ইউজার লগইন

রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে

১.

দেশে একটা সংকটকাল উপস্থিত হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, রংপুর, ঠাকুরগাও, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ৪ পুলিশসহ ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে 'দেইল্যা রাজাকার'-এর ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর এসব সংঘর্ষ শুরু হয়।

লক্ষণীয় যে, ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ৫ তারিখ সন্ধ্যার পরের অংশটুকু বাদ দিলে এ আন্দোলনের বয়স ২৪ দিন। আর ওই আগুন লাগানো সন্ধ্যাটিকে ধরে হিসাব করলে ২৫। এতগুলো দিন আমরা কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু একজন মানুষকেও কুটোর আঁচ পেতে দিই নি। অথচ ওদের নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর মাত্র ১ দিনে সারাদেশে মরতে হয়েছে ৪২ জন মানুষকে। অনেকে আবার ওদেরই দলের সদস্য। এই জামায়াত-শিবিররকে যে আমরা রক্তচোষা জানোয়ার বলি, সেটা কি ভুল বলি?

আত্মঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে যাবার নেপথ্যে জামায়াতের আরেকটি কুরুচিপূর্ণ কারণ হচ্ছে, এতে দলের নেতাদের কাউকে মরতে হচ্ছে না। কোনো কেন্দ্রীয় নেতা কোথাও মরছে বলে জানা যাচ্ছে না। মরতে হচ্ছে তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরকে। আর নেতারা সেফ-হোমে বসে নিজেরা যে কেঁচোর মতো প্রাণী এক-একটা, সেটাই প্রমাণ করে যাচ্ছে নিরন্তর।

একটা বিষয় খেয়াল করুন; আমাদের অহিংস আন্দোলনকে যারা হিংসার লাল রঙে রাঙিয়ে দিতে চায়, তারা নিজেরা মরতে ভয় পায়। অথচ আমরা যারা অহিংসতার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই দেশের প্রতিটি ভালো ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষের কাছে, তারা কেউ মরতে ভয় পাই না। এ থেকেই বোঝা যায়, জয় আমাদের হবেই।

যদি জানোয়ারপাল ভেবে থাকে, রক্তাক্ত করে আমাদেরকে হারাতে পারবে; তাহলে একাত্তরের ভুলই আবার করছে ওরা। তবে আমরা একাত্তরের ভুল এবার করবো না। ওদের একটাকেও এবার ছাড় দেয়া হবে না। ৪২ বছর পর আবার কাউকে ২০১৩'র অসমাপ্ত যুদ্ধ শেষ করতে রণাঙ্গনে নামতে হবে না।

আজ সবাই দুপুরে জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে যাবেন। যারা নামাজ পড়েন না, তারাও মসজিদের আশপাশে হাজির হবেন। মহান একাত্তরের সকল শহীদের স্মরণে মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচিকে আমরা সফল করবো। মসজিদ থেকে কোনো অন্যায়, কোনো দাঙ্গা ছড়িয়ে দিতে দেবো না কোনো অপশক্তিকে। কোনো ঘৃণ্য চক্রকে। এরপর চলে আসবেন প্লীজ, প্রজন্ম চত্বরে। একটা হিরন্ময় সমাবেশ উপহার দিতে হবে জাতিকে। যুদ্ধে কিভাবে অংশ নিতে হবে, তাও এখন আমাদের সবার কাছে সুস্পষ্ট।

২.

গণজাগরণ সংস্কৃতি মঞ্চ গড়ে উঠেছে। ২৮ টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে গড়ে তোলা এ মঞ্চটি ভবিষ্যতে কোনোদিন দেশের শিল্প-সাহিত্যের কাণ্ডারী হয়ে উঠবে না, তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিয়েছিলো অনেক কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও বিদেশী বন্ধু। প্রজন্ম চত্বরও আমাদের জন্য তেমন অনেক সূর্যসন্তান তৈরি করছে।

একটা মজার বিষয় খেয়াল করলাম। পুরান চাল এখন আর ভাতে বাড়ে না। পাবলিক লাইব্রেরীর গেটের পাশে 'মুক্তিযোদ্ধা-জনতা মঞ্চ' এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মনিটরিং সেলের পাশে 'আমরা একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা' নামে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়া যোদ্ধারা দু'টি তাঁবু গেড়েছেন। তারা নিয়মিত তাঁবুগুলো চালাচ্ছেনও। কিন্তু তাদের তাঁবুগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পরে থেকে শুরু হয় বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এছাড়া আর কিছু নেই তাদের কর্মসূচিতে। সেই তুলনায় তরুণদের প্রতিটি সংগঠনের কর্মসূচিতে আছে অনেক বেশি অভিনবত্বের ছোঁয়া এবং প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু করার তাগিদ।

৩.

চারদিকে গুজব আর আতংক নিয়ে বৃহস্পতিবারটি কেটেছে রাজধানীবাসীর। রাত পৌনে ২টায়, একটা প্যানিক কিভাবে মুহূর্তের মধ্যে নিজের কালো ডানা বিছিয়ে মানুষের চারপাশ অন্ধকার করে দেয়, সেটাই দেখলাম।

প্রথমে কানে আসলো ক্যম্পাসের ভেতর দিয়ে নাকি দুই মাইক্রো ভরা-টুপিপরা হুজুর পার হয়েছে। খবরটা চারুকলার সামনে দায়িত্বরত পুলিশদের কাছে জানালাম। ভেবেছিলাম সঙ্গে সঙ্গ টহলের ব্যবস্থা করা হবে। কিসের কি? এরা সাধারণ জনতার চেয়েও অ্যামেচার। খবরটা শুনে কে যে কি করবে সেটাই ঠিকঠাকমতো ঠিক করে উঠতে পারলো না। একজন বড়কর্তামতো লোক খুব গম্ভীরভাবে হেঁটে থানার দিকে চলে গেলো আর অন্য সেপাইগুলো দিকভ্রান্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইলো।

এই পুলিশদের কাছে অভিযোগ করতে এসেছিলো আরো কয়েকজন তরুণ-যুবা। তাদের একজনের মেসেজ হচ্ছে, জগন্নাথ হলে নাকি শিবির এসেছে। সেটা সে পুলিশকে জানাচ্ছিলো। হঠাৎ দুইটা ছেলে জটলা থেকে বের হয়ে একটা রিকশা নিয়ে চানখারপুলের দিকে রওনা হলো। যাবার সময় চিৎকার করে জানিয়ে গেলো, ভাই আপনারা সবাই চানখারপুলের দিকে চলেন। ওইখানে শিবিরেরা জমা হচ্ছে। ওরা ক্যম্পাসে অ্যাটাক করবে।

এতক্ষণ যে ছেলেটা জগন্নাথ হলে অ্যাটাকের কথা বলছিলো, সেও দেখলাম দৌড়ে গিয়ে রিকশায় উঠলো। রিকশাটা চলে যাবার পর সবার খেয়াল হলো, আরে এই ছেলেটি কে? একে তো কেউ চেনে না। সবাই সবার মুখের দিকে তাকালাম। না কেউ চেনে না। তাহলে? ধরো তাকে।

আবার সঙ্গে সঙ্গে ওই রিকশার পেছনে ছুট। তবে ওকে ধরে যেটা জানতে পারলাম, সে একজন অ্যাকটিভিস্ট। তার কাছে রিয়াল মেসেজ আছে জগন্নাথে অ্যাটাকের। ততক্ষণে সবাই জগন্নাথ হলের গেটে পৌঁছেও গেছি। সাইকেল আর রিকশা, আলাপচারিতার সময়টুকুতে সমান্তরালে চলছিলো। তখন বাজে রাত ২ টা। প্রজন্ম চত্বর জনশূন্য হয়ে গেছে অন্তত ঘন্টাখানেক আগে।

কিন্তু জগন্নাথ হলের সামনে গিয়ে যা দেখলাম, তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। হলের সব ছেলে নিচে নেমে এসেছে। গেট ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সবার হাতে লাঠি। ওরা ছিলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ছেলেপিলের গেট বন্ধ করে দেয়া দেখে অনেক পুলিশ এসে জড়ো হয়েছিলো গেটের সামনে।

আসলে একটা প্যানিক ছড়িয়ে গিয়েছিলো, হলে অ্যাটাক হবে। একজন আন্দোলনকারীকে নাকি হলে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে উপরমহল থেকে। তিনি খবরটা হলে জানিয়ে দিয়েছিলেন কিংবা খবরটা চেপে রাখতে পারেন নি, নিজের কাছে। যেকোন একটা কিছু ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু হলময় ছড়াতে খবরটা সময় নেয় নি এক মুহূর্তও।

তাড়াতাড়ি এলাকা থেকে সরে পড়লাম। জনারণ্যে এত সময় কাটানোর কোনো মানে হয় না। এবার রওনা হলাম চানখারপুলের দিকে। সেখানকার সমস্যাও দেখে আসা যাক। সোয়া দুইটায় চানখারপুল মোড় থেকে বকশী বাজার হয়ে পলাশী পর্যন্ত টহল দিলাম। গরুর পাল নিয়ে যাচ্ছিলো ব্যপারীরা। এটা অনেক পুরোনো একটা দৃশ্য। এছাড়া রাস্তায় কোথাও কিচ্ছু নাই। সব সুনসান। চানখারপুল পেট্টল পাম্পের সামনে শহীদুল্লাহ হলের ছেলেরা দাঁড়িয়ে ছিলো কয়েকজন। পুলিশও ছিলো পাশেই। যদিও পুলিশগুলো আসলে কতটুকু কাজে লাগবে, সে ব্যপারে আমার সন্দেহ আছে। কিন্তু ছেলেগুলো কাজে লাগবে। ওদেরকে দেখে ভালো লাগলো।

বুয়েটের চিটাগাং ড্রাই ডকে তৈরি ফুটওভারব্রীজটার নিচে ডিউটি দিচ্ছিলো ৩ টা মাত্র সেপাই। হঠাৎ করে সামনে দুইটা সাইকেল হাজির হওয়ায়, ভয়ে সবগুলোর চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেলো। তাদেরকে পুরো সতর্ক থাকার পরামর্শ বিলি করলাম আমরা। তারপর এগিয়ে গেলাম পলাশীর দিকে।

৪.

প্যানিকড্ হওয়াটা কোনো কাজের কথা না আসলে। প্যানিক জিনিসটা একজন সক্ষম ব্যক্তিকেও অচল করে ফেলতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। তাই হুটহাট একটা কিছু শুনে বিশ্বাস করে ফেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। যেকোন মেসেজ পেলেই প্রথমে সেটা ক্রস-চেক করতে হবে। বিশ্বাস করে ফেলা যাবে না। সাবধান। ঢাকা শহরের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হচ্ছে প্রজন্ম চত্বর। কেন সেটা এখানে এলে নিজেই দেখে-শুনে বুঝতে পারবেন।

এখন কেউ কেউ নাক সিঁটকাচ্ছে। কেউ কেউ আন্দোলনকারীদেরকে ভোটের রাজনীতির গুটি বলে ট্যাগিং করার চেষ্টা করছে। এরা যদি অতি দ্রুত নিজেকে শোধরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নব্য রাজাকার হিসাবে নিজেরাই ট্যাগড্ হয়ে যাবে একদিন। কেউ কেউ শুধুই দূর থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এখনো। এদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে নিজের প্রতি সুবিচার করুন। নাতি-নাতনীদের কাছে গল্প করার জন্যও তো কিছু করে রাখা দরকার, তাই না?

সামনে দুঃসময়। এটাই আমাকে আজ আশাবাদী করে তুলছে। রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে।

---

আজকের লেখাটা প্রিয় শাপলা আপুকে উৎসর্গ করলাম। তিনি আমাকে একটা আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি সেটা দেখিই নাই। তাহলে কি আর সেই আলটিমেটামের ভ্যালিডিটি থাকে? আড়জে অনামিকার কাছে প্রশ্ন রইলো।

পোস্টটি ১৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ধন্যবাদ মীর, আপনাদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে আপনাদেরকে ছোট করব না, আপনার শিরোনামটাই সার কথা-রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে। আমি বিশ্বাস করি একদিন এ আঁধার কেটে যাবে, সময়ের সাহসী সন্তানরা অবশ্যই গড়বে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সোনার বাংলাদেশ!

আমরা চাই বাংলার মানুষ সচেতন হোক, জামাত-শিবিরের ডাকে কেউ সারা না দিক। খারাপ লাগে যখন শুনি জামাত শিবিরের তাণ্ডবে প্রাণ হারায় নিরীহ মানুষ। মৃত্যু কারো কাম্য নয়, সব মৃত্যুই বেদনার, আমরা এমন মৃত্যু আর চাই না!

ধূসর's picture


হ্যাঁ, কালকের রাতটি প্রচণ্ড আতঙ্কে কেটেছে। যতটুকু জানি, হলে হামলা হবে বিষয়টি জানা যায় ফেইসবুকের একটি পেইজ থেকে। আমি পরক্ষণেই জগন্নাথ হলে থাকা এক বড় ভাইকে বিষয়টি জানাই, রাত তখন ১২.৩০ হবে। বড় ভাই বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। রাত ২.০০, হঠাৎ বড় ভাই ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন আমি এই খবর কোথায় পেলাম ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপরের অংশ সবারই জানা। এবার প্রসঙ্গে আসা যাক, আমাদের দেশে আজ এই চরম পরিণতির জন্য কারা দায়ী তা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না তবে এটুকু জানি শিবিরের রাজনীতির দিন ঘনিয়ে এসেছে। পতন নিশ্চিত বুঝে আজ তারা অপ্রকৃতস্থের মতো আচরণ করছে। এই চলমান পরিস্থিতিকে এখনো গভীর রাত বলা যাবে না, ওরা এতো সহজে হাল ছাড়বে না। শুধু বলতে পারি, এ লড়াই জিততে হবে...। জয় বাংলা।

আরাফাত শান্ত's picture


খুব ভালো ভাবে লেখা কাজের কথা গুলো। ভীত হলে চলবে। গুজবের কানা গলিতে হারানোও যাবেনা। জয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা!

জ্যোতি's picture


কাল সকাল তেকে অপেক্ষা করছিলাম খুশীর খবরটা জানার জন্য। সেটা পেলাম। জীবনে এত খুশী কখনও হয়নি। চোখে পানি চলে আসছে মানুষের আনন্দ উল্লাস দেখে। তারপর যা শুরু হলো দেশজুড়ে সেই আতংক ভয়াবহ। যারা মরছে তাদের কাছে কি জীবনের কোনই দাম নেই? ওরা কি জানে যে একটা ভয়ংকর রাজাকারের জন্য পথে নামছে! অত্যাচার শুরু করেছে দেশজুড়ে! এদের বোধোদয় হবে বলে আর মনে হয় না। কারণ আজ বিকালে যিনি আসলেন, যা শুনালেন তাতে আর কিছুই বাকী রাখলেন না।
আমাদের দেশের মানুষ নিরাপদ থাকুক। সবাই এক্যবদ্ধ থাকুক।
সাবধানে থাকবেন।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি কাল রাতে। ১১ টা নাগাদ ছবির হাটে ছিলাম। আমরা বেশ কয়েকজন। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ফরিদ ভাইকে হাটের দায়িত্ব দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সাইকেল নিয়ে। চারদিকে কেমন একটা আতঙ্কভাব ছিলো।
মীর, আপনার সাথে মোলাকাত হবে না ?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সুপ্রিয় মীর ভাই, আপনার সাথে মোলাকাত হবে না ?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


শিরোনাম টাই সব কিছু বলে দেয়।

সামনের হরতালের দিনগুলি সাবধানে থাকতে হবে সবাই।

এ টি এম কাদের's picture


মীর, অনেক অনেক ধন্যবাদ নিয়মিত লেখার জন্য । উপস্থিত নাথেকেও চলমান দেশকে সাক্ষাত দেখতে পাই আপনাদের চোখ দিয়ে । আপনারা ভাগ্যবান ! স্বশরীরে ঊপস্থিত থেকে জনতার চিন্তা-চেতনায় অংশ নিতে পারছেন ।

গতকাল রায়ের পর থেকে হন্য হয়ে খুজেছি আপনাকে । প্রায় প্রতিদিন লেখা থাকে আপনার । গতকাল কিন্তু ছিলনা । ঊদ্ভিগ্ন ছিলাম ! যাহোক শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল আপনাকে । আপনার লেখায় কেমন যেন '৭১, '৭১ গন্ধ শরীর-মনে শিহরণ জাগায় । ফিরে যাই ৪২ বছর আগে, আমার তারুণ্যকে খুজে পেতে চাই আপনাদের মাঝে ।

ভাল থাকুন ।

জয় বাংলা !

মর্ম's picture


রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে।

কী চমৎকার একটা কথা। নিশ্চয়ই আমরা ভোর দেখতে হবে।

চট করে হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমনি' মনে পড়ল।

১০

শওকত মাসুম's picture


আতংকে থাকতে আমি বলি। তাহলে সাবধান হবো আমরা। ওদের বিশ্বাস নাই। সুতরাং সাবধান হতেই হবে।

১১

শাপলা's picture


মীর ধানাই পানাই বাদ
লেখা ফিরিয়ে আনবা তারপর কথা!!!!

আর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বলি,
তরুণদের সাহসে ভর করেই তো দেশ এখন এগুচ্ছে
জানি, তোমাদের অনেক সাহস।

তবুও সাবধানে থেক ভাই। ওরা পশুর চেয়েও খারাপ।

১২

টুটুল's picture


ভালো পোস্ট...

প্যানিকড্ হওয়াটা কোনো কাজের কথা না আসলে। প্যানিক জিনিসটা একজন সক্ষম ব্যক্তিকেও অচল করে ফেলতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। তাই হুটহাট একটা কিছু শুনে বিশ্বাস করে ফেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। যেকোন মেসেজ পেলেই প্রথমে সেটা ক্রস-চেক করতে হবে। বিশ্বাস করে ফেলা যাবে না। সাবধান। ঢাকা শহরের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হচ্ছে প্রজন্ম চত্বর। কেন সেটা এখানে এলে নিজেই দেখে-শুনে বুঝতে পারবেন।

এখন কেউ কেউ নাক সিঁটকাচ্ছে। কেউ কেউ আন্দোলনকারীদেরকে ভোটের রাজনীতির গুটি বলে ট্যাগিং করার চেষ্টা করছে। এরা যদি অতি দ্রুত নিজেকে শোধরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নব্য রাজাকার হিসাবে নিজেরাই ট্যাগড্ হয়ে যাবে একদিন। কেউ কেউ শুধুই দূর থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এখনো। এদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে নিজের প্রতি সুবিচার করুন। নাতি-নাতনীদের কাছে গল্প করার জন্যও তো কিছু করে রাখা দরকার, তাই না?

সামনে দুঃসময়। এটাই আমাকে আজ আশাবাদী করে তুলছে। রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে।

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


সাবধানে থাকুন সবাই।

১৪

তানবীরা's picture


সামনে দুঃসময়। এটাই আমাকে আজ আশাবাদী করে তুলছে। রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে।

১৫

একজন মায়াবতী's picture


ভোরের অপেক্ষায় আছি। যদিও অনেক কষ্ট হচ্ছে সময়টা পার করতে Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!