত। ক্লাসের ছেলেমেয়ে বা শিক্ষক, সবাই এ নামেই তাকে ডাকে। ছেলেটা আবার বিগ মাইক নামটা পছন্দ করে না। শুধু যে পছন্দ করে না, তাই না। ছোটবেলায় একটা ট্রমার ভেতর দিয়ে যাওয়ার কারণে সে এসব ব্যপারে খুবই সেল্ফ প্রটেকটিভ। যে কারণে সে খুবই নিঃসঙ্গ একটা ছেলে। এমনকি সে যে প্রতিরাতে ওয়াশিং স্টোরে বা জিমনেশিয়ামে বসে বসে রাত কাটায়, সেটাও স্কুলের কেউ জানে না। কারণ কেউ তো তার বন্ধু না। কেউ তার খোঁজ-খবরও নেয় না। কেউ জানে না, তার মাত্র একটা স্পেয়ার টি-শার্ট ছাড়া স্থাবর-অস্থাবর আর কোনো সম্পত্তি নেই।
এরকম একদিন জিমনেশিয়ামে ঘুমাতে যাবার সময় মিসেস টুয়ী তাকে রাস্তার মধ্যে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। বিগ মাইক প্রথমে একটু অস্বীকার করার চেষ্টা করছিলো 'সে জিমনেশিয়ামে যাচ্ছে উষ্ণতার জন্য' ইত্যাদি ইত্যাদি বলে। কিন্তু মহিলার রাম ধমক 'ডোন্ট য়ু ডেয়ার লাই টু মী' তাকে একেবারে চুপ করিয়ে দেয়।
সরল মনস্তাত্তিক জীবনঘেঁষা ছবি। আমার সিনেমাটা দেখার সময় মনে হচ্ছিলো, ব্যপারটা কি? এই সিনেমায় কোনো ট্র্যাজেডী নাই নাকি?
ট্রাজেডী আছে। সেটা সুন্দরভাবে কাটিয়ে ওঠার বিষয়ও আছে। মোটকথা; একটা সুন্দর পারিবারিক সিনেমা বলতে যা বোঝায়, দ্য ব্লাইন্ড সাইড আসলে তাই।
নো স্ট্রিংস এটাচড্ (২০১১)

এইটা অবিবাহিত ও দুষ্টু ছেলেমেয়েদের মুভি। এমা (নাটালি পোর্টম্যান) আর অ্যাডাম (অ্যাশটন কুচার) ছোটবেলার বন্ধু। শুধু বন্ধুই। স্কুল-কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ে একজন আরেকজনের কাছ থেকে সরেছে, কাছে এসেছে, আবার সরেছে- এমন। তবে সবসময়ই একটা যোগাযোগ ছিলো তাদের মধ্যে। এ অবস্থায় নিজেদের খুব খারাপ একটা সময়ে একদিন ওরা দু'জন ইন্টারকোর্স করে ফেলে।
তারপর, যথারীতি; বন্ধুত্ব হুমকির মুখে। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে ওরা তখন একটা নিয়ম ঠিক করে। নো স্ট্রিংস এটাচড্। ওদের মধ্যে কোনো মানসিক টান থাকবে না। যখন খুশি যেখানে ও যেভাবে খুশি, একে অপরকে ওদের ভাষায় য়ু'জ করবে। সেটা মূলত শারীরিকভাবে আরকি।
বিশেষ করে এমার বুদ্ধি ছিলো এটা। নো জেলাসি, নো এক্সপেকটেশন্স, নো ফাইটিং, নো ফ্লাওয়ার্স; কোনোভাবেই যেন একসুতো পরিমাণ মানসিক সংস্পর্শ না ঘটে তাদের মধ্যে। দেখার বিষয় হচ্ছে, এমন একটা স্ট্রিক্টলি-ফিজিক্যাল রিলেশন কি আসলেই মেনটেইন করা সম্ভব? উত্তরটা সহজেই অনুমেয়, তবুও সিনেমাটা আসলে বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে।
ওয়েল, অনেক কিছু নিয়ে নিরর্থক আলোচনা হলো। নো মোর। ভালো থাইকেন যারা এই লেখা পড়সেন। ভালো থাইকেন যারা এই লেখা পড়েন নাই। ভালো থাইকেন সবাই। শুভেচ্ছা নিরন্তর।
---





ক্যান ক্যান? আমারে নিয়া চিন্তা ক্যান?
পুলাপান বড় হৈলে ভাইবেরাদরদের চিন্তা হৈব না?
হিহি অতো বড় হই নাই তো বস্। একদমই বড় হই নাই আসলে
মুভি দুইটাই চরম ইন্টারেস্টিং, এখনই দেখুম ভাবতেছি
দেইখা মতামত না জানানোর মতো একটা কান্ড আবার ঘটায় দিয়েন না কিন্তু
নো স্ট্রিংস এটাচড্ মুভির নায়কের a lot like love মুভিটা আমার ব্যপক পছন্দের
ওকে থ্যাংকিউ ভেরী মাচ ফর দ্য নেইম। দেইখা জানামু নে কেমন লাগসে।
কোনোটাই দেখি নি। কত মুভি যে না দেখা রয়ে গেল...
সাফারিকিং-এ মাসে অন্তত ৭৫ জিবি নামাইতে দেয় ফুপ-এর আওতায়। সো চিল!
নামান, দেখেন, ডিভিডিতে রাইট করে কোনায় ফেলে দেন। ঝামেলা খতম।
আরিগাতো গোজাইমাছ
... আপনারে জাপানিজ ধন্যবাদ দিলাম
ই্ওকোসো ফাহমিদা'পু। ও হিসাশিবুরি দেসু নে! ও গেনকি দেসু কা?
সিনেমা দেখিনি।
হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ'র নাম শুনেছি কিন্তু পড়িনি।
সিনেমাগুলান দেখবো ও বইটা পড়বো।
ইচ্ছা তৈরি হয়েছে।
ইচ্ছা তৈরি হয়েছে জেনে খুশি হলাম। আপনাকে দেখলামও অনেকদিন পর শাফায়েত। ভালো আছেন?
প্রথমটা দেখিনাই।
পরেরটা আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ মুভিগুলার একটা। ভয়ানক প্রেডিকটেবল, হালকা, এবং রীতিমত বিরক্তিকর। এককথায় খারাপ হলিউডের যা যা গুন থাকা দরকার, তা আছে এটার। এক ছেলে আমাকে খাতির করে এই মুভি দেখাইতে নিয়ে গেসিলো। তার সাথে আর কখনো যোগাযোগ করিনাই।
বাই দ্যা ওয়ে, অচেনা বন্ধুকে কি এই মুভিটার কথা বলসিলেন? সেজন্য এভোয়েড করেনা তো? জাস্ট আস্কিং! ভাল থাকবেন!
অচেনা বন্ধুকে কোনো মুভির কথা বলি নাই। তাকে কি বলসিলাম সেইটা পোস্টে পরিস্কার লেখা আছে।
আর সিনেমা সম্পর্কে আপনার মতামত জানলাম। আসলে মেনি মেন, মেনি মাইন্ডস্ তো, তাই আমার কাছে যেটা বেশ ভালো লাগছে সেইটা আপনার ভেতরে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। এই আরকি।
হু, মেনি মেন মেনি মাইন্ড তো বটেই। আপনাকে চেতায়ে দিলাম নাকি আবার? স্যরি। প্রতিক্রিয়া একেবারেই তীব্র না, খুবই অতীব্র।
ভাল থাকবেন।
এতদিন পর ব্লগে আইসা সবার প্রথমে আপ্নেরে কমেন্ট দিতেসি। ভাবলাম জ্বালাময়ী কোন মন্তব্য দিব। এখন দেখি মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

ফার্স্টে আমারে কমেন্ট দিসেন বলে যে আপনারে আমি ঝাড়ি দিমু না, তা মনে কইরেন না।
এতদিন আছিলেন কই? দেখি নাই ক্যান?
আপনারে নিয়া চিন্তায় পৈড়া গেলাম।
গৌতম গম্ভীরের কমেন্ট কপি করার জন্য আপনাকে নিন্দাবাদ। কিন্তু আমাকে নিয়ে পেচ্চাপেচ্চি করলে ভালো হবে না জানিয়ে দিচ্ছি।
সমস্যা ?
মুরাদ ভাই কি প্রশ্নটা আমারে করসেন? করে থাকলে সেটার উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ, একটা বড়সড় সমস্যা। আর তা হলো মাসুম ভাইয়ের প্রথম কমেন্টের রিপ্লাইটা কমেন্টের নিচে যোগ না হলে আলাদা একটা কমেন্ট হয়ে পোস্ট হইসে। এখন এইটার পারলে কিছু করেন
দ্বিতীয় ছবিটা দেখি নাই। প্রথম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে নাটালি এই ছবি করলো?
আমার একবার মনে হইসিলো, নাটালির জায়গায় এইখানে আমাদের কমন বান্ধবীটারে দিলে ভালো হইতো।
আহা, স্কারলেট জোহানসন
কালকেও একবার লস্ট ইন ট্রান্সলেশনটা দেখলাম। কি মেয়েরে বাবা!
আর বিল মারে সিম্পলি অসাম!
আপনার ইমো দেইখা খুশি। সবসময় এই ইমো দিবেন। নাইলে আপনারে
করা হবে।
মাসুম ভাই নাটালি পোর্টম্যান কিন্তু স্টারওয়্যারস করছে- ওর ঐকহানে মাথায় বিকট একটা উইপ পরে মুখে রং লাগায়া গম্ভীর হইয়া থাকার বাইরে অন্য কোনো কাজ করতে হয় নাই।
এইটা একেবারে হালকা চালের ছবি, তবে এক ধরণের বক্তব্যও আছে- নিছর শাররীক সম্পর্ক বলে কিছু নাই, দীর্ঘদিন একজনের সাথে শরীর ভাগাভাগি করলে অনেক কিছুই ভাগাভাগি করা যায় টাইপ।
ছবিটা দেখি নাই। দেখলে হয়তো ভাল লাগতে পারে।
রাসেল ভাইয়ের বক্তব্য বিষয়ক অভিমতের সঙ্গে একমত।
আর হালকা চালের ছবি হওয়ার জন্য আমি দায়ী না। কারণ আগেই বলসি- ডাউনলোড করলে বাছ-বিচারের ঝামেলায় যাইতে হয়। টিভিতে সেই সমস্যা নাই।
আপনারে নিয়া চিন্তায় পৈড়া গেলাম।
আপনেও

দু'টির একটিও দেখা হয়নি! আমি মুভি দেখি খুব কম। দেখলেও ছোট ভায়ের সাথে হ্যারী পটার টাইপের মুভি দেখি
কারেন্ট যাবার কারনে বা সময় মতো বাসায় না ফেরার কারনে আমার টিভি দেখায় এখন একটূ ঘাটতিতে পড়ছি!
মন্তব্য করুন