ইউজার লগইন

শুধু ছেঁড়া পাতা হয়ে জীবনের খাতা হতে আস্তাকুড়ের রাস্তাটুকু খুঁজে নিতে খারাপ লাগে

ইও, ওয়াট্সাপ?

জানো, আমার পাষাণ হৃদয়টা না কখনও শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের কথা ভাবে না। কখনও ভাবে না যখন সে কষ্ট পায়, তখন তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয় অন্যদের। সে জাস্ট কষ্টের খনি খুড়ে বেড়ায় সর্বত্র। একবার খুঁজে পেলে খুশিতে লাফাতে থাকে। সামান্য নিকট ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে সেটা জানার জন্য অপেক্ষাও করে না। ঝাপ দেয়ার প্রথম সুযোগটাতেই ঝপাত। একদম পপাত! তারপর দুই কি এক সপ্তাহ বাদে বুঝতে পারা যে, কতোটা ভুল ছিল সিদ্ধান্তটা!

বেচারা তারপর ফিরে যায় ১২ দশমিক চার বর্গমিটারের কুঠুরিটায়। ঠায় তাকিয়ে থাকে ডার্থ ভেডারের সাদা-কালো পোস্টারটার দিকে। রুমের ডেথ স্টারটা তাই দেখে গম্ভীর হয়ে যায়। চারশত বছরের পুরোনো পৃথিবীর ম্যাপটার জায়গায় জায়গায় নীল ছোপ জমা হয়। কম্বলের ওয়ারে আঁকা স্টর্মট্রুপারদের মুখও মলিন দেখায় ক'টা দিন।

ঝাপ দেয়ার আগে একটু ভেবেচিন্তে নিলেই কিন্তু আজ ২০৬ টি হাড়ের ২০৬ টিই ভাঙ্গার বেদনায় নাচার হয়ে থাকতে হতো না। অনেকে জনসমক্ষে কান্নাকাটি করতে চান না। আমার সেই সমস্যা নেই। ভেতরটা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে আর বাইরটা চুপ করে বসে আছে, এটা আসলে আমার বাস্তব সত্ত্বা। লেখকসত্ত্বাটা তার থেকে ভিন্ন। সে যেমন আগুন দেখলে ঝাপ দেয়ার জন্য বাস্তব সত্ত্বাকে উদ্বুদ্ধ করতে সবসময় প্রস্তুত, আবার তেমনি আগুনে পুড়তে নিলে সবার আগে চিৎকার শুরু করে দিতেও সিদ্ধহস্ত। ইয়া কাপুরুষ একটা হাহা। কিন্তু এটাই আমার অন্তর্নিহিত সত্ত্বা। ভেতরের আমি।

মাঝে মাঝে তো আমিও এই ভেতরের সত্ত্বাটাকে ঘৃণা করে বসি। ওটা আসলেই উইয়ার্ড। ভীষণ উইয়ার্ড। বাহিরটা সুপারফিশিয়াল হলেও, একটা নির্দিষ্ট ট্রেন্ড মেনে চলে, টু সাম এক্সটেন্ট। ভেতরটা ভীষণ অমানুষ। ওর নিজের যা ইচ্ছা তাই করবে। কল্পনায় তো মাঝে মাঝে পৃথিবীর সবকিছুকে হার মানায়। সেসব লিখে বোঝানো এখনও আমার দ্বারা সম্ভবপর নয়। আর বাস্তবকেও মাঝে মাঝে এমনভাবে টেম্পার করে যে, আমি কোনো মাদক ছাড়াই একটা নীলরঙের বুদবুদের ভেতর আটকা পড়ে যাই। আটকে থাকি দিনের পর দিন। ভাসতে থাকি আটলান্টিকের অসীম জলরাশির উপর দিয়ে। শঙ্কায় সারাটা শরীর কাঁটার মতো সজাগ হয়ে থাকে কখন বুদবুদটা ভেঙ্গে যায় আর আমি পরে যাই সমুদ্রে। তলিয়ে যাই পৃথিবীর কোনো এক গভীর পরিখায়। যদিও সমুদ্রে সমাধিস্থ হওয়াই আমার সর্বশেষ আকাঙ্ক্ষা। তবে সেটাকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো এখনও আমার মধ্যে দেখা দেয় নি। আরও অনেকগুলো বছর বাঁচতে চাই।

জানি আমার এমন হয়ে যাওয়ার পেছনে, আমিই সবচেয়ে বেশি দায়ী। এক অমোঘ অভিশাপ ঘিরে ধরেছে। যার থেকে কোনো মুক্তি নেই। বয়স বেড়ে গেলে হয়তো ইমোশন কমে আসবে। লোগানের মতো গা ঢাকা দেবো হয়তোবা কোনো একটা নির্বিবাদী এলাকায় গিয়ে। সিনেমাটা দেখে পয়সা উসুল হয়েছে বটে, কিন্তু খরচ করার মতো কোনো পয়সা যে অবশিষ্ট নেই; সেটা জানার পরও কেন সিনেমাটা দেখতে গিয়েছিলাম জিজ্ঞেস করে লাভ নেই। এটাই আমি। আজকাল নিজেকে বোধহয় অবশেষে চিনতে শুরু করেছি।

যাহোক আমার লেখাগুলো শুধুই আমার জন্য। লেখার মাধ্যমে আমি নিজেকে অটোসাজেশন দিই। সেটা পরবর্তীতে সাহায্যই করে। আমি জানি অন্য এক জোড়া শক্ত বাহু তোমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। তুমি ঘুমিয়ে আছো সেখানে। খুঁজে পেয়েছো অবশেষে, যা খুঁজছিলে। মাঝের ক'টা সংশয়ঘেরা, দ্বিধা-দ্বন্দের জালে অাবদ্ধ দিনে আমরা দু'জন ধরিত্রীর বুকে খানিকটা শিশুতোষ ছোটাছুটি করেছিলাম। হয়তো মনের ভুলে ছুঁয়েও দিয়েছিলাম একে অপরকে।

তারপর আবার সবকিছু আগের নিয়মে ফিরে গেছে। এ ক'দিনের হিসাব-নিকাশ যথারীতি কিছু কিছু পরিবর্তন এনেছে জীবনে। যদিও পরিবর্তনকে আপন করে নিতে আমার কখনো কষ্ট হয় না। শুধু ছেঁড়া পাতা হয়ে জীবনের খাতা হতে আস্তাকুড়ের রাস্তাটুকু খুঁজে নিতে খারাপ লাগে। একবার সেটা খুঁজে পাওয়ার পর আবার কষ্টগুলো ধুয়ে যায়। হৃদয়টা প্রস্তুত হয় আবারও খনি খুঁজে ঝাপ দেবার জন্য। ঝাপ দেবার পর প্রথমে একটু আনন্দ তারপর নীলাম্বুসম কষ্ট, এবং যথারীতি পুরোনো চক্র।

যতোদিন বুড়িয়ে না যাচ্ছি, মনে ও শরীরে; ততদিন হয়তো এভাবেই চলবে। আগেই বলেছি আমি অভিশপ্ত। এ জীবনে আর কখনো চাঁদগলা জলে পা ডুবিয়ে, তোমার হাত ধরে বসে থাকা হবে না জানি। মাঝে মাঝে তাই আমি জলভরা চোখের পাড়ে বসে আপনমনে গান শুনি। আই ফুলড অ্যারাউন্ড এন্ড ফল ইন লাভ। এলভিন বিশপের পুরোনো ক্লাসিক। বব মার্লের কুড ইউ বি লাভড্ এন্ড লাভড্? এমি ওয়াইনহাউসের এন্ড আই ওয়েক আপ অ্যালোন। সবই আমার টাইপের গান। অভিশপ্ত। অভিশপ্ত অভিশপ্ত অভিশপ্ত অভিশপ্ত। শব্দটা লিখতে খুব ভাল লাগছে। কেন কে জানে!

অদ্ভুত লাগে অনেক সময়। জীবনটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। আবার হয়তো উল্টোটা ঠিক। জীবনটা যেমন হওয়ার কথা ছিল তেমনটাই হচ্ছে। কিন্তু ঘটমান বর্তমানের মধ্য দিয়ে পার হওয়ার কারণে আমি বুঝতে পারছি না। ভবিষ্যতের আমি হয়তো আজকের আমার দিকে তাকিয়ে একটার পর একটা বিন্দু জোড়া লাগাচ্ছে।

ভাল থেকো। আমার কষ্টকে আমি নিজেই পাত্তা দিই না। তোমারও দিতে হবে না। বেশি খারাপ লাগলে উপরের তিনটা গান একটার পর একটা করে শুনে দেখো। বিষে বিষক্ষয় ঘটবে। আর না হলে জানালা দিয়ে মাথাটা বের করে সর্বশক্তিতে একটা চিৎকার দিয়ে দেখতে পারো। এটা আসলেই কাজ করে।

একমাত্র আমি, আর তুমি জানো, সবকিছুই একসময় ঠিক হয়ে যায়। বেশি ভেবো না। টুমোরো ইজ আ নিউ ডে। শুভকামনা।

---

একজন মায়াবতী's picture


অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়লাম।
সত্যি কি সব কিছু একসময় ঠিক হয়ে যায়?

মীর's picture


ইয়েস্ Smile
কথাটা আমার না, বব মার্লের। "ডোন্ট ওরি, আবাউট আ থিং, কজ এভ্রি লিটল থিং উইল বি অল্রাইট।"

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

more efficient in reading than writing. will feel honored if I could be all of your mate. nothing more to write.