সেইখানেতে থাকে নি মানুষজন
সাগরে সৃষ্টি হয়েছে সামান্য নিম্নচাপ, তাই ঝিরঝির-ঝরঝর-ঝুমঝুম সারাদিন ঝরছেই! চারিদিকে বৃষ্টির দৌরাত্ম্য। যেদিকে তাকাচ্ছি সেদিকে দেখতে পাচ্ছি পানি জমে আছে। ছাদের টানা কার্ণিশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি, মাঠের কোণায় জমে থাকা হলুদ পানি, পথের দুই পাশে ড্রেন উপচানো ঘোলা পানি, কচি কলমি শাকে ছেয়ে থাকা ভবন না ওঠা খালি প্লটজুড়ে সবুজাভ পানি- শুধু পানি আর পানি।
চম্পাতলী থেকে ফেরার পথে দেখেছি হাইওয়ের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া জীর্ণ খালগুলো পানিতে টইটম্বুর। দু'পাশের পাড় প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। শুকনো মৌসুমে পানি অনন্ত বিশ-পঁচিশ ফুট নিচে থাকে। মাঝে মাঝে চরাও দেখা যায়; সাপের মতো এঁকেবেঁকে কিছুদূর সামনে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া ওই খালগুলোর বুকে। আর এখন যেন শান্ত-ঘুমন্ত দানবের মতো ছুটছে একেকটা! ছোটখাটো ফোঁস-ফাঁস মাঝে মাঝে করছে, কিন্তু এখনও ঘুমিয়ে আছে। জেগে ওঠে নি। তারপরও, সেতুর ওপর নিরাপদ দুরত্ব থেকে সেই খালগুলোকে দেখতে বুকের ভেতর কেমন যেন শিরশির করে।
অথচ সেই ভয়ংকর অবস্থার ভেতরেও অনেক সময় সেই খালে নৌকা চলতে দেখা যায়। মাঝির সাহস! একটু বড় ঢেউ কিংবা একটা উচ্চগতির স্রোত পুরো নৌকাটাকে নিয়েই তো স্রেফ ছেলেখেলা করে বসতে পারে! পৃথিবীর কারো কিচ্ছু করার থাকবে না। জেনেও কোন তাড়নায় এমন ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ সময়ে নৌকা নিয়ে পানিতে নেমেছে সে? ভাবতে ভাবতে গাড়ি এগিয়ে যায়। আমি চোখের সামনে শুধু ওই মাঝিকেই দেখতে পাই। ওই মাঝিটাই আমরা সবাই।
জীবন খেয়ার সাহসী মাঝি
এক দৈব একক সনে
কি খেয়ালে মুচকি হেসে
লুকায় নিজের মনে?
জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে
বসেছি এই চুপ
সেই মাঝিটা তারপরেতে
দিয়েছে ভীষণ ডুব।
পথ খোয়ানোর কৌতুকে আজ
সর্বহারা তাই
জীবনজুড়ে কুড়ানো তাজ
সবকিছুতেই ছাই।
ভালবাসার ভয়াল খালে
চুরাশিবার ডুবেও
অবাক দেখি এখনও আশা
অবুঝ কথা ভেবেও।
জীবন খেয়ার মাঝি বলে
দেখতে চাইলে মন
খুঁজলে পাবা সেইখানেতে
থাকে নি মানুষজন।
কোনকিছুতেই কোনসময়েই
থামে নি এ ধাম
জীবনজুয়ায় জীবনজুড়ে
হেরেই জিতেছিলাম।
---





মন্তব্য করুন