ইউজার লগইন

একুশের ফটোব্লগঃ সাতরাস্তার মাথা ঘুরে শহীদ মিনারে

রাতেই কথা দিয়ে রেখেছিলাম কন্যাকে সকালে শহীদ মিনারে নিয়ে যাবো। ভোরে যাবার  ইচ্ছে থাকলেও চা নাস্তা পর্ব শেষ হতে হতে দশটা বেজে গেল। ওশিনকে নিয়ে রিকশায় উঠতেই  খুশীতে গান গেয়ে উঠলো সে। রিকশা হলো তার একমাত্র প্রিয় বাহন। বাকী দুনিয়ার  সমস্ত গাড়ী চোখের বিষ।

সকালের মিষ্টি রোদে রিকশা শহীদ মিনারের দিকে কিছুদুর এগোতেই মনে পড়লো ডানদিকে মোড় নিলে যে রাস্তা সেখানে অসম্ভব সুন্দর এক পাহাড়ী নির্জনতা আছে। জায়গাটায় অনেকদিন ধরে ওকে নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। রিকশাওয়ালাকে বললাম, "চাচা সাতরাস্তার মাথায় চলেন। ওখান থেকে শহীদ মিনার যাবো।"

বাসার কাছেই জায়গাটা। শহরের ভেতর ভিন্ন একটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। শতবর্ষী প্রাচীন বেশকিছু বৃক্ষের সারি পাহাড়ের ভেতর। টিলাগুলোতে খুব ছেলেবেলায় উঠেছিলাম। এখন এই পথে কখনো কখনো গেলে প্রানভরে সু্ন্দর দেখি। কিন্তু কখনো নামা হয় না। আজকে সুযোগটা নিলাম।

রিকশাওয়ালা দয়ালু ছিল। ঘাড়ত্যাড়ামি না করে হাসিমুখেই নিয়ে গেল। রিকশা থেকে
নেমে ঝটাঝট ছবি তোলা শুরু করলাম। গাছের ছবিই বেশী। গাছগুলো শীতকাল বলে একেবারে
বিপত্র অবস্থায় আছে। বর্ষাকালে আরো অনেক বেশী সবুজ, অনেক বেশী সুন্দর। তবু যা আছে
তাতেই প্রান জুড়িয়ে গেল।

প্রানভরে ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ  দেখি কন্যা আমার স্বাধীনতার পূর্ন সুফল নিয়ে কাছের একটা গুড়ো কয়লার স্তুপে উঠে দুহাতে ইচ্ছে মতো কালি মাখছে। চোখেমুখে এত আনন্দ যেন বেহেশতী মোয়া খুঁজে পেয়েছে। একেতো কয়লা কালি, তার উপর সাদা জামা। আর আমার পরনে সাদাটে বাদামী প্যান্ট। ওকে ডাক দিয়ে বিপদে পড়লাম। শাসন বারন করার  জন্য হাতে ধরতে পারছি না। ওই হাতে যেদিকে ধরবে ওদিকে অন্ধকার হয়ে যাবে। হুঁশিয়ার করলাম "খবরদার আমাকে ধরবা না কিন্তু। হাত আলগা করে থাকো। যেভাবে আছে সেভাবেই থাকো।"

পকেট থেকে টিস্যু বের করে কোনমতে ওকে ধরলাম। অনেক ঝাড়াঝাড়ি মোছামুছি করেও হাতের রং ফিরে আসলো না। ফটোসেশান মাথায় উঠলো। অবশেষে আলগা হাতে রিকশায় উঠে বসে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। বকা খেয়ে গোমড়া মুখে কোলে বসে আছে সাড়ে তিন বছরের কন্যারত্ন। পথে এক জায়গায় নেমে রিকশাওয়ালা দোকান থেকে পানি এনে হাত ধুইয়ে দিল। তারপর মুখে হাসি ফুটলো- "বাবা আমরা কি এখন শহীদ মিনার যাচ্ছি?"

শহীদ মিনারের কাছাকাছি প্রচন্ড ভীড়। আমরা ওদিকে না ঢুকে পাশের থিয়েটার ইনস্টিটিউট ভবনে ঢুকে দুর থেকে শ্রদ্ধা জানাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। মিছিলের পর মিছিল আসছে। চুপচাপ ঘন্টাখানেক কাটিয়ে ফিরে এলাম।
 

সাত রাস্তার মাথা, সিআরবি। শতবর্ষের বৃক্ষের আবাস, শহরের মধ্যে অন্য জগত দেখে মুগ্ধ ওশিন।


পথ চলে গেছে পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে


বৃক্ষতলায় খানিকটা মাঠ। খেলা হচ্ছে বাচ্চাদের। এখানে পহেলা বৈশাখের সবচে বড় আসরটি বসেছিল গত বছর।


ক্যামেরায় ধরেনি বিশাল রেইনট্রী গাছের ডালপালাগুলো


শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে একটা দল


দুরের ওই মিছিলে আমি যেতে পারবো না?


শহীদ মিনারের কাছে মানুষের শ্রদ্ধামিছিল


নীচের বাগান থেকে কিছু ফুল তুলে দেবে বাবা? শহীদ মিনারে দিতে যাবো.....

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাহীদ Hossain's picture


ওশিনকে বকা দিয়ে ভাল করেননি দাদা......ওর উচ্ছলতা একটু বেশি হলে দোষই বা কি ছিল......

নীড় সন্ধানী's picture


তাৎক্ষনিক বকা, পরে অবশ্য সারাদিনের আদরে পুষিয়ে দিয়েছি Smile

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


ওশিন তো সেইরকম কিউট!

নীড় সন্ধানী's picture


হা হা ধন্যবাদ, দুষ্টু কিউট কিন্তু!

সাঈদ's picture


মামনি কে অনেক আদর । যাক কিছু টা হলেও তো দেখতে পেয়েছে শহীদ মিনার কে কাছ থেকে।

নীড় সন্ধানী's picture


বিকেলে গেলে অবশ্য পুরোটা দেখতে পেতো, কিন্তু দিবাঘুমের জন্য পারিনি।

নুশেরা's picture


অশেষ ধন্যবাদ নীড়দা।
কতোদিন পর সাতরাস্তার মোড় আর সেই গাছগুলো দেখলাম! এখন সব ধূলিধূসরিত, সবুজ ঘন হলে আরেকটা ছবিব্লগ দেয়ার অনুরোধ রইলো। অবশ্যই মামণি ওশিনকে সঙ্গে নিয়ে। তাকে অনেক অনেক আদর।

নীড় সন্ধানী's picture


এখন একদম ন্যাড়া ন্যাড়া হয়ে গেছে। বর্ষায় যখন সবুজ হবে আরেকটা ফটোসেশান করবো। নীচের ওই ঢালুতে এখন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয়। গত বছর থেকে শুরু হয়েছে। ডিসি হিলের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছিল এখানে। মানুষও বেশী এসেছিল এদিকে। Smile

আশরাফ মাহমুদ's picture


প্রথম ছবিটা দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। এই শিশুদল বেড়ে উঠছে একটা চেতনা নিয়ে; ভাবতেই অনেক ভাললাগে।

১০

নীড় সন্ধানী's picture


ধন্যবাদ আশরাফ ভাই!

১১

টুটুল's picture


বকা দেয়া ঠিক হয় নি Sad

মামনিটাকে আদর

১২

নীড় সন্ধানী's picture


বকা দিয়ে খেসারতও কম দেইনি, সারাদিন আদরে পুষিয়ে দিতে হয়েছে Wink

১৩

শাওন৩৫০৪'s picture


...যাইতেন নাহয়, বাপে মায়ে কালিতে মাখামাখি হৈয়া একদিন, ওশিনের জন্যও বাবার সাথে কালিতে মাখামাখি হওয়ার একটা স্মৃতি থাকতো সুন্দর হৈয়া...পাষন্ড বাবা...Sealed

১৪

নীড় সন্ধানী's picture


কালিতে মাখামাখি দিবস.......হা হা ভাল বলছেন, কিন্তু আমার আবার শহীদ মিনার থেকে ফিরে ওই প্যান্ট পড়ে কাপ্তাই যাবার প্রোগ্রাম ছিল কি না Wink

১৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


চিটাগাং-এ বছর দুয়েকের স্মৃতি চাগান দিয়ে উঠলো...

মামনীটার জন্য শুভকামনা... 

একদিন হুট করে চলে যাবো বাসায়,সুমীকে বলবেন...

১৬

নীড় সন্ধানী's picture


চলে আসেন হুট করে একদিন, বলবো ওকে। Smile

১৭

হাসান রায়হান's picture


পোস্ট পড়ে চোখে পানি চলে আসল। মেয়েটা সাডা জামা পড়ে বসে ছিল কিন্তু আমি তাকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাই নাই।

১৮

নীড় সন্ধানী's picture


আহারে আপনি তো আমার চেয়েও খারাপ বাবা Smile
চিটাগাং আসলে রিমঝিমরে নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসেন এরপরেরবার।

১৯

হাসান রায়হান's picture


আসলে একদিন আগে ওরে নিয়া পার্কে গেছিলাম। ফেরার পথে পরে গিয়ে পা ছিলে গেছে। একুশে তে রাস্তা ঘাটে অনেক ভিড় হবে আবার কোনো সমস্যা হবে এই ভেবে নিয়া বের হই নাই। 

২০

জ্যোতি's picture


ওশিনকে অনেক আদর , আর ওশিনের বাবাকে ধন্যবাদ পোষ্টর জন্য এবং অবশেসে মেয়েকে নিয়ে বড়াতে যাবার জন্য।আর রায়হান ভাইকে মাইনাস, রিমিঝমকে ঘুরতে না নেবার জন্য।

২১

নীড় সন্ধানী's picture


অনেক ধন্যাপাতা আপনাকেও......... Smile

২২

বকলম's picture


মাত্র এক সপ্তাহও হয় নাই চট্টগ্রাম থেকে ছুটি কাটিয়ে আবার প্রবাসে ফেরত আসছি আর এরই মধ্যে নীড় সন্ধানী ভাই চট্টগ্রামের ছবি দেখাইয়া চোখ ঝাপসা কইরা দিলেন, সাথে আপনার মেয়েরে দেইখা নিজের ছোট্ট মাইয়াটার জন্য মনটা খারাপ হইয়া গেল। )-:

২৩

নীড় সন্ধানী's picture


আপনার অনুভুতির সাথে সহমর্মী হলাম বকলম ভাই।

২৪

তানবীরা's picture


ওশিনকে দেবশিশুর মতো লাগছে। ছবির জন্য ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নীড় সন্ধানী's picture

নিজের সম্পর্কে

ভুল ভূগোলে জন্ম নেয়া একজন অতৃপ্ত কিন্তু স্বঘোষিত সুখী মানুষ!