কোনো কারণ ছাড়াই এক প্রস্তুতিহীন মেরুভালুক বরফ ভাঙছে
ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে যখন আমার ড্রিমলাইনার ল্যান্ড করে তখন মনের ভেতর অস্থিরতা ছাড়া আর কিছুই চলছিলো না। টানা ১৫ ঘন্টার বিমান ভ্রমণের পর আসলে, কখন এ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবো- তার অপেক্ষায় অস্থির হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। মাঝে একবার বিমান পরিবর্তনের জন্য ঘন্টা তিনেকের বিরতি পেয়েছিলাম। তাতে অস্থিরতা বেড়েছেই কেবল, কমে নি কারণ গন্তব্যে পৌঁছে সবকিছু ঠিকঠাকমতো করতে পারবো কিনা, আমার জানা ছিল না। কেবল জানতাম- যেকোন মূল্যে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছুতেই হবে। বিকল্প কোনো রাস্তা আমার জন্য খোলা ছিল না।
আগের জীবনটা আমার কেমন ছিল? সহজ, আনন্দময়, নিশ্চিন্ত। আর? পরিপূর্ণ। আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো যেটা, সেটা হচ্ছে- ওর পাশে আমি একেবারেই নিজের মতো করে থাকতে পারতাম। আমি, আমি হয়ে থাকতাম। আমাকে অন্য কোনো ছদ্মবেশ ধারণ করতে হতো না। কারণ আমাকে ও যতোটা বুঝতো, ততোটা আর কেউ বুঝতো না। ওর জন্য আমাকে কখনো ভাবতে হতো না। খাবার চিবুতে শব্দ হলে শংকা হতো না। চুক চুক শব্দে চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার সময়, পাশের জন কি ভাবছে, তাতে পাত্তা দেয়া লাগতো না। পকেটে টাকা না থাকলেও বড় বড় হোটেলে ঢুকে স্পেশাল ডিশ অর্ডার করতে দুশ্চিন্তা হতো না। সবসময় মনে হতো, সে আছে। আমার কোনো ভাবনা নেই। ঘামে জবজবে শরীর নিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরতে একবারও, দুইবার ভাবতাম না। অথচ আজকাল পার্ফিয়ুমের পর পার্ফিয়ুমের বোতল খালি করেও নিশ্চিন্ত হতে পারি না, মানুষের আশপাশে যাওয়ার অবস্থা দেখা দিয়েছে কিনা। প্রতিদিন সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করার মতো লোক আমি কখনোই ছিলাম না। তা নিয়ে সে কখনও অভিযোগ করে নি। এখনও কেউ করে না। তারপরও ইদানীং দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করি। মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিস্কার করি। ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে খুঁটিয়ে বের করার চেষ্টা করি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা। আর এতকিছুর পরও সত্যি কথাটা হচ্ছে, ওর আশপাশে থাকা অপরিচ্ছন্ন সেই সময়গুলোতে আমি যতোটা শান্তি পেতাম আর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম, আজকালকার টিপটপ-সুপরিচ্ছন্ন জীবনে তার সিকিভাগও করি না।
ভালবাসা আসলে বড় ঠুনকো জিনিস। মানুষের জীবনের যেকোন বড় সংকটে সবার আগে এই জিনিসটা সটকে পড়ে। কোথায় যে গিয়ে পালায়, সেটা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। জিনিসটা কাপুরুষও বটে। ঝামেলা শেষে আবার ঠিকই ফিরে এসে যন্ত্রণা শুরু করে। সমস্যা হলো, ওর ওপর নির্ভর করতে করতে এমন অবস্থা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে, আমি একলা চলার নিয়ম ভুলে গিয়েছিলাম। একসময় সব নিয়মই খুব ভালভাবে মুখস্ত ছিল। একলাই সাত সাগর তের নদী পাড়ি দিয়ে ওকে আমি জয় করে এনেছিলাম।
তবে সেই সন্ধ্যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে নেমে যখন অস্থিরতা ক্রমান্বয়ে আমায় গ্রাস করার জন্য এগোচ্ছিল, তখন ওর ওপর খানিকটা রাগ হয়েছিল। আমি তো কখনও এই স্বপ্ন দেখি নি। এই স্বপ্ন ছিল ওর। ও সঙ্গে থাকলে কি আমায় অতো ভোগান্তি পোহাতে হয়? নিশ্চিন্তে ওর হাতে কাগজ-পত্র ধরিয়ে দিয়ে আমি লাগেজগুলো নিয়ে হাঁটা ধরতে পারি। ও-ই খুজেঁ বের করে ফেলতে পারতো আন্ডারগ্রাউন্ড রেলস্টেশনের যাবার পথ, রেলের টিকেট কাটার নিয়ম, ভিন্নভাষায় লেখা রেলের সময়সূচি বোঝার উপায়- সবকিছু। হাতে এক মণ আর কাঁধে ১০ কেজি ওজন নিয়ে অসীম সংখ্যক ধাপসম্পন্ন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করাটা আসলে খুব বেশি কষ্টের না কিন্তু সে সময় যদি মনে পড়ে যায়, কাজগুলো আমার একলা করার কথা ছিল না; তাহলে হঠাৎ করে সবকিছুকে কঠিন আর যন্ত্রণাদায়ক মনে হতে থাকে এবং ভাল একটা আড়াল বের করে কান্নাটাকে ঠোঁট কামড়ে আটকে দেয়ার প্রবল একটা ইচ্ছা মনের ভেতর জন্ম নেয়।
সেদিন সবচেয়ে করুণ দৃশ্যগুলোর একটির অবতারণা ঘটেছিল ট্রেন থেকে নামার পরে। জানতাম, রেলস্টেশন থেকে আমার হোটেল খুব একটা দূরে না। তবে ক্লান্তি, সংকোচ ইত্যাদি আমাকে এমনভাবে কাহিল করে এনেছিল যে, হেঁটে হেঁটে হোটেল খুঁজে বের করার ইচ্ছেটা নিজের ভেতরে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে একটি ট্যাক্সি নিতে হয়েছিল। ট্যাক্সিওয়ালা ঠিকানা শুনে মুচকি হেসে তার ড্রাইভিং সিট নেমে গেল। পেছনের বনেট খুলে আমার লাগেজ নামিয়ে এসে জানালায় টোকা দিয়ে বললো, সামনের চৌরাস্তাটা পার হলেই তোমার হোটেল। এত কাছের একটা জায়গায় যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি নেয়া উচিত হবে না। আমি হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর কথা না বাড়িয়ে পথে পা বাড়িয়েছিলাম।
ট্যাক্সিচালকের ভাষ্যমতে, চৌরাস্তা পার হলেই আমার “হোটেলের দরজায়” পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ আমি ভীষণ বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, হোটেল তো দূরের কথা, দুই চোখের দৃষ্টিসীমায় কোনো দরজার দেখাও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় দু'একজনকে জিজ্ঞেস করে আশাহত হতে হলো। কেউ ঠিকানা দিতে পারলো না। এরই মধ্যে এক নাকবোঁচা চাইনিজ আমার 'এক্সকিউজ মী' শুনে এমনভাবে পাশ কাটিয়ে গেল, যেন একটি তেলাপোকা মৃত্যুভয়ে দিশেহারা হয়ে ছুট লাগালো।
ধীরে ধীরে আরও অস্থির হয়ে পড়ছিলাম। আইরনিক্যালি, ব্যাপারটা উপভোগও করছিলাম। জানতাম, অস্থিরতাই আমাকে সবসময় আমার পথে ফিরিয়ে এনেছে। এই দ্বন্দ নিয়েই আমি জীবনের পথ পাড়ি দিয়েছি। তাই খারাপ লাগছিল না খুব একটা। পকেট থেকে একটি ধূম্রশলাকা বের করে, অগ্নিসংযোগ ঘটাতে গিয়েও ঘটালাম না। খানিক অপেক্ষা করে এক সমবয়সী জার্মানকে গিয়ে বললাম, ব্রাদার একটু আগুন হবে?
ছেলেটা লাইটার বের করে দিয়েই ক্ষান্ত হলো না। নিজে আমার শলাকাটি ধরিয়ে দিল এবং জানতে চাইলো, আজকের মতো খারাপ আবহাওয়া আমি এর আগে দেখেছি কিনা? এটা ওদের আলাপ শুরুর নিজস্ব কেতা। আমি বলেছিলাম, মাত্রই এ দেশে এসে ল্যান্ড করেছি। তাই তোমাদের কথা বলতে পারবো না কিন্তু আমি এর আগে এরচেয়ে খারাপ আবহাওয়া অনেকই দেখেছি। তারপর এক কথা-দুই কথা থেকে সে জানতে চাইলো, আমার কাছে আর স্পেয়ার সিগারেট আছে কিনা।
ধূমপান পর্ব শেষ হতে হতে সেই ছেলেটা জেনে গিয়েছিল, আমি কোন হোটেল খুঁজছি। হোটেলটা কোথায় সে জানতো না তবে সেটা খুঁজে বের করার কাজে আমায় সঙ্গ দিতে তার ইচ্ছের কোনো ঘাটতি ছিল না। তারপর নিজস্ব ভাষায় ছেলেটা রাস্তার লোকজনদের সঙ্গে নির্ভুল যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে অতি অল্প সময়েই আমায় আমার গন্তব্যে নিয়ে হাজির হলো।
সেই রাতে আমি জীবনে প্রথমবারের মতো তুষারপাত প্রত্যক্ষ করেছিলাম। হোটেলের ধবধবে বিছানায় শুয়ে আমার সেই ওর কথাই ঘুরে ফিরে মনে হচ্ছিল। আমরা একসাথে সেই কক্ষে শুয়ে বাইরের তুষারপাত দেখতে পারতাম। আমাদের যৌথ 'প্রথম' তালিকাটিতে তুষারপাতটাও যোগ হতে পারতো। আমার জীবনের অনেকগুলো প্রথম ঘটনা ঘটেছে ওর সঙ্গে। একদিন এক বন্ধুর বাড়িতে রাতজাগা পার্টির শেষপ্রান্তে আমরা দু'জন নিজেদেরকে আবিস্কার করেছিলাম- নিজেদের নিবিড় আলিঙ্গনে। নিয়েছিলাম প্রথম চুম্বনের অনন্য স্বাদ।
অনেক আক্ষেপ নিয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না। সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি ঘড়ির কাঁটা ভালোই চোখ রাঙাচ্ছে। আগের সন্ধ্যায় যে রাস্তা ধরে এসেছি, সেই রাস্তা ধরে ধরেই ফিরতে হবে রেলস্টেশনে। তার আগে সকালের ফ্রেশ হওয়া, এবং কমপ্লিমেন্টারি নাস্তা সারার মতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারগুলো তো আছেই। সবকিছুর জন্য হাতে সময় ছিল ৩০ মিনিট।
ফ্ল্যাশের মতো বিপুল গতিতে সব কাজ সারলাম। মনে আছে যখন ট্রেনের উদ্দেশ্যে ছুটছিলাম, সে সময় ডয়েচে বানের ইউনিফর্ম পরা একটা লোক দূর থেকে হাতের ইশারায় আমায় ডাকছিলেন আর চিৎকার করে বলছিলেন- শ্নেলা শ্নেলা (তাড়াতাড়ি তাড়াতাড়ি)। পরে জানতে পারি তিনি ওই ট্রেনের টিকিট চেকার ছিলেন। এক বর্ণও ইংরেজি বোঝেন না। তারপরও আমার নার্সারী ক্লাসের জার্মান জ্ঞান দিয়ে তার সঙ্গে বেশ একচোট আলাপ হয়েছিল। তিনি নাকি আমাকে দেখেই বুঝে গিয়েছিলেন, আমি তার ট্রেনেরই যাত্রী। তাই প্রায় মিনিটখানেক আমার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। সেই সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন ট্রেনটাকেও। পরে, অনেক পরে, জেনেছি জার্মান দেশে ট্রেন এক মিনিট লেট হওয়াও অনেক বড় ব্যাপার। সেদিন ওই টিকিট চেকারের উষ্ণতাটুকুও আমার মনে ওর স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছিল। একমাত্র ও-ই পারতো যখন-তখন এভাবে উষ্ণতার চাদরে আমায় আপাদমস্তক ঢেকে দিতে।
প্রথমদিকে খুব স্মৃতিকাতরতায় ভুগতাম। এখন ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে এসেছে। এটা অনেকটা বাস্তব আর পরাবাস্তব জগতের একত্রে মিলে যাওয়ার মতো একটা বিষয়। এখন আমার সঙ্গে ঘটা প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে আমি ওকে কল্পনা করে নিই। মনে হয় সে পাশেই আছে। পাশের টুলে বসে আমার সঙ্গে 'লং আইল্যান্ড আইসটি’র গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে স্প্যানিশ ছেলে কালোর্সের ব্যার্থ কৌশলগুলো দেখে মিটিমিটি হাসছে।
কালোর্স সুন্দর আর হটমতো কোনো মেয়ে দেখলেই নানাবিধ কৌশল খাটানোর চেষ্টা করে। মজার বিষয় হলো, ওর ক্ষেত্রে ওই কৌশলগুলো কখনোই কাজ করে না। অথচ ওর বুদ্ধি নিয়ে অন্যরা চেষ্টা করলে নাইন-আউট-অব-টেন-টাইমস্ সেটা কাজে লেগে যায়। সেদিন হুট করে এসে আমায় জিজ্ঞেস করেছিল, একটা চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি আছো তুমি? আমি উৎসুক হয়ে জানতে চাইলাম, কি চ্যালেঞ্জ? সে রিপাবলিক অব মলডোভার ইরিনাকে দেখিয়ে বললো, ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে, একটা পোলার বিয়ারের ওজন কত হয় জানে কিনা। প্রশ্নটা করতে পারলেই ৫ ইউরো। প্রশ্নটার উত্তরে মেয়েটি কি দিলে তার জবাবে আমাকে কি বলতে হবে, সেসবও সে আমায় খুব ভাল করে বুঝিয়ে দিল। আমি ভেবে-চিন্তে দেখলাম, এখন শুধু প্রশ্নটা করে দিলেই পাঁচ টাকা!
আমি হাতের গ্লাসে শেষ চুমুকটা দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে গেলাম মেয়েটির দিকে। সে একা দাঁড়িয়ে জিম মরিসনের 'পিপল আর স্ট্রেঞ্জ' গানের তালে আস্তে আস্তে মাথা দুলাচ্ছিল। পাশে দাঁড়িয়ে জানতে চাইলাম, হেই, ডু য়ু নো হাউ মাচ আ পোল বিয়ার ওয়েইজ্? সে বেশ অবাক হয়ে বললো, নোওও, হাউ মাচ? আমি হেসে বললাম, এনাফ টু ব্রেক দি আইস্। তারপর আমার নাম বলে হাত বাড়িয়ে দিলাম শেক হ্যান্ডের জন্য। একদম কার্লোসের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হলো। দূর থেকে সুযোগ বুঝে ওর উদ্দেশ্যে চোখ টিপলাম, ইন ইওর ফেস্ বিচ্। সেই রাতে কার্লোসের পাঁচ ইউরো দিয়ে দুই গ্লাস জিন টনিক কিনে পান করতে করতে, ইরিনা আর আমার অনেক কথা হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন সকালে উঠে দেখি কিছুই মনে নেই।
বেচারা কার্লোস অবশ্য দার্শনিক প্রকৃতির। প্রত্যেক দিন নতুন নতুন প্ল্যান তার ব্যর্থ হয়, আর সে উদাস মুখে আমাদের মাঝে ফিরে আসে এবং বাণী দেয়। সেইসব বাণী শুনে হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল ধরে যায়। বেশিরভাগ রঙিন সন্ধ্যা এভাবেই গড়িয়ে যায় গভীর রাতের দিকে। আর রাতে ঘরে ফেরার সময় কোন কোন দিন অবধারিতভাবে মনে পড়ে যায় মলয়দা’র কথা। সিম্মি আপুকে দেখলেই উনি বেসুরো গলায় গেয়ে উঠতেন, আমার সোনা বন্ধুরে/ তুমি কুথায় রইলা রে...। আমরা দুইজন দুই পাশ থেকে গানটার ক্রুশিয়াল মোমেন্টগুলোতে কোরাস ধরতাম। সিম্মি আপু দূর থেকে চোখ রাঙানি দিয়ে চলে যেতেন। মাঝে মাঝে চড় দেখাতেন। আমরা জানতাম, সেটা একটা কপট রাগ দেখানো। বাস্তবে উনি আমাদেরকে খুবই পছন্দ করতেন।
কোনো কোনো রাতে মনে পড়ে খ আলম স্যারকে। উনি আমাদেরকে একসাথে দেখলেই হেসে দিতেন। মধু আর আইবিএ ক্যান্টিনের পিচ্চিগুলোর কথাও প্রায়ই মনে পড়ে। ওরা আমাদেরকে কখনো বিচ্ছিন্নভাবে কল্পনা করতে পারতো না। কখনো আমাকে একা দেখলে সবকিছুর আগে জিজ্ঞেস করতো, ভাই আফা কই?
ভাবতে ভাবতেই এক সময় আমার ছোট্ট গুহায় ফিরে আসি। জানালা খুলে দিই। হু হু করে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। সেই বাতাসে জমে যেতে যেতে ভাবি, জীবনের অসামান্য সময়গুলো কখন যে পেছনে পড়ে গেছে, কেউই আমরা বুঝতে পারি নি।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, ওস্তাদকে একটা কুইক কল দিয়ে বলি, "ডিয়ার গড ক্যান আই স্টার্ট ওভার অ্যাগেইন? লাস্ট টাইম আই ওয়াজ নট রেডি।" সেই কলটাও শেষ পর্যন্ত করা হয়ে ওঠে না।
---





পড়ছি
ধইন্যাপাতা ভাইসাব
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, ওস্তাদকে একটা কুইক কল দিয়ে বলি, ডিয়ার গড ক্যান আই স্টার্ট ওভার অ্যাগেইন? লাস্ট টাইম আই ওয়াজ নট রেডি।
ইস এক্কেরে মনের কথা কৈছেন ভাই সাহেব, ওস্তাদের ফোন নম্বরটা দিবেন ?
হাহা, ওস্তাদের তো ফোন নাম্বার নাই বস্। টেলিপ্যাথিক কল দেয়া লাগে
মাঝে মাঝে এক লাইনেই সব কথা বলা হয়ে যায়।
বিটিডব্লিউ,
ফ্ল্যাশ টিভি সিরিজটা দেইখা নিতে পারেন। আমার ভালোই ভাল্লাগছে।
অলরেডী ওয়াচ লিস্টে ঢুকায় রাখসি কিন্তু সমস্যা হইলো সময় নিয়ে। তবে দেখবো নিশ্চিত।
ফ্ল্যাশের পুরা মজা পাইতে হইলে আগে
এরো সিরিজের ২/৩টা সিজন আগে দেইখা নিয়েন।
এইটাও ভালো বানাইছে, আর দুইটার অন্তঃসংযোগ চমৎকার!
মন্তব্য করুন