ইউজার লগইন

(আউট) বই কেনা

নাহ, এইবার বইমেলায় যাওয়াই হলো না!! কপালের দোষ নাই। আসল কথা, অফিস ফাঁকি দেবার কোন সুযোগ করতে পারি নাই। এই মাসের ফাঁকির বাজেট শেষ। মাসে একদিন নিয়ম করে অফিস ফাঁকি দেবার চেষ্টা করি। মাসটা আটাশে হওয়াতে বাজেটে টান পড়ছে। বই মেলা নয়, বইকেনা নিয়ে একটা বকরবকর পোষ্ট লিখতে ইচ্ছা হইল। পুরান কথা নিয়ে একটা চুইংগাম পোষ্ট।
‍ ‍= = = =

বই কিনে দেউলিয়া হবার কোন সম্ভাবনা আমার ছিল না, কারণ দেউলিয়া বড়লোকের কারবার। আমি তার ধার দিয়েও ছিলাম না।

বই কেনা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মধ্যবিত্ত পরিবারে। যাদের 'আউট বই' পড়ার নেশা আছে কিন্তু বই কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের মর্মবেদনা আমার খুব ভালো করেই জানা। তবে টাকা না থাকার অন্ততঃ একটা ভালো দিক হলো, না পাওয়া জিনিসের প্রতি আমাদের হাহাকার থাকে সবচেয়ে বেশী। টাকার টানাটানিতে বই পড়ার তৃষ্ণাটা প্রলম্বিত হয়েছিল।

মাঝে মাঝে দার্শনিক চিন্তা ভর করতো। 'টাকা নেই কিন্তু বই পড়ার তৃষ্ণা আছে' এবং 'টাকা আছে কিন্তু বই পড়ার তৃষ্ণা নেই', এই দুই দলের মধ্যে ভাগ্যবান কে?

বইকেনা নিয়ে টাকাপয়সার এই টানাটানির আরেকটা মধুরতম দিক হলো শেলফে সাজানো প্রতিটা বইয়ের পেছনে একেকটা গল্প আছে। আর দরিদ্র মানুষের গল্পগুলি সাধারণতঃ আকর্ষনীয় হয়, আর্ট ফিল্মের মতো। স্কুল কলেজের বই কেনার টাকা বাবার হোটেল থেকে নির্বাহ করা হলেও 'আউট বই'য়ের জন্য কোন বরাদ্দ ছিল না। তাই স্কুলে থাকতে বেশীরভাগ আউট বই পড়া হয়েছে আত্মীয়-বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে। নিজের তেমন কোন সংগ্রহ ছিল না স্কুল বয়সে। মাঝে মধ্যে বাবার টাকায় যদি কোন আউট বই কেনা হতো সেটা অবশ্যই বিজ্ঞানের বা শিক্ষামূলক বই হতো।

কলেজে ওঠার পর রিকশাভাড়া দৈনিক বাজেট দশ টাকা। বাসে আসা যাওয়া করলে সাত টাকা সাশ্রয়। তাই রিকশা বাদ দিয়ে বাসে চড়া শুরু করি। ওই সাত টাকায় বন্ধুদের সাথে চা সিঙ্গাড়া আড্ডাবাজি। একদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় ফুটপাতে পাতলা কভারের একটা চটি বই চোখ কাড়ে। নাম 'তানিয়া'। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা রাশিয়ান বিপ্লবের একটা করুণ ঘটনা নিয়ে লেখা অসাধারণ মানবিক কাহিনীর অনুবাদ। প্রথম পৃষ্ঠা পড়ে এত মুগ্ধ হলাম যে পাঁচ টাকা দিয়ে নিউজপ্রিন্টের বইটা কিনেই ফেলি। নিজের টাকায় কেনা প্রথম বই। ছোট্ট সেই চটি বইটা আমার পড়াশোনার জগতের মধ্যে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিল।

দিন দিন আউট বইয়ের চাহিদা আরো বাড়তে থাকলেও টাকার যোগান নেই। একেকটা বই কিনতে ঘাম ছুটে যেতো। অন্যদের দেখতাম বইয়ের দোকানে গিয়ে নাম ধরে বই খুজছে, অমুক লেখকের তমুক বই। আর আমি দোকানের চিপায় চুপায় নীচে মেঝেতে অবহেলায় পড়ে থাকা পুরোনো সংস্করনের বই খুঁজি। এটা আমি বেশ উপভোগ করতাম। প্রতিবার কারেন্ট বুক সেন্টারে গেলে কোন না কোন পুরাতন বই আবিষ্কার করতাম। সেই সস্তা বইগুলো দেখা যেত নতুন বের হওয়া বইগুলো থেকে এগিয়ে থাকতো। সৈয়দ মুজতবা আলী কিংবা আবুল মনসুর আহমদের আমলের বইগুলো সংগ্রহ করা গেছে সেভাবেই।

পাঁচটাকা দিয়ে শুরু করে পনেরো টাকা ছিল প্রাথমিক রেঞ্জ। বিশ টাকার উপরের বইয়ের দিকে তাকাতাম না নাগালের বাইরের জিনিসে কখনোই হাত বাড়াতে ইচ্ছে করতো না। এমনকি এক পৃষ্টা পড়ে জিনিসটা চেখেও দেখতে ইচ্ছে করতো না। যেটা আমার হবে না ওদিকে খামাকা তাকিয়ে কাজ কি?

একটা ঘটনা বলি। তখন কলেজ ছাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। একবার নিউমার্কেটের এক দোকানে গিয়ে বাংলাদেশের ছোটগল্প নামের মোটাসোটা একটা বই চোখে পড়ে গেল। গল্পের তালিকায় চোখ বুলিয়ে আমি বইটার প্রেমে পড়ে গেলাম। গত একশো বছরের ক্লাসিক সব ছোটগল্পের সংকলন। অনেক পুরোনো সংস্করন বলে দাম চল্লিশ টাকা মাত্র।

কিন্তু চল্লিশ টাকাও অগম্য আমার। পকেটে ছিল বিশটাকা। এরকম বই বেশীক্ষণ থাকবে না, পরের বার আসলে নাও পেতে পারি। কি করি? বিশ টাকা বাকীতে দেবে না। বইটা ছেড়েও আসতে পারছি না। পরে লজ্জার মাথা খেয়ে পাশের এক পরিচিত দোকান কর্মচারী থেকে ২০ টাকা ধার নিয়ে বইটা কিনলাম। এখনো বইটা ছুঁয়ে দেখলে ২২ বছর আগের স্মৃতির গন্ধ পাই, মনে হয় মাত্র গতকাল!

আরেকবারের কথা। বইয়ের খিদে পেল খুব। গরীবের খিদা বেশী, খাবার কম পকেট থাকে খালি। বাসা থেকে সাপোর্ট পাওয়ার কোন রাস্তাও দেখি না। তখন চোখে পড়লো তাকের উপর ইন্টারমিডিয়েটের মোটা গাবদা পদার্থবিজ্ঞান বইটা অপদার্থের মতো শুয়ে আছে। দেড় কেজি ওজনের বইটা তখনো প্রায় নতুন (আমার প্রায় সব একাডেমিক বই নতুনই থাকতো পড়াশোনা করে ওদের বেশী কষ্ট দিতাম না বলে)।

বইটা পলিথিনে ভরে সোজা আন্দরকিল্লা পুরোনো বইয়ের দোকানে। সেখানে দেড়শো টাকার বইটা বিশ টাকায় রফা করে, সে টাকায় শওকত আলীর 'যাত্রা' কিনে ফিরে আসি। একদিনের খিদা মিটলো।

সস্তার তিন অবস্থা। বইয়ের ক্ষেত্রে একদম ভুয়া কথা। আমি বলি সবচেয়ে সস্তা বইগুলিই সবচেয়ে মজাদার। মুক্তধারা, বাংলাএকাডেমী,বইঘর এইতিনটা ছিল সস্তার প্রথম পছন্দ। গুগল প্লেকস নামে মুক্তধারার একটা বই কিনেছিলাম। মাত্র দুই টাকা দামের বইটা আমার বইকেনা ইতিহাসের সবচেয়ে সস্তা বই। ওখান থেকে জেনে চমৎকৃত হয়েছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংখ্যার নাম নাকি গুগল প্লেকস(googolplex)

কষ্টের টাকায় বই কেনা যেরকম আনন্দ, তার পাঁচগুন কষ্ট যদি সেই বই কেউ হাপিশ করে দেয়।

গ্রুপ থিয়েটার করতাম একসময়। সেই দলের এক পড়ুয়া বড়ভাই বই নিয়ে অপমানজনক কথা শোনালো একদিন। কি এক তর্কে বদ্দা হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে বললো, তুই তো এখনো সুনীল-শীর্ষেন্দু-আবুলবাশার পড়িস নাই, তোর সাথে কিসের বই তর্ক। যা, আগে সুনীলের 'সেই সময়' পড়ে আয়!

কথাটা সত্য বলেই গায়ের চামড়া জ্বলে গেল। আসলেই ওই বাংলার তেমন কোন বই পড়িনি তখনো। অত দাম কে কিনে? বইটা দোকানে সাজানো দেখে মনকে বলেছি, "চোখ সামালে রাখো। আড়াইশো টাকা দাম ওটার। তুমি পঞ্চাশ টাকার বইতেই যেতে পারোনি এখনো"।

আজব কান্ড। বদ্দাকে জবাব দিতেই যেন কদিন পরেই আচমকা একটা দৈব প্রাপ্তিযোগ ঘটলো। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনশো টাকার অপ্রত্যাশিত কামাই। টাকাটা দ্রত তুলে নিয়ে সোজা 'কারেন্ট বুক সেন্টার'। বীরদর্পে সুনীলের 'সেই সময়' নিয়ে বাসায়। প্রায় গোগ্রাসে গিলে হজম করি বইটা। এত ভালো লেগেছিল যে বইটা পড়ার পর কিছুদিন উনিশ শতকের উপর ঘোর চলে এসেছিল। কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোম পেঁচার নকশা' পড়ার আগ পর্যন্ত ঘোরটা লেগেই ছিল।

একদিন সেই বইটা আরেক বিদ্যামাস্তান বদ্দা ধার নিল। তার কাছ থেকে থেকে নিল আরেকজন, তার থেকে আরেকজন.......এভাবে বইটা ক্রমাগত কয়েক হাতে যাবার পর শোনা গেল সে নিখোঁজ হয়ে গেছে কোন এক মার্ক টোয়েনের হাতে। কষ্টটা গেঁথে ছিল অনেকদিন।

আরো লিখতাম কিন্তু মার্ক টোয়েনের নাম এসে গেছে বলে ক্ষ্যামা দিলাম। এই গুরুর কথা লিখলে আরো কয়েক পৃষ্টা গড়াতে কাহিনি। সেটা অন্য কোনদিন।

পোস্টটি ১৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মামুন হক's picture


আমার ৬০০তম কমেন্ট আপনাকে দিলাম হে প্রিয় লেখক!

নীড় সন্ধানী's picture


৬০০তম কমেন্টের অভিনন্দন!! হে প্রিয় পাঠক!!! Party

নজরুল ইসলাম's picture


"তানিয়া"র একটা ভালো অনুবাদ আছে আহমেদ ছফার

বই কিনা নিয়া যে কতো গল্প... এবার বইমেলা থেকে আমি অসাধারণ কিছু বই কিনছি। এই বইগুলো যে লেখা হইছে তাই জানতাম না... মুগ্ধ

নীড় সন্ধানী's picture


আমার আগের বইটা হারিয়ে গেছে। আহমদ ছফারটা খুঁজতে হবে।
এবারও পলান সরকারের লাইনে আছেন নাকি? তাড়াতাড়ি বইকেনা পোষ্ট দেন। Smile

নজরুল ইসলাম's picture


রাশান বীর কিশোরী তানিয়ার বইটা পাবেন খান ব্রাদার্সে, গায়ের দাম মাত্র ৪০ টাকা।

না এবার পলান সরকারের ধারে কাছেও আমি যামুনা

হাসান রায়হান's picture


কত কথা মনে পড়ল।

নীড় সন্ধানী's picture


কিন্তু কিছুই তো কন না, Steve

নুশেরা's picture


'টাকা নেই কিন্তু বই পড়ার তৃষ্ণা আছে' এবং 'টাকা আছে কিন্তু বই পড়ার তৃষ্ণা নেই', এই দুই দলের মধ্যে ভাগ্যবান কে?

দুদলই কমবেশি অভাগা। তারাই ভাগ্যবান যাদের দুটো্ই আছে।
==========================================

আমার সৌভাগ্য বলতে হবে, বাবামায়ের সংগ্রহে প্রচুর ছিলো। মা প্রায় পেশাদার রিভিউয়ার ছিলেন/আছেন, ষাটের দশক থেকে এই সূত্রে প্রচুর বই পেয়ে আসছেন। খুব ভালো দুটো স্কুলে পড়েছি, যারা পুরস্কার হিসেবে যথেষ্ট ভালো এবং দামি বই দিতো, পুরস্কার বিতরণীর আগে একটা তালিকা দিয়ে অপশন পর্যন্ত দিতো-- কোন্ কোন্ বই চাই। আমার সত্যজিত-সংগ্রহ মূলত স্কুলে পাওয়া পুরস্কার। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবগুলো বৃত্তির টাকা খুব ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি। এক পড়ুয়া মামা প্রবাসী হবার আগে তার অনেকগুলো বই দিয়ে গিয়েছিলেন। চাইলেই পেয়ে যাই চাচা-চাচীর (ভূঁইয়া ইকবাল- লায়লা জামান) অবিশ্বাস্য বিশাল সংগ্রহের যে কোনোটি। না-চাইতেই সেধে ভালো ভালো বই পড়তে দিয়ে যায় সৈকত (সৈকত দে)। সব মিলিয়ে ভাগ্যকে ধন্যবাদ, বই পড়ার জন্য বই কেনার রাস্তায় হাঁটতে হয়নি সেভাবে।

মাহবুব সুমন's picture


সেবা প্রকাশনীর বই কিনছিলাম

১০

শওকত মাসুম's picture


নাখালপাড়ায় থাকতাম, তখন ফার্মগেট যাওয়ার রিক্সা ভাড়া নিয়ে হেটে হেটে যেতাম, এভাবে টাকা জোগাড় করে বই বিনতাম। একবার বৃত্তির টাকা দিয়ে নিউমার্কেট যেয়ে সব টাকার বই কিনেছিলাম, সেই অসাধারণ দিনটার কথা এখনও মনে আছে। মাসুদ রানা পড়তে পড়তে ভাবলাম অন্য কিছু পড়ি এবার। ১৮০ টাকা বই নিলক্ষেতে বিক্রি করে অন্য বই কিনেছিলাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই মাসুদ রানা পড়ে আবার প্রতিটা কিনেছি।
বই কেনা নিয়ে আমার অনেক ঘটনা।
এখনও বইয়ের শেলফের যে যত্ন নেই, আমার বউ বলে বাকি কোনো কাজেই আমি এতো মনোযোগ দিয়ে করি না।

(দুঃখের কথা বলি এবার, কিংবদন্তীর গল্প বইটা শেষ হয়ে গেছে। তবে আমারটা আপনাকে গিফট দেবো নীড়দা। সরি, আমারই যেতে দেরি হয়ে গিয়েছিল।)

১১

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


সেবা প্রকাশনীর প্রায় সব বই ছিল আব্বার সংগ্রহে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পাগলের মতো কিনেছি বুদ্ধদেব গুহের বই।

১২

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


বই সংগ্রহের গল্প ভালো লাগলো ।

আমার স্কুল জীবন হস্টেলের । মান্থলী খরচ পেতাম বাবার কাছ থেকে । প্রতি মাসেই নিয়ম করে কিছু বই কেনা হতো, হাতে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে !

সুনীল ,শীর্ষেন্দু,সমরেশদের মাধ্যমিকের আগেই ভালোভাবে পড়া হইছিলো ।

মানবজমিন, প্রথম আলো, পূর্ব-পশ্চিম,দূরবীন, সাতকাহন , মাধুকরী এইরকম বইগুলো তখন পড়ে শেষ করেছি নাওয়া - খাওয়া ছেড়ে ।

১৩

মীর's picture


অথচ আমারও এমন অনেক গল্প আছে। এভাবে পারবো না বলে লিখি না।
নীড়দা'কে যে কথাটা বলা হয় নি, তার প্রো-পিকটা অসাধারণ। দেখলে মানুষটার সঙ্গে একটা মিল পাই, কোথায় যেন।

১৪

নাজমুল হুদা's picture


বই কিনবার মত উদ্বৃত্ত অর্থ হাতে থাকতো না প্রায় কখনোই, কিন্তু বই কেনা থেমে যেতনা। কেনার চেয়ে বেশি হতো পড়া, স্কুল লাইব্রেরী, গ্রামের পাবলিক লাইব্রেরী, নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরী - এগুলোর সংগ্রহ ছিল প্রচুর। পাঠ্য পুস্তক বাদ দিয়ে এসব বই পড়বার মজাই ছিল ভিন্ন রকমের। সেসব বইয়ের নামও আজ আর মনে নাই, পড়েছিই শুধু, সেসব থেকে শিখিনি কিছুই। ছাত্রজীবনে কেনা সব বই বাড়ীতে ছিল - এখন আর তার একটাও নেই। পরে যা সংগ্রহ করেছিলাম, আমি যখন থাকবনা, ছেলেমেয়েরা সেগুলোকে হয়তো আপদ মনে করতে পারে।তাই নিজের সংগ্রহের বেশীরভাগ বই গতবছর একটা কলেজকে দিয়ে দিয়েছি। এখনও কিছু কিছু পড়ি, কিন্তু আগের মত নেশা আর নাই। কোন বই পড়া হয়ে গেলে সেটা আর কাছে রাখা হয়না, কেউ না-কেউ নিয়ে যায়।

১৫

তানবীরা's picture


আমার কাজ ছিল বছরের প্রথমে নিজের বইয়ের গল্পগুলো পড়ে ফেলা। তারপর ওপরের ক্লাশের কাজিনদের বই নিয়ে শুধুমাত্র গল্পগুলো গিলে ফেলা। পেমের হলে কাজ না থাকলেই আবার গিলা।

আমি ক্লাশ নাইনে থাকতে একটা অভাবনীয় সুযোগ পেয়েছিলাম। বই এনে দিতে না দিতেই গিলে ফেলি। তখন এরশাদের আমল। খালি স্কুল বন্ধ, আর বাসায় মারামারি। আমাদের একটা দোকান ছিল কিন্তু ভাড়া দেয়া। ভাড়া নিয়ে তারা বই বিক্রি করে। ভাড়ার মালিক কোন দরকারে বাসায় এসেছিলেন এবং আমার সাথে নানা প্যাচাল পারার এক পর্যায়ে বললেন তার দোকান থেকে আমি বই এনে পড়তে পারি। কিন্তু দাগ ভাঁজ কিছুই দিতে পারবো না। আমি বেহুশের মতো সেই কয় বছর বই পড়েছি। একটা বইতো জীবনে ভুলবো না, সেটা হলো আশুতোষের "সোনার হরিণ নেই"। অনেক দামী বই ছিল আর আমি ছিলাম সিকিমের ঘোরের মধ্যে।

পরে অবশ্য এসুযোগের অনেক মিস ইউজ আমি করেছি। সাতকাহন পড়ে আর ফেরত দেই নাই। আম্মিরে বলেছি বান্ধবীর জন্মদিনে গিফট দিয়েছি। আঙ্কেল সেসব না ফেরত দেয়া বইয়ের দাম ভাড়া থেকে কেটে রাখতেন। তাতে অবশ্য আমার কিছুই যেতো আসতো না।

১৬

বাতিঘর's picture


... অথচ আমারও এমন অনেক গল্প আছে। পাছে আপনার চেয়ে ভালো লেখে ফেলি, সেই ভয়ে ও পথে হাঁটি না Tongue হাজার হোক, আপনে আমার খুউব পিয় নীড়ুদা হুক্কা আর যে কথাটা না বললেই নয়, সেটা হলো আপনার প্রো-পিকটা যদিও অসাধারণ, কিন্তু ছবির ঐ লুকটার সাথে আমার কোনো মিলই নাই টিসু ( মীরের মন্তব্যের ছায়া( পেটিকোট আপু নন কিন্তু Tongue ) অবলম্বনে চোখ টিপি ) ........................... টেকা নাই তাই বইও নাই তো কী...লেটস্ হ্যাভ এ পার্টি পার্টি পার্টি

পি: এস: 'এই গুরুর কথা লিখলে আরো কয়েক পৃষ্ঠা গড়াবে কাহিনী' এরামটা হপে মনে কচ্চে হুক্কা

১৭

মীর's picture


বাতিঘর, আমার করা মন্তব্যের ছায়া অবলম্বনে যা লিখেছেন, তা পছন্দ হয় নি।

১৮

লিজা's picture


জীবনে মাত্র দুইএকবার পুরষ্কার পেয়েছি, তা বই । আমার সৌভাগ্য বইই পেয়েছি । কারণ আমার অবস্থা আপনার থেকেও করুণ ছিল । স্কুল এত কাছে ছিল যে, ভাড়া টারা লাগতো না Sad আর কিছু আত্মীয় ছিল যারা অন্তত বই পাগল । ফলে ধার করে সামান্য পড়া হত । মানুষের বই কেনা আর পড়ার বিশাল ভান্ডার দেখে আমার ভালো লাগে, একদিন আমিও হব ওইরকম । যখন বড় (! Puzzled !) হয়ে চাকরী করব Tongue
এবারের বইমেলায় আমার প্রাপ্তি - এফবি'র কিছু বন্ধুকে সামনাসামনি দেখা । আর আমার দোস্তের দেয়া গিফট (বই)

১৯

লীনা দিলরুবা's picture


এই লেখাটাকে একটা রসগোল্লা লেখা মনে হৈচে। ছোটবেলায় রসগোল্লা মুখে নিয়েই গিলে ফেলতাম। এইটা এরমই একটা উমদা লেখা।

প্রিয়তে।।

২০

সাঈদ's picture


যখন টিউশনি করে হাত খরচ চালাইতাম, বই কেনা ছিল বাধ্যতামূলক। কলকাতায় ছাপানো বঙ্কিমচন্দ্র সমগ্র কিনেছিলাম তখন ৮০ টাকায়।

এখন বইই কেনা হয় না । সব দোষ ব্লগের।

২১

নীড় সন্ধানী's picture


@নুশেরা- নিদারুণ হিংসা আপনার বই ভাগ্যকে। তবে বইয়ের সমুদ্রে জন্মেও কিছু মানুষকে দেখেছি বইপত্রে চরম অভক্তি আছে। আমার খুব ঘনিষ্ট এক পরিবারে দেখেছি বাপের অঢেল বই কিন্তু ছেলে জীবনেও শোকেসের তালা খুলে বই বের করে পড়ে না।:)

@মাহবুব সুমন- সেবার বই আমাকেও বই পড়া শিখিয়েছে Smile

@শওকত মাসুম - বই আর বউ দুটোর মনোযোগের ভারসাম্য রাখতে মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয়। 'কিংবদন্তীর গল্প'টা গিফটের জন্য ধন্যবাদ। তবে আপাততঃ আপনার কাছেই থাকুক, আমি একসময় ধার নিয়ে পড়ে নেবো। Smile

@মাইনুল এইচ সিরাজী- বুদ্ধদেব গুহ আপনাকে এত টেনেছিল কেন? আমাকে অবশ্য টেনেছিল বুদ্ধদেব বসু Smile

@আবদুর রাজ্জাক শিপন - আপনার বই কেনার গল্পটাও ইন্টারেস্টিং হবে মনে হয়। Smile

@মীর - প্রো-পিকটা ভালো লাগছে পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে। আপনি আমারে অতিরিক্ত ভালা পান অকারণে। Smile

@নাজমুল হুদা - বই নিয়ে আপনার বিস্তর অভিজ্ঞতা। একদিন বসে লিখে ফেলুন কয়েক পর্ব। আউট বই শব্দটার কপিরাইট কিন্তু আপনার।:)

@তানবীরা - আপনার ভাগ্যটাকেও রীতিমতো হিংসায় জ্বালিয়ে দেবার মতোই। Smile

@বাতিঘর - তোমার তো চাটি খাওয়া উচিত। নিজে কমেন্ট লিখতে না পারো অন্যের কমেন্ট নকল করো কেন। বাচ্চামানুষ বলে এবারের মতো মাফ করে দিলাম। Sad

@লিজা - আপনার ভাগ্য আমার চেয়ে নিঃসন্দেহে ভালো। আমি জীবনেও পুরষ্কার বস্তুটা পাইনি। এমনকি ঘরোয়া লটারীতেও দয়া করে কেউ জিতিয়ে দেয়নি।:)

@লীনা দিলরুবা- রসগোল্লা বলে তো চিন্তায় ফেলে দিলেন, পিপড়ায় না খায় আবার Smile

@সাঈদ - আশি টাকায় বঙ্কিম সমগ্র??? শায়েস্তা খাঁ ভার্সন ছিল নাকি ওটা?? Smile

২২

জ্যোতি's picture


বই নিয়ে কত কাহিণী মনে পড়ে! জীবনে কারো বই মারতে পারলাম না কিন্তু আমার বই ঠিকই ......। এমনেই গরীপ মানুষ। টাকা নাই, খুব বেশী পড়াও হয় না অবশ্য।
দারুণ লেখা। নীড়দা সবসময়ই জট্রিল।

২৩

সাহাদাত উদরাজী's picture


"বই কেনা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মধ্যবিত্ত পরিবারে। যাদের 'আউট বই' পড়ার নেশা আছে কিন্তু বই কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের মর্মবেদনা আমার খুব ভালো করেই জানা। তবে টাকা না থাকার অন্ততঃ একটা ভালো দিক হলো, না পাওয়া জিনিসের প্রতি আমাদের হাহাকার থাকে সবচেয়ে বেশী। টাকার টানাটানিতে বই পড়ার তৃষ্ণাটা প্রলম্বিত হয়েছিল।"

২৪

মীর's picture


দাদা নতুন লেখা কৈ?

২৫

হাসান রায়হান's picture


ওয়েলকাম ব্যাক নীড়দা Laughing out loud
Welcome পার্টি

২৬

নীড় সন্ধানী's picture


Party Party Party Party Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

২৭

লীনা দিলরুবা's picture


পার্টি Welcome মজা বাংলাদেশ

নীড়াদার আগমন/শুভেচ্ছা স্বাগতম Big smile Laughing out loud Smile

২৮

নীড় সন্ধানী's picture


হুক্কা হুক্কা হুক্কা Party Party Party

২৯

লীনা দিলরুবা's picture


এতদিন পরে আসছেন, নীড়দা আপনারে আমরা অনেক মিস করছি Sad

বহুত বকেয়া আছে, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে একটা করে লেখা দিবেন নইলে গুল্লি মাইর

৩০

নীড় সন্ধানী's picture


Shock Shock Shock Shock Shock
বকেয়াগুলো আগের ফিক্সড ডিপোজিট থেকে শোধ করে দেবো Laughing out loud Laughing out loud

৩১

জেবীন's picture


নীড়'দা, 'টাইগার পাস' সিরিজটা শেষ করেন প্লীজের উপরে দোহাই লাগে। এত্তো দারুন একটা লেখা অসমাপ্ত রাখছেন, আপ্নের দিলে রহম নাই কেন!! Stare

৩২

নীড় সন্ধানী's picture


আপনি যে ওই সিরিজের কথা মনে রাখছেন তাতেই আমি দারুণ তৃপ্ত। Party Party
পারলে এখুনি শুরু করতাম, কিন্তু ওই সিরিজের জন্য যে পড়াশোনা করা দরকার তার সময় পাচ্ছি না। সময় পেলে অবশ্যই লেখা শুরু করবো Smile Smile

৩৩

নীড় সন্ধানী's picture


আপনি যে ওই সিরিজের কথা মনে রাখছেন তাতেই আমি দারুণ তৃপ্ত। Party Party
পারলে এখুনি শুরু করতাম, কিন্তু ওই সিরিজের জন্য যে পড়াশোনা করা দরকার তার সময় পাচ্ছি না। সময় পেলে অবশ্যই লেখা শুরু করবো Smile Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নীড় সন্ধানী's picture

নিজের সম্পর্কে

ভুল ভূগোলে জন্ম নেয়া একজন অতৃপ্ত কিন্তু স্বঘোষিত সুখী মানুষ!