ইউজার লগইন

গল্প : শেষ বিকেলের সোনালি আলো মিলেছে যখন চোখের কোণায়

অচেনা বন্ধুকে আমি সুন্দরী মনে করতাম। কিন্তু দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারি, ধারণাটায় কি মারাত্মক রকমের ভুল ছিলো!

তিনি শুধু সুন্দরীই নন। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য্য নিজের ভেতরে ধারণ করে নিয়ে বসে থাকা একজন অপ্সরী। আমি ধাক্কামতো খেলাম। সাধারণত অদেখা পূর্বপরিচিত কারো সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়ার সময়, আমি তাকে ভড়কে দেবার কোনো একটা চেষ্টা চালাই। এটা আমার পূর্বনির্ধারিত একটি সিস্টেম। কিন্তু এইদফায় আমি নিজেই ভড়কে গেলাম এবং বেশ কিছুক্ষণ আমাকে অসাড় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। কারণ মস্তিষ্কটা কিছুক্ষণের জন্য পুরোপুরিই বিকল হয়ে গিয়েছিলো। কোনো অর্ডার জেনারেট করে হাত-পা ও অন্য অঙ্গগুলোর কাছে পাঠাতে পারছিলো না। সেটাও আমার মতো মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো উনার দিকে। আমার অমন ভোম্বলের মতো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা দেখেই তিনি আমাকে চিনে ফেললেন। নিজেই এগিয়ে এসে জানতে চাইলেন, আপনি কি আমার অচেনা বন্ধু? আমি কোনক্রমে শুধু ইতিবাচক ভঙ্গিতে মাথাটুকু নাড়াতে পারলাম। তিনি আমার হাত স্পর্শ করলেন এবং বললেন, আপনি চাইলে এখানে দাঁড়িয়েই আমরা সব আলাপ-আলোচনা সেরে ফেলতে পারি। কিন্তু আমি বরং আপনার সঙ্গে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করাটাকে বেশি প্রিফার করবো। আপনি কি যাবেন? আমি এবারও শুধু ইতিবাচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম। তবে টের পাচ্ছিলাম, আস্তে আস্তে মাথা পরিস্কার হয়ে আসছে। সেটা 'সাইট সীয়িং' বাদ দিয়ে নিজের কাজে মনোযোগী হয়েছে। টুক-টাক অর্ডারও দিতে পারছে অধীনস্থ অঙ্গগুলোকে। যে কারণে উনার সঙ্গে হেঁটে হেঁটে সিঁড়িটুকু নেমে আসতে খুব বেশি কষ্ট করতে হলো না। আমি শুধু চিন্তা করছিলাম একটা কথাই যে, তিনি কিভাবে বুঝতে পারলেন আমি স্টাক হয়ে গেছি? বুঝতে না পারলে তো গিয়ে আমাকে স্পর্শ করার কথা নয়। ছোটবেলার বরফপানি খেলার কথা মনে পড়ে গেলো। প্রতিপক্ষ দল ধরে ফেললে আমরা বরফ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তারপর নিজের দলের কেউ এসে ছুঁয়ে দিলেই আবার পানি। আবার ছুট। উনাকে প্রথমবার দেখে আমি সেই বরফটাই হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো একটি মানুষের সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ছোটবেলার খুব প্রিয় কোনো স্মৃতি এসে আপনার মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে তোলে, তখন আপনি সেই মানুষটাকে কতটুকু পছন্দ করবেন?

প্রথম দেখায় আমি অচেনা বন্ধুকে ঠিক ততটুকুই পছন্দ করে ফেলেছিলাম।

আমাদের হাতে অবশ্য খুব বেশিক্ষণ সময় ছিলো না। শেষ বিকেলের সোনালী আলোয় হাসছিলো চারিদিক। এরই মধ্যে আমরা দু’জনের কপ্টার নামের ভদ্রস্থ চেহারার একটি সাইকেলে চড়ে বসলাম। আমাদের গন্তব্য ছিলো কোনো একটা নির্জন জায়গা। আমরা দু’জনে আসলে কথা বলতে চাইছিলাম একে অপরের সঙ্গে, দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও আমি কথা-বার্তা খুব গুছিয়ে বলতে পারি না বলে বেশিরভাগ কথাই অবলা থেকে যায়। তবে আমি কথা শুনতে পারি অনেক মনোযোগ দিয়ে। আমার ইচ্ছেও ছিলো তাই। খুঁজে ফিরছিলাম তাই একটা নির্জন জায়গা। প্রথম দেখার পর আসলে কি কি কথা বলতে হয়, সেগুলো উনি খুব ভালো জানতেন। খুব সুন্দর করে সেগুলো বললেন। আমিও যথাসাধ্য ‘ফাম্বলিং’ এড়িয়ে চেষ্টা করে গেলাম তার সঙ্গে আলাপ চালানোর। যদিও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছিলো না। কারণ আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ ‘এক্সাইটেড’ ছিলাম। দীর্ঘদিনের জানা-পুরোপুরি অচেনা একজন মানুষের মুখোমুখি হয়ে যাওয়ার কাজটি আসলে সহজ নয়। তবে উনি কথায় কথায় আমাকে অনেক সহজ করে নিয়েছিলেন। দূর্দান্ত লাগলো বিষয়টা। পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় আমাকে অনেক ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। তাদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বরফ ভাঙতে হয়েছে। তারপরে তারা সহজ হয়েছেন। তাই এ ব্যপারে আমার ভালোমতোই ধারণা ছিলো। কিন্তু আমিও যে কখনো-সখনো বরফ হয়ে যেতে পারি এবং অন্য কাউকে সেটা ভাঙতে হতে পারে- বিষয়টা জানা ছিলো না। অনেক অবাক হয়েছিলাম সেদিন আমি। জানা ছিলো অচেনা বন্ধু স্মার্ট ধরনের মানুষ, কিন্তু কতটা স্মার্ট সেটা সেদিন নতুন করে জানতে হচ্ছিলো।

ফেসবুকে একবার একটা জরিপ হতে দেখেছিলাম, ঢাকা শহরের কোন এলাকাটা সবচেয়ে সুন্দর? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না মিন্টু রোড? আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম। যদিও ঢাকা শহরের সবচেয়ে সুন্দর এলাকা এ দু’টোর কোনোটিই নয়। তবে ক্যাম্পাস আর মিন্টু রোডের মধ্যে আমি ক্যাম্পাসেরই পক্ষপাতী। আর মিন্টু রোড একসময় ক্যাম্পাসেরই একটা অংশ ছিলো। এটা যারা জানেন না, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ঘেঁটে দেখতে পারেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম। ফুলার রোডে বসে কোক খেলাম। অসংখ্য কথা ছিলো আমার। যার কিছুই আমি বলতে পারছিলাম না। তবে তাতে দুঃখ হচ্ছিলো না। কারণ, কথা যেমন ছিলো তেমনি মুগ্ধও হওয়ার ছিলো। কথা বলতে না পারলেও মুগ্ধ হতে ঠিকই পারছিলাম। উনার কথা শুনতে শুনতে।

ঢাকা শহর, পরিবার-পরিজন, বাসা-বাড়ি, চাকরী-বাকরী থেকে নিয়ে দারিদ্র্য, নারীবাদ, প্রকল্প, ফান্ড, ওবামা, রমনি, অস্কার, মাঙ্গা অ্যানিম কোনোকিছুই বাদ যাচ্ছিলো না আলোচনা থেকে। যেন পৃথিবীর প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে আমাদেরকে সেদিনই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে হবে।

ফুটপাথে বসে যখন গল্প করছি তখন রাস্তার উল্টাদিকের বৃটিশ কাউন্সিলের পাশের এক কৃষ্ণচূড়া গাছ তার ফুলেল ডালটি নুইয়ে আমাদের দু’জনকে বারবার অভিবাদন জানাচ্ছিলো। আমি মনে মনে তাকে বললাম, তুমি মিয়া লোকটা খারাপ! কতদিন একলা একলা এসে বসে ছিলাম তোমার নিচে, তুমি একটা দিন ডাক দেয়ার দরকার মনে করো নাই। আজকে রাস্তার উল্টাদিক থিকা হাতছানি দিতেসো?

ওখান থেকে উঠে আমরা টিএসসি’র দিকে এসে রাজু ভাস্কর্যটাকে কেন্দ্রে রেখে ঘুরতে শুরু করলাম। একবার, দুইবার, তিনবার, চারবার, পাঁচবার, ছয়বার এবং সপ্তমবারের আগে অচেনা বন্ধু পেছন থেকে বলে উঠলেন, সাতপাক পুরো করে ফেলেন না আবার। তাই শুনে আমি হুট করে কপ্টারটা চালিয়ে দিলাম বামপাশের পার্কটার ভেতর। সেটার পেটের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়ার মোটা এক রাস্তা ধরে ধরে যখন সামনে এগোচ্ছিলাম, তখন একবার ডানদিক থেকে কানে ভেসে এসেছিলো লালনের আপ্তবাণী, সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার, ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার...।

আমি নিজেও কথাটা মানি। মানুষের সাধনায় দিনযাপন করি। আমার সামর্থ্য খুব বৃহৎ না হওয়ায়, তাদের জন্য কার্যকর কিছু হয়তো সবসময় করতে পারি না। কিন্তু করার একটা তীব্র আকাঙ্খা মনে মনে পোষণ করি। কথাটা প্রিয় বন্ধুটিকে জানালাম।

আমরা দুইকাপ গুড়ের চা নিলাম। নিম্নমানের আখের গুড়, চা’কে সুস্বাদু করার চেয়ে বরং বিস্বাদ করে তোলার ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা বেশি উল্লেখ্য। তবু আমার কাছে মনে হয়, যান্ত্রিক নাগর জীবনে এটা একটা মাইটি এক্সসেপশন। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, এরকম ছোট ছোট ব্যতিক্রমী জিনিসগুলিই নগরজীবনটাকে কিছুটা সহনীয় মাত্রায় ধরে রেখেছে। একটানা যন্ত্রে নিষ্পেষিত হতে হতে মানুষ শুধু একটু ভিন্নতার খোঁজেই এখানে-সেখানে যাতায়াত করে। এটা-সেটা করে এবং এর-তার সঙ্গে দু’দন্ড সময় কাটায়। এই ভিন্নতার খোঁজে করা কাজগুলোই আসলে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এগুলো মানুষের নিয়মিত জীবনের চালিকাশক্তি। এগুলো মানুষকে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেয় এবং আবারো একঘেয়েমি সহ্য করার শক্তি যোগায়। এদের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই মানুষ তার কঠিন বাস্তব জীবনটিকে বয়ে বেড়ায়। সেই কাজটি করে, যা করার জন্য তার জন্ম হয়েছে।

আমরা চায়ের কাপ হাতে অনেক কিছু নিয়ে আলাপ করছিলাম। অনেক কিছু ভাবছিলামও। উনি সেই দেখা হওয়ার প্রাক্কালে একবার হাত ছুঁয়েছিলেন। এরপরে আর ধরেন নি। এরপরে আমরা আর একে অপরকে আর স্পর্শ করি নি। সময়গুলো দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছিলো। আমরা চাচ্ছিলাম সময়টা আরেকটু ধীরে কাটুক। কিন্তু সেটা হচ্ছিলো না। সেজন্য আমার মহাকালের ওপর রাগও হচ্ছিলো খুব। আমরা চা শেষ করে আবারো সাইকেলে চড়ে বসলাম। শাহবাগ-কাওরান বাজার-সার্ক ফোয়ারা-প্রথম আলো অফিস-ফার্মগেট-খামারবাড়ি হয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পর্যন্ত একনাগাড়ে টেনে পার হয়ে আসলাম। তারপরে একটা নতুন রাস্তা হয়েছে মিরপুরের দিকে যাবার। ইউটার্ন নিয়ে সেই রাস্তাটার ভেতর ঢুকে পড়লাম। এই রাস্তায় যান চলাচল অনেক কম থাকে ইচ্ছামতো গতিতে সাইকেল চালানো যায়। পেছনের জন ভয় পাচ্ছিলো বলে আমি গতিবেগ সত্তুরের ওপর তুলছিলাম না। যদিও আমার ইচ্ছে করছিলো একশ’ ঊননব্বুই কিলো পার আওয়ার স্পীডে ঘুরে বেড়াতে। আমরা ওই রাস্তাটা ধরে ধরে একদম আগারগাঁওয়ের ইউএনডিপি অফিসের সামনে গিয়ে উঠলাম। তারপর আবার ইউ টার্ন।

এবার আরো জোরে সাইকেল চালাচ্ছিলাম, কারণ পেছনের জনের গতি-ভীতি ততক্ষণে কিছুটা কমে এসেছিলো। তিনি শক্ত করে আমার কাঁধ খামচে ধরে বসেছিলেন আর আমি ক্রমাগত স্পীড তুলে যাচ্ছিলাম। নির্জন অন্ধকার রাস্তায় আমাদের বাহনটা আক্ষরিক অর্থেই উড়ন্তযানের মতো ছুটে যাচ্ছিলো সামনের দিকে। সমস্যা হচ্ছে এ ধরনের গতিবেগে সাইকেল চালানোর সময় খুব সাবধান থাকতে হয়। কারণ চাকার নিচে সামান্য কাঁকর পড়লেও সেটা চাকাকে ভারসাম্যহীন করে দিতে পারে। ফলাফল হিসেবে ঘটে যেতে পারে যেকোন আত্মঘাতী ঘটনা। আমি এমন একবার দেখেছিলাম হাইওয়ের এক দুর্ঘটনায়। চাকার নিচে কাঁকর পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে সাইকেল তার আরোহীকে নিয়ে ছেঁচড়ে চলে গেছে প্রায় ৫০ গজ। সাইকেলের একপাশে আরোহীর একটা পা আটকে গিয়েছিলো। সেই পা’টা আর রাস্তা থেকে তোলা যায় নি। উপায় ছিলো না। কারণ সাইকেলটার বাম্পার ছিলো না। ছেঁচড়ে যাবার সময় রাস্তার ক্রংকীট-অ্যাসফল্টেরা তার রক্ত-মাংস ও হাড় চুষে নিয়েছিলো বুভুক্ষের মতো করে। আমাদের অবশ্য চলার পথে কোনো কাঁকর পড়ে নি চাকার নিচে।

তবে নির্বোধ এক রিকশাওয়ালা বাঁধিয়ে দিলো অনেকগুলো গন্ডগোল। ছিমছাম একটা সন্ধ্যা কাটছিলো। দু’জন মানুষ খুব আনন্দ নিয়ে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছিলো শহরের পথে পথে। ওস্তাদের সম্ভবত সেটা সহ্য হয় নি। আমি দেখেছি, ওস্তাদের কখনোই আমার খুব বেশি সুখ সহ্য হয় না। তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ক্রসিংটায় হাওয়া থেকে উদয় ঘটালেন এক নির্বোধ রিকশাওয়ালার। যিনি কিনা ঘন্টায় প্রায় শতকিমি বেগে ধাবমান একটা সাইকেলের ২৫০ ওয়াটের হেডলাইটের জ্বলন্ত আলো এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দের তীক্ষ্ণ আওয়াজ সম্বলিত হর্ণের তার-চিৎকার থোড়াই কেয়ার করে গদাই লস্করি চালে একটা রিকশা ঢুকিয়ে দিলেন রাস্তার মধ্যিখানে!

সাইকেলের ব্রেক সম্পর্কে একটু বলে নিই। আধুনিক সাইকেলগুলোর সামনের চাকায় হাইড্রলিক ব্রেক নামক একটা আলাদা যন্ত্র সংযোজিত থাকে। অনেক সাইকেলের পেছনের চাকাতেও থাকে। এই ব্রেকটা আসলে যেকোন গতির সাইকেলকে একদম জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেবার কাজটি করে। বিষয়টা যে পদার্থবিজ্ঞানের গতিজড়তা নামক একটা সংজ্ঞার সঙ্গে কি ভয়াবহ রকম সাংঘর্ষিক, সে ব্যপারে এর ম্যানুফেকচারারদের হয়তো কোনো ধারণা নেই। ধরুন একটা সাইকেল ৮০-৯০ কিমি গতিতে চলছে। এখন আপনি যদি হুট করে এর সামনের চাকায় লাগানো হাইড্রলিক ব্রেকটি চেপে ধরেন তাহলে যেটা হবে, সেটা হচ্ছে সাইকেলের পেছনের চাকাটা হঠাৎ করে মাটি ছেড়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করে দেবে। আর এতে করে পেছনের জনের সঙ্গে যে ঘটনাটা ঘটবে, সেটাকে আপনি গুলতির সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। গুলতিতে গুলি ভরে এর রাবারকে পেছনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে টেনে এনে ছাড়লে যেভাবে গুলিটা ছুটে বেরিয়ে যায়, পেছনের জনেরও ঠিক একইভাবে ছিটকে সামনে বেরিয়ে যাবার কথা।

আমি ঠিক সেই অবস্থায়, মাত্র ২০-২৫ গজ দূরে একজন হতবিহ্বল রিকশাওয়ালাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অত্যন্ত অবাক হলাম। ব্যটাকে ইচ্ছামতো বাপ-মা তুলে গালি-গালাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু গালি দিয়ে নষ্ট করার মতো পর্যাপ্ত সময় আমার হাতে তখন ছিলো না। তাই কালবিলম্ব না করে প্রথমে পেছনের চাকার সাধারণ ব্রেক এবং প্রায় সাথে সাথেই সামনের চাকার হাইড্রলিক ব্রেকে চাপ প্রয়োগ করে বসলাম।

পেছনের জন আস্তে আস্তে সিট থেকে উঠে যাওয়া শুরু করলেন। আমি জানতাম এমনটি ঘটবে। ব্রেক চাপার সঙ্গে সঙ্গে গতিজড়তা কাজ করা শুরু করে দেবে। তিনি যেন একেবারে গুলতির গুলির মতো ছিটকে সামনে বেরিয়ে না যান, তাই ক্লাচ ছেড়ে বাম হাত দিয়ে তাকে সিটের সঙ্গে চেপে ধরে ধরে থাকলাম। এছাড়া আমার আর বিশেষ কিছু করার ছিলো না।

আমি বুঝতে পারছিলাম, তিনি সিটে বসে থাকতে পারছেন না। বিপুল শক্তি তাকে ঠেলে উঠিয়ে দিচ্ছিলো। সামনের রাস্তায় কোনো গাড়ি-ঘোড়া ছিলো না। শুধু রিকশাটাই ছিলো। আমরা প্রবল বেগে সেটার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলাম আর চেষ্টা করছিলাম ব্রেক চেপে সংঘর্ষটা এড়ানোর। একই সময়ে রাস্তার শক্ত কংক্রীট দেখে আমার মস্তিষ্কটা ভয়ও পেয়ে যাচ্ছিলো। পেছনের জন যদি কোনোক্রমে ছিটকে ওখানে গিয়ে পড়ে, তাহলে ছয় সপ্তাহ লাগবে ফ্রাকচার সারতে। আর ছয় মাস লাগবে মানসিক ট্রমা কাটাতে। আমি আর বেশি কিছু ভাবতে পারছিলাম না। প্রাণপনে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম সাইকেলটা থামানোর। ধাক্কা লেগে যাবার আগেই সেটাকে থামিয়ে দেয়ার এবং অচেনা বন্ধুকে অক্ষত রাখবার।

বলা হয়ে থাকে, কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। আমরা খানিকটা কেষ্টর দেখা পেলাম। সংঘর্ষ ঘটলো না। পেছনের জন ছিটকে সামনে দিকেও বেরিয়ে গেলেন না। তবে হুড়মুড় করে একপাশে পড়ে গেলেন এবং উনার হাঁটুতে আঘাত পেলেন। হাঁটুর ঠিক মধ্যিখানে কিছুটা অংশ ছিলে গেলো।

সেই ছড়ে যাওয়া হাঁটুটা দেখার পর থেকে আমার অনেকক্ষণ পর্যন্ত খুব কান্না পাচ্ছিলো। ব্যপারটা টের পেয়ে উনি সেই যে আমাকে সান্তনা দেয়া শুরু করলেন, তা থামাতে আবার তাকে একটা ধমকও দিতে হয়েছিলো আমার।

আমি একটা ডিসপেনসারী থেকে স্যাভলন, তুলা, ব্যান্ডেজ, পেইন কিলার আর এন্টাসিড কিনে নিলাম। অপটু ডাক্তারী যাকে বলে আরকি। আসলে মনটা খুব খারাপ লাগছিলো। বলে বোঝানোর উপায় ছিলো না এ ঘটনায় আমি কতটা লজ্জিত বোধ করছিলাম। তিনি বারংবার রিকশাওয়ালাটাকে দোষারোপ করছিলেন। আর আমার যে কিছু করার ছিলো না সেটা বলছিলেন। কিন্তু আমি শুধু ভাবছিলাম; রিকশাওয়ালা না বুঝে রাস্তায় ঢুকে পড়েছে ঠিক আছে, কিন্তু আমিও তো বিপজ্জনক গতিসীমার ওপর দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিলাম। তারমানে সব দোষ আসলে আমারই।

আবার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফিরে এলাম। এবার একটু আগের উচ্ছলতা আর আনন্দ নিয়ে নয়। রাগে-দুঃখে ভালো লাগছিলো না কিছুই। এরমধ্যে তার ছড়ে যাওয়া অংশ স্যাভলন দিয়ে মুছে দিলাম। ব্যান্ডেজ লাগাতে চাইলে উনি বারণ করলেন। এতে নাকি ক্ষতির শঙ্কা বেশি থাকে। আমি বেশি উচ্চবাচ্য না করে তার কথা মেনে নিলাম। ব্যথানাশকটা খেতে বললাম, যাতে ব্যথায় কষ্ট না পেতে হয়। উনিও লক্ষী মেয়ের মতো ইতিবাচকভাবে মাথা নাড়ালেন। তবে তখনই ব্যথানাশক খেয়ে নিলে শরীর ঝিমঝিম করবে এবং ঘুরতে ভালো লাগবে না বলে সেটা খেলেন না। কথা দিলেন, বাসায় ঢুকেই প্রথমে ব্যথানাশকটা খাবেন।

আমি মনে মনে অবাক হচ্ছিলাম। একটি মেয়ে কতটা স্ট্রং হতে পারে। কতটা কুল? এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো, অথচ সেটাকে কোনো পাত্তাই দিতে চাচ্ছেন না। যেন কিছুই হয় নি। আমার যখন স্যাভলন লাগানো শেষ হলো তখন তিনি জানতে চাইলেন, আমরা কোথায় ডিনার করবো?

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। প্রায় ন’টা বাজে। এরই মধ্যে দু’বার উনার বাসা থেকে তাড়া এসেছে ফোনে। আমি বললাম, আপনার দেরী হয়ে যাচ্ছে।
উনি বললেন, চুলোয় যাক।
বললাম, আপনার খুব ব্যথা হচ্ছে।
বললেন, একবিন্দুও না।
-এখন আপনার বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেয়া উচিত।
না খেয়েই চলে যাবো?
-কি হবে আমার সঙ্গে খেতে গিয়ে?
কি হবে মানে? এজন্যই তো দেখা করা।
-কি জন্য?
আপনি নাকি খুব খেতে পারেন। দেখতে হবে না ওই চিকনা শরীরে আসলেই সেটা পারেন, নাকি চাপা?
-এইটা কোনো রিজন না। আপনি বসে বসে ইন্স্যান্ট বানালেন। তাই খুব বেশি সুবিধারও হয় নি।
না হইলে নাই। এখন চলেন মিয়া। আপনে এইরম উকিলী জেরা শুরু করলেন ক্যান? রাত তো কেবল শুরু, চিল ম্যান। কি হইলো আপনার? একশ উননব্বুই কিলো স্পীডতো এখনো উঠায়ে দেখাইতেই পারলেন না!

আমরা আবার শুরু হয়ে গেলাম। উনি এবার আগের চেয়েও বেশি দুষ্টামী করছিলেন আমার সঙ্গে। আমায় চুপচাপ সাইকেল চালাতে দেখে বললেন, ব্যথা পাইলাম আমি, মুষড়ায় পরলেন আপনে! কিছু হয়? আমি বললাম, ঘটনাটা ঘটায়ে আমার খুব খারাপ লাগছে সুইটহার্ট।

তিনি কপট রাগের ভঙ্গি দেখিয়ে বললেন, আপনে কোনোকিছুই ঘটান নাই বুঝলেন? আর যেটা ঘটে গেছে, সেটা নিয়ে ভেবে ভেবে সময় পার করবেন রাতের বেলা। যখন আমি থাকবো না তখন। এখন আমি আছি আর আপনে অন্যকিছু নিয়ে ভাবতেসেন- এইটা যে এক ধরনের ইনসাল্ট করা, সেইটা আপনে বুঝেন?

আমরা যাচ্ছিলাম ধানমন্ডির দিকে। তার বাসা থেকে আবার ফোন আসলো। তিনি বাসায় বললেন, বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় রাস্তায় নেমে পড়তে হয়েছে। নতুন বাস না পাওয়া পর্যন্ত আসলে কতক্ষণে পৌঁছুবেন বাসায়, সেটা বলা যাবে না। এরপরে লোকজনকে টেনশন কম করে করতে বলে ফোন রেখে দিলেন। আমি বললাম, হাঁটুটা সম্পর্কে কি বলবেন? তিনি বললেন, সেটা যখনকারটা তখন দেখা যাবে। আমরা এখন কই যাই? আমি বললাম, পিৎজা হাটে? শুনে বললেন, গ্রেট!

আমরা দু’জনে মিলে একটা পটেটো ক্রিস-কাট, একটা মিডিয়াম সাইজের ক্রাউন ক্রাস্ট আর দুইটা ইবোনি এন্ড আইভরি অল্প সময়ের মধ্যে হাপিশ করে দিলাম। সঙ্গে লার্জ সাইজে দুইটা পেপসি ছিলো। এই জায়গাটায় অবশ্য মূল কৃতিত্বের দাবিদার ছিলাম আমিই। এরপর সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গিয়েছিলো। আমরা দু’জন মন খারাপ হয়ে যাবে বলে ফেরার সময় বিদায়ী সম্ভাষণ ধরনের কোনো বাক্য বিনিময় করি নি। দুনিয়াবি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুমুল হুলুস্থূল করতে করতে একসময় উনার বাসায় সামনে পৌঁছে গিয়েছিলাম এবং খুব ছোট্ট দু’তিনটা কথায় একে অপরকে বিদায় ও শুভকামনা জানিয়েছিলাম।

তারপর তো দু’জনের দু’টি পথ দু’টি দিকে গেলো চলে।

এই হচ্ছে অচেনা বন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথমবার দেখা হওয়ার স্মৃতি। রোড অ্যাক্সিডেন্টের মতো একটা ঘটনা ঘটার পরও যেটাতে তিক্ততা, বিরক্তি কোনোকিছুর লেশমাত্র ছিলো না। অথচ অনেক গভীর প্রেমে মজে থাকা যুগলকে আমি দেখেছি সামান্য একটা কাটা-ছেঁড়া নিয়ে কিংবা একজনের অসতর্কতায় আরেকজনের জামায় দাগ লেগে যাওয়া নিয়ে ধুন্ধুমার ঝগড়া করতে! একে অপরকে দোষারোপ করে করে দীর্ঘসময় পার করে দিতে। অন্যকে দোষ না দিতে জানা যে কত অসাধারণ একটা বিষয়, সেটা গভীর প্রেমে মজে থাকা ওইসব যুগলেরা কেউ জানেন বলে আমার মনে হয় না।

যাই হোক; সেদিনের সবকিছুই অচেনা বন্ধু জানেন। শুধু যেটা জানেন না, সেটা হচ্ছে- তখন ক্ষতস্থান ড্রেসিং-ট্রেসিং শেষে উনি যদি বাসায় চলে যেতেন তাহলে আমি বোধহয় একটা ভয়াবহ রকমের পরাজয়বোধের গ্লানি থেকে এই ইহজনমে আর বের হতে পারতাম না। সামটাইম স্মল থিংস ক্যান মেক য়ু’র ডে। আমি তো বলি, মাঝে মাঝে ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে মানুষকে পুনর্জীবনের মতো আনন্দ উপহার দেয়া সম্ভব। এই উপলব্ধিটাই অচেনা বন্ধুর সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়ার দিনে আমি পেয়েছিলাম। উনি আসলেই দুর্দান্ত একটি মেয়ে ছিলেন।

---

একটি বিশেষ আলোচনা : তানবীরা'পু আর লীনা আপুর সঙ্গে আমি সর্বৈবভাবে একমত। আমার পোস্টগুলায় ঘুরে-ফিরে একই কথা চলে আসে বারবার। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, লেখালেখির অপচেষ্টার সঙ্গে কিছুদিন লেগে থেকে বুঝেছি; আমাকে দিয়ে এই কাজটা হচ্ছে না একেবারেই। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি। চেষ্টা করতে ভালো লাগে, তাই। দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দিন সবাই মিলে। আমরা আমরাই তো।

শেষ করছি তানবীরা'পুরই একটা কথা দিয়ে; আমরা মনে হয় খেলতে খেলতেই সবাই একদিন খুব ভালোভাবে সবকিছু শিখে যাবো।

ধন্যবাদ সবাইকে।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


আমার কাছে আপনার সব লেখাই মনে লাগে অতো শতো বুঝে পাই না!

মীর's picture


আমার আপনের সব লেখাতো ভালো লাগে, লাগেই; সব কমেন্টও ভালো লাগে। শুধু ভালো লাগে না, অস্থির লাগে পুরা ভাইসাব Big smile

জ্যোতি's picture


শান্তর সাথেই একমত আমি । Smile
গুড়ের চা খেলেন বলেই যত গন্ডগোল হলো । এই জিনিস কেমনে খায় মানুষ ?
অচেনা বন্ধুর খবর কি ?

মীর's picture


গুড়ের চা খেলেন বলেই যত গন্ডগোল হলো ।

কথাটা পইড়া হাসতেই আছি হাসতেই আছি। আসলেই ঠিক বলছেন জয়িতা'পু। গুড়ের চা খাইসিলাম বলেই যতোই গণ্ডগোল!!!

যাই হোক, অচেনা বন্ধুর খবর ভালো। তারে নিয়ে একটা গল্প লিখবো বলে চিন্তা করসি। আপনের খবরাখবর কি বলেন? আছেন কেমন? দিনকাল কাটছে কেমন?

ও ভালো কথা। আপনার জন্য কিছু ফ্রেশ ধনেপাতা রেখেছিলাম। সালাদ বা যেকোন রান্নায় কাজে আসবে। নিয়ে যান প্লীজ।

ধইন্যা পাতা ধইন্যা পাতা ধইন্যা পাতা ধইন্যা পাতা

পাঠক's picture


আপনার লেখা বরাবরের মতই ভালো

মীর's picture


আপনার কমেন্ট এবারও ভালো পেলাম। THNX

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আমার আপনের সব গল্পই ভাল্লাগে।এই ব্লগল্পও!

বর্ণনা একটু কমাইয়া ঘটনা আরেকটু বাড়াইয়া দেখতে পারেন নেক্সট টাইম।

ছবির হাটের খেজুর গুড়ের চা রক্স!! Big smile

মীর's picture


বাউন্ডুলে, আমার সব গল্পই আপনের ভাল্লাগে জাইনা খুশি Smile ভবিষ্যতে আপনের বুদ্ধি ট্রাই করে দেখবো ইনশাল্লাহ।

কিন্তু কমেন্টে 'ব্লগল্প' শব্দটা ব্যবহার করলেন কেন বুঝলাম না। আপনার কাছে কি এটাকে 'ব্লগের গল্প' বা সেরকম কিছু মনে হইসে?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


উহু!

লেখার ধরনটা ব্লগের মত
অথচ আদতে গল্প
তাই বলেছি ব্লগল্প!

১০

তানবীরা's picture


আমিতো মহাগিয়ানি মহাজন হইয়া গেলামরে, কেউ ধর আমারে। আমার কথা কোট করেছে তাও কিনা আবার মীর সাহেব !!!!! Shock Glasses

অথচ অনেক গভীর প্রেমে মজে থাকা যুগলকে আমি দেখেছি সামান্য একটা কাটা-ছেঁড়া নিয়ে কিংবা একজনের অসতর্কতায় আরেকজনের জামায় দাগ লেগে যাওয়া নিয়ে ধুন্ধুমার ঝগড়া করতে! একে অপরকে দোষারোপ করে করে দীর্ঘসময় পার করে দিতে।

এটা হলো রিলেশানে থাকা আর না থাকার মজা। রিলেশান মানে কমিটমেনট হওয়ার পরি দাবি শুরু হয়ে যাবে, দাবি মানেই ঝগড়া। তারচেয়ে এই ভাল, ঝাকাইয়া পেটা গালাই দিবা, টু ও করবে না। বলবে, ঝাকুনিটা কি দারুন ছিল, এরকম ঝাকি না হলে জীবনতো লাইফ হয়ে যায় Wink

১১

মীর's picture


তারপরেও আমি বলবো, আরেকজনকে দোষ না দিতে জানাটা একটা বিরাট ব্যপার। মানুষের নিজের দোষ-ত্রুটির থলেটা নাকি পেছনে থাকে, আর অপরের দোষ-ত্রুটির থলেটা থাকে সামনে। তাই মানুষ নিজের দোষ কম দেখে, অন্যেরটা বেশি। এই সংকট থেকে উত্তরণ ছাড়া মুক্তির পথ নাই গো আফামনি।

১২

সামছা আকিদা জাহান's picture


গুেড়র চা খুব মজা লােগ িবেশষ কের েখজুেরর গুেড়র চা। সাইেকল এক সময় খুব চালাতাম। এখন বাচচারা চালায়। আিম পুরােনা েসই িদেনর কথা েভেব েভেব সময় পার কির। েফরা যায় না েসই সমেয়।

১৩

মীর's picture


পুরোনো দিনের ফেরা যায় না ঠিকই, কিন্তু আপু; পুরোনো দিনের কথা লিখে ফেলতে অসুবিধা কোথায়? এমনিতেও অনেকদিন আপনার কাছ থেকে নুতন পোস্ট পাচ্ছি না। এইবার পুরোনো সেই দিনের কথা শুনতে চাই।

১৪

রায়েহাত শুভ's picture


মিয়া, হাটে ঘুরাফেরা করেন আর আমগো ইশারা ইত্যাদি দেন না Sad

১৫

মীর's picture


সেটাই, এরপর থেকে ইশারা দেয়া হপে Wink

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!