ইউজার লগইন

নিভৃত স্বপ্নচারী'এর ব্লগ

দুঃখী বেহালা

Dukhi Behala.jpg

দূরে বহুদূরে একাকী পথিক
ঘুমহীন খা খা রোদ্দুরে
আনমনে হেঁটে যাওয়া
ধূলি ধুসরিত শহরের পথে।

ব্যস্ত সড়কে অবিরাম ছুটেচলা
যান্ত্রিক শব্দের ভিড়ে
রঙিন কাঁচের আড়ালে
হতাশ জীবনের জলচ্ছবি।

জানালার কার্ণিশে তৃষ্ণার্ত কাক
অপেক্ষায় বৃষ্টিমুখর ক্ষণের,
ধূসর আকাশ; মেঘহীন, স্তব্ধ
দূরে কাঁদে জারুল, সোনাঝুরি।

সড়কদ্বীপে একা ল্যাম্পপোষ্ট
রোদেপোড়া ক্লান্ত পথচারী
দীর্ঘ পথচলায়, অপেক্ষার প্রহরে
বিরহী দুঃখী বেহালা।

পাশাপাশি জীবনের অদেখা ভূবনে
নীরব রাতের স্বপ্নবিহীন চাওয়া পাওয়া
মাঝরাতে তুমুল বৃষ্টি, তপ্ত নিঃশ্বাস
নিঃসঙ্গতার আড়ালে সুখের চাষবাস।

ধূসর গোধূলিঃ দুরন্তপনা

ভোরের প্রথম আলোর ছোঁয়ায় প্রকৃতি জেগে উঠছে নতুন করে। আশপাশের গাছপালা তার সবুজ রঙ ছড়াতে শুরু করেছে মাত্র। সকালের চমৎকার এই ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। সূর্য্য ওঠার আগের এই সময়টাতে বেড়াতে ভীষণ ভাল লাগে বকুলের। শ্রাবণের আকাশের মত মেঘের ঘনঘটা আর দিনভর ঝুম ঝুম বৃষ্টি এখন আর দেখা যায়না, তবে শেষরাতে যে হালকা বৃষ্টি হয়ে গেছে প্রকৃতিতে তার রেশ রয়ে গেছে এখনও। আশেপাশের গাছপালা আর ঝোপঝাড়গুলো এখনও ভেজা, অনেকটা সদ্য স্নান শেষে গ্রাম্য কিশোরীর ভেজা চুলের মত। প্রতিদিনের মত আজও খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মন ভাল হয়ে গেল ওর। এই নির্মল ঠাণ্ডা বাতাসে রোজই বেড়ানো হয় তবুও সবসময়ই যেন নতুন করে অনুভব করে এই স্নিগ্ধ সকালটাকে, কখনোই পুরনো লাগে না। ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে এসে দাঁড়াল বকুল। বড় রাস্তার দিকে দৃষ্টি পড়তেই দেখতে পেল অনেকগুলো চাই হাতে মন্টুমামা ভিতর বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। বকুল পুকুরের ঘাটে গিয়ে বসল, মন্টুমামা কাছাকাছি আসতেই দেখল প্রতিটা চাইয়েই ভাল পরিমাণ মাছ আটকা পড়েছে। বকুলকে দেখে মন্টু বলে উঠলো,
-কি ছোডো বুড়ি, উইঠা পড়ছ?
-হুম, আইজ অনেক মাছ উঠছে তো মন্টু মামা!
-আইজ কয়ডা বেশী মাছ পাইলামরে মা

ধূসর গোধূলিঃ মায়া

সুবল বাড়িতে ঢুকে মাকে খুঁজতে লাগলো। বড় ঘর, পাকের ঘর, ঠাকুর ঘর, কোথাও মাকে খুঁজে না পেয়ে শেষমেশ গোয়ালঘরের পাশে এসে পেল। ওখানে দাঁড়িয়ে ভাসানির মা’র গোবর দিয়ে ঘুটে বানানো তদারকি করছে।
-তুমি এইহানে? তোমারে কত জায়গায় খোঁজ করলাম!
-ক্যান বাবা, কি অইছে? একবেলা মা’রে দেখতে না পাইয়াই এত অস্থির হইলি, আমি না থাকলে কি করবি?
-দূর, তুমি কি যে কও না! তুমি আবার কই যাবা? মা ক্ষিদা লাগছে, খাইবার দাও।
-একটু দাঁড়া বাবা, এই ঘুইটে কয়ডা বানানো শ্যাষ হউক।

সুবল ডানদিকে তাকিয়ে দেখল গোয়ালঘরের পাশের বড় নালাটার মধ্যকার কচুরীপানা আর নল খাগড়ার ঝোপের মাঝ দিয়ে কাকু গরুর জন্য ঘাসভর্তি ডোঙ্গাটা বাড়ির কিনারে ভিড়াচ্ছে। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে এই নালায় অনেক মাছ পাওয়া যায় আর এখন বর্ষার সময়ে পাশের জমিগুলোর সাথে মিলেমিশে কেমন একাকার হয়ে আছে! সুবল ছুটে গিয়ে পাড়ে দাঁড়ালো।
-কিরে ব্যাডা, খালি বাড়ি বইয়া থাকলে অইব? কাম করন লাগব না? হাসতে হাসতে বলে তারাপদ
-আমি তো এহন স্কুল থেইক্যা আইলাম আর আমি কি এইগুলান পারি? বড় হইয়া নেই, দেইখো তোমার মতন সব পারুম।

ধূসর গোধূলিঃ কোটাখালীর বাঁকে

স্কুলে যাওয়া শুরু করার পর থেকে অয়নের ছোট্ট জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এতদিনের চেনাজানা ক্ষুদ্র গন্ডিটা বড় হতে শুরু করেছে ডালপালা ছড়িয়ে। ওর পরিচিত মানুষের তালিকায় যোগ হচ্ছে অনেক নতুন মুখ। স্কুলে বন্ধুদের সংস্পর্শে এসে এই সময়টুকু কখন যে শেষ হয়ে যায় টেরই পায়না! বড় ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা ওকে নিয়ে আড়ালে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে, ও ঠিকই শুনতে পায়। তখন মা’র কথা খুব মনে হয়। মনে আছে ও যেদিন প্রথম স্কুলে এলো, মা ওকে কাজল পরিয়ে দিয়েছিলেন। ছোটদির একটা কাজলদানি আছে, পিতলের। দুইদিক দিয়ে চাপদিয়ে ওটা খোলা ও বন্ধ করা যায়। মা কাজল পরিয়ে দিতে দিতে বলেছিলেন- ‘আমার বাছার যেন কারো নজর না লাগে’! সেদিন খুব সকালে উঠে ওর জন্য খেজুরের রসের পায়েস করেছিলেন, সেই পায়েস খেয়ে বাবার হাত ধরে স্কুলে এসেছিল ও।

অনুভূতি

অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায় কেবলই
ভুলেভরা সময়ের হিসাব মিলাতে
নিঃশব্দ আর্তনাদগুলো অলক্ষ্যেই
নিজের ভিতরে গুমরে গুমরে কাঁদে।

অপ্রকাশিত অভিমানে ছুটে চলে
লক্ষ্যবিহীন পথে, রঙমেখে সং সেজে কেউ কেউ
ভাল থাকার সুনিপুণ অভিনয় করে যায় একাগ্রচিত্তে।
ঠুনকো কাগজি সম্পর্কের জের ধরে
এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাপিত জীবনটাকে
একসময় বড় অপাংক্তেয় মনে হয়।

অর্থহীন পৃথিবীতে বেঁচে থাকার
অদম্য ইচ্ছাটাও ফিকে হয়ে আসে ক্রমশ,
আর পাথর ভাঙার মত করে বুকের ভিতর
ক্রমাগত বাজে নিষ্পেষণের হাহাকার!

নিজের সাথেই চলে বোঝাপড়ার অদ্ভুত আয়োজন
অব্যক্ত অনুভূতি জানান দিয়ে যায়
আধখানা চাঁদ কখনও ঢেকে দিতে পারেনা
বেদনার চাঁদরে মোড়ানো জমাট অন্ধকার।

একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৪)

জ্যোতি বসু

Jyoti_Basu.jpg

কমরেড জ্যোতি বসু শুধু ভারতে নয় এই উপমহাদেশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা ১৯১৪ সালের ৮ই জুলাই কলকাতার হ্যারিসন রোডের একটি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্ম জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা নিশিকান্ত বসু ছিলেন একজন চিকিৎসক। ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স শেষে বিলাত থেকে ব্যরিস্টার হয়ে দেশে ফিরে ব্যরিস্টারী না করে যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। মানুষের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বর্নাঢ্য কর্মজীবন তাঁকে এক অনন্য স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।

ধূসর গোধূলিঃ কাকতাড়ুয়া

scarecrows.jpg

নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি

বিদায়ের বাঁশিটা বেশ করুণভাবেই বেজেছিল বুকের গভীরে ওর। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল সেদিন। ছোট্ট বুকের মাঝে সযত্নে লালন করা ভালবাসার সুতোটা আলগা হয়ে আসছিলো ক্রমশ, শক্তভাবে ধরতে চেষ্টা করেও কোনভাবেই অটুট রাখার উপায় ছিল না। কেবল কান্নাটাকে গলার কাছে আটকে রেখেছিল কোনরকমে।

এই গ্রাম, গ্রামের সবুজ গালিচার মত নরম দূর্বাঘাসের স্পর্শ, আর শান্ত স্নিগ্ধ নদীটার বুকে ভোরের প্রথম সূর্য্যের টকটকে লাল রঙটা যখন ছড়িয়ে পড়ে, অদ্ভুত ভাললাগায় ছেয়ে যায় মনটা। এগুলো কোথায় পাবে ও? আর বাবা? বাবাকে ফেলে ও কোথায় যাবে? বাবাকে না দেখে যে ও থাকতে পারেনা। কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও দু একদিন দেখা না পেলেই কেমন মন খারাপ লাগে। সেই বাবাকে রেখে এতদূরে ও কি করে থাকবে? বাবার কোমল উষ্ণ আলিঙ্গনের ছোঁয়ার অভাবটা কেমন করে পূরণ হবে? গাঁয়ের দুরন্ত সাথীদের মুখগুলোও সব একে একে ভেসে ওঠে মনে। ওখানে কি এমন কাউকে পাবে ও? কত কথা মনে পড়ে যায়! ভর দুপুরে ছাড়াবাড়ির বাগান থেকে ফল চুরি করা কিংবা শেষ বিকেলে নদীর পাড়ের নরম ঘাসে ছুটোছুটি করা। ওই ইট কাঠের শহরে এগুলো কোথায় পাবে?

একলা পাখি

d9c8570d-5e68-44fb-9646-a353c48b69f9.jpg

একলা নীড়ে একলা পাখি
মন খারাপের এমন দিনে
বৃষ্টি ভেজা প্রহর কাটে
অপেক্ষাতেই!

চোখের কোণে স্বপ্ন আঁকি
দিনের শেষে রাত্রি নিঝুম
বাদলা দিনের একটানা ঘুম
অলস আঁখি!

স্বপন ঘোরে থমকে দাঁড়ায়
নিজেই নিজের দুঃখ তাড়ায়
কার তাতে কি আসে যায়
এই বরষায়!

মেঘলা দিনের উদাস ক্ষণে
বাউল মনের দিন কেটে যায়
ঝড়ের বাতাস দোল দিয়ে যায়
মনের কোণে!

শ্রাবণ মেঘের ভেলায় ভাসি
মনের সাথে মন মিতালি
রংধনুতে রাঙিয়ে আকাশ
সুপ্ত হাসি!

রঙিন আলো ছড়ায় মনে
লাল-হলুদের আগুন লাগে
জারুল কদম সোনাঝুরি
কৃষ্ণচূড়ার বনে!

সকাল সন্ধ্যা বৃষ্টি মুখর
ঝড় বাদলের গুমোট আকাশ
বিষণ্ণতায় ঘিরে থাকা
উদাস প্রহর!

ধূসর গোধূলিঃ পূর্বকথন

dhusor godhuli-3.jpg

ধূসর গোধূলিঃ স্বপ্ন ডানায় চড়ে

পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল অয়নের। আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে পড়ল ও। ঘরের বাইরে এসে দেখে সূর্য ওঠেনি তখনো। খাবারঘর থেকে বাবা মার কথা ভেসে আসছে। ছোটদি’র ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো তখনো ঘুমিয়ে আছে বকুল। ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে নেমে এলো ও। সারারাত বৃষ্টি হওয়ায় উঠানটা কাদা জমে কেমন স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। কাদা এড়িয়ে ঘাসের উপর দিয়ে ঘরের পাশের ছোট ফলের বাগানে চলে আসলো অয়ন। ছোট্ট বাগানটায় বেশকিছু ভাল জাতের ফলের গাছ লাগিয়েছে সাত্তার মাষ্টার। মন্টু গাছগুলোর বেশ যত্ন নেয়, তাইতো বাগানটা সবসময়ই বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। বাগানটি শেষ হলেই বাড়ির পশ্চিমদিকের একেবারে শেষ প্রান্তে বেশ বয়সী একটি হিজল গাছ আর বড় একটি বাঁশের ঝাড়। সকাল আর সন্ধ্যায় এখানে প্রচুর পাখি এসে ভিড় করে। ওদের কিচিরমিচির শব্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে তখন। অয়নের ভীষণ ভাললাগে পাখিদের এই মিলন মেলা। প্রতিদিন সকালে এই পাখি ডাকার শব্দেই ওর ঘুম ভাঙ্গে। অয়ন বাগানের মাঝখানে আতা গাছটার নীচে এসে দাঁড়াল। গত পরশু নতুন ফোটা পাখির বাচ্চাগুলো খাবারের জন্য কেমন শব্দ করে ডাকছে। দুটো বাচ্চা ফুটেছে, কি সুন্দর!

একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৩)

জোয়ান বায়েজ
JoanBaezHowSweettheSound.jpg

একাত্তর অনেককেই আলোড়িত করেছে। তৃতীয় বিশ্বের ছোট্ট একটি ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া শতাব্দীর অন্যতম নারকীয় তান্ডব অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছিল সেই সময়ে। সেই ভাবনাগুলোকে কেউ কেউ ফুটিয়ে তুলেছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়, তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে। তেমনই একজন মানুষ বিখ্যাত মার্কিন ফোক গায়িকা এবং সমাজকর্মী জোয়ান বায়েজ। জন্ম ৯ই জানুয়ারী ১৯৪১ নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে। তিনি সংগীত জীবন শুরু করেন বোস্টন এবং ক্যামব্রিজের কফিহাউজগুলোতে গান গেয়ে, ১৯৫৯ সালে নিউপোর্ট ফোক উৎসবে অংশগ্রহণ করে খ্যাতি লাভ করেন।

উনিশ শ একাত্তর, তখন তাঁর বয়স ত্রিশ ছুঁয়েছে মাত্র। গীটার হাতে মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র আর ভরিয়ে তুলছেন তাঁর ভক্তদের মন। এ রকম একটি সময়ে তিনি তিনি জানতে পারেন আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া গনহত্যার খবর। মানবতার জন্য কেঁদে উঠলো তাঁর মন, তিনি এক অসামান্য গান গান বাধলেন বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে।

ধূসর স্বপ্ন

বদলে যায় সবকিছুই
ঋতুবদলের খেলায়
প্রকৃতি বদলে যায়,
সবুজ ধুসর হয়
সময়ও বদলে যায়।
চাওয়া পাওয়ার দোলাচালে
সবচেয়ে বেশি বদলে যায়
মানুষ।

আলো আঁধারে অচেনা লাগে
চেনা মুখগুলো।
স্বার্থের কাছে ভালবাসা উবে যায়,
মানবতা বন্দী হয় লোহার শেকলে।
মন বদলে যায়,
ঝলমলে রোদ শেষে ঝড় ওঠে
বন্দী হয় বিবেক, স্খলিত স্বপ্ন।

প্রতিদিনের চালচিত্রে
যোগ হয় সংখ্যা, আর্তনাদের ধ্বনি!
অতীত খুঁড়ে পেছনে তাকাই
ওখানেও শূণ্য বুকের ক্ষত,
সময়ে শুকিয়ে যায়নি একটুও
বুকের ভিতর রক্ত আখরে লেখা
জমাট কান্নার ইতিহাস।

কেবল ব্যতিক্রম
রাস্তার তেমাথার ধারে
দাঁড়ানো ঐ পাগলটা।
জট পাকানো মাথা,
ধুলো মলিন কাপড়ে জড়ানো।
বোকার মত কেবলই হাসে
যেন কিছুতেই কিছু যায় আসেনা।
বদলে যাওয়া এই অস্থির সময়ের ভিড়ে
একমাত্র সুখী মানুষ!

একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১২)

ম্যারিয়েটা

একাত্তর কাঁদিয়েছে অনেককে। খোকার জন্য মা, বাবার জন্য সন্তান, স্বামীর জন্য স্ত্রী কিংবা ভাইয়ের জন্য বোন! এ তো গেল সর্বস্ব হারানো অসহায় বাঙালীদের কথা কিন্তু একাত্তরের দুর্দিনে বাঙ্গালীরা ছাড়াও কেঁদেছে অনেক ভিনদেশী মানুষ! তারাই আমাদের দুর্দিনের বন্ধু, সুহৃদ।

ম্যারিয়েটা, পুরো নাম ম্যারিয়েটা প্রকোপে। অক্সফোর্ডে পড়ুয়া পঁচিশ বছরের স্মার্ট, সুন্দরী এক বৃটিশ তরুণী। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে কি ঘটছে তার বয়সী অনেক তরুণ-তরুনীদের মনেই সাধারণত তেমন কোন প্রভাব ফেলে না কিন্তু এই তরুণীর ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের দুঃখকষ্ট দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। কখনও বাংলাদেশ দেখেননি ম্যারিয়েটা। গনমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ছবি, এদেশের মানুষের উপর অত্যাচারের চিত্র চোখে পানি ঝরিয়েছে তার। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের দুঃখ দুর্দশা সেই সময় কাঁদিয়েছিল এই তরুণীকে।

গল্পঃ মূল্য

images-1.jpg

আমার কখনও গ্রাম দেখা হয়নি সেভাবে। শহরে জন্ম, বেড়ে ওঠা। গ্রামের সাথে কোন সম্পর্কই তৈরি হয়নি! বন্ধুদের কাছ থেকে ওদের গ্রামের কথা শুনতাম। বাবাকে গ্রামের বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলেই বলতেন- আমাদের কোন গ্রামের বাড়ি নেই, নদীতে ভেঙ্গে গেছে। গ্রাম আমার কাছে ছিল কেবলই বইয়ে পড়া আর টেলিভিশনে দেখা ছবির মত! সেদিন শিবলী যখন জিজ্ঞেস করল ও দুদিনের জন্য গ্রামে যাচ্ছে আমি যাব কিনা, কোন চিন্তা না করেই রাজি হয়ে গেলাম। এই রাজি হওয়া যে ঝোঁকের মাথায় তা নয়, অনেকদিন থেকেই শিবলীর কাছে ওদের গ্রামের গল্প শুনে শুনে আমার মনে সত্যিকারের গ্রাম দেখার একটি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।