ইউজার লগইন

সেই পরিণতির অপেক্ষায়

সিগারেটের প্যাকেটে লিখে রেখেছে- ধূমপান হৃদরোগের কারণ। সাদা জমিনে কালো কালিতে বড় বড় হরফে কথাটা লিখে রাখা হয়েছে। আমি বুঝি না, যারা হৃদরোগ নিয়ে এত চিন্তিত; তারা ধূম্রশলাকা উৎপাদন করে কেন? পৃথিবীতে তামাশা ছাড়া আর কিছু হয় না নাকি?

সবসময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করে অভ্যস্ত বলেই হয়তো যানবাহনমুক্ত রাস্তায় আজকাল আতঙ্ক অনুভব করি। মনে হয় রাস্তাটা নিরিবিলিতে আমাকে পেলেই গিলে ফেলবে। আগে একবার আশপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাবে। যদি দেখে ধারেকাছে কেউ নেই, তাহলেই সাথে সাথে কোনো একটা অদৃশ্য মুখগহ্বর দৃশ্যমান হয়ে আমাকে উদরস্থ করে ফেলবে। পৃথিবীর কেউ জানবে না সেই ঘটনাটা।

বিলীন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে কখনোই আক্রান্ত হই নি। জানি খুব দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার নিমিত্তেই আবির্ভূত হতে হয়েছিলো আমাকে। তারপরও মাঝে মাঝে হিম নামের মেয়েটির কথা ভেবে খারাপ লাগে। আমি যখন থাকবো না তখনও হিম বার বার ফিরে আসবে। মানুষ ঝরাপাতা আর শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালবে। সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসবে এবং হাসাহাসি করবে। আমি আশপাশেই থাকবো কিন্তু প্রচ্ছন্নতার আবরণ ভেদ করে দৃশ্যমান হতে পারবো না।

শৈত্যপ্রবাহের ঝড়ো কুয়াশায় তীরবেগে ছোটাছুটি করে ছোট ছোট জলকণা। প্রকৃতির অনিন্দ্যসুন্দর এই সৃষ্টিকে মানুষ ভালোবাসতে পারে নি। মানুষ ভালোবেসেছে সূর্য্যকে। যার প্রখর তাপ গলিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে প্রায় সবকিছুকেই। ভালোবাসা মানে কেবলই নিজের অক্ষমতাকে প্রশ্রয় দেয়া।

তারচেয়ে ভালো বিলীন হয়ে যাওয়া। অগ্রহায়নের কোনো এক মিষ্টি সকালেই আমি বিলীন হতে চাই। ক্রুশবিদ্ধ অস্তিত্বকে কোনো দ্রুতগামী যানে চড়িয়ে সেটাকে সোজা চালিয়ে দিতে চাই অনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। বাতাসের ঘর্ষণে একসময় আমার সমস্ত শরীরে আগুন ধরে যাবে এবং হয়তো চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়বে কয়েক ফোঁটা কালো রঙয়ের পোড়া রক্ত। সে সময় হয়তো আমায় সঙ্গ দেবে মস্তিষ্কের কোনো একটি নাম না জানা নিউরণ। হয়তো পুড়ে ছাই হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত সে আমায় পিংক ফ্লয়েডের হাই হোপস্ শোনাবে। এই এক অপেক্ষাই মনটাকে গ্রাস করে রেখেছে। আর কিছু নয়।

The grass was greener
The light was brighter
With friends surrounded
The nights of wonder...

---

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


খুব ভালো লাগে আপনার এইসব লেখা পড়তে। ডেইলী লিখবেন!

তানবীরা's picture


হিমের জন্যে খারাপ লাগে? কপাল আমার

আমি মিস করি উততাপকে। আমি যেদিন থাকবো না সেদিনও তার ছোয়া্য় বহু তরুনীর দেহ মন বিগলিত হবে Sad(

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপ্নের লেখা এত ছোট হওয়াটা অন্যায়!

শীতে নিয়মিত আপ্নেরে প্রথম পাতায় দেখতে চাই,
উইদ লটস অফ পিঙ্ক ফ্লয়েড টাইপ নেশাজাগানিয়া লেখা।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


শৈত্যপ্রবাহের ঝড়ো কুয়াশায় তীরবেগে ছোটাছুটি করে ছোট ছোট জলকণা। প্রকৃতির অনিন্দ্যসুন্দর এই সৃষ্টিকে মানুষ ভালোবাসতে পারে নি। মানুষ ভালোবেসেছে সূর্য্যকে। যার প্রখর তাপ গলিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে প্রায় সবকিছুকেই। ভালোবাসা মানে কেবলই নিজের অক্ষমতাকে প্রশ্রয় দেয়া।

ছোট্ট লেখায় অনেক ভালোলাগা Laughing out loud

জ্যোতি's picture


ভালোবাসা মানে কেবলই নিজের অক্ষমতাকে প্রশ্রয় দেয়া।

এটা কেমন কথা হইলো? মাইন্ড খাইছি Sad(

মৃদুল ভট্টাচার্য্য's picture


অসাধারন....... অসাধারন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।