অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছি
ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে দেখা হলো অনেকদিন পর। বলছিলো, এই মেয়েটাই নাকি ওর জীবনের শেষ প্রেম।
আমি বললাম, বললাম না কিছু আসলে, হাসলাম। ব্যপারটা ক্রিস্টিয়ানোর চোখ এড়ালো না। ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার মজা একটাই। খানিকটা হলেও ছেলেবেলাটায় ফিরে যাওয়া যায়। সে সময়কার সুতার টেনশনটা এখনো মনের ভেতর টের পাই। আশা জাগে এখনো হয়তো বুড়িয়ে যাই নি।
ক্রিস্টিয়ানো জানতে চাইলো, কেন হাসলাম। আমি বললাম, ধরো তুমি যে ল'র মতো একটা গম্ভীর বিষয়ে মাস্টার্স করলে এই বিষয়টা, এটা কিন্তু এক অর্থে একটা মিরাকল। কারণ কলেজে তুমি যখন আমাদের সবার ডেস্কটপের ইঞ্জিনিয়ার ছিলে তখন কিন্তু কেউ জানতো না, তুমি একদিন এলএলএম করে ঘুরে বেড়াবে। এই যে অনিশ্চয়তা, এটা কিন্তু মানুষের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। ধরো আজ থেকে পাঁচ বছর পর তুমি ওহাইয়ো স্টেটের কোনো একটা জায়গায় থাকো, সেখানে কোনো কম্পিউটার ফার্মে তুমি কাজ করো। সকালবেলা ল্যাবে যেতে হয়, বিকেল বেলা বের হওয়া, তারপরে পথের ধারে কোনো পাবে বসে খানিক মদ গেলা এবং সবশেষে বাসায় ফেরার একটা নর্মাল গতানুগতিক লাইফ তোমাকে লীড করতে হয়। সেই লাইফে হঠাৎ একদিন একটা তোমার মতোই মেয়ের দেখা তুমি পেয়ে গেলে। তার সঙ্গে তোমার পাবে বা আর কোথাও পরিচয় হলো এবং সেদিন থেকেই তোমরা দৈহিকভাবে মিলিত হওয়া শুরু করলে। শুধু এই একটা সুনিশ্চিত আকর্ষণের টানেই তোমরা একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করা শুরু করলে। একসময় হয়তো দৈনন্দিন খরচ কমানোর জন্য মেয়েটি তোমার সঙ্গে এসে উঠেও গেলো। এইরকম একটা ঘটনা যে তোমার সঙ্গে কখনোই ঘটবে না, সেটা তুমি কখনোই একশ' ভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারো না। তাই আমরা কখনোই আসলে একটা প্রেমকে জীবনের শেষ প্রেম হিসেবে কাউন্ট করে ফেলতে পারি না। কি বলো?
এই ধরনের বকাবাজি করেই আজকাল দিনগুলো কাটছে। আর রাতগুলো কাটানো কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। কারণ বাসা পাল্টানোর পর এখন পুরোনো গেকোটাও আর নেই। আগে আমার রাতের একমাত্র সঙ্গী ছিলো গেকোটা। এখন একটা ঘড়ির কাঁটা ঝিক ঝিক করে চলতে থাকে শুধু।
আর মুভি। মাঝে মাঝে দেখা হয়। যেসব রাতে সৌভাগ্যরা ঘুরে-ফিরে কেবল আমাকেই এসে দেখা দিয়ে যায়। সেসব রাতে। সেদিন দেখলাম বর্ণ লিগেসি। জেরেমি রেনার উৎরে গেছে। বর্ণের পরের পর্বের জন্য আবারো অপেক্ষা শুরু করা ছাড়া আর কিছুই আপাতত করার খুঁজে পাচ্ছি না।
গ্যাংস অব ওয়েসিপুর সিনেমার গান শুনি। ‘তার বিজলি সে পাতলে হামারে পিয়া’। ভিন্ন ঘরানার গান। শুনে শুনে মজা পাই। আর ‘রাত পোহালে পাখি বলে দেরে খাই দেরে খাই’। এইসব গানের আসলে একটা কমন দিক আছে। হাতে তৈরি বাদ্যের ব্যবহার বেশি করা হয়। আমি হয়তো হাতে তৈরি বাদ্যের সুর বেশি পছন্দ করি। অথবা এ ধরনের সুরই এখন আমার বেশি ভালো লাগে।
শীত বস্-এর সঙ্গে খেলাটা আজকাল জমছে ভালো। মোস্তফার একটা বস্ ছিলো। ব্লেড বস্। ভয়ংকর। একটা লাইফ ওখানে আমার যেতোই। ডিএক্স বল গেমটা এখন আর নেই। কিন্তু ওই গেমটা একসময় ঘন্টার পর ঘন্টা খেলেছি। তারপরে এনএফএস টু, মটো রেসার, ম্যানএক্স টিটি, কমান্ডোজ, ফায়ার ফাইটার, কতো গেম। আর সব লিস্টের বাইরে কিং অব ফাইটার। সবখানে, সর্বদা।
মাঝে মাঝে মনে হয়, একটা সময় জীবনটা খুব সহজ ছিলো। একটা স্ট্রং সরলরেখার মতো সহজ। খাও-ঘুমাও-পড়াশোনা করো-স্কুলে যাও-স্যারের বাসায় যাও- এ ধরনের কিছু ফাচুকি কাজ ছিলো মাত্র করার জন্য। সেই কাজগুলোও আবার ঠিকমতো করতাম না। ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা তো থাকতোই আবার ক্ষমতা কম থাকার কারণেও সামান্য কয়েকটা জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ ঠিকমতো করতে পারতাম না। কিন্তু তারপরও সময় কেটে যেতো। চোখের নিমিষে কেটে গেছেও। কোনোদিন টের পেতে হয় নি, সময় কাটছে। আর এখন; রকমারি যোগাযোগ, সেসব থেকে উদ্দেশজনিত কারণটি ছেঁকে বের করা, সেটার উৎকর্ষ ঘটানো, উৎকর্ষটা কাজে লাগানো, লাগিয়ে টুপাইস কামাই করা, কামাই করে সেটা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করা- সবই করতে হচ্ছে। জীবন আমাকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। মাঝে মাঝে হয়তো মনে হচ্ছে, একটা সময় জীবন খুব সহজ ছিলো। কিন্তু এখন যে জীবন আর সহজ নেই, সেটা বুঝতেও খুব বেশি দেরি হচ্ছে না।
তবে সত্যি কথা বলতে কি, আমি আশাবাদী। তুমি যখন হাসো, তখন পুরো পৃথিবী তোমার সঙ্গে হাসে- এই কথাটার কোনো বিকল্প নেই। দুঃখের চূড়ায় উঠে আমি হা হা করে গলা আর প্রাণ খুলে হাসতে দেখেছি মানুষকে। তার হাসিতে কোনো খেদ ছিলো না।
নিজেকে একটা স্রোতের ঢেউ মনে হয় আজকাল। এছাড়া আর কিছুই না। অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছি। খানিক পরেই ডুবে যাবো। মিলিয়ে যাবো অতল সমুদ্রের নোনা জলের সঙ্গে। কোনো হিসাবই থাকবে না। অদ্ভুত!
---





খুব ভালো লাগলো লেখাটা
থ্যাংকিউ ফাহমিদা'পু। ভালো লাগলো কমেন্টটা।
আছেন কেমন? দেখি না কেন?
খুব ঝামেলার মাঝে ডুবে আছি ...
দারুন বলেছেন ব্রো । সুপার লাইক
।
হি হি
সুপার লাইক কেন উচ্ছল ভাই? আপনেও কি অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছেন নাকি?
আমারতো মনে হয় অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠে সবাই তবে পার্থক্য হলো, কেউ বোঝে কেউ বোঝে না।
আপনি কি বলেন?
না, আমি একমত নই। যেমন ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁকে কিন্তু বলা যাবে না যে, তিনি অল্প কিছু সময়ের জন্য ভেসে উঠেছিলেন। এরকম আরো অনেক মানুষ আছেন। লম্বা একটা তালিকা আছে তাঁদের।
কিন্তু আমি সেই তালিকার মধ্যে নেই। আমি আছি গতানুগতিক ঢেউ'দের তালিকায়, যে ঢেউগুলো গন্ডায়-পিন্ডায় জন্মায় এবং খানিক পরেই ডুবে যায়।
যাই করি না ক্যান ... আপনার কথা মনে হয় ... আজকে সকালেও অফিসে আসতে আসতে আপনার কথা ভাবতেছিলাম
ক্যামন আছেন?
আমি পরশু দিন আপনের কথা ভাবতে ভাবতে আশা টাওয়ারের নিচ দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিলাম
ভালো আছি অনেক। আপনি আর নাজ আপু আর ঋহান পিচ্চু কেমন আছে?
আমরা সব্বাই ভাল
অফিসে ঢুইকা পরতেন?
আপনের অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ই তো অনেক নার্ভাস লাগছিলো।
কঠিন সত্যিই
তারপরেও আপনের মতো কঠিন না সুন্দরী
আমিও আশাবাদী মানুষ। আশাবাদী হওয়া ছাড়া আমাদের আর কিইবা করার আছে !
খুব ভাল লাগলো লেখাটা।
থ্যাংক ইউ নিভৃতদা'। গল্প কিন্তু পাচ্ছি না আপনার, অনেকদিন ধরে।
ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছি ভাই। একটু ফ্রি হয়ে শুরু করব ভাবছি।
আপনি এখন নিজের লেখা বই এর পাতায় ছাপার কথা ভাবার সময় হয়ে এসেছে।
এই লেখাটায় আপনার নিজের কথাবার্তার সাথে সাহিত্যিক টাচটা চমৎকার লেগেছে। একটা গল্পের বই ছাপানোর চেষ্টা করে দেখতে পারেন। বাজারের কথা বলতে পারি না তবে মানুষের মনে ভালই সাড়া পরবে বলেই আমার বিশ্বাস। শুভকামনা রইল, ভেবে দেইখেন।
সিলভার ডিস্কে মাস্টার প্রিন্ট বর্ণ লিগেসি আজকে গিয়ে পাইলাম।
কিং অফ ফাইটার আমার সবচাইতে প্রিয় ফাইটিং গেম।
আচ্ছা, আপনার প্রো পিক টা কি 'কে' এর?
এই প্রিন্টটা বেরই হইসে কয়েকদিন আগে। দীর্ঘ অপেক্ষা প্রহর পার করতে হয়েছে এটার জন্য আমাকে। প্রোপিকের ছবি কে'র। কফ টু থাউজ্যান্ডের কথা মনে আছে না? শেষ দিকে ওটা অনেক বেশি খেলা হতো। তবে কফ-এর মূল মজাটা বোধহয় নাইন্টি সেভেনে, কি বলেন?
শুভকামনা সাদরে গৃহীত। বই লেখাটা কি হবে আদৌ, কোনোদিন?!
আমি আশায় আছি,
এখন আপনের কিছু সাহস হলেই হয়!
আমার কাছে কেওএফ এর সবগুলাই অনেক ভাল্লাগে,
প্রত্যেকটাই একেকটার টাইমে ধুন্দুমার খেলা হইছে।
শেষ যেটা আসলো, এক্স আই আই আই - সেটা বাদে।
এটা আমার পিসিতে বাফার করে; ৪ জিবি র্যাম আর ১ জিবি গ্রাফিক্স কার্ড থাকার পরও!
কি দারুণ করে লিখেন কথাগুলি! বড় একটা গল্প লিখতেন! পড়তে পড়তে যেন রাত শেষ হয়ে যায় । দাতের ব্যাথায় মারা যাচ্ছি । চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে । জীবন আগে অাসলেই কত সহজ ছিলো! মাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ গুজে সব ব্যথা বেদনা মিলিয়ে দিতাম ।
আপনি আগে বললে তো আমি বড় একটা গল্পই লিখতাম। বলেন নি কেন? দাঁতে আমারো ক্যারিজ। খুব খারাপ অবস্থা। কিন্তু আলসেমী করে ডকের কাছে যাই না।
আগে প্রতিদিন ভোরে আমার মনে হতো, এভরিডে ইজ আ নিউ ডে।
এখন আর হয় না
আপনার লেখাটা পড়ার সময় এই গানটা শুনছিলাম--
এইটাই মনে হয় সত্য। বেঁচে থাকার উপায়
মোটামুটি লাগলো। আপনার লেখাও যে মাঝে মধ্যে মোটামুটি লাগতে পারে তাও জানলাম
মন্তব্য করুন