একজন অপদার্থ মুক্তিযোদ্ধার কথা বলি?
যুদ্ধ শেষ হয়েছে মাত্র। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর বিজয়োল্লাসের রেশ কাটেনি তখনো। সমস্ত গ্রামে মাত্র একজন অপদার্থ লোক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। সবাই ধরে নিয়েছিল ফিরে আসবে না সে। কিন্তু সারা গ্রামকে তাক লাগিয়ে যুদ্ধ শেষে ফিরে আসে আহমদ নবী। ফিরে আসে বিজয়ীর বেশে কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে। ফিরে আসে তার পরিবারের কাছে। অভাবের সংসারেও উৎসব লেগে যায় আহমদ নবীর প্রত্যাবর্তনে। একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ফিরে আসায় যুদ্ধে যোগ না দেয়া সারা গ্রামের বাকী মানুষও বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা। বিপুল ওই উৎসবের তোড়ে রাজাকারের দল পালিয়ে গিয়ে মুখ লুকোয় ইঁদুরের গর্তে।
গ্রাম থেকে দুই মাইল দুরে রৌশন হাট। কয়েকদিন পরের ঘটনা। আহমদ নবী এক সন্ধ্যায় পুরোনো বন্ধুদের খুঁজতে যায় রৌশন হাটে। বিদ্যুত আসেনি তখনো ওই অঞ্চলে। চা খাচ্ছিল বসে একটা দোকানের টিমটিমে হারিকেন বাতিতে। স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা চা। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে।
হঠাৎ অন্ধকার থেকে কড়াৎ করে ছুটে আসে বেরসিক দুটো ঘাতক বুলেট। অব্যর্থ লক্ষ্য আঘাত হানে আহমদ নবীর বুকে। লুটিয়ে পড়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। লোকজন ছুটে আসে চারপাশ থেকে। সব শেষ ততক্ষনে। মুক্তির উৎসবের বাজনা থামার আগেই আহমদ নবীর শেষ নিঃশ্বাস বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ঘাতকের পরিচয় বুঝতে কারো অসুবিধে হয় না। রাজাকার চক্রের চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তারপর উত্তাল সময়ের তোড়ে সবাই ভুলে যায় একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রান দিয়ে ছিল যুদ্ধ পরবর্তী ঘাতক বুলেটে।
স্বাধীন দেশে প্রান দিয়েছিল বলে আহমদ নবীর নাম থাকে না মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদের তালিকায়। যথারীতি তার নিঃস্ব পরিবার নিঃস্বতর হয় বাংলাদশের আরো লক্ষ নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মতো। তাও মেনে নিলাম।
কিন্তু একটা বিপরীত চিত্র এসে কষ্ট দেয়। জীবনে কখনো যুদ্ধে না গিয়েও একই গ্রামের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হয় প্রভাব বিত্ত আর রাজনৈতিক পরিচিতির কারনে। আর সাড়ে সাতমাস সম্মুখ যুদ্ধ করে বাংলার মাটি পাকিমুক্ত করলেও আহমদ নবীর নামটা তোলার উপায় নেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। কারন আহমদ নবী যে যুদ্ধ করেছে তার কোন প্রমান নেই। ভাবা যায় কতবড় বেকুবী করেছে অপদার্থ মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী?
এরকম আর কোন অপদার্থ মুক্তিযোদ্ধার কথা আপনাদের কাছে জানা আছে? যার বউ এখন ভিক্ষা করে বেঁচে আছে নির্লজ্জের মতো?





রাজনীতি আর স্বজনপ্রীতি আমাদের দেশটাকে খেয়ে ফেলল।

যে যাহা হয় সে সেই পরিচয়ে গর্বিত, আসলরা সব লজ্জায় কোণ খোঁজে।
লেখায় এবং ভাবনায় সেল্যুট নীড়'দা।
স্বাগতম পোষ্টে স্বাগতম জানবেন
ধন্যবাদ..........স্বাগত গোলাপটা মারাত্মক হয়েছে :)
কত ধরনের নৈরাজ্য যে হতে পারে তার প্রমান আমার দুখিনি বাংলাদেশ :(
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সব সময় অবহেলীত :(
এরকম ঘটনা জানা নাই নীড়দা, তবে এরকম ঘটনার সংখ্যা নিশ্চয় অনেক আছে। আবার এর বিপরীত চিত্র আছে যা দেখে অবাক হই। হতাশার সমুদ্রে, আশার আলো দেখি। আমাদের দেশের বাড়ীর বাস স্ট্যান্ড একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে। প্রথমে শুনে বিশ্বাস করি নাই, ভাবতেই পারি নাই, জীবিত কোন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে সন্মান দেখানো হচ্ছে।
শুনে অত্যন্ত ভালো লাগলো।
গুরু, একদম ঠিক বলেছেন, যারা সত্যি যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তারা দেশপ্রেমিক অপদার্থ ছিলেন, নাম কামানোর জন্যে তো জান নি, খুব ছুয়ে গেল, লজ্জায় মাথাটা হেঁট হয়ে গেল নিজের নিজেদের ব্যর্থতায়। খুব সুন্দর করে বলেছেন বস!!
সত্যি এ আমাদের লজ্জা।
কি কমু?!
কী বলবেন........দেখে যান!
তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আর কিছুই করার মতো খুজেঁ পাচ্ছি না। এখন তো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখানোর জন্য লাইন লেগে গেছে।
অমুক্তিযোদ্ধাদের ভীড়ে সত্যিকারের যোদ্ধারা হারিয়ে যায়।
মন্তব্য নিস্প্রয়োজন
তবু করেছেন, ধন্যবাদ
এইসব পড়লে মনডা চায় হালাগো গলা টিইপ্যা ধরি
এই ১৬ ডিসেম্বর সত্যি সত্যি এক রাজাকারের গলা টিপে ধরতে চেয়েছিলাম
স্বাধীন দেশে শুধু একজনই শহীদ, বলেনতো উনি কে?
নাম বলে বিব্রত করতে চাই না........ :(
গ্রামে না হয় একা একজন আহমদ নবীই যুদ্ধে গিয়েছিলেন, কিন্তু রণাঙ্গণে উনার সহযোদ্ধাদের একজনও কি ছিলেন না, যিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আহমদ নবীর কাগুজে স্বীকৃতিটুকু লিপিবদ্ধ করতে পারতেন!
লেখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন নীড় সন্ধানী।
গ্রামে যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে তাদের অনেকেই কেবল নিজের মনের তাগিদে/ আত্মরক্ষার তাগিদেই গেছে, যুদ্ধ শেষে ফিরে গেছে নিজের পেশায়। সার্টিফিকেট নিয়ে মাথা ঘামায়নি অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা।
দাদা , এরকম হতাশা কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত লাগে, নিজেরেই কেমন অপরাধী মনে হয়।
মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠলে হতাশাই যে বেশী আসে সেটার জন্য দায়ী গত ত্রিশ বছরের সরকারগুলো।
অনেক দিন পড়লাম আপনার লেখা ।।
কয়েকদিন ধরে মন খারাপের জোয়ার বইছে আমার মনে ।
এই লেখাটা আরো একটু উস্কে দিলো !!
কেমন আছেন নীড় দা ?
আমি ভালো আছি। অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে।
আসলে আজ আর আমাদের লজ্জা পেতেও লজ্জা হয় না............................
থাকলেই তো, বেইচ্যা দিছি সেই কবে............
কি বলব বস কিছুই বলার নাই। প্রায় বর্বর দেশে এইসবই স্বাভাবিক।
তাই, মাঝে মাঝে বৃত্ত ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়
এরকম আর কোন অপদার্থ মুক্তিযোদ্ধার কথা আপনাদের কাছে জানা আছে? যার বউ এখন ভিক্ষা করে বেঁচে আছে নির্লজ্জের মতো?
এমন লোকদের খুঁজে বের করব, আমাদের এত সময় কোথায় নীড়দা? জন্মেই একটা রেডিমেড দেশ পেয়েছি। কিন্তু এই দেশটার জন্যেও যে কিছু করা উচিত এটা আমাদের বোধগম্যতার বাইরে।
যে প্রজন্ম স্বাধীন দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধাকেও দেখবে না, তারা কেমন হবে ভাবছি।
নির্লজ্জের মত নির্বাক নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম!
ভালো লাগে না, পৃথিবীটা এমন কেনো?
ভালো লাগলো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে
মন্তব্য করুন