ইউজার লগইন

ব্রেকিং নিউজ: চিকিৎসা হচ্ছে নির্মল সেন-এর, অশেষ ধন্যবাদ ল্যাব এইড আর মেজবাহ য়াজাদ ভাইয়ের প্রতি

অনেক ক্ষোভ নিয়ে নিচের পোস্টটা লিখেছিলাম আজ। কতোটা ক্ষোভ আর অসহায়তা ছিলো, তা পোস্ট পড়লেই টের পাবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে অনেক আনন্দ হচ্ছে। অর্থাভাবে সাত বছর ধরে চিকিৎসাহীন ছিলেন বিপ্লবী সাংবাদিক নির্মল সেন। কিন্তু এখন আর তাঁকে অন্তত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হবে না। উনার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ।
আমাদের মেজবাহ য়াজাদ ভাইয়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। উনিই খেটেখুটে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। আগামী বুধবার সকালেই এম্বুলেন্স নিয়ে মেজবাহ য়াজাদ যাবেন কোটালীপাড়ায়, ঢাকায় নিয়ে আসবেন নির্মল সেনকে। ল্যাব এইডে একটা কেবিন ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে আছে তাঁর নামে।
কতোটা আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আবারো কৃতজ্ঞতা মেজবাহ য়াজাদ ভাইয়ের প্রতি। আর অবশ্যই অবশ্যই যাবতীয় ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে এমডি সাহেবকে।

স্বাভাবিক ভাবেই য়াজাদ ভাই এসব নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তবে সময় পেলে আগামীকাল এ বিষয়ে একটা পোস্ট দেবেন তিনি। আমরা অপেক্ষায় থাকি। যদিও এখন আর নিচের লেখাগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। তবু রেফারেন্স হিসেবে রেখে দিলাম।

একরাশ কৃতজ্ঞতা ল্যাব এইড আর মেজবাহ য়াজাদ ভাইয়ের প্রতি।

-----------------------------------------------------
নির্মল সেন কখনই প্রিয় মানুষ হয়ে উঠতে পারেননি। সবসময়ই অপ্রিয় একজন মানুষ তিনি।
সত্যবাদীদের পক্ষে প্রিয় মানুষ হওয়া কঠিনই। বিশেষত সরকারের কাছে।

অপ্রিয় হওয়ার কাজটা সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন। সূর্যসেনের অন্যতম সহযোগি ছিলেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামগুলোতে বিপ্লব সংগঠক ছিলেন। অস্ত্রাগার লুণ্ঠণেও ছিলেন।

পাকিস্তান আমলেও প্রিয় মানুষটি তিনি হতে পারলেন না। উল্টো আরো অপ্রিয় হয়ে উঠলেন। শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দলের প্রধান নির্মল সেন বিপ্লবের পাশাপাশি তখন জোরদার সাংবাদিকও। ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক হিসেবে শুরু। ৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। কলম বিপ্লব করে চললেন। সেই থেকেই কলম হয়ে উঠলো নির্মল সেনের বিপ্লব আর প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। এই ভূখণ্ডের প্রতিটি বিপ্লবের তিনি অংশীদার। ৭ মার্চেই কেন স্বাধীনতা ঘোষণা করা হলো না বলে যারা শেখ মুজিবের উপর ক্ষেপে, তাদেরও অপ্রিয় নির্মল সেন। তিনি মনে করেন তখনও আমরা প্রস্তুত ছিলাম না, বঙ্গবন্ধু ঠিকই করেছেন।

আবার এই বঙ্গবন্ধুরও অপ্রিয় হতে সময় লাগেনি নির্মল সেনের। দৈনিক পাকিস্তান ততদিনে দৈনিক বাংলা। সরকার মালিকানাধীন পত্রিকার সহকারী সম্পাদক তখন উপসম্পাদকীয় লিখতেন 'অনিকেত' নামে। সেই সুবাদেই কলম ধরেছিলেন। লিখেছিলেন আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপসম্পাদকীয় 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই'। ৭৪ সালে।

এই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তিনি পাননি কখনো। সরকার দৈনিক বাংলা বন্ধ করে দিলে সাংবাদিক কর্মচারীদের দাবী দাওয়া বেতন ভাতার জন্য একাই লড়াই শুরু করেন। টানা ৯ দিন অনশন করে, দাবী আদায় করে তবেই খাদ্য মুখে তোলেন।

ব্যক্তিজীবনে যেমন অকৃতদার, সাংবাদিক জীবনেও তেমনই। কারোই দ্বারস্থ হননি তিনি। সত্যটা বলতে দ্বিধা করেননি। ভয় পাননি। এখনো পান না। গত তত্ত্বাবধায়ক আমলেও কলম ধরেছিলেন ছদ্ম সেনা শাসনের বিরুদ্ধে।

এখনো হয়তো ধরতেন, কিন্তু সেই শক্তিটুকুই যে আর অবশিষ্ট নেই! ২০০৩ সালের ১১ নভেম্বর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে। এরপর নেয়া হয় সিঙ্গাপুর। সেখানে ৩ মাসের মতো চিকিৎসার পর অর্থাভাবে সেখান থেকে ফিরে আসতে হয়। তবে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে নির্মল সেনকে তখন যদি আরও দু'মাস চিকিৎসা দেয়া যেত তাহলে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে ও কথা বলতে পারতেন।

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনার পর তিনি দীর্ঘ আট মাস সাভার সিআরপিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হায়, সিআরপিতেও জুটলো না চিকিৎসা, অর্থাভাবেই। তারপর থেকে চিকিৎসা আল্লার ওয়াস্তে বন্ধ। অর্থ সঙ্কট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার পক্ষে রাজধানী ঢাকায় থাকাও সম্ভব হয়নি। ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামে। সেখানে তিনি প্রায় অচল, অসহায় নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন। আত্মীয় পরিবার জানিয়েছে নির্মল সেনের ঢাকায় বসবাস এবং নিয়মিত চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে প্রয়োজন ৪০ হাজার টাকা। আমাদের এখনকার কর্পোরেট দৈনিকগুলোর সহকারী সম্পাদকদের বেতন লাখ টাকার ওপরে, সঙ্গে গাড়ি আর ভাতা তো আছেই। নির্মল সেন এখানে অযোগ্য। মাসে তার ৪০ হাজার টাকা জোটে না। কে দেবে তাকে? কে সাহায্য করবে? সরকার? কোন সরকার? কোনো সরকারই যে তাঁকে দেখতে পারে না। কোনো সরকারকেই যে তিনি 'তেল' দিতে পারেননি।

নির্মল সেন প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতেন। হুইল চেয়ারে করে হলেও যেতেন। এবার তো ঢাকাতেই থাকতে পারলেন না, কীভাবে যাবেন?
তাই বলে দেশপ্রেম তো অথর্ব হয়ে যায় না। এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিজের গ্রামে দুটো কিশোরের সহায়তায় কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে সেখানে ফুল দিয়েছেন।

অপ্রিয় নির্মল সেন, আপনার জন্য আমরাও কিছু করতে পারবো না। শ্রদ্ধা প্রকাশে লাভ কী? আপনি বরং নীরবে নিভৃতেই মরে যান।

তবে কথা দিচ্ছি, আপনি মরে গেলে আমাদের সবারই টনক নড়বে। তখন আপনি আমাদের অনেক প্রিয় মানুষে পরিণত হবেন। আমরা অনেক বড় বড় কথা লিখবো আপনাকে নিয়ে। আপনার প্রতি নিজের ভালোবাসার তুবড়ি ছোটাবো। আপনাকে ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নিজেকে ল্যাংটা করে ফেলবো। অনেক টাকা খরচা করে আপনার স্মরণ অনুষ্ঠান করবো।

জীবিত সত্যবাদীরা মরে গেলেই আমাদের স্বস্তি হয়। আপনি তাহলে মরেই যান।

পোস্টটি ২০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শওকত মাসুম's picture


তাঁর মতো অসাধারণ হিউমারও মনে হয় না অন্য কারো তেমন আছে।
অসাধারণ একটা মানুষ।

কষ্ট পাওয়ার মতো একটা লেখা। আমরা সবাই কিন্তু তার কথা জানি। কিন্তু.............

হাসান রায়হান's picture


কিছু বলার নাই আসলে ..

ভাস্কর's picture


লেখাটা প্রাণ ছুঁইয়া গেলো। আমি যখন ছাত্র রাজনীতিতে whole timer ছিলাম তখন আমাগো পার্টি অফিস ছিলো তোপখানায়। নীচতলায় নির্মলদার পার্টি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের অফিস। তখন এই লোকটারে দেখতাম নিয়মিত। মাঝে মাঝে তার অফিসে গিয়া বইসা থাকতাম কথা শুননের লেইগা।

রাজনৈতিকভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা কদ্দূর সেই বিতর্কে না গিয়াই আন্দোলন সংগ্রামে তার অংশগ্রহণ, তার বিশ্লেষণ কতোটুক রসদ জোগাইছে সেইটা বইলা দেওন যায়। ছোটখাটো নির্মলদারে সবসময় সকল প্রতিবাদে সামনের সারিতে দেখছি।

আজকের পত্রিকায় যখন দেখলাম তিনি আর চিকিৎসা করাইতে চান না বলতেছেন...তখন বুঝি শেখ হাসিনার নির্মল কাকু ক্ষমতার মানুষগো কাছে কতোটা অপাংক্তেয় হইয়া গেছেন...

আবারো এই লেখার জন্য নজরুলরে ধন্যবাদ জানাই...

নীড় সন্ধানী's picture


আরো দুটো যোগ করি।

১। তার লেখা বেঁচে কোটি টাকা কামিয়ে ফেলবে কোন কোন প্রকাশনী।
২। তাকে ভুষিত করা হবে একুশে কিংবা স্বাধীনতা পদক (এই পদকগুলোকে শকুনের মতো লাগে আমার, জীবত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষদের বেশী পাওয়া হয় পদক)

হালিম আলী's picture


তার জন্য অনেক শ্রদ্ধা ।

টুটুল's picture


অপ্রিয় নির্মল সেন, আপনার জন্য আমরাও কিছু করতে পারবো না। শ্রদ্ধা প্রকাশে লাভ কী? আপনি বরং নীরবে নিভৃতেই মরে যান।

তবে কথা দিচ্ছি, আপনি মরে গেলে আমাদের সবারই টনক নড়বে। তখন আপনি আমাদের অনেক প্রিয় মানুষে পরিণত হবেন। আমরা অনেক বড় বড় কথা লিখবো আপনাকে নিয়ে। আপনার প্রতি নিজের ভালোবাসার তুবড়ি ছোটাবো। আপনাকে ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নিজেকে ল্যাংটা করে ফেলবো। অনেক টাকা খরচা করে আপনার স্মরণ অনুষ্ঠান করবো।

জীবিত সত্যবাদীরা মরে গেলেই আমাদের স্বস্তি হয়। আপনি তাহলে মরেই যান।

সাহাদাত উদরাজী's picture


Dear Friends,
Labaid is going to take care him. 7th April he will be in Labaid, Dhaka. All process has done.  Our friend Mr. Mesbah Aajad of Labaid will go with a Hicare Ambulance and pick him.
Best wishes to him. Hope he will be fully recovered and get good life again.
All credit goes to the Managing Director of Labaid, who support every good way.
Shahadat UdrajiDhaka.   

মুক্ত বয়ান's picture


একটা ভাল কথা শুনাইলেন। আপনেরে ধইন্যাপাতা। Smile

নজরুল ইসলাম's picture


দারুণ একটা সুখবরের জন্য অনেক ধন্যবাদ

১০

মুক্ত বয়ান's picture


ওনার কথা বিভিন্ন জায়গায় পড়েই ওনার সম্পর্কে যেটুকু জানা। আরো বিস্তারিত আপনি কিংবা ভাস্কর ভাই, কিংবা অন্যে কেউ লিখলে আমাদের আরো জানার সুযোগ হইত।
লেখাটা পইড়া মন খারাপ হইয়া গেল। Sad

১১

শওকত মাসুম's picture


মেজবাহ ভাইয়ের একটা ছবি বান্ধাইয়া ব্লগে রাখা হোউক

১২

মুক্ত বয়ান's picture


সহমতের উপ্রে একমত।

১৩

নজরুল ইসলাম's picture


মডু দ্বিমত করলে মডুর ব্যাঞ্চাই আন্দোলন হবে...

এক দফা এক দাবী,
মেজবাহ ভাইয়ের ছবি ঝুলাবি...

১৪

জ্যোতি's picture


সহমত। সহমত।
লেখাটা পড়ে মনটা কেমন যেন লাগছে।অস্থির অস্থির।

১৫

ভাস্কর's picture


এতোদিনে বুঝলাম মেয়েদের আসলে কেমনে ভজান মেজবা ভাই। তার বড় কলিজা দেইখাই দেশের কোমলমতি নারীরা পইটা যায়...

১৬

শওকত মাসুম's picture


কলিজা দেইখা কোমলমতি মাইয়ারা পইটা যায় এই তথ্য আপনে কৈ পাইলেন? আমার তো মনে হইতাছে না।

১৭

ভাস্কর's picture


তার লেখা থেইকাই তো পাইলাম এই তথ্য...তয় পরে কলিজার চাইতে অন্যকিছু মেয়েদের কাছে বেশি কাঙ্খিত হওয়াতে হয়তো ঐ সর্ম্পক আর কন্টিনিউ করে না Tongue

১৮

লোকেন বোস's picture


এর চেয়ে দারুণ খবর আর হতে পারে না। মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। দুপুরের ক্ষোভ রাতেই আনন্দে রূপান্তরিত। এতো তড়িৎ!!

অবশ্যই অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। 'আমরা বন্ধু'র জন্য এ এক দারুণ গৌরবের। সেলিব্রেট করা উচিত।

পোস্টের জন্য নজরুল ইসলামকে ধন্যবাদ

অবশ্যই সর্বাত্মক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষকে

আর মেজবাহ আজাদ যে কাজটা করেছেন, ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা এসব কিছু দিয়েই তাঁকে মূল্যায়ন করা যাবে না। স্যালুট? তাও কম হয়ে যায়...

হ্যাটস অফ...

১৯

তানবীরা's picture


মেজবাহ ভাইকে স্যালুট সাথে নজরুল ভাইকেও।

নির্মল সেন দীর্ঘজীবি হোন।

২০

সাহাদাত উদরাজী's picture


LA..... LA...... LA....

২১

অদ্রোহ's picture


মেসবাহ ভাই বড় মানুষ ,তাই উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে আর ছোট করতে চাইনা Tongue .আসলেই একটা কাজের কাজ হল ।

২২

নীড় সন্ধানী's picture


মেজবাহ ভাইকে স্যালুট! নজরুল ভাইকে হ্যাটস অফ!!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.