বাদল রহমান, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী

খুব ছোটবেলায় দেখছিলাম এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী সিনেমাটা। এখন অনেক কিছুই মনে নাই, কিন্তু তখন যে দারুণ ভালো লাগছিলো, তা মনে আছে স্পষ্ট। নায়ক নায়িকার প্রেম নির্ভর ছবির ভীড়ে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীর মতো সিনেমা বানাতে কইলজা লাগে। সেই কইলজাটা ছিলো বাদল রহমানের, এজন্যই বানাইতে পারছিলেন।
সেই বাদল রহমান আর নাই। শুক্রবার ভোরবেলা তিনি মৃত্যুকে বরণ করেছেন।
আশির দশকে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী বানানোর পরে বাদল রহমানের আর কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ নাই। একটা দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়েছেন। দেখা হয়নি সেগুলো। প্রায় দশ বছর আগে শুরু করেছিলেন একটা ছবির কাজ, ‘ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ’। মাত্র গতবছরই সেটার প্রিমিয়ার হলো। শিশু একাডেমিতে সেই প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলাম। সেদিনই বাদল ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হইছিলো। সেদিন তাঁর বেশকিছু ছবি তুলছিলাম, পুরা 'ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ' ইউনিটের। আজকে অনেক খুঁজেও ছবিগুলো কোথায় রেখেছি মনে করতে পারছি না। মনে হয় ল্যাপটপে আছে।
ভারতের পুনে ইন্সটিটিউট অব ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিশ্বের অন্যতম নামকরা একটা ফিল্ম ইন্সটিটিউট। সমগ্র ভারত থেকেই সেখানে বছরে মাত্র গোটা দশেক শিক্ষার্থী চান্স পায়। বাংলাদেশ কোটা থেকে একজন যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বেশ কয়েকজন এই সুযোগ হেলায় হারাইছে। কোর্স শেষ করে নাই বা অনিয়মের কারণে বহিষ্কৃত হইছে। এর মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম শফিকুল মিলন ভাই আর বাদল রহমান। মিলন ভাইয়ের উদাহরণ নাকি এখনো পুনের ষ্টুডেন্টদের শুনতে হয় শিক্ষকগো মুখে। আর বাদল ভাই সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে কোর্স শেষ করে শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন।
আমাদের এখানের ট্রেন্ড হলো একবার বিখ্যাত হয়ে গেলে তারপর সেই নাম বিক্রি করে খাওয়া। কাজের ধার না ধারলেও চলে। কিন্তু বাদল রহমান এখানেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। খ্যাতি থাকলেও তা নিয়ে তিনি বাজারে প্রতিযোগিতায় নামেননি। করলে ভালো কিছু সুস্থ কিছু করার চেষ্টা করেছেন, নয়তো করেননি। শখানেক বাজে কাজের চেয়ে একটা দুটো ভালো কাজ থাকলেই চলে। যদিও এটা মেইনটেইন করা খুব কঠিন। কাঁচা টাকার হাতছানি এড়ানো যায় না। বেশিরভাগই পারে না। কিন্তু বাদল রহমান পেরেছিলেন। টাকার দায়ে কাজ করার কথা ভাবেন নাই।
কারওয়ান বাজারে পূর্ণিমা সিনেমা হলসংলগ্ন ভবনে ছিলো অফিস। আর ভিকারুন্নেসার সামনে বাড়ি। অফিসে আর বাড়িতে অনেক আড্ডার কথা মনে পড়ে। একবার ফ্ল্যাটে আগুন লেগে গেছিলো। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন পোষা কুকুরের চাতুরীতে। কিন্তু এবার আর রক্ষা পাওয়া গেলো না।
বিদায় বাদল রহমান... বিদায়। আমাদের সন্তানদের জন্য কেউ আর হয়তো এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী বানাবে না।





বাদল ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো।
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী - আমার দেখা শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী কয়েকটা সিনেমার মধ্যে একটা। কিন্তু পরিচালকের নাম জানতাম না, তাই আমাদের জাতীয় নিয়ম অনূযায়ী - মরনোত্তর সম্মান জানালাম।
এই তথ্যটা জানা ছিলো না। আমি যাদের কথা শুনেছি তাদের বেশিরভাগ ডিগ্রী সমাপ্ত করেই ফিরেছেন বলে জানি। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী থেকে সাইফুল ইসলাম বাদল র্পযন্ত। এর পর ঐ বৃত্তিটাই তুলে নেয় ভারত সরকার। দু/তিনজনের নাম শুনেছি হয়তো যারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে পারেন নি।
তবে বাদল রহমান আমাদের সিনেমা-থিয়েটার-টেলিভিশন এই তিন অঙ্গনের সেরা সময়গুলোতে নিভৃতচারী হলেও ছিলেন প্রধান পুরুষ।
'বেশিরভাগ' শব্দটা আমার ভুল প্রয়োগ। 'কয়েকজন' লেখা উচিত ছিলো।
আসলে শেষদিকে বেশ কয়েকজন এই সুযোগটিকে অবহেলা করছেন। নানান অনিয়ম অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার এই বৃত্তিটা তুলে নেয়। এই কয়েকজনের জন্যই গোটা বাংলাদেশ এবং পরবর্তী প্রজন্ম এই সুযোগ থেকে বঞ্ছিত হইলো।
তাই ক্ষোভ থেকে এই বাক্যটায় ভুল শব্দ প্রয়োগ ঘটেছে। সম্পাদনা করছি।
ধন্যবাদ আপনাকে
ছোটবেলায় দেখা এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী খুবই প্রিয় ছিল। বাদল রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
বাদল রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী-ই উনার জাত চিনিয়ে দেয়। পোস্টের একটা বাক্য সেন্ট পারসেন্ট কারেক্ট। গাদা গাদা ছবি নয়, ভালো ছবি দু'একটা বানাতে পারাই আসলে স্বার্থকতা। সেই জায়গাটায় বাদল রহমানের কোন জুড়ি বাংলাদেশে নেই।
বাদল রহমান মারা যাওয়ার খবর শুনে অত্যন্ত আহত হলাম। বিনম্র শ্রদ্ধায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
শ্রদ্ধা রইলো উনার জন্যে..
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী দেখিনি। কারও কাছে আছে কি?
অশেষ শ্রদ্ধা। মাস খানেক আগেও কোন চ্যানেলে যেন দেখালো ছবিটা। আমারও থুবই পছন্দের।
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী এখন চ্যানেলগুলা দেখায় নাকি? ইশ্ আগে জানলে অবশ্যই দেখতাম। ছোটবেলার প্রিয় সিনেমা। এইটার ডিভিডি বাইর করে না ক্যান জিসিরিজ? খালিদ ভাইরে কইতে হইবো
এইটার ডিভিডি সম্ভবত আছে।
ছুটির ঘন্টার পর এটাই আমার হলে যেয়ে দেখা দ্বিতীয় সিনেমা। কি ভালো লাগা জড়িয়ে ছিলো।
বাদল রহমানকে শ্রদ্ধা
এমিলের গোয়েন্দা কাহিনীর কথা এখনো মনে আছে। পোলাপানদের জন্যতো কেউ এখন আর মুভি বানায় না
এরিখ কাস্টনারের লেখা এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী উপন্যাসটা পড়ার পর মনে হয়েছিল এটা নিয়ে সিনেমা হলে মন্দ হয় না। তখন কি আর ছাই জানি যে ১৯৫৪ সালেই এটা নিয়ে সিনেমা হয়ে গেছে। যাই হোক এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী টিভিতে দেখে বিপুল আনন্দ পেয়েছিলাম। বাদল রহমান বললেই মনে পড়ত সিনেমাটার কথা। মন খারাপ লেগেছে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে।
আমি এরিখ কাস্টনারের উপর বের হওয়া একটি ডাকটিকিটের ছবি দিলাম আমার শ্রদ্ধা জানিয়ে (যদিও জানিনা ছবি এটাচ হবে কিনা)

অনন্য মানুষকে নিয়ে অসাধারণ পোস্ট।
তিনবার দেখেছিলাম এমিলের গোয়েন্দাবাহিনী। বাদল রহমানের স্মৃতির প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা।
কাকতালীয় ভাবে ২-৩ সপ্তাহ আগে নেট থেকে নামিয়ে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী ছবিটা দেখছিলাম। সেই ছোটবেলায় দেখেছিলাম, সেদিন নেটে পেয়ে লোভ সামলাতে পারিনি।
এই মুহুর্তে লিংক দিতে পারছিনা, অফিসে আছি। বাসায় গিয়ে এমিলির গোয়েন্দা বাহিনীর অনলাইন সোর্স এর লিংক দিয়ে দেবো.......
বাদল রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
অনলাইনে এইখানে দেখতে পারবেন:
http://www.guba.com/watch/3000100939/Emiler-Goyenda-Bahini-1
আরেকটা লিঙ্কঃ
http://www.banglatv.ca/catalogue/title.php?catid=NA==&cname=Bangla%20Cinema&film=ODkx&masterfilm=891
খেয়াল করি নাই, নিঃসঙ্গ গ্রহচারী এবং রাফিকে অশেষ ধন্যবাদ
ডাউনলোডানো শুরু করলাম
মন্তব্য করুন