বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প: স্পেশাল পিকনিক পর্ব
আমরা বন্ধুর পিকনিক
পর্ব ১ http://www.amrabondhu.com/nazrul/212
পর্ব ২ http://www.amrabondhu.com/nazrul/236
তো সেই বৈঠকেই আসলে যা হবার তাই হলো। সব সিদ্ধান্ত পাক্কা। পিকনিকের আগে আরো অনেক অনেক মিটিং করা হইলেও সেগুলা আসলে আড্ডাই হইলো।
সেসবের কথা পরে কমুনে, পিকনিক সমাগত, তাই আগে পিকনিকের গপটাই বইলা নেই। আড্ডাবাজী আর বন্ধুতার গল্পরে পাশ কাটায়ে তাই আজকে শুধু পিকনিকের গল্প।
ঠিক হইলো ২২ জুলাই ২০০৫ তারিখ রোজ শুক্কুরবার পিকনিক হবে। পোলাপান সব হৈ হৈ কইরা রাজী। জয় ভাই নানান কারিশমা কইরা গাজীপুর ন্যাশনাল পার্কে একটা সুন্দর জায়গা খুবই কম পয়সায় ম্যানেজ করে দিলো। মডু রন মিয়া কী কী তেলেসমাতি দেখায়া জানি বিশাল বড় এক বাস ভাড়া কইরা ফালাইলো। সেই বাসের আপাদমস্তক ডিজুসের সাইনবোর্ড লাগানো। আমরা শুটিংয়ের খাওন অর্ডার দিলাম। সব যেহেতু হাভাইত্যা বাঙ্গালী, তাই ভাত, মাছ, মাংস, ভর্তা, ডাইল, ভাজি, কোক আর পানি। এই হইলো মেনু। জয় ভাই কফি ভেন্ডার স্পন্সর করলো। চান্দা ঠিক হইলো দুইরকম। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২০০ টাকা আর অছাত্রদের জন্য ৩০০ টাকা।
সব ঠিকঠাক যখন, তখন আমার কপালে নেমে আইলো শনি। আমার ক্যামেরা এডিটিং প্যানেল কিছুদিন আগেই মাত্র সিঙ্গাপুর থিকা কিইনা আনছিলাম। সেইসব যন্ত্রপাতি নিয়া শুরু হইলো জটিলতা। লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নিয়া আমার তখন মাথায় হাত। পিকনিক যাই কেমতে? আমি যামুনা বইলাই সিদ্ধান্ত নিলাম।
ভোরবেলা পান্থপথ থেকে বাস ছাড়লো। মাথা গুনে ৪৩ জন! আমি উত্তরায় অফিসে বসে বসে ফোনে সব খবর নেই আর মুখ কালো করে বসে থাকি। এরপরে বাস ছাড়লো, ব্যাপারটা হইলো আমার বাড়ির সামনে দিয়ে তোমার পিকনিক যাত্রা যখন যাবে গানের মতো অবস্থা। 
পিকনিকের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দায়িত্বে ছিলাম আমি। বাস গাজীপুর যাওয়ার পথে উত্তরায় থামলো পানি উঠাইতে। আমি পানি উঠাইতে বাসে উঠলাম, তারপর আর নামতে মনে চাইলো না। কী আছে দুনিয়ায়! গেলাম গা পিকনিকে।
বাসেই শুরু হইলো ব্যাপক গানা বাজনা। আশিক নন স্টপ গান গায়া চললো। শুধু বাসে না, সারাদিনই সে গান গাইলো। হেন গান নাই যেটা তার স্টকে নাই। বাসেই হালকা নাস্তা। তারপর পিকনিক স্পটে গিয়া তো পুরা জমজমাট। নগরের ইঁট বালু সিমেন্টের মাঝ থেকে গিয়ে পড়লাম সবুজে। আহ্...
সারাদিনে ব্যাপক মাস্তি হইলো। গানের সঙ্গে চললো নাচ। আমি আর ভাস্করদা প্রায় সারাদিন নাচলাম। আশিক গাইলো গান। মাঝখানে জয় ভাই গাইলো ইংলিশ গান। সিমেয়ন বাবুও একসময় হাতে তুলে নিলো গিটার, গাইলো গান। সঙ্গে জয় ভাইয়ের মজার মজার কৌতুক।













দিনটা কোথা দিয়া কাইটা গেলো বুঝতেই পারলাম না। দুপুরে ডাল ভাত খাওয়া। বিকেলে গ্রুপ ফটোসেশন। আসাদ আর ফয়সাল তখন এবিতে ফটুরে হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। আসাদ আমার চমৎকার কিছু ছবি তুলে দিছিলো, গতবছর বইমেলাতে আমার প্রথম বইয়ে আমার ছবি হিসেবে সেই ছবিই ছিলো। তবে জয় ভাই যখন তার এসএলআর আর ট্রাইপড বের করলো তখন সবাই তাশকি!

পরিচয় পর্ব





















এই দিনটা আমার কাছে সত্যিই খুব স্মরণীয়। কারণ, ঐ সময়টার মতো বাজে অবস্থায় আমি খুব কমই ছিলাম। পেশার জীবনের অন্যতম বাজে সময়টা পার করতেছিলাম। সেই সময়ে গোটা একটা দিন আমি যেন স্বর্গে গিয়া হাজির হইছিলাম।
প্রায় ৫ বছর পরে এবির পিকনিক আবার... ৫ তারিখে... দেখা হবে... আনন্দ হবে...





এবারের পিকনিক হোক আগের মতই সুন্দর আর আনন্দদায়ক। এবার আরও অনেক নতুন বন্ধু সহ যাবেন, আরও অনেক মজা করেন
শাতিল, একটু পরে আরেকবার ঢুঁ মাইরেন, গত পিকনিকের জমজমাট ছবি যোগ হইতেছে এই পোস্টে...
নাজু ভাই ঐ পিকনিকের কিছু ছবি এ্যাড করেন এই পোস্টে
ছবি আসিতেছে, আর কয়টা মিনিট ধৈর্য্যনং অধ্যয়নং তপ করেন
জ্বী নাজু স্যার ভাই সেইটাই করতেছি
ভাইসব, একে একে ছবি আসিতেছে। আরো পচুর ছবি আসিবে। লাখে লাখে ছবি। দেখতে দেখতে চোখ কানা হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেন। শুধু ছবি না, চলচ্চিত্রও যোগ হবে...
ছবি চলচ্চিত্র এইসবকিছু পোস্টযোগ করার জন্য রন'রে ব্যাপক ধন্যবাদ...
ও আচ্ছা, একটা কথা পোস্টে বলতে ভুলে গেছি। এই পিকনিকে অংশ নিতে সুদূর কাতার থেকে দেশে চলে এসেছিলো আরিফ। আর চট্টগ্রাম থেকে এসেছিলো রিদম এবং সপরিবারে নয়ন ভাই।
এই পোস্টটা লেখার সময় সেই দিনগুলোতেই যেন ফিরে গেলাম আমি।
সেদিন বুইড়া বয়সে যেই লোড গেছিলো আমাগো উপর দিয়া...পোলাপান সব ভাব লইয়া বইয়া আছিলো আর আমরা বুড়াগুলি চিল্লাইলাম সারা রাস্তা...আহারে সে নানা রঙের দিনগুলি!
ভাস্কর'দার নাচ সেইরকম হইছে
আসলেই, আপনারা অই টাইম-এ যা করছিলেন, অবাক লাগে। আর আপনাদের অই ভূমিকা টা না থাকলে আজকে হইত এবি এতদুর আস্তেও পারত না
আর প্রথম ছবি টা দেখেন, আপ্নে কেম্নে ঝুইলা আছেন! নয়ন দা কি আপ্নেরে ফালায় দেয়ার চেস্টা করতেছিল নাকি?
হ... এইবার তো ব্যাকেই বুড়া
এসব বেদর্দী, বেশরীয়তি, বেপর্দা কাজ কামের প্রতি প্রবল দিক্কার জানাইলাম। আল্লাহ তুমি এদের পানাহ দাও মাবুদ, ইয়া এলাহী
নাউজুবিল্লাহ নাউজুবিল্লাহ তুমি আমাকে এসব কাজ থেকে দূরে রাখো ঃ)
আশা কর্তেছি ঐরকম আরেকটা দিনের ......
শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। আর আঙ্গুর ফল মাঝে মধ্যে টকস্বাদ হইতেই পারে। ব্যাপার না।
নাউজুবিল্লারে আমি নজুবিল্লা কই
হা হা। উরে, সুন্দুর হইছে। আরো ছবি দেন।
এহ্, ছবি দিতে কষ্ট লাগে না?
আর ছবি না, এইবার দেখবেন চলচ্চিত্র...শীঘ্রই শুভমুক্তি
শীঘ্রইটা কখন শেষ হবে?
ছবিগুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। আশাকরি এবার আগের চেয়ে বেশি আনন্দ হবে।
আমরাও আশা করি... ধন্যবাদ আপনাকে
ছবি দেইখা ভালো লাগলো; এইবারের পিকনিক নিয়াও এমন ছবি দিয়েন
এবার একটা লাইভ আপডেটের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হইতো
আপনিই দেখা যায় হিরো (হিরোইনের তো আগাগোড়া পড়ে না চোখের পলক অবস্থা)। সেকেন্ড হিরো ভাস্করদা।
চিন্তা করেন কী খারাপ অবস্থা হইলে দুই হিরোরেই নাচতে গাইতে হয়! হিরোইনের খবর নাই
dhonnobaad vai jan emon koira mohanu vobotar porichoy deyar jonno..picture gulo upload korar jonno... asha kori ebar oo emon anondo korben ...magar boroi miss korlam....kopaler fer ki r kora...iccha thaka sotteo somvob hoilo na jawa..anondo koren valo thakun r asha kori notun picnic er picture upload korben.....
এখানে মহানুভবতা খুজেঁ পেলেন! আপনি তো বিরাট মহানুভব!
ছবি আপলোড করার পুরো কৃতিত্ব রন-এর। আমি দর্শক মাত্র। আমিও আশাকরি এবারও অনেক আনন্দ হবে। এবারও ছবি থাকবে নিশ্চয়ই।
ভাই, বাংলায় লেখেন না কেন?
।এইবার আরো মজা হবে আশা করি।
কহুব ঝমেছিল মজা। জাভা'র নাচ দেইখা টাশকি
ভিডিও দিতে পারতাসি না (চুল ছিরতাসি)এমবেডেড কোড টা কপি-পেস্ট করলাম তাও কাম করেনা
ভাস্করদার এই নাচ তো কখনো দেখি নাই।
ভিডিও গুলা আপলোড করতে পারতেসি না, অইগুলা দেখলে আরও অবাক হইতেন
এইবার আর মজা হইবো না কইয়া দিলাম।
মন্তব্য করুন