ইউজার লগইন

অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১২

স্ন্যাপচ্যাট নামের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটার খুব একটা ভক্ত ছিলাম না দুই-চার দিন আগ পর্যন্তও। হোয়াটস্অ্যাপ আর ইন্সটাগ্রাম এখনও যোগাযোগের মূল মাধ্যম। ফেসবুক মেসেঞ্জারের মতো ভারী নয় ওগুলো। তবে ইদানীং ভক্তি বাড়ছে স্ন্যাপচ্যাটের ওপর। ওটা এত কুল!

অনেকগুলো মজার মজার ফিচার আছে যেটা দেখলেই ভাল লাগে। যেমন যখন কেউ মেসেজ লিখে স্ন্যাপচ্যাটে তখন যার কাছে লিখছে সে একটা নোটিফিকেশন পায়। ফিচারটা গত দুইদিন যাবত আমার প্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফিচারের তালিকার টপে ট্রেন্ড করছে। আর স্ন্যাপচ্যাটের অ্যাভাটার বানানোর সিস্টেমটাও দারুণ। একবার অ্যাভাটার বানিয়ে ফেললে স্ন্যাপ সেটাকে অ্যনিমেটেড করে বন্ধুদের অ্যাভাটারের সাথে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ধরনের অনেকগুলো ইমোটিকন বানিয়ে দেয়। ইমোটিকনগুলো শুধু নিজেদের মধ্যে ব্যবহারের জন্য।

গলায় প্রচণ্ড ব্যথা। ঢোক গিললেই মনে হচ্ছে ভেতরে তোলপাড় উঠছে। আর সেজন্যই বোধহয় সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি ঢোক গিলছি। হয়তো সবসময়ই এটা হয় কিন্তু আলাদা করে খেয়াল করি না ব্যথা থাকে না বলে। কাল থেকে হিসাব করে করে ঢোক গেলার চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছে কোথায়! হালকা শরীরে ব্যথাও আছে, জ্বরের পর পর যেমন ব্যথা থাকে তেমন। শরীরটা হঠাৎ এক রাতে খারাপ হয়ে গেল। একদম চোখের সামনে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে দেখলাম। ভাগ্যটা ভাল এ সপ্তাহের প্রথম দুই দিন খুব একটা কাজ ছিল না। রোববার রাতে খারাপ হওয়ার পর এখন মঙ্গলবারে এসে জ্বর বা প্রচণ্ড শরীর ব্যথা আর নেই। শুধু গলাব্যথা। এই মাত্রার গলাব্যথা নিয়ে তোমাকে কিভাবে চুমু দেবো বলো তো?

গান শুনি, মানুষের সাথে রাজ্যের বিষয় নিয়ে আলাপ করি, মাঝে মাঝে চাকুরি খুঁজি আর বেশিরভাগ সময় ভাবনার রাজ্যে ঘুরে ঘুরে সময় কাটাই। রোববার সকালে গিয়েছিলাম কিকেলহান পাহাড়ে। ইলমিনাউ ছেড়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে মিস করবো ওই পাহাড়টাকেই। ওটার ওপর থেকে যতদূর দেখা যায় শুধু পাহাড়, সবুজ বন, আর ঘোলাটে নীল রংয়ের মেঘ। আমাদের পার্বত্য জেলাগুলোর পাহাড়ি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আশপাশে তাকালে অমন দৃশ্য দেখা যায়। কিকেলহানে গেলে আমার সবসময়ই দেহ-মন সতেজ হয়ে যায়। এবার অবশ্য ওখান থেকে ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়েছি। কিন্তু সেটাকে আমি খুব বড় কিছু হিসেবে দেখছি না। অসুস্থ তো মানুষ কতোভাবেই হয়!

আগের লেখাটায় যেসব গানের কথা উল্লেখ করেছিলাম সেগুলো মনে হয় কেউ শোনেন নি। অসুবিধা নাই। আজকে আরেকটার কথা বলি। এই গানটার সাথে পরিচয় সাঈদ হাসনাইন নামের বন্ধুর মাধ্যমে। গানের নাম কোগং (Kogong) এবং গায়ক মার্ক ফস্টার। গানের কথাগুলো আমার খুবই ভাল লাগে। বিশেষ করে যখন গায়ক বলে, একটা সময় তুমি আর নতুন শুরু চাইবে না শুধু চাইবে একটা পরিস্কার টেবিল। আর সন্ধ্যা নামার আগেই বাসায় ফিরে আসার সুযোগ।

আরেকটা গান যেটার সাথে আমার অবস্থাটা খুব ভাল মেলে সেটা হচ্ছে কার্সের (Curse) বাই মির (Bei mir). একদম স্ট্রেইট মানুষের নিত্যদিনের জীবনের কথা। যেমন, যখন আমি একা হয়ে যাই, বন্ধুরা ফিরে যায় বাড়ি, আহা তখন যদি আমিও অন্যদের মতো থাকতে পারতাম! অন্যরা কখনও ভঙ্গুর বা মরিয়া নয়, তাদের জন্য সবকিছুই সবসময় খুব সহজ। কিন্তু আমার জন্য দুভার্গবশত নয় (Aber bei mir leider nicht)।

আজকের পোস্টে জার্মান লাইন লিখতে চাই নি। কিন্তু ওই লাইনটা এত শার্প আর রিলেটিভ যে, যখনই শুনি তখনই সবসময় একটু হলেও কথাগুলো ফিল করি। পৃথিবীতে এই বিষয়টা সব দেশে সব জায়গায় এক। নদীর ওপারের ঘাস সবসময় সুস্বাদু। সবার ক্ষেত্রেই বিষয়টা সত্য। এই জন্যই 'বাই মির' গানের কথাগুলো এত বেশি কানেক্টেড মনে হয়।

তাহলে দুইটা গানের কথা, একটা সোশ্যাল মিডিয়া, আর আমার শারীরিক অবস্থার বিবরণ দেয়া হয়ে গেল। এই লেখাটা এখানেই থাকুক। সবাই ভাল থাকেন। সুস্থ থাকেন। আমাদের এই ছোট্ট সুন্দর পৃথিবীর সব ভাল মানুষেরা সুখে থাকুক।

---

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।