আমি আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসি
রাতের খাবার শেষ করে বারান্দায় বসেছিলাম কয়েকটা 'টু বি অর নট টু বি'র হিসেব মেলাতে, তখুনি অচেনা নাম্বার থেকে একটা ফোন এল। অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলে আশংকিত থাকি একটা বাজে ঘটনার পর থেকে। কিন্তু কন্ঠটি আমার জড়তাকে পাত্তা না দিয়ে বললো, " দোস্ত আমি লাবু। বিয়া করতেছি, তোর আসতে হবে। আগামী ১৭ তারিখ হলুদ। হলুদে তো অবশ্যই আসতে হবে। বিশেষ দরকার আছে।"
লাবু.......লাবু......স্মৃতি হাতড়ে যে মুখটা পেলাম সেটা আমাকে ফোন করার মতো কেউ না। লাবু নামের এক সহপাঠী ছিল স্কুল জীবনে, কিন্তু বন্ধু বলা যায় না তাকে। সেই লাবু কি?
অল্প বয়সে বখে যাওয়ার কারণে লাবুকে আমরা বন্ধুতার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলাম। সবচেয়ে বিব্রতকর ছিল তার অন্ধগলিতে নিয়মিত যাতায়াত এবং সেই লাইনে সে বিশেষ খেতাব ও পারদর্শীতা অর্জন করেছিল। তার সকল বন্ধুবান্ধব ছিল সেই কানাগলির লোক। আমি কখনোই ওর ঘনিষ্ট বন্ধুর তালিকায় ছিলাম না। তাই বিয়ের দাওয়াত পেয়ে আমি খুশী হবার বদলে বিব্রত এবং আশংকিত। একটা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিয়েতে যেতে পারবো না বলে ফোন রেখে দিয়েছিলাম সেদিন।
কিন্তু লাবু পরদিন আসাদকে নিয়ে বাসায় এসে হাজির। আসাদ আমার ঘনিষ্ট বন্ধু। আমি লাবুকে দেখেই চিনলাম এই সেই লাবু এবং প্রমাদ গুনলাম। কিন্তু সে এসেই হাত চেপে ধরলো। দোস্ত, ইজ্জতের সাওয়াল। আমি সব ছেড়ে ভালো হয়ে গেছি। কিন্তু মেয়ে পক্ষের ধারণা আমি এখনো ওসবে আছি, তাদের বহু কষ্টে রাজী করিয়েছি। এখন তোরা ভদ্র বন্ধুবান্ধব যদি আমার আশে পাশে থাকস, তাইলে ওরা বিশ্বাস করবে আমাকে। কথাটায় আসাদও সমর্থন দিল। সে গত কয়েক বছর তাকে খারাপ রাস্তায় দেখেনি।
নিমরাজী হয়ে বিয়েতে গেলাম। বিয়ের আসরে লাবু আমাদেরকে স্টেজে তার পাশে বসালো। বললো, তাকে ছেড়ে যেন না যাই। আমি আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম লাবু মোটামুটি ভদ্রগোছের যত বন্ধু আছে সবাইকে দাওয়াত করেছে এবং স্টেজে বসিয়েছে। কানাগলির কোন বন্ধুকে দেখা যাচ্ছে না আসরে। পাগড়ী মাথায় মুখে রুমাল দিয়ে মুচকি মুচকি লাজুক হাসিতে এই কি সেই লাবু যাকে ২০ বছর আগে ভিন্ন জায়গায় দেখা যেতো? আমরা বন্ধুরা স্টেজে বসে হাসি ঠাট্টা করছি, মজা করছি নানান বিষয়ে।
এমন সময় লাবু আমাকে হাতের ইশারায় ডাকলো। বললো, দোস্ত তোকে একটা কথা বলি। আমার কানের কাছে মুখটা এনে প্রায় ফিস ফিস করে আবেগীয় সুরে বললো, "দোস্ত আমার বউটা অসম্ভব সুন্দরী। খুবই মায়াবতী। ইন্টার পাশ। দোস্ত, আমি খুব ভাগ্যবান, আমি সব ছেড়ে দিছি...... দোস্ত, আমি আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসি।"
আবেগ উত্তেজনায় শেষ বাক্যটা একটু জোরেই বেরিয়ে গিয়েছিল এবং শুনে ফেললো কেউ কেউ। সাথে সাথে কোন এক রামফাজিল বন্ধু চীৎকার করে পুরো আসরকে চমকে দিয়ে জানিয়ে দিল, "দোস্ত আমি আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসি!!!!"
বিয়ের আসরে নিজের বউকে এরকম ভালোবাসতে দেখেছেন আর কেউ?





মজা তো। হা, হা, হা...!
হ্যাঁ খুব মজা হইছিল ওইটা নিয়া।
বিয়ের আসরে আমি কী করছিলাম, শুনবেন ? নাহ থাক, এইটা নিয়া একটা পোস্ট দিমুনে...
তয় যা বলেছেন আপনার বন্ধু, ফাটাফাটি... দোস্ত আমি আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসি
আপনার বিয়ার আসরের কাহিনী শুনতে চাই, জলদি লাগান

মেজবাহ ভাই এর ববিবাহের আসরের কাহিনী শুনতে চাই। জলদি লিখেন।
ভাইয়া,
বলেন বলেন আপনার বিয়ের গল্প বলেন। ইয়ে ভাইয়া, আপনার সেই কলিগের খবর কি? ভাব হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। ও আচ্ছা, এইজন্যেই এবিতে পাইনা, উহার সনে সময় কাটান!!!
২০ বছর আগে উনাকে অজায়গায় দেখা যেতো... ইয়ে মানে উনি কত বছর বয়সে ইন্টারোত্তীর্ণার পাণিগ্রহণ করলেন?
উনি পাণিগ্রহন করেছেন ৩৬/৩৭ বছর বয়সে......, তবে ইন্টার্নোত্তীর্নার বয়স না জানলেও এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে ইন্টার উত্তীর্নের অন্ততঃ অর্ধযুগ পরে পাণিগ্রহন করেছেন
তাও তো ১৪/১৫ বছরের গ্যাপ থেকেই গেল মনে হচ্ছে।
মেসবাহ ভাইয়ের বিয়ার আসরের গল্পও শুনতে চাই!
হ, মেজবা ভাই পোষ্টে দিবেন এই সপ্তাহের পরের সপ্তাহে
ভালুবাসা অক্ষুন্ন হোক
কোথাই পাইলেন ভালোবাসা?

নীড়দা, কেউ তার বউরে ভালুবাসলে তারে নিয়াও আপনোর হাসেন! খুব খ্রাপ!
বিয়ের আসরে কি তাইলে পরের বউকে ভালুবাসে?
এইটা তো ভাবনার কথা!!

আহা....পরের বউ
আমিও আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসবো।
:\
ধ্যাত্তেরি! ইমোটিকন সব উল্টাপাল্টা আসছে।
নিশ্চয়ই বাসবেন। কিন্তু চোখমুখঠোট দিয়ে যে হারে ভালোবাসা নির্গত হচ্ছে তাতে বালিকার দমবন্ধ হয়ে যায় কিনা চিন্তার বিষয়
আমার এক বন্ধু নাকি বাসর ঘরে প্রথম যে কথা বলেছিল বঊ কে - " আমার আবার কনডম দিয়ে করতে ভালো লাগে না । আপনার গল্প পড়ে সেইটা মনে পড়লো।
চুপচাপ পড়ে গেলাম
আমি কি আর কম বাসি.....।
হাহাহাহাহা............হাসতে হাসতে শেষ!
বিবাহিত লোকের জন্য এটা ফরজে.........

মন্তব্য করুন